মরণ জয়ী – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আব্দুল মান্নান
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৯২
মরণ জয়ী – বইটির এক ঝলকঃ
সাদেক এসেছে জলসার উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেবার জন্য। তাই তার ইচ্ছা, আর একবার একটা হাংগামা সৃষ্টি হোক। কিন্তু কুরআন তেলাওয়াতের ফলে আওয়ামের মনোভাব আর নিজের জানের আশংকা বিবেচনা করে সে চুপ করে গেলো । জনতা চুপ করে গেলে নয়ীম শুরু করলেন তাঁর বক্তৃতাঃ
‘বসরার বদ-কিসমৎ লোকেরা! তোমরা খোদার কহরের ভয় করো এবং ভেবে দেখো, তোমরা কোথায় দাঁড়িয়ে কি করছো । আফসোস্ ! যেসব মসজিদ গড়ে তোলার জন্য তোমাদের পূর্ব-পুরুষরা পেশ করতেন দেহের খুন আর অস্থি, আজ তোমরা সেই মজিদে ঢুকেও গোলযোগ পয়দা করতে দ্বিধা করছো না।’
নয়ীমের কথায় মসজিদের ফিরে এসেছে প্রশান্তি । গলার আওয়াটা খানিকটা বিষন্ন করে তিনি বলে যানঃ
‘এ সেই জায়গা, যেখানে ঢুকেই তোমাদের পূর্বপুরুষ কেঁপে উঠতেন খোদার ভয়ে। দুনিয়ার সব ব্যাপার পিছনে ফেলে এখানে ঢুকতেন তাঁরা। আমি ভেবে হয়রান হচ্ছি, তোমাদের মনের উপর কি করে পয়দা হলো এমনি এক যবরদস্ত ইনকেলাব! তোমাদের ঈমান এতটা কমযোর হয়ে গেছে, তা যেনