অনিঃশেষ আলো ২য় খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৪০
অনিঃশেষ আলো ২য় খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
ইবনে সামের এখনও বিনয়ামিনের ওখানে নিষ্কর্ম বসা। ইতিমধ্যে কেটে গেছে কয়েকটা মাস। বিনয়ামিন আইনির সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন করে দিয়েছেন। কিন্তু ইবনে সামের কিছু একটা করতে চাচ্ছে। কাজ-কর্ম ছাড়া এভাবে বসে থাকা তার ধাঁতে সয় না। কারণ, একে তো সে সৈনিক। দ্বিতীয়ত সে কিবতি খ্রিস্টান। খ্রিস্টবাদ তার উপর একটা উন্মাদনায় পরিণত হয়ে বিরাজ করছিল। বিনয়ামিনের গোপন সংগঠনের একজন সদস্য সে। অথচ বিনয়ামিন তাকে কোনো কাজ দিচ্ছেন না। বিনয়ামিন তাকে যুক্তি দেখাচ্ছিলেন, তুমি পলাতক সৈনিক এবং দুজন সৈনিককে হত্যা করে এসেছ আর একটা মেয়েকে অপহরণ করে এনেছ। ধরা পড়লে নির্ঘাত মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে ।
কিন্তু মাসের পর-পর কাজ ছাড়া সময় কাটিয়ে ইবনে সামের এখন হাঁপিয়ে উঠেছে। বিনয়ামিন হেরাকল-এর প্রাসাদ পর্যন্ত গোয়েন্দা ছড়িয়ে রেখেছিলেন। ইবনে সামেরও মূলত তার একজন গোয়েন্দা। এখানে বলে রাখা দরকার, সম্রাট হেরাকল সেসময় মিশর ছিলেন না। ছিলেন তিনি বাজিন্তিয়ায়। মিশরে শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন মুকাওকিস। মুকাওকিস ছিল মূলত হেরাকল- এর কর আদায়কারী। কার্যত মিশরের রাজা ছিলেন হেরাকল। আর সামরিক বিষয়াদি ন্যস্ত ছিল তার এক বিখ্যাত সেনাপতি আতরাবুনের হাতে। সময়টা মূলত সেনাশাসনেরই যুগ ছিল। শাম হেরাকল-এর হাতে খসে পড়েছিল এবং তিনি সচেষ্ট ছিলেন, কীভাবে রাজ্যটাকে পুনরায় কব্জায় আনা যায়। তার বেশিরভাগ মনোযোগ সেনাবাহিনীর প্রয়োজন মেটানো এবং অন্যান্য সামরিক বিষয়াদিতেই নিবন্ধ থাকত । একদিন বিনয়ামিনের কাছে দুজন লোক এল, যারা তার গোয়েন্দা ছিল। তারা মিশরের রাজধানী এসকান্দিয়ায় বাস করত এবং দিনকতক বাজিন্তিয়ায় কাটিয়ে এসেছে।
বিনয়ামিন তাদের জিজ্ঞেস করলেন, কী সংবাদ নিয়ে এসেছ? গোয়েন্দারা উত্তর দিল, হেরাকল এর মাথায় শাম সওয়ার হয়ে আছে এবং অনতিবিলম্বে তিনি শাম আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করছেন। আরব যখন দুর্ভিক্ষকবলিত ছিল, তখন তিনি তার উপরও আক্রমণের সংকল্প নিয়েছিলেন। কিন্তু তার উপদেষ্টারা তাকে বিরত রেখেছিল। তারা যুক্তি দেখিয়েছিল, দুর্ভিক্ষ শুধু আরবে- শামে নয় । আর মুসলমানদের বাহিনী অবস্থান করছে শামে । এমতাবস্থায় রোমানরা যদি আরবে ঢুকে পড়ে, তাহলে শাম থেকে মুসলমান সৈনিকরা রোমান বাহিনীকে ঘিরে ফেলবে এবং তার পরিণতি খুবই ভয়াবহ হবে ।
গোয়েন্দারা আরও জানাল, যখন শামে মহামারি ছড়িয়ে পড়ল এবং সেখানে মৃত্যুর রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল, তখনও হেরাকল শাম আক্রমণ করবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। এখানে তার উপদেষ্টারা চাটুকারিতার আশ্রয় নিয়েছিল এবং তাকে শাম আক্রমণে উৎসাহ জুগিয়েছিল। তার প্রধান জাযক কায়রাস যদি তাকে বিরত না করতেন, তাহলে তিনি এতদিনে শাম আক্রমণ করেই ফেলতেন। কায়রাস তাকে পরামর্শ দিল, এই ভুল আপনি করবেন না। তিনি যুক্তি দেখালেন, আপনার