রোহিনী নদীর তীরে – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ শফিউদ্দিন সরদার
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬২
রোহিনী নদীর তীরে – বইটির এক ঝলকঃ
ঃ নেই বাবা, কিছু নেই । ঃ ফিন্ ঝুটবাত । ছালে বুডটি-
বলেই সে একটান মেরে বুড়িটাকে পালকি থেকে বের করে আনলো। বুড়ির পেছনেই অনেকগুলো বাক্স পেটরা, পোঁটলা-গাঁটুরী ছিল। সর্দারের নির্দেশে তার সঙ্গীরা সঙ্গে সঙ্গে পালকি থেকে নামিয়ে নিলো সেসব। সর্দার ফের সঙ্গীদের প্রশ্ন করলো, ঝুঁপড়ি কি অন্দর আওর কুচ্ নেহি?
সঙ্গীরা বললো, মালমাত্তা আওর কুচ নেহী সর্দার। লেকেন, এক নও জোয়ানী উধার গিরারাহী হ্যায়।
নিকাল লাও উসকো-
সঙ্গীরা তৎক্ষণাৎ সে মেয়েটাকেও টেনে হেঁচেড়ে বের করলো পালকি থেকে। মেয়েটার মুখের দিকে চেয়েই দস্যু সর্দার উল্লাস ভরে আওয়াজ দিয়ে উঠলো, ব্যোম কালী! কেয়া খুব সুরাত।
সঙ্গীরাও সঙ্গে সঙ্গে আওয়াজ দিলো, কেতনা জেওর।
সর্দার প্রশ্ন করলো, কিয়া কাহা
সঙ্গীরা বললো-সোনা-দানা, হীরে-মুক্তা-বহুৎ বহুৎ অলংকার। ইস্ লেড়কি কো গা’মে বহুৎ জেওর হ্যায় সর্দার। লাখ রুপেয়াকা জেওর। হাম লোগুকো উম্মিদ পুরা হো গিয়া।
ঃ হাঁ-হাঁ, ওহিবাত ঠিক। ছিনলো বিলকুল।
বুড়িবেটি চমকে উঠে বললো, দোহাই’ বাবা, নিওনা। ওগুলো নিওনা। মেয়েটার অকল্যাণ হবে।
বুড়িটা মেয়েটাকে আগলাতে এলো। সর্দার ফের গর্জে উঠে বললো, ছালে বুডটি, ভাগ যাও হিয়াছে-
বলেই সে সজোরে লাথি মারলো বুড়িটাকে। আর্তনাদ করে উঠে বুড়িটা ছিটকে গিয়ে পাশের গাছ-গাছড়ার মধ্যে পড়লো এবং অজ্ঞান হয়ে ওখানেই পড়ে রইলো ।
সর্দার তার সঙ্গীদের হুকুম করলো, দেখতা হ্যায় কিয়া? উকী জেওর আগারী ছিনলো-
সজ্ঞালুপ্ত অবস্থায় এতক্ষণ কোন মতে দাঁড়িয়েছিল মেয়েটি। সন্ত্রস্ত কণ্ঠে বললো, না-না, আমার গায়ে হাত দিওনা। আমি নিজেই খুলে দিচ্ছি বাবা। যা কিছু আছে, সব খুলে দিচ্ছি। তবু আমার গায়ে হাত দিওনা। জুলুম করো না আমার উপর ।
দস্যু সর্দার খোশকণ্ঠে বললো, আপছে আপ খোল দেয়েগী? বহুৎ আচ্ছা-বহুৎ আচ্ছা । তব খোল দো- মেয়েটি সিঁথি-খোঁপা, নাক-কান, গলা-কোমর, হাত-পা, বাহু-আঙ্গুল-সকল স্থানের সব গহনা একে একে খুলে দিলো। এরপরে অনুনয় করে বললো, আর কিছু নেই বাবা। যা ছিল সব দিয়েছি। এবার আমাকে ছেড়ে দাও।
দস্যু সর্দার ক্রূর হাসি হেসে বললো, ছোড় দেয়েগা?
মেয়েটা করুণ কণ্ঠে বললো-বাক্সে পেটরা মালমাত্তা- যা কিছু আছে, সব তোমরা নিয়ে যাও বাবা। আমাকে ছেড়ে দিয়ে যাও।
ঃ নেহি নেহি । ওহি বাত মাত্ বলো রোশনে ওয়ালী। এয়সা জোয়ানী, এতনা খুব সুরাত আভিতক কভাভি নেহি মিলা। সব কুছ ছোড়দেনা সাকেগা। লেকিন তুমকো নেহি ।
না?
