পরশমণি – এ.বি.এম.এ খালেক মজুমদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

পরশমণি – এ.বি.এম.এ খালেক মজুমদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ এ.বি.এম.এ খালেক মজুমদার

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩২৯

পরশমণি – বইটির এক ঝলকঃ

হযরত হামযার ইসলাম গ্রহণ শুধু একজন মামুলী মানুষের ইসলাম গ্রহণ ছিলো না। তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিলো একজন আমীরের ইসলাম গ্রহণ। একজন বাহাদুরের ইসলাম গ্রহণ। ছিলো একজন বীর যোদ্ধার ইসলাম গ্রহণ। আরবের সবচেয়ে বিখ্যাত পরিবার বনি হাশেমের একজন নেতার ইসলাম গ্রহণ । তার ইসলাম গ্রহণের খবরে গোটা মক্কায় হৈ চৈ পড়ে গেলো। শহরে-গঞ্জে, পাড়ায়- মহল্লায়, পথে-প্রান্তরে চর্চা শুরু হলো একটি খবরই। হামযা ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছে। খরবটি ছিলো কাফেরদের জন্য বজ্রনিনাদ। তারা খুবই বিস্মিত হলো। দুঃখ পেলো। হামযাকে কোনো কিছু বলার মতো সাহস তাদের হলো না। আওয়ারা ও উদবাস্তু ছেলেপেলেরাও এ খবর পেয়ে ভয় পেলো। মুসলমানদের উপর আগের মতো যুলুম অত্যাচার করা কঠিন হবে বুঝলো তারা । মুসলমানরাও একটু সহজ হয়ে চলতে শুরু করলো।
ইসলামের দাওয়াত দেয়ার সুযোগ পেলো মুসলমানরা। কুরআনের আয়াত শুনাতো । লোকেরা প্রভাবিত হতো। কিছু কিছু লোক মুসলমান হয়ে যেতো । কেউ কেউ হয়ে উঠতো সংবেদনশীল। হকের আওয়াজ এতে মানুষের কান পর্যন্ত পৌঁছতে শুরু করলো। কাফেররা বর্ণনাতীত দুঃখ পেলো। এভাবে চলতে থাকলে গোটা মক্কাই মুসলমান হয়ে যাবে ভেবে তারা আবার ডাকলো পরামর্শ সভা। বড় বড় নেতাগণ এলো। আবু সুফিয়ানকে সভাপতি বানানো হলো এবার । নেতাদের বক্তব্যের আর হলো, কি করা যায়। তাদেরকে যত দাবিয়ে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে ততই তারা ইসলামের কাজ নিয়ে ঝলসিয়ে উঠছে। কিছু লোক হিজরত করে হাবশায় চলে গেছে। ভয় হচ্ছে তারা আবার কখন হাবশার বাদশাহর সহযোগিতায় আমাদের দেশে আক্রমণ করে বসে। তাদেরকে যতই নির্যাতন করা হয়েছে, ফল কিছুই হয়নি। একজনকেও আমরা ইসলাম থেকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। এমনকি একজন দাস-দাসীও ফিরে আসেনি। বিখ্যাত যাদুকর আবারশনও বললো – সে বড় যাদুকর। তার কাছে কোনো লোক গেলে প্রভাবিত না হয়ে পারে না। অবস্থা এভাবে চললে গোটা আরবসহ পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকা মুসলমানদের অধীনে চলে যাবে। সে আরো বলছে—সময় শেষ। এ অবস্থা দেখার জন্য সে নিজেও জীবিত থাকতে চায় না।
আবারশনের কথানুযায়ী দিনে দিনে ইসলামের উন্নতি অগ্রগতিতে আমরা একটু ঢিল দিলে গোটা মক্কায় তা ছড়িয়ে পড়বে। আর আমরা হবো পদচ্যুত আমাদের স্ব স্ব স্থান থেকে, ছিনিয়ে নেয়া হবে আমাদের মর্যাদা। এখন আমরা শাসক দেশ চালাই । তখন আমরা হবো শাসিত শ্রেণীর মধ্যে গণ্য। চারিদিক থেকে চীৎকার উঠলো—কখনো না কখনো নয়। এতবড় লাঞ্ছনা আমরা সহ্য করতে পারবো না।
নেতাগণ বললো, এখন পরামর্শ দাও! ইসলাম কিভাবে শেষ করে দেয়া যায়। আমীরে হামযার ইসলাম গ্রহণের খবর একটা ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়লো। আমরা অনেক পরিকল্পনা ইতিপূর্বে করেছি। কিছুতে কিছু হয়নি। এখন মুসলমানদেরকে পাইকারী হারে হত্যা করা শুরু না করলে গতি থামানো যাবে না। ওতবা এর সাথে দ্বিমত পোষণ করলো। এতে গৃহযুদ্ধ লেগে যাবে বলে সে আশংকা করলো। বরং মুহাম্মাদকেই একা হত্যা করা হোক । সব ঝামেলা চুকে যাবে। ওমর বিন খাত্তাবসহ অনেকেই এর সাথে সায় দিলো । কিন্তু সাধারণ লোকেরা একমত হলো না। তাদের জানা ছিলো হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একা নয়। রাসূলের জন্য জীবন দেবার মতো অনেক সাহাবী আছে তার। তাদের একজনও বেঁচে থাকতে রাসূল পর্যন্ত পৌঁছা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়াও আবু তালিব এখনো তার বড় মরুব্বি। গোটা জাতির উপরই তার প্রভাব। হামযা এখন মুসলমান ।
