শত্রুদেশে মুসলিম গোয়েন্দা ১ম খণ্ড – রফিক আহমদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

শত্রুদেশে মুসলিম গোয়েন্দা ১ম খণ্ড – রফিক আহমদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ রফিক আহমদ

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৪৬

শত্রুদেশে মুসলিম গোয়েন্দা ১ম খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ

করে থাকবে। আমি নিকটেই এক টেম্পুতে উঠে পড়লাম। কিছুদূর যাওয়ার পর টেম্পু ছেড়ে দিলাম। তারপর বাসে উঠলাম। তারপর বাস ছেড়ে আবার টেম্পুতে উঠলাম এবং নিজ আবাসস্থল পৌঁছতে পৌঁছতে আমি আনুমানিক তিনগুণের অধিক পথ সফর করলাম। এজন্যই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি যে, যদি কেউ আমার পিছু নিয়ে থাকে তাহলে সে ভড়কে যাবে।
হোটেলে পৌঁছার পর ভালভাবে দরজা লাগিয়ে প্যাকেট খুললাম । প্যাকেটে আরও দশ হাজার ভারতীয় রূপী আর পাঁচ পৃষ্ঠার একটি চিঠি ছিল। এটি হিন্দি ভাষায় লেখা একটি প্রেমপত্র। যে কেউ তা দেখলে হয়ত ধারণা করবে, আমি এক রসিক প্রেমিক। চিঠিগুলোতে ব্যবহৃত প্রতিটি কাগজের অপর পৃষ্ঠা ছিল খালি। আমি সংকেত বুঝতে পেরে মোমবাতি জ্বালিয়ে চিঠির সাদা দিককে মোমবাতিতে সেঁকে গরম করতে লাগলাম। সাদা কাগজের পিঠে ধীরে ধীরে সোনালী রংয়ের অক্ষর ভাসতে শুরু করল। মাত্র ১৫ মিনিটেই সমস্ত পৃষ্ঠার গোপন কালিতে লিখিত কথাগুলো সুস্পষ্ট হয়ে গেল । এই পাঁচপৃষ্ঠা আমাদের পাঁচজনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এতে আছে, ভালভাবে আমাদের সীমান্ত পাড়ি দেয়া ও সহিহ সালামতে দিল্লী পৌঁছার মোবারকবাদ ও সাহস বৃদ্ধির জন্যে অভয়বাণী। তাছাড়া এ পত্রে আমাকে নতুন করে একটি মিশনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এ নতুন মিশনকে অন্যসব কাজের উপর প্রাধান্য দিয়ে দ্রুতগতিতে স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার তাগিদও করা হয়েছে। তার সাথে ডাক পাওয়ার রসিদ ও বর্তমান অবস্থা জরিপ করে কাজের বিবরণ লিখতে বলা হয়েছে।
আমি উত্তর লেখার জন্য পূর্ব থেকেই গোপন কালি প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। সেই কালিতে দুই পৃষ্ঠা উত্তরপত্র লিখলাম । দ্বিতীয় পৃষ্ঠার অপর পিঠে ইংরেজি কবিতার কিছু অংশ লিখতেও ভুল করলাম না। চিঠিপত্রে আমরা যে গোপন কালি ব্যবহার করছি তা হচ্ছে পিঁয়াজ, রসুন ও লেবুর রস। এই রস দ্বারা পত্র লিখে কাগজ শুকানোর পর লেখার কোন চিহ্নই বাকী থাকে না, একদম পরিষ্কার দেখা যায়। আবার যখনই এ কাগজকে গরম করা হবে তখনই লেখাগুলো ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
আগামীকাল আমাকে নতুন এক জায়গায় কন্ট্রাক্টরের সাথে ঠিক দশটায় সাক্ষাত করতে হবে এবং উত্তরপত্র তার হাতে হস্তান্তর করতে হবে। সময় ও স্থান পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাই প্রোগ্রাম অনুযায়ী ঠিক দশটায় আমরা নির্ধারিত জায়গায় মিলিত হলাম। আমি উত্তরপত্রের প্যাকেট তার হাতে হস্ত ান্তর করলাম। কন্ট্রাক্টর ফিরে যাওয়ার পর সাথীদের চিঠি হাতে দিলাম । ভারত আসার পর জন্মভূমির সাথে এটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম যোগাযোগ । এ যোগাযোগে আমরা যারপরনাই আনন্দিত হলাম। এ যোগাযোগ আমাদের ঝিমিয়ে পড়া অঙ্গগুলোকে সতেজ করে দিল। দূর করে দিল মনের সকল অবসাদ ও ক্লান্তি। ভুলে গেলাম প্রবাসের সকল দুঃখ, ফিরে পেলাম উদ্যমতা। তাছাড়া পত্রে অভয়বাণী থাকায় আমাদের চেতনা সাগরে জোয়ার উঠল। তাই আমরা এ জোয়ার ধরে রাখার জন্য এবং মিশনকে সফল করার জন্যে নতুনভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলাম। তারপর আমি হোটেলে ফিরে আসলাম এবং নতুন মিশনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। লিপটন, গ্রীণ ল্যাবেল এবং ব্রুকব্যান্ড রেড লেবেলের প্রতিটি থেকে ছয়টি করে টিন নিয়ে রাতে তা রান্ডিং করলাম। তারপর আধা কিলো করে প্যাকেট করলাম। প্যাকেট করা শেষ হলে নতুন মিশনের কলা-কৌশল নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম যে, কিভাবে এই কঠিন কাজ সম্পাদন করব। এতে কোন সমস্যা হবে কিনা, হলে তার সমাধান কিভাবে করব। এই ভাবনাতেই রাতের আঁধার চিরে পুবাকাশে দিনের আগমনি বার্তা জানিয়ে উদিত হল টকটকে লাল সূর্য। সকাল বেলা সাথীদেরকে বিদায় দিয়ে দিলাম। বিদায়বেলা ট্রান্সমিটারটিও দিয়ে দিলাম যা আগ্রা ও ঝান্সি যাওয়ার সময় তাদের থেকে রেখেছিলাম।
সাথীদেরকে বিদায় জানানোর পর আমি হোটেলে এসে নিদ্রাপুরীতে পাড়ি জমালাম । কেননা নতুন মিশনের কাজে আগামীকাল প্রত্যুষে আমাকে দিল্লীর বাইরে যেতে হবে। আমার এ অনুপস্থিতিতে ট্রান্সমিটারধারী সাথীকে আমার স্থলাভিষিক্ত করলাম। তারা চারজন বিভিন্ন হোটেলে থাকত। আমি তাদেরকে কারোনিশে বদলী করে দিলাম। সাথে সাথে হোটেলের বাইরে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার অনুমতিও দিয়ে দিলাম। এদিকে কন্ট্রাক্টরের সাথে যোগাযোগ করলাম এবং বারদিন পর নতুন জায়গায় দুপুরের পর সাক্ষাত করতে বললাম। এই বারদিন সময় এজন্য নিলাম যেন এই বারদিন রাত-দিন ঐকান্তিক পরিশ্রম করে আমার দায়িত্বের বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে কন্ট্রাক্টরের হাতে পাঠিয়ে দিতে পারি।
পাকিস্তান থেকে যাত্রার প্রাক্কালে আমাকে যে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। আমি তাতে কিছু রদবদল করেছি। আর রদবদলের কারণ হচ্ছে, পাকিস্তানে বসে ভারতের আভ্যন্তরীণ অবস্থার সঠিক অনুমান করা সম্ভব না। আমি ভারত ঘুরে ফিরে ভারতের অবস্থা দেখে উপদেশাবলীতে কিছু পরিবর্তন পরিবর্ধন করেছি। এ পরিবর্তন শুধুমাত্র ভারতে বসবাস ও বর্ডার গাইডকে ফেরত পাঠানো পর্যন্তই সীমিত। কেননা বর্ডার অতিক্রম করার পর মিশনের কামিয়াবী ও সাধীদের যথাযথ সংরক্ষণ করা আমার যিম্মায়। আমার মিশনের কর্মসূচীর একটি হচ্ছে আহমদ নগর যাওয়া। পাকিস্তান ব্রিফিংকালে বলা হয়েছে যে, আহমদ নগর হচ্ছে ভারতের আর্মড কোর অর্থাৎ ট্যাংক ট্রেনিং সেন্টারে আর্মড কোরের যুবকদেরকে শুধুমাত্র বর্তমান বিদ্যমান ট্যাংক গান চালানোর প্রশিক্ষণই দেয়া হয় না বরং রাশিয়া থেকে আমদানীকৃত টি-সিরিজ ট্যাংকের ব্যবহার পদ্ধতিও শিখানো হয়। আনন্দ ফুর্তিতে গুলিবর্ষণকারী কখনো দক্ষ গোলন্দাজ হতে পারে না। যুদ্ধের সময় সম্মুখ থেকে আসা হাজার হাজার, লাখ লাখ, গুলা বৃষ্টি, বোম, অশ্বের পদাঘাতে উড়ন্ত ধুলা- বালি, ধোঁয়া একাধারে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা কাদা পানি ও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে যে অস্ত্রের সঠিক ব্যবহার করতে পারে এবং এ কঠিন পরিস্থিতিতে অস্ত্র খুলে ময়লা পরিষ্কার করে তা আবার যথাস্থানে ফিট করে নিশানা ঠিক করতে পারে সেই হচ্ছে দক্ষ গোলন্দাজ। এই বাস্তব সত্যকে স্বীকার করতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করব না যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী যদিও প্রশিক্ষণের দিক থেকে আমাদের চেয়ে উত্তম নয় তবে আমাদের চেয়ে কোন অংশে কমও নয় । এশিয়া মহাদেশে মুসলমানদের হাজার বছরের শাসন তাদেরকে কাপুরুষে পরিণত করে দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে স্বল্পসংখ্যক পাক বাহিনীর কাছে ভারত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। তবে ১৯৭১-এর যুদ্ধে ভারত পাকিস্তানকে দুই টুকরা করে দিয়ে এবং ৯০ হাজার পাক বাহিনীকে বন্দি করে তার মৃতপ্রায় বদনে নব জীবন ফিরে পেয়েছে ।
আহমদ নগরে আমার কাজ হচ্ছে ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে নতুন আমদানীকৃত ট্যাংক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। আর্মড কোরের কোন কোন রেজিমেন্ট এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তা জানা। এর সাথে এও জানা যে, ট্রেনিং শেষ করে এই রেজিমেন্ট কোথায় যাবে এবং কোন ইনফেন্ট্রি-এর সাথে তাদেরকে মিলানো হবে। আমি খুব ভালভাবেই জানি যে, আমার কষ্টার্জিত এই তথ্য পাকিস্তানের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের কাছে ‘সাখতাও জিনত’ নামের ট্যাংক আছে, যা অনেক ভারী ও ধীরগতির। ১৯৬৫ সালে ভারতের কমান্ডার ইন চীফ জেনারেল চৌধুরীর এ ট্যাংকের প্রতি সীমাহীন অহংকার ছিল। তিনি এই ট্যাংককে ‘কাল হাতী’ নাম দিয়েছিলেন। দেখতে এটা পাহাড়ের মত। তাছাড়া এই ট্যাংককে বসা হাঁসের মত মনে হতো। ভারতের কাছে এছাড়া ফ্রান্স নির্মিত এ.এম.এক্স-১৩ রাশিয়ান পি.টি-৭৬ ও টি.সিরিজ-এর মত এ যুগের সর্বোত্তম ট্যাংকও রয়েছে। ট্রেনিংয়ের পর এই ট্যাংক রেজিমেন্টকে পাক-ভারত সীমান্তে নিয়োগ করা হবে। ভারতের কাছে রক্ষিত ট্যাংকের কর্মক্ষমতা ও সীমান্তে নিয়োজিত বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে অবগত হওয়া পাকিস্তানের একান্ত অপরিহার্য। পাকিস্তান যদি ভারতের টি- ৫৭ ট্যাংকের সামনে পাকিস্তানের যুদ্ধবিধ্বস্ত পুরাতন ট্যাংক রাখে তবে তা হবে নিজেদের জীবন ও ট্যাংক নিজ হাতে ধ্বংস করা। এ ধ্বংসের কবল হতে বাঁচতে হলে টি-৫৭-এর মোকাবেলায় পাকিস্তানকে আমেরিকা থেকে প্রাপ্ত এম.সিরিজ-এর নতুন ট্যাংক এবং পিটন ট্যাংক দাঁড় করাতে হবে। এ কারণেই আমাকে তথ্য সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
আহমদ নগর বোম্বাই শহর থেকে আনুমানিক পাঁচশত কিলোমিটার পূর্বে শহরের কোলাহল মুক্ত গুদওয়ারী সমুদ্রের তীরবর্তী নির্জন এলাকায় অবস্থিত। তার আশেপাশে কোন মিল ফ্যাক্টরি নেই। গুদওয়ারী সমুদ্রের একটি নদী আহমদ নগরের পাশ দিয়েই প্রবাহিত হয়ে গেছে। মোটকথা, আহমদ নগর ট্যাংক ট্রেনিংয়ের জন্য খুবই উপযোগী। এখানে উঁচু-নিচু, কাদা-বালি ও পানি থাকাতে ট্যাংকের ব্যবহারে যাবতীয় ট্রেনিং দেওয়া হয়। আনুমানিক বিশ বাইশ ঘণ্টার দীর্ঘ সফরের পর আমি আহমদ নগরে পৌঁছলাম। এ শহরের নামী দামী পছন্দনীয় একটি হোটেলে উঠলাম। এখন কাজ হচ্ছে সেই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা যেখানে রয়েছে ব্রিগেডিয়ার হেড কোয়ার্টার ও ডিভিশন হেড কোয়ার্টার। ট্রেনিং সেন্টার এলাকায় প্রবেশ করা দুরূহ ব্যাপার হলেও সম্ভব। আমি ব্রিগেডিয়ার হেড কোয়ার্টার ও ডিভিশন হেড কোয়ার্টারে প্রবেশ করার জন্য চা বিক্রেতার ছদ্মবেশ ধরলাম এবং এই বেশে উভয় স্থানের প্রধান ব্যক্তি জেড,আই,সি ও এডি,ও,এস পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হলাম। তাদের কাছে লঙ্গরখানার জন্য আমার বয়ে আনা চা পেশ করে বললাম, স্যার! আমার চা হচ্ছে বর্তমান বাজারের সেরা চা। এটা শুধু নামে নয়, কাজেও সবার শীর্ষে। যে এই চা একবার পান করেছে সে বারবার পান করতে চাইবে। বোম্বাই নিউটাগে হচ্ছে আমার হেড অফিস। আর আমি বর্তমানে আহমদ নগরের অমুক হোটেলে আছি। এই প্যাকেটগুলো স্যামপল হিসাবে রেখে যাচ্ছি। আগামীকাল এসে জানব যে, আমার চা আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে আসলাম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমার চায়ের উত্তম কোয়ালিটি ও স্বল্প মূল্যই তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
হেড কোয়ার্টারে যাওয়ার সময় আমি ডিভিশন ও রেজিমেন্ট-এর প্রতীক শনাক্ত করে ফেলেছি। এখন আমার টার্গেট হচ্ছে প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা। এই উদ্দেশ্যেই সন্ধ্যা বেলা ঘুরাফেরা করার জন্যে হোটেল থেকে বের হয়ে গেলাম। বাইরে এসে একটি অটোরিক্সা ভাড়া করলাম। ড্রাইভারকে সমগ্র শহর ঘুরিয়ে দেখাতে বললাম। আমরা ঘুরতে ঘুরতে শহরের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলাম। এখানে এসে দেখলাম যে, সেনা ছাউনির বাইরে একটি শরাবখানা। প্রশিক্ষণার্থী সেনা সদস্যরা এ শরাবখানায় প্রবেশ করছে এবং শরাব পানাহারান্তে বেরিয়ে যাচ্ছে। ট্রেনিং গ্রহণকালে যেহেতু ভারতের সকল রেজিমেন্টের প্রতীকসমূহের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম সেহেতু সেনা সদস্যদের দেখামাত্র চিনতে আর দেরি হল না যে, এরা কে কোন রেজিমেন্টের সদস্য। তাদের প্রতীকই বলে দিচ্ছে যে, তারা বিভিন্ন রেজিমেন্টের সদস্য। তারা এ শরাবখানায় তাদের চাহিদা পূরণের জন্য আসে। ভারত সরকার সেনা সদস্যদেরকে প্রতিদিন দুই আউন্স করে শরাব ফ্রি দেয়। আর এই দুই আউন্সে তাদের চাহিদা মিটে না। যার জন্য তারা এই শরাবখানায় আসতে বাধ্য। কেননা, এখানে দেশীয় শরাব পাওয়া যায়। আর তারা এই শরাব পান করেই বাকী চাহিদা পূরণ করে। আমি শরাবে মাতাল সৈন্যদের থেকেই আমার কাঙ্ক্ষিত তথ্য উদ্ধারের পরিকল্পনা করে হোটেলে ফিরে আসলাম ।
আমি পরদিন পুনরায় আই, ডি ও আই,সি অফিসে গেলাম এবং আমার চায়ের স্যামপলগুলোকে অফিসেই পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পেলাম । আমি অফিস কর্মকর্তাদের কাছে আমার চায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলাম যে, আমার চা কি এখানে চলবে? আমার চা কি নিবেন? জবাবে তারা বলল যে, আমরা এক সপ্তাহ পর আপনাকে জানাব, আপনার চা আমরা নিব কি না । যদি আপনার চা আমরা নিই তবে আপনি যে সর্বদা আমাদের চাহিদা মাফিক চা সরবরাহ করতে পারবেন তার জামানত হিসাবে এডভান্স জমা করতে হবে। তারপর আমরা আপনার সাথে নিয়মানুযায়ী এগ্রিমেন্ট করব এবং এ এগ্রিমেন্টেই লেখা থাকবে যে, আপনি কত তারিখ থেকে চা সরবরাহ শুরু করবেন। এ জবাব শুনে আমি অফিস থেকে বেরিয়ে হোটেলের পথ ধরলাম। তাছাড়া অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কথাবার্তায় বুঝতে পারলাম যে, আমার চা এখানে চালাতে হলে ডিভিশন হেড কোয়ার্টারের এ.ডি.ও.এস এবং ব্রিগেডিয়ার হেড কোয়ার্টারের ২-কে ও এড জয়েন্টের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। আর বন্ধুত্বের জন্য তাদেরকে বখশিস দিতে হবে।

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top