মেয়েটা চমকে উঠে বললো – সেকি! সব কিছু দিয়ে দিলাম, তবু ছেড়ে দেবে
বক্র হাসি হাসতে হাসতে দস্যু সর্দার বললো, ছোড়েগা ছোড়েগা। লেকিন ঝুট মুট নেহি। দো-তিন রোজ তুমহারা সাথ মজাছে আশনই করেগা, ফূর্তি করেগা, আওর উসাক বাদ জরুর তুমকো ছোড় দেয়েগা। হাঃ হাঃ হাঃ-
দস্যু সর্দার এগুতে লাগলো। মেয়টি পিছু হটতে হটতে মিনতি করে বললো, দোহাই, তোমার পায়ে পড়ি। সোনাদানা সব কিছু নিয়ে যাও।
আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে স্পর্শ করো না ।
ঃ হাঃহাঃহাঃ! এয়সা উমদা চিজ্, এয়সা জোয়ানী, আছে দের ছোড় দেয়েগা? কভভি নেহি । আগারী মৌজ করেগা, তব ছোড়ে গা। আ-যাও পেয়ারী, দো-তিন রোজকো লিয়ে তুমকো হামি হামার রাণী বানায়েগা ।
খপ্ করে মেয়েটার একখান হাত ধরে ফেললো এবং সঙ্গীদের হাঁক দিয়ে বললো, হারে গিডিড্ডর, হারুয়া, আভি জলদি জলদি ডেরা মে যানা হোগা সামান- উমান কী সাথ ইস্ রো নেওয়ালীকো ভি ডেরামে লে চলো-
দস্যুসর্দার মেয়েটিকে টানতে লাগলো । মেয়েটি এবার প্রাণপণে চিৎকার দিতে লাগলো, বাঁচাও বাঁচাও-
অট্টহাসি হেসে দস্যু সর্দার বললো, কুয়ী বাঁচানেওয়ালা হিয়াপর নেহি । আ-যাও-
মেয়েটিকে সে জড়িয়ে ধরতে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ এলো, খবরদার-
হকচকিয়ে গিয়ে দস্যু সর্দার বললো, কৌন?
আওয়াজ এলো তোমার মউত!
আওয়াজ দিলেন সরদার আব্বাস খাঁ। কান পেতে কিছুক্ষণ হৈ-হট্টগোল শুনার পর বেহারাগুলো একযোগে বাঁচাও বাঁচাও” আওয়াজ দিতেই সরদার আব্বাস খাঁর সকল সন্দেহ দূর হলো। তিনি বুঝতে পারলেন, পালকিটাই দস্যুর কবলে পড়েছে। জ্বলে উঠলে আব্বাস খাঁর দুচোখ। তাঁর নাগালের মধ্যে দস্যুবৃত্তি? এতবড় দুঃসাহস? লাফ দিয়ে আব্বাস খাঁ অশ্বপৃষ্ঠে উঠলেন এবং সঙ্গীদের ইশারা করেই নাঙ্গা তলোয়ার হাতে ছুটতে লাগলেন সামনের দিকে।
আব্বাস খাঁর সঙ্গীরা চারদিকে ছড়িয়ে ছিল। তারা ছুটে এসে অশ্বপৃষ্ঠে সওয়ার হতে কিছুটা বিলম্ব হলো। সরদার আব্বাস খাঁ সে অপেক্ষায় রইলেন না । একা একাই ছুটে এলেন আগে। আব্বাস খাঁকে একা দেখে দস্যু সর্দার তার সঙ্গীদের ডাক দিয়ে উপেক্ষা ভরে বললো, হারে রংলাল, হারুয়া, গিড্ডির কীধার গিয়া হ্যায় তুম লোগ?