এসব নিরুৎসাহজনক কথা শুনে ওমর বিন খাত্তাব লাফিয়ে উঠলো । উত্তেজিত সূরে সে বললো, কি হবে আমি দেখবো। আমি একাই মুহাম্মাদকে হত্যা করবো। তাকে হত্যা করার আগে আমার এ খোলা তরবারি আর খাপে ঢুকবে না। সকলেই ওমরের এ তেজোদীপ্ত ঘোষণায় বাহবা দেয়া শুরু করলো । চারিদিক থেকে ওমরের এ কাজের জন্য শত শত উট ইত্যাদি পুরষ্কার দেবার ঘোষণা শুরু হলো। ওমর বললো, আমি কোনো লোভে এ কাজ করতে যাচ্ছি না। চির অশান্তির অবসান ঘটানোর জন্য আমার এ কাজ। ওমর উঠলো। ছুটলো খোলা তরবারি নিয়ে মুহাম্মাদকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। সকলেই শেষ খবরের অপেক্ষায় ।
২৩
কুরাইশ কাফেররা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। তারা ভাবলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খতম করে তবে এবার দম নিবে। ওমর রওনা হলো সাথে সাথে গোটা মক্কায় বিদ্যুত গতিতে রটে গেলো খবর। হাতে খোলা তরবারি। বাজারের কাছে পৌঁছার পর সামনে পড়লো সাঈদ বিন আৰু ওয়াক্কাস। সে সময় তিনি মুসলমান। ওমরের হাতে নাঙ্গা তরবারি দেখে জিজ্ঞেস করলো—
: কোথায় যাচ্ছো ?— সাঈদ জিজ্ঞেস করলো।
ঃ মুহাম্মদকে হত্যা করার জন্য যাচ্ছি। বেটা জাতির মধ্যে বড় ফেতনা সৃষ্টি করেছে। — বললো, ওমর। সাঈদ খবরটি শুনে হয়রান হয়ে গেলেন। তিনি বললেন— ঃ তাকে মেরে লাভ কি ? আমাকে মেরে ফেলো। : তুমিও কি মুসলমান হয়ে গেছো।
ঃ হাঁ আমি মুসলমান।
ওমর তরবারি উঠিয়ে আবার নামিয়ে নিলো। বললো-
: তোমাকে মেরে ফল কি হবে? মূলটাকেই মেরে ফেলি।
সাঈদের উদ্দেশ্য হলো কোনো না কোনোভাবে কথা বলে বলে সময় কাটিয়ে ওমরকে ঠাণ্ডা করা। ইতিমধ্যে যেনো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খবর পেয়ে যান। পরে যখন সাঈদ দেখলো ওমরকে ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছে না, বললো—
ঃ মুহাম্মদকে হত্যা করবে তো পরে করো। আগে নিজের ঘরের খোঁজ খবর নাও।
: কি খবর ? – জিজ্ঞেস করলো ওমর।
ঃ তোমার বোন ফাতেমা ও তার স্বামী সাঈদ বিন যায়েদও তো মুসলমান হয়ে গেছে।
রাগে গোম্বায় যেনো ফেটে যাচ্ছিলো ওমর খবরটি শুনে। যদি এ খবর সত্য হয়, আগে তাদেরকেই মেরে ফেলবো আমি। ছুটলো ওমর পাগলের মতো বোনের বাড়ীর দিকে। সাঈদ বিন আবি ওয়াক্কাসও চাচ্ছিল তাই, কোনো রকমে তাকে ঠেকিয়ে রেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খবর দেয়া। ওমর ছুটলো বোনের বাড়ীর দিকে। সাঈদ দৌড়ালো আরকামের ঘরে রাসূলকে খবর দিতে। ঐ সময় তিনি আরকামের বাড়ীতে ছিলেন। বোনের বাড়ীর ঘরের দরযা বন্ধ পেলেন ওমর। ভেতরে কিছু পড়ার শব্দ শুনছে তিনি । কিছু বুঝা যাচ্ছে না। সন্দেহ হলো ওমরের। দরযায় আঘাত করলেন। ভিতরের আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলো ।
আবার খুব জোরে দরযায় আঘাত হানলেন ওমর। তার বোন ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা এসে দরযা খুলে দিলেন।
ভিতরে ঢুকেই ফাতেমাকে পেলো ওমর। ফাতেমাও এ সময় ভাইকে দেখেই বুঝতে পারলেন তার আগমনের উদ্দেশ্য। হন্তদন্ত হয়ে ফাতেমা বললেন, ভাইজান আপনি !