বাহিনী যখন শাম প্রবেশ করবে, তখন তারাও মহামারির আওতাও চয়ে আসবে। শামের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া এই রোগে আপনার বাহিনীর সৈনিকরাও প্রাণ হারাবে। শামের মহামারি তাদের রেহাই দেবে না। তখন পেছনে সরে আসা কিংবা মুসলমানদের হাতে জীবনপাত করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না । ক্ষতি ছাড়া এই অভিযান থেকে আপনি কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। জাযক কায়রাস আরও একটা আশঙ্কা দেখালেন, আপনার বাহিনী যখন মিশর থেকে শাম চলে যাবে, তখন মিশরে কিবতি খ্রিস্টান ও অন্যান্য গোষ্ঠীর যেসব খ্রিস্টান আপনার সরকারি ধর্মের বিরোধী, তারা বিদ্রোহ করে বসবে। বাহিনীর সামান্য যেকজন সৈনিক মিশরে থাকবে, এই বিদ্রোহ দমন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। সেই বিদ্রোহের পরিণতি এমন হতে পারে যে, শামও হাতে আসবে না, মিশরও হাতে থেকে বেরিয়ে যাবে।
বিনয়ামিনের গোয়েন্দারা আরও তথ্য দিল, মুকাওকিস হেরাকল ও আতরাবুনকে মতে আনতে চেষ্টা করছে, শামে খ্রিস্টানদের দ্বারা বিদ্রোহ করান এবং ওখানে নাককতাকর্মী পাঠান। মুকাওকিসের এই প্রস্তাবটা হেরাকল ও আতরাবুন আমলে নিয়েছেন এবং এর ফলাফল খতিয়ে দেখছেন। মুকাওকিসের এই পরামর্শটি তারা খুবই পছন্দ করেছেন । অবশ্য এখনও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি ।
সেকালে শামের বেশিরভাগ নাগরিক খ্রিস্টধর্মের অনুসারী ছিল এবং তাদের সবগুলো গোত্র যুদ্ধবাজ ছিল। বিগত দিনে তাদের একটা গোত্র বিদ্রোহ করেছিলও। কিন্তু মুসলমানরা সেই বিদ্রোহ দমন করে ফেলেছিল । মোটকথা, শামে খ্রিস্টানরা বিদ্রোহের পজিশনে ছিল । কায়রাস পরিষ্কারভাবেই দেখতে পাচ্ছিল, মিশরে কিবতি খ্রিস্টানরা বিদ্রোহ করছে বলে। কারণ, তাদের উপর সে কী পরিমাণ নিপীড়ন চালিয়েছিল, তা তার মনে আছে । তার একথাও জানা আছে যে, সুযোগ পেলেই খ্রিস্টানরা তার ও হেরাকল- এর বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে।
ইতিহাস বলছে, হেরাকল আক্রমণের চিন্তা মাথায় আনতেন বটে; কিন্তু দ্বিধায় থাকতেন। এক পা এগুলে দু-পা পিছাতেন। মহামারি যখন মুসলমানদের কুরে কুরে খাচ্ছিল, তখন যদি হেরাকল শামের উপর চড়াও হয়ে যেতেন, তাহলে মুসলমানরা অবশ্যই বেকায়দায় পড়ে যেত। মুসলিম সৈনিকরা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছিল এবং বাছাবাছা সেনাপতিগণও মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছিলেন। কিন্তু তার বিশপ কায়রাস তাকে সাবধান করেছিল, আমাদের বাহিনী যদি শামে প্রবেশ করে, তাহলে মহামারি তাদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়বে ।
সেই পরিস্থিতিতে মুসলমানদের সবচেয়ে দুর্বলতা ছিল, আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর (রাযি.) ও তাঁর উপদেষ্টাবর্গ প্রচণ্ড অস্থিরতায় ভুগছিলেন। এমন একটা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পর এমন একটা ধ্বংসাত্মক মহামারি! পরপর এমন দুটা বিপদের ছোবল বড়-বড় প্রতাপশালী রাজা-বাদশার হাঁটুও কাপিয়ে তুলতে সক্ষম ছিল। খেলাফতের নীতিনির্ধাকরা এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ঝুঁকি বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু তার অর্থ এই ছিল না যে, রোমানরা যদি চড়াও হয়ে বসে, তাহলে মুসলমানরা বসে-বসে আঙুল চুষবে। মুসলমানদের সামনে ইতিপূর্বেকার এমনি একটি দৃষ্টান্ত বিদ্যমান ছিল। বেশি দিন আগের ঘটনা ছিল না। এই তো বছরকয়েক আগে যখন আল্লাহর রাসূল ইহধাম ত্যাগ করেছিলেন, তার পরের ঘটনা। প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর (রাযি.) বাহিনী প্রেরণ করে একটি রণাঙ্গন খুলে বসলেন। হযরত ওমর (রাযি.) ও অপরাপর সাহাবাগণ তাতে ভিন্নমত পোষণ করলেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করলেন। তাঁরা বললেন, উম্মত আজ শোকের সাগরে নিমজ্জিত । এই পরিস্থিতিতে নতুন রণাঙ্গন খোলা বিচক্ষণতার পরিচয় নয়। হযরত আবুবকর (রাযি.) বললেন, আমরা যদি শোকের মাঝে ডুবে থাকি, তাহলে কাফেররা ধরে নেবে, মুসলমানদের কোমর ভেঙে গেছে; এখন আর তারা উঠে দাঁড়াতে পারবে না। তার পরক্ষণেই ঘটল তেমনই একটা ঘটনা। ইসলামত্যাগের এমন একটা ফেতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল, যে কিনা একটা ভয়াবহ ও দীর্ঘকালীন যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে দিল। জনাকতক নবীর আবির্ভাব ঘটল। কিন্তু ইসলামের সৈনিকরা দীনের এই শত্রুদের তাদেরই রক্তের মাঝে চুবিয়ে প্রমাণ করে দিলেন, আল্লাহর এই দীন আজীবন বেঁচে থাকতে এসেছে এবং মুসলমানরা প্রয়োজন হলেই যেকোনো পরিস্থিতিতে তার জন্য নিজেদের জীবনগুলোকে কুরবান করতে থাকবে ।
ঈমান যদি মজবুত হয়, অন্তরে যদি আল্লাহর দীনের ভালবাসা, ও আল্লাহর সন্তুষ্টির তামান্না থাকে, তাহলে আল্লাহ এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে দেখান যে, বান্দা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় ।
কাহিনীর এ পর্যায়ে এসে ইরানের কেসরার বিরুদ্ধে মুসলমানদের একটি যুদ্ধের কথা মনে পড়ছে। ইরানসম্রাটের মহাশক্তিধর সৈনিকরা তাদের এলাকাগুলোকে একের- পর-এর মুসলমানদের হাতে তুলে দিয়ে দিয়ে পিছপা হচ্ছিল। সেসময় ইরানের সম্রাট ছিলেন ইয়াযদাগরদ। তার বাহিনীটি খুজিস্তানে পা বসানোর চেষ্টা করছিল এবং কেসরার বড়-বড় নামকরা সেনাপতিরা ইসলামের সৈনিকদের প্লাবন প্রতিহত করতে জীবনের বাজি লাগিয়েছিল। আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর (রাযি.) ইতিহাসনির্মাতা সেনাপতি হযরত আবু মুসা আশ’আরি (রাযি.)কে উক্ত রণাঙ্গনে পাঠিয়ে দিলেন ।
কেসরার খুবই অভিজ্ঞ ও জাঁদরেল একজন সেনাপতি ছিল হরমুজান । ইরানের রাজপরিবারের সন্তান। শক্তি ও ক্ষমতার প্রাণপুরুষ মনে করা হতো তাকে। সে ইরানের কেসরা হরমুজানের কাছে প্রস্তাব পেশ করল, খুজিস্তানের কেন্দ্রীয় শহর আহভাজ এবং পারস্যের একটা অংশ আমার শাসনাধীনে দিয়ে দিন। বিনিময়ে আমি মুসলমানদের এই স্রোত ঠেকিয়ে দেখ তো বটেই; এখান থেকে তাদের বহু দূর পর্যন্ত তাড়িয়ে দেব । হরমুজান প্রস্তাবটা সাথে সাথে মেনে নিলেন এবং ফরমান জারি করে দিলেন, এই দুটি অঞ্চল হরমুজানকে দান করা হলো ।
হরমুজান কেসরার কাছে যেসংখ্যক সৈনিক দাবি করল, তা-ই তাকে দেওয়া হলো । সংখ্যার দিক থেকে এবং অস্ত্রের দিক থেকেও এই বাহিনী সেকালের একটা ক্ষমতাধর বাহিনী ছিল। হরমুজান কাল ক্ষেপন না করে সঙ্গে-সঙ্গে এই বাহিনীটা নিয়ে রওনা হয়ে গেল এবং ইরানের বৃহৎ নগরী তসতরে গিয়ে উপনীত হলেন । এটি ইরানি বাহিনীর অনেক বড় একটা ছাউনি ছিল এবং ওখানে একাধিক রাজমহলও ছিল।