এক ছালে ছাঁহাকা বাচ্চা ফিন মরণেকে লিয়ে আয়া হ্যায়, দেখ্তা নেহি? উস্কো খাহেশ পুরা করদো।
সঙ্গে সঙ্গে তিন চারজন দস্যু একযোগে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো সরদার আব্বাস খাঁর উপর। কিন্তু চোখের পলক পড়লো না। আব্বাস খাঁর তলোয়ারের দুর্বার ঘায়ে দস্যুরা চারজনই আর্তনাদ তুলে ছিটকে পড়লো চারদিকে। রক্তাক্ত হয়ে গেল সর্বাঙ্গ তাদের। তা দেখে দস্যু সর্দার সক্রোধে বললো, কেয়া।
এয়সা বাত? ছালে লোগ, তুমকো ফায়সালা করনা হোগা আগারী। বলেই মেয়েটিকে ছেড়ে দিয়ে দস্যু সর্দার এবার তার পুরো দল নিয়ে ঘিরে ফেললো আব্বাস খাঁকে। দস্যুরা সংখ্যায় প্রায় তিরিশজন। প্রত্যেকেই দূরন্ত যোদ্ধা। এদের সামলাতে একা আব্বাস খাঁ হিমশিম খেতে লাগলেন। ঠিক এই সময়ে পৌঁছে গেল আব্বাস খাঁর সঙ্গীরা। শুরু হলো তুমুল লড়াই ।
একদিকে প্রায় তিরিশজন, অন্যদিকে আব্বাস খাঁ সহ এগারজন। কিন্তু আব্বাস খাঁ ছিলেন একাই একশো এর সাথে তিনি তাজ্জব হয়ে দেখলেন, ফিরোজ মাহমুদও একাই প্রায় পঞ্চাশজনেরও অধিক। বিশ পঁচিশজন দস্যুকে একাই সে অনায়াসে ক্ষত বিক্ষত করছে।
আব্বাস খাঁর সামনেই ছিল দস্যু সর্দার। মুহূর্তেই সর্দারের সর্বাঙ্গ বিক্ষত হয়ে গেল। রক্ত ঝরতে লাগলো বিপুল ধারায়। টলতে লাগলো সর্দার। অপর দিকে অন্যান্য দস্যুরাও ক্ষত বিক্ষত হয়ে মরণ চিৎকার জুড়ে দিলো। শেষ আঘাত হানার জন্যে আব্বাস খাঁর অশ্ব সর্দারের উপর এসে লাফিয়ে পড়ার উপক্রম করতেই আঁতকেই উঠে দস্যু সর্দার প্রাণপণে হাঁক দিলো, হারে গিড্ডির রংলাল মউত নজদিক। হাম লোগ সব খতম হো যায়েগা। বিলকুল খতম হো যায়েগা ভাগ যা, জলদি জলদি ভাগ যা । হাঁক দিয়েই ক্ষত বিক্ষত দস্যু সর্দার পড়িমরি পালিয়ে যেতে লাগলো। তা দেখে তার অর্ধমৃত সঙ্গীরাও সোনাদানা সব কিছু ফেলে সর্দারের পেছনে পেছনে ছুটলো। কিন্তু সর্দার সহ মরণাপন্ন অবস্থায় তারা অনেকেই অধিক দূরে এগিয়ে যেতে পারলো না। ফিরোজ মাহমুদ ও আব্বাস খাঁর অন্যান্য সঙ্গীরা তৎক্ষণাৎ ধাওয়া করলো দস্যুদের। পালাতে গিয়ে পথের মধ্যেই দরাদ্দর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে লাগলো সর্দার সহ এক একটা দস্যু।
ফাঁকা হলো ময়দান। এক পাশে দাঁড়িয়ে কিংকর্তব্য বিমূঢ় অবস্থায় মেয়েটি তখনও কাঁপছিল। সরদার আব্বাস খাঁ এগিয়ে এসে বললেন, ভয় নেই-ভয় নেই, আর কোন ভয় নেই। দস্যুরা সব পালিয়েছে।
অর্ধচৈতন্য অবস্থায় মেয়েটি বললো, এ্যা! পালিয়েছে?
ঃ হ্যাঁ। তারা আর এ এলাকায় নেই। হয়তো আর বেঁচেও নেই অনেকে । আপনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েটি বললো- নিরাপদ? আহ! আপনি বাঁচালেন ।
এরপর আস্তে আস্তে মুখ তুললো মেয়েটি। সূর্যটা পুরোপুরি অস্ত যায়নি তখনও। স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে সব কিছু। সকৃতজ্ঞ নয়নে আব্বাস খাঁর মুখের দিকে চোখ তুলে চেয়েই চমকে উঠলো মেয়েটি। একদৃষ্টে একমহূর্ত চেয়ে থাকার পরই কম্পিত কণ্ঠে প্রশ্ন করলো, এ্যা! কে? কে?
মেয়েটির মুখের দিকে চেয়ে সরদার আব্বাস খাঁও চমকে উঠলেন একই ভাবে। ছুটে আরো কাছে এসে বললেন, একি! আপনি আপনি !
