ব্ল্যাক স্পাইডার – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

ব্ল্যাক স্পাইডার – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬৯

ব্ল্যাক স্পাইডার – বইটির এক ঝলকঃ

‘হ্যাঁ। মেজাজটাও।’ বলল রাবেয়া হক। ‘সেদিন…’
স্ত্রীর দিকে ধাকা করে চেয়ে হাসল তাহিরুল হক। মাথা নাড়ল।
অত সহজে পার পাবে না।’ বলেই রানার দিকে ফিরল শিল্পপতি বিষয়বস্তুটা আমার ইংরেজি উচ্চারণ নয়, রানা, তোমার অতর্কিত আবির্ভাব। স্বীকার করে ফেলো। রাবেয়াই ধরে নিয়ে এসেছে তোমাকে, তাই না? ভাগ্যি ভাল, পুলিসে খবর না নিয়ে বুদ্ধি করে তোমার কাছে গিয়েছিল। তুমি এসেছ বলে আমি খুব খুশি হয়েছি।
‘আমিও। ‘তোতাপাখির মত বলে উঠল রানার হাঁটুর উপর বসা মিমি
ওর কথাটা লক্ষ না করে বলে চলল জহিরুল হক, বিপদ হোক বা না হোক, হতে পারে মনে করে কোন বন্ধুকে পাশে এসে দাঁড়াতে দেখলে মনটা মন্ত বড় হয়ে যায়। নিজেকে বেশ ইম্পরট্যান্ট মনে হয়। হ্যাঁ, আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু যদি বলো তুমিও রাবেয়ার মত ব্যাপারটাকে অনর্থক গুরুত্ব দিচ্ছ, তাহলে কিন্তু সত্যিই চটে যাব। পাগলামিরও একটা সীমা থাকে। কি মনে করেছে এই লোকটা আমাকে? ননীর পুতুল?”
“এসবকে গুরুত্ব না দেয়াই ভাল,” বলল রানা। কিন্তু এটা আপনাকে স্বীকার করতেই হবে, লোকটা ঠাট্টা বা মস্করা যাই করে থাক, মাত্রাটা একটু বেশি হয়ে গেছে। ভাল কথা, সকালে মাকড়সার সাথে যে চিঠিটা পাওয়া গিয়েছিল, ওটা কোথায়?
“আছে। দেখবে?” উঠে দাঁড়াল জহিরুল হক। ড্রয়ারে রেখে দিয়েছি। মাকড়সাটাও রেখেছি একটা খামে পুরে। ডেস্কের দিকে এগোল জহিরুল হক।
তুলতুলে নরম হাতে রানার থুতনি ধরে মনোযোগ আকর্ষণ করল মিমি। হাতে লজেন্সের চটচটে আঠা। একটা লজেন্স তুলে ধরল রানার চোখের
সামনে।
‘এটাকে ন্যাংটো করে দাও না, চাচা?’
অবাক হয়ে লজেন্সটার দিকে চাইল রানা, তারপর বুঝতে পারল। হেসে উঠল।
‘গুহ্-হো! কাপড়টা খোলা যাচ্ছে না বুঝি? হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ! দাও, খুলে দিচ্ছি।’ লজেন্সের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে জিজ্ঞেস করল, “তোমার সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে কাকে, মিমি? আব্বাকে না আম্মাকে?’
“আব্বাকে, আর আম্মাকে।’ একটু ভেবে বলল, ‘আর তোমাকে।’ ‘বেশি কাকে? আব্বা ভাল, না আম্মা?”
‘সবাই ভাল্লু।’
হেসে উঠল রাবেয়া হক। ওই পাজির পেট থেকে কথা বের করতে পারবে মনে করেছ? সবার মন রাখা কথা শিখে গেছে। জিগেস করে দেখো না, কার পাশে শুয়ে রোজ বিছানা ভাসায়?
“আব্বা।’ জিজ্ঞেস করবার আগেই উত্তর এসে গেল।
‘আর কে মারে?’
“আম্মা। আম্মা পচা।’
এমনি সময়ে জহিরুল হকের বিস্মিত কণ্ঠস্বর শোনা গেল ।
‘আরে! গেল কোথায় ওগুলো? ড্রয়ারেই তো রেখেছিলাম! তুমি সরিয়েছ এখান থেকে, রাবেয়া?