ওমর রাগে আগুন। সোজা ঘরের ভিতরে চলে গেলেন সে। তাঁর অবস্থা দেখে ফাতেমা বুঝে গিয়েছিলেন ওমর তাদের ইসলাম গ্রহণের কথা শুনে গেছে। তিনি তার গতিরোধ করতে চাইলেন। পারলেন না। ওমর সোজা সাঈদের কাছে গিয়ে থামলো। মারতে শুরু করলেন তিনি সাঈদকে। ফাতেমা স্বামীকে বাঁচাবার জন্য দু’জনের মাঝে গিয়ে দাঁড়ালেন। ঝটকা মেরে সরিয়ে দিলেন তাঁকে ওমর। মারছেন আর বলছেন হতভাগ্য ! মুসলমান হয়ে গিয়েছো এর মজা বুঝো। তোমাকে জীবনে শেষ করে তবে ছাড়বো। এখনো সময় আছে। ইসলাম ছেড়ে দাও। এতক্ষণ পর্যন্ত নীরবে মার খেয়ে যাচ্ছিলো সাঈদ। ওমরের মুখে ইসলাম ছেড়ে দেবার কথা শুনে এবার বললেন, ভাইজান! যত পারেন মারুন। জীবনে শেষ করে দিন। রাজী আছি। কিন্তু ইসলাম ত্যাগ করতে রাজী নই।
সাঈদের কথা শুনে ওমরের রাগ আরো বেড়ে গেলো। তিনি আরো বেশী মারতে লাগলেন সাঈদকে। ওমর থামছে না দেখে ফাতেমা গিয়ে ওমরের হাত ধরলো। ওমর বোনকে জোরে ধাক্কা মারলো। দেয়ালের সাথে আঘাত লেগে ফাতেমার মাথা ফেটে গেলো। ফাতেমা আবেগে অভিভূত হয়ে বললেন, হা ভাই ! আমিও মুসলমান হয়ে গেছি। বনে গেছি মুহাম্মাদের অনুগামী। তুমি যা পারো করো । ইসলাম ত্যাগ করবো না।
ফাতেমার রক্তাক্ত চেহারা, রক্ত ঝরা কথা শুনে ওমরের ভাবান্তরের সৃষ্টি হতে শুরু করলো। সাঈদকেও ছেড়ে দিলো। বলতে লাগলো, ফাতেমা তোমরা কি পড়ছিলে ? আমাকে পড়ে শুনাও তো ।
ওমরের চেহারার পরিবর্তন দেখে ফাতেমা বললেন। আমরা যা পড়ছিলাম তা আল্লাহর কালাম । অহীর মাধ্যমে মুহাম্মাদের উপর নাযিল হয়েছে। এ পাক কালাম তো পবিত্র লোক ছাড়া অন্য কেউ স্পর্শ করতে পারে না। ওমর কুরআন শুনার জন্য এখন উদগ্রীব। তাড়াতাড়ি তিনি গোসল করে পবিত্র হয়ে এলেন।
খাব্বাব বিন আরাত এদেরকে কুরআন শিখাচ্ছিলেন। ওমরের গলার স্বর শুনে তিনি লুকিয়ে গিয়েছিলেন। ওমরের পরিবর্তন ও গোসল করে আসছে দেখে তিনি বেরিয়ে এলেন।
রাসূলুল্লাহ এর আগে দোয়া করেছিলেন ওমর অথবা আবু জেহেল এ দু’জনের অন্তত একজন যেনো ইসলাম কবুল করেন। ভাবছেন তারা এখন, হুজুরের দোয়া বোধহয় ওমরের ক্ষেত্রে কবুল হয়ে গেছে।
ওমর ফাতেমার হাত থেকে কুরআনের আয়াত লিখিত পাতা টেনে নিয়ে পড়তে লাগলেন, “সাব্বাহা লিল্লাহি মা ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ইউহয়ি ওয়া ইয়ুমীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।” অর্থাৎ আসমান ও যমিনের সবকিছু আল্লাহর তাসবীহ পড়ছে। তিনি জীবন দেন আবার মৃত্যু দান করেন। তিনি সর্ব শক্তিমান।”
এতটুকু পড়ার পরই ওমর বলে উঠলেন, বেশ সুন্দর তো। এত মিহিন সূরের কালাম তো শুনিনি আর কোনোদিন। তার হৃদয়ের গহীনে পৌঁছে গেলো এ কালামের প্রভাব। তিনি পড়তে শুরু করলেন আল্লাহর কিতাবের আয়াত । যতই তিনি পড়ে চলছেন ততই তিনি প্রভাবিত হয়ে পড়তে লাগলেন।