মেয়েটি আকুলকণ্ঠে বললো-এইতো-এইতো! এইতো সেই আপনি । গতবছর যার সাথে দেখা হলো আমার, ঐ যে পেছনের ঐ গাছতলায় বজরা নিয়ে এসেছিলাম আমরা, এইতো আপনিই সেই লোক ।
ঃ হ্যাঁ-হ্যাঁ, আমি । আমিই সেইলোক যে আপনাকে আজও ভুলেনি।
ঃ ভুলিনি, আমিও ভুলিনি। হায় হায়! এতদিন কোথায় ছিলেন আপনি? মনে মনে আপনাকে কত যে খুঁজলাম ।
ঃ খুঁজেছেন? আমিও যে আপনাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি আজও।
ঃ খুঁজে বেড়াচ্ছেন? কোথায় খুঁজলেন?
ঃ জানিনে। কোথায় আপনাকে খুজবো, কিছুই আমি জানিনে। তবু অহরহ খুঁজে বেড়াচ্ছি আপনাকে।
ঃ কি আমাদের নসীব! সেদিন এত কথাই হলো, কিন্তু কেউ কারো পরিচয় জানলাম না। দেখামাত্রই যাকে মন দিয়ে ফেললাম, তার পরিচয় নেয়া হলো না । আজ আর সে ভুল করবো না। আপনি আমার রক্ষেকর্তা। বলুন, আপনি কে? কি আপনার নাম?
সরদার আব্বাস সাগ্রহে বললেন-আমার নাম সর্দার আব্বাস খাঁ। এখান থেকে বিশ বাইশ ক্রোশ পেছনের দিকে লাল রংয়ের যে মস্তবড় কিল্লা আছে, আমি সেই কিল্লার কিন্তুাদর সরদার আব্বাস খাঁ।
মেয়েটি এবার আর্তনাদ করে উঠলো। বললো, সেকি! আপনি- মানে, আপনিই সরদার আব্বাস খাঁ। কিল্লাদার সরদার আব্বাস?
হায় ভগবান! কি আমার দুর্ভাগ্য! এই খবরটা সেদিন কেন জানলাম না? প্রায় কেঁদে ফেললো মেয়েটি। আব্বাস খাঁ সবিস্ময়ে প্রশ্ন করলেন তার অর্থ? আপনি সরদার আব্বাস খাঁর নাম শুনেছেন?
ঃ বহুৎ বহুৎ শুনেছি। আপনার রূপ গুণ আর হিম্মতের কথা বার বার আমি প্রাণ ভরে শুনেছি। সেদিন ঘূর্নাক্ষরেও যদি জানতাম আপনিই সেই সরদার আব্বাস খাঁ-
ঃ তাহলে?
ও শাদির প্রস্তাব পাঠাতাম। আপনি এমন একজন বিখ্যাত লোক জানলে, আমার অভিভাবকেরাও আপত্তি তেমন করতেন না ।
ঃ বলেন কি। আমি মুসলমান তা জেনেও।
ঃ কেন, আপনাদের বাদশাহর ঘরে সাগ্রহেই অনেক রাজপুতানী গেছেন । আমার বেলায় আপত্তি আসবে কেন? আর এলেও আমি তা শুনবো কেন? ঃ তাজ্জব! কে আপনি? আপনার নাম।
ঃ আমিও একজন রাজপুতানী। আমার নাম তুলসী বাঈ ।
ঃ বাড়ি? বাড়ি কোথায় আপনার?
ঃ আমি আপনার নিকট প্রতিবেশিনী । আপনার কিল্লার পরেই যে ক্ষুদ্র একটা রাজপুত ভুখণ্ড আছে, আমি সেই ভূখণ্ডের মালিক হরি সিং এর নাতনী।
ঃ কি তাজ্জব! কি তাজ্জব!
এই সময় পাশের গাছ গাছড়ার মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা বুড়িটার জ্ঞান ফিরে এলো। সে সভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো, বাঁচাও বাঁচাও।
সরদার আব্বাস খাঁ চমকে উঠে বললেন, কে, কে ওখানে?
খেয়াল হতেই তুলসীবাঈ ছুটে বুড়িটার কাছে গেল এবং সেখান থেকে তাকে তুলে নিয়ে এলো। বুড়িটা তখনও আতংকে চিৎকার করছে, মেরে ফেললো মেরে ফেললো। বাঁচাও বাঁচাও-
মৃদু ধমক দিয়ে তুলসীবাঈ বললো- আহ্ সিংগীর মা থামোতো। আর ভয় নেই । আমরা নিরাপদ।
ভ্যাবাচাকা খেয়ে সিংগীর মা বললো, নিরাপদ?
ঃ হ্যাঁ, ভগবানকে ধন্যবাদ দাও, আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!