“না তো!’ বলেই উঠে দাঁড়াল রাবেয়া হক। দ্রুতপায়ে এগিয়ে গেল ডেস্কের দিকে। চোখমুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। ‘আমি ছুঁইওনি গুগুলো। দেখি, সর তো, ভাল করে খুঁজে দেখি।’
কিন্তু পাওয়া গেল না তন্ন তন্ন করে খুঁজেও।
ঘরের পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে হয়ে উঠল। ফিরে এসে সোফায় বসেছে জহিরুল হক, রাবেয়া হক আবার শুরু থেকে খুঁজতে যাচ্ছিল, বারণ করল সে।
আর খোঁজাখুঁজি করে লাভ নেই, রাবেয়া। আমার স্পষ্ট মনে আছে, প্রথম ড্রয়ারটাতেই রেখেছিলাম।’ কথাটা হালকা গলায় বলবার চেষ্টা করল জহিরুল হক, কিন্তু রানা বুঝতে পারল হঠাৎ বেশ খানিকটা দমে গেছে সে। “নিশ্চয়ই কেউ ঢুকেছিল এ বাড়িতে!’ চাপা গলায় বলল রাবেয়া।
*এবং বলতে চাও প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করবার জন্যে গুগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে?’ হাসির চেষ্টা করল জহিরুল হক, কিন্তু প্রাণবস্তু হলো না হাসিটা। ‘তোমার কি মনে হচ্ছে, রানা?”
‘রহমানের উপর নির্ভর করা যায়?’ জিজ্ঞেস করল রানা।
‘একশো বার! ওকে অবিশ্বাস করবার কিছুই নেই। দশ বছর ধরে…’ “বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথা হচ্ছে না। নির্ভর করা যায় কিনা দায়িত্ব দিয়ে?” “তা যায়। কেন? কি ভাবছ তুমি?’
“আমি কিছু ভাবছি না। তথ্য জেনে নিলাম একটা। ভাবনা-চিন্তা আপনিই করুন। এইবেলা পুলিসে একটা খবর দিলে কেমন হয়?”
খানিক ভেবে মন স্থির করে ফেলল জহিরুল হক! মাথা নাড়ল।
“নাহ্। দুটো উড়ো চিঠি আর একটা মরা মাকড়সার জন্যে পুলিস ডাকা যায় না। খবরটা লিক আউট হবে। এই ধরনের পাবলিসিটি হলে… অসম্ভব! ‘এখনও জেদ করছ তুমি!’ প্রায় চেঁচিয়ে উঠল রাবেয়া হক। ‘প্রথম দিনই তোমার জানানো উচিত ছিল পুলিসকে। কত বড় বিপদ ঘনিয়ে আসছে বুঝতে পারছ না এখনও? বাজে হুমকি নয়, হাজার বার করে…..
“উত্তেজিত হবেন না, ভাবী, শান্ত কণ্ঠে বলল রানা। জহির ভাইয়ের কথাটা নেহাত অযৌক্তিক নয়। প্রোভোকেশনের নমুনা দেখে মনে হচ্ছে ওরা মনেপ্রাণে চাইছে উনি পুলিসকে ডাকুন এবং ব্যাপারটা ফলাও করে প্রচারিত হোক। ঠাণ্ডা মাথায় আর একবার ভেবে দেখা যাক। জহির ভাই একা নেই । আমি আছি, প্রয়োজন হলে রহমানকেও ডেকে আনা যাবে। আমরা তিন জন রয়েছি ঘরের মধ্যে। বাইরে গিলটি মিঞা রয়েছে পাহারায়, সন্দেহজনক কিছু দেখলেই সাবধান করে দেবে আমাদের প্যাঁচার ডাক ডেকে। কাজেই আমাদের ভয় কি? পুলিসে খবর দিলে থানা থেকে একজন বা দুজন সেপাই এসে কি এমন…..
থেমে গেল রানা। ঢং ঢং করে বেজে উঠল দেয়াল ঘড়িটা। রাত ন’টা।
চাপা
একটা আতঙ্ক নেমে এসেছে যেন ঘরটায়। পরস্পরের চোখের দিকে চাইল ওরা। উৎকণ্ঠিত।
সোফার এক পাশে কার্পেটের উপর বসে মিমি বিভোর হয়ে আদর করছে ওর প্লাস্টিকের মেয়েটাকে। কোনদিকে কোন খেয়াল নেই। নিশ্চিন্ত, নিরুদ্বিগ্ন! কান্না থামিয়ে বাচ্চাটাকে কোলের উপর শুইয়ে দিয়ে এক পা নাচিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছে এখন ।
‘ন’টার সময় টাকা নিতে আসার কথা!’ ফিস ফিস করে বলল রাবেয়া হক।
‘কোন ভয় নেই, রাবেয়া। স্ত্রীর কাঁধের উপর একটা হাত রাখল জহিরুল হক। নিশ্চিন্ত থাকো, কেউ আসবে না টাকা…’
কথাটা শেষ করবার আগেই তীক্ষ্ণ সুরে বেজে উঠল কলিংবেল ।
এক লাফে উঠে দাঁড়াল তিনজনই। ফুঁপিয়ে উঠল রাবেয়া। অস্ফুট গোঙানির মত শব্দ বেরিয়ে এল মুখ দিয়ে। মড়ার মত ফ্যাকাসে মুখটা বিকৃত হয়ে গেল কান্নার ভঙ্গিতে। স্থির দৃষ্টিতে রানার চোখের দিকে চেয়ে রয়েছে জহিরুল হক।
রহমানের পায়ের শব্দ শোনা গেল। দরজা খোলার আওয়াজ এল। নিচু গলায় কি যেন কথা বলল, তারপর এ ঘরে এসে ঢুকল রহমান।
‘করিমের আহনের কথা আছিল নি, স্যার?”