‘ অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের
“আমিনু বিল্লাহি ওয়া রাসূলিহি উপর ঈমান আনো —- । এ আয়াতে পৌঁছার পর ওমর বেশামাল হয়ে পড়লেন। তিনি ঘোষণা দিয়ে দিলেন, “আমি ঈমান গ্রহণ করতে রাজী। সাঈদ ও ফাতেমার খুশীর সীমা রইলো না। লুকিয়ে থাকা হযরত খাব্বাব বেরিয়ে আসলেন। সালাম দিলেন হযরত ওমরকে। বললেন, আপনার বোন ও বোনের স্বামীকে কুরআন মজীদ শিখাবার জন্য আমি এখানে আসি। আপনার আসার শব্দ পেয়ে লুকিয়ে গিয়েছিলাম। হে খাত্তাবের পুত্র, আল্লাহর রাসূলের দোয়া আপনার ক্ষেত্রে কবুল হয়ে গেছে। শুমর শুনলেন দোয়ার ঘটনা।
ওমর বললেন, আর দেরী নয় । আমাকে হুজুরের কাছে নিয়ে চলো । আমি তাঁর হাতেই ইসলাম গ্রহণ করবো।
ওমর সকলের সাথে হুজুরের কাছে গেলেন। করাঘাত হলো দরযায়। তখনও ওমরের হাতে তরবারি। দরযা ফাঁক করে দেখা গেলো এ অবস্থায় ওমরকে। হকচকিয়ে গেলেন সকলে। আমীরে হামযা ছিলেন ওখানে। তিনি এগিয়ে এসে বললেন। দরযা খুলে দাও। ওমর যদি ভালো খেয়ালে এসে থাকে তো ভালো। আর তার উদ্দেশ্য খারাপ হলে এ তরবারি দিয়ে দেহ থেকে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলবো। দরযা খুলে দেয়া হলো। প্রবেশ করলেন ওমর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন। নিজের হাতে তার হাত ধরে ঝটকা দিয়ে বললেন, কি উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছো ওমর। নবুয়াতের খোদা প্রদত্ত ভারী আওয়াজের ভারে ওমর কেঁপে উঠলো। কম্পিত স্বরে জবাব দিলো ওমর, হুজুর ! আমি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হবার জন্য এসেছি। আমাকে মাফ করুন। ইসলামে দীক্ষিত করুন।
সংবাদটি শুনেই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্লোগান দিলেন— নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার। তাকবীর ধ্বনীতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠলো। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কালেমা পাঠের মাধ্যমে ওমরকে ইসলামে দীক্ষিত করলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবার বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমি চাই আজই আপনার নেতৃত্বে খানায়ে কাবায় ঘোষণা দিয়ে নামায আদায় করি।
সকলে দারুল আরকাম থেকে উঠে খানায়ে কাবার দিকে রওনা হলেন । হযরত ওমর নাঙ্গা তরবারি হাতে সকলের আগে আগে। হুজুরের ডান দিকে আবু বকর ও বাম দিকে আমীর হামযা। তার সমান্তরালে আলী রাদিয়াল্লাহ

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top