হরমুজান নগরীর প্রাচীর ও দুর্গ অধিকতর মজবুত করার লক্ষ্যে মেরামত করাল এবং দুর্গ-প্রাচীরের পরিধিও বাড়িয়ে নিল। নগরীর চার পাশে পরিখাও খনন করাল । রাত-দিনের পরিশ্রমের বিনিময়ে এই কাজগুলো সে অতি দ্রুত সম্পন্ন করে ফেলল । তারপর নগরীর বাইরের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় লোকদের মিটিং ডাকল এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তোলার চেষ্টা করল। বলল, মুসলমানরা যে- অঞ্চলটি-ই পদানত করছে, সবার আগে সেখানকার মেয়েদের কব্জা করে নিচ্ছে । এভাবে সে তাদের রক্ত গরম করে দিয়ে বলল, আপনারা জনতাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত করুন এবং তাদেরকে নগরীতে নিয়ে আসুন।
আল্লামা শিবলি নু’মানি ও মুহাম্মাদ হাসনাইন হাইকেল বিভিন্ন ঐতিহাসিকের বরাতে লিখেছেন, দিনকতকের মধ্যেই বিরাট একদল লোক নগরীতে এসে হাজির হলো । হরমুজান তাদের উদ্দেশে জ্বালাময়ী ভাষণ দিল যে প্রতিজন লোক আগুনের মতো জ্বলে উঠল।
হরমুজানের এই আয়োজন- প্রস্তুতির খবর মুসলমানদের কাছে গোপন রইল না। সিপাহসালার আবু উবায়দা (রাযি.) সংবাদটা পেয়ে গেলেন। সঙ্গে-সঙ্গে তিনি জরুরি বার্তা দিয়ে আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমরের কাছে একজন দূত পাঠিয়ে দিলেন। বার্তায় তিনি পূর্ণ পরিস্থিতির বিবরণ উল্লেখ করে লিখলেন, এই মুহূর্তে আমার জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন এবং খুবই তাড়াতাড়ি প্রয়োজন। হযরত ওমর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) কে – সেসময় যিনি কুফায় ছিলেন- বার্তা পাঠালেন, আপনার অর্ধেক ফৌজ নিয়ে আবু মুসার কাছে চলে যান। আরেকটি বার্তা জারীর বাজাল্লিকে লিখলেন, আপনি আপনার অর্ধেক ফৌজ নিয়ে আবু মুসার সাহায্যে চলে যান ।
এই দুটি বাহিনী পৌঁছা পর্যন্ত তত দিনে হরমুজান তার দুর্গ ও নগরীর প্রতিরক্ষা প্রস্তুত করে ফেলল । সহযোগী বাহিনীগুলো যথাসময়ে আবু মুসা আশ’আরির কাছে পৌঁছে গেল।
এখন হরমুজানের আছে বিশাল এক সেনাবাহিনী। বুকটা তার সাহসে টইটুম্বুর। চিন্তা করল, নগরীকে অবরুদ্ধ হয়ে লড়াই করার আমার দরকার কী। ফলে সে বাইরে বের হয়ে আক্রমণ করে বসল।
আবু মুসা আশ’আরি (রাযি.) ডান পার্শ্বে বারার ইবনে মালিককে রাখলেন । বাম পার্শ্বে রাখলেন বারা ইবনে আযিব (রাযি.)কে। এই দুই সেনাপতি বীরত্ব ও সাহসিকতায় বিশেষ খ্যাতির অধিকারী ছিলেন। উভয় পক্ষ ঘোরতর লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ল । রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হলো । মুসলিম সৈনিকদের সংখ্যা শত্রুবাহিনীর অর্ধেক ছিল । কিন্তু তারা হরমুজানের আক্রমণ প্রতিহত করে তার বাহিনীকে পিছনের দিকে সরিয়ে দিল।
অবশেষে হরমুজানের বাহিনীর কিছু সৈন্য তো প্রাণ হারাল; অবশিষ্টরা নগরীর খোলা ফটকে ঢুকে পড়তে শুরু করল। মুসলমানরা তাদের পিছু ছাড়ল না। হরমুজানের বীরত্বের অবস্থা ছিল, সেনানায়ক হওয়া সত্ত্বেও সে একজন সাধারণ সৈনিকের মতো
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!