‘কোন্ করিম? আমাদের পিওন?’ অবাক হয়ে বলল জহিরুল হক। “হ, স্যার। একখান প্যাকেট নিকি পৌঁছায়া দেওনের কতা কুনহানে? আইছে নিতাম বইলা।’
এগোতে যাচ্ছিল জহিরুল হক, খামচে ধরল ওকে রাবেয়া।
সবাইকে উঠে দাঁড়াতে দেখে পুতুল কোলে উঠে দাঁড়াল মিমিও। অবাক হয়ে দেখছে সবার মুখ ।
‘আপনি ভাবীর সাথে থাকুন, আমি দেখছি,’ বলেই কাউকে কোন কথা বলবার সুযোগ না দিয়ে এগিয়ে গেল রানা। পিছনে চলল রহমান। নিচু গলায় রহমানকে জিজ্ঞেস করল রানা, পিওনটাকে চেনো তুমি? তোমার সাহেবের অফিসের?’
“ই, স্যার।
দরজার কাছে উজ্জ্বল আলোর নিচে দাঁড়িয়ে রয়েছে সাদা ইউনিফরম পরা পিওন। কোমরে বেল্টের বাকলে কোম্পানীর পিতলের মনোগ্রাম আঁটা, বাম বগলের নিচে পিওন-বুক। অল্প বয়সী সপ্রতিভ চেহারা।
‘এখান থেকে প্যাকেট নিয়ে যেতে কে বলেছে তোমাকে?”
‘পারচেজ আসিস্টান মোক্তার সাব কইছে, হাজুর। বড়া সাবের মাকান থেকে একটো পাকিট যাবো সিরাজ হোটেলে। পিওন-বুকে দাসখত লিয়ে ডেলিস্ত্রি হোব।
এক নিমেষে বুঝে নিল রানা, আসল ব্যাপারের কিছুই জানে না এই লোক। খোঁজ করলে হয়তো জানা যাবে সেই মোক্তার সাহেবও জানে না কিছুই, টেলিফোনে আদেশ পেয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে করিমকে। সেই আদেশকারীর কাছে খোঁজ নিলে জানা যাবে, সে ফোন করেনি। অর্থাৎ এই লাইনে কোন হদিস পাওয়া যাবে না।
সিরাজ হোটেলে কার কাছে ডেলিভারি দিতে হবে প্যাকেটটা?’ জিজ্ঞেস করল সে।
‘মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সাবের কাছে।’ বলেই পিওন-বুক খুলে দেখে নিল নামটা আবার। বলল, ‘হ্যাঁ।’
তাকে চিনবে কি করে?
রিসিপশান মোদে পুছ করলেই জানা যাবো।’ এত প্রশ্নে একটু ভড়কে গেল পিওনটা। ‘কাছু গোলমাল হইছে, হাজুর?
‘না, না। তুমি এখানে দাঁড়াও একটু, প্যাকেটটা নিয়ে আসছি আমি।’ রহমানের দিকে ফিরে বলল, ‘তুমি এসো আমার সাথে।’
রানার এই উদ্ভট ব্যবহারে কেমন একটু ঘাবড়ে গেছে রহমানও। রানার পিছন পিছন রান্নাঘরের পাশের স্টোররুমে এসে হাজির হলো, রানার ইঙ্গিতে বন্ধ করে দিল দরজা।
‘গোটা কয়েক খবরের কাগজ ভাঁজ করে একটা প্যাকেট বানাও তো, রহমান। ঝটপট।’ তর্জনী আর বুড়ো আঙুল দিয়ে মাপ দেখাল। “এতটা হলেই হবে। একটা বইয়ের মত। মোটা কোন কাগজ দিয়ে মুড়ে দিতে হবে প্যাকেটটা।’
বিশ্বয়ে বিস্ফারিত হয়ে গেল রত্নমানের চোখ, কিন্তু একটি প্রশ্ন না করে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সে প্যাকেট তৈরিতে। সুন্দর একটা প্যাকেট তৈরি করে লাল-সাদা সুতো দিয়ে বেঁধে দিল।
‘ভেরি গুড।’ ওর হাত থেকে প্যাকেটটা নিয়ে চলে এল রানা দরজার কাছে অপেক্ষমাণ করিমের কাছে।
শোনো। দশটার আগে আলাউদ্দিন সাহেবকে পাবে না সিরাজ হোটেলে। কিসে করে এসেছ?”
‘সাইকিল, হাজ্বর,’ বলল পিওন।
‘সোয়া দশটা নাগাদ যাবে তুমি ওই হোটেলে, প্যাকেটটা ডেলিভারি দিয়ে সোজা চলে আসবে এখানে। কেমন?
‘বহুত আচ্ছা, হাজুর।
হাত বাড়িয়ে প্যাকেটটা নিল করিম। সেই সাথে একটা দশ টাকার নোট গুঁজে দিল রানা ওর হাতে।
“খানাপিনা হয়নি মনে হচ্ছে? এটা দিয়ে কিছু খেয়ে নাও কোন হোটেলে।’
টাকা পেয়ে একগাল হাসল করিম, মাথা ঝুঁকিয়ে সেলাম করে বলল, ‘বহুত আচ্ছা, হাজুর।
দরজা লাগিয়ে ফিরে এল রানা প্রকাণ্ড বৈঠকখানায়। ডিভানের উপর পাশাপাশি বসে আছে স্বামী-স্ত্রী। একটা সোফায় কুঁকড়ে শুয়ে ঘুমিয়ে গেছে মিমি জুতো-মোজা পরা অবস্থাতেই, আঁকড়ে ধরে আছে পুতুলটাকে বুকের কাছে। রাবেয়া হকের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে অনেকটা সামলে নিয়েছে, কিন্তু বাম হাতে শক্ত করে ধরে আছে স্বামীর একটা হাত।
এতক্ষণে ব্যাপারটাকে একটু গুরুত্ব দিতেই হচ্ছে, জহির ভাই,’ বলল রানা। ‘আপনার টাকার অপেক্ষায় সিরাজ হোটেলে বসে আছে মাকড়সা বাবাজি মোহাম্মদ আলাউদ্দির নাম নিয়ে। কার হুকুমে পিওন করিম এল সেসব দেখা যাবে কাল, আমি একটা বাজে কাগজের প্যাকেট ধরিয়ে দিয়েছি ওর হাতে। সোয়া দশটার দিকে ওটা ডেলিভারি দিতে যাবে ওখানে করিম। ইতিমধ্যে ব্যাপারটা পুলিসকে জানাতেই হচ্ছে। একে একটু শায়েস্তা করে না দিলে আরও অনেককে জ্বালাতন করবে। আমি ডি.আই.জি. আখতারুজ্জামানকে জানিয়ে দিচ্ছি ব্যাপারটা, যা করবার ও-ই করবে। আর হ্যাঁ, পাবলিসিটি যেন না হয় সে অনুরোধও করব।
নিরুপায় ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকাল জহিরুল হক
‘ঠিক আছে। যা ভাল বোঝো করো।’
রিসিভারটা কানে তুলে নিল রানা, দুই সেকেন্ড কানে চেপে রেখে ভুরু কুঁচকাল, বার কয়েক টোকা দিল ক্রেডলে, শুনল, তারপর নামিয়ে রেখে দিল রিসিভার।
ব্যাপারটা টের পেয়ে ছ্যাৎ করে উঠেছে রানার বুকের ভিতরটা। হালকা ভাবে নিয়েছিল সে এসব এই অল্প কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত।
ক্রমেই আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে, জহির ভাই,’ বলল রানা। “টেলিফোনটা ডেড।’
হক।
“কেন? এই খানিক আগেও তো…’ বলতে বলতে থেমে গেল জহিরুল
‘তার কেটে দিয়েছে কেউ!’ ককিয়ে উঠল রাবেয়া। উঠে দাঁড়াল দিশেহারার মত।
পিস্তলটা বেরিয়ে এসেছে রানার হোলস্টার থেকে। এগিয়ে দিল জহিরুল হকের দিকে। এটা ধরুন।’
‘ওটা তোমার কাছেই রাখো, রানা। আমার কাছে একটা।’ প্যান্টের পকেট থেকে ছোট্ট একটা নাকবোঁচা থ্রী-টু ক্যালিবারের রিভলভার বের করল জহিরুল হক।
“কাছে কোথাও টেলিফোন আছে?’ জিজ্ঞেস করল রানা।
‘আধ মাইল দূরে আছে। গুলশান থানায়।’ জবাব দিল জহিরুল হক। ‘তুমি যাবে, না রহমানকে পাঠাব?”
তিন সেকেন্ড ডাবল রানা। তারপর বলল, ‘তাড়াহুড়োর কিছুই নেই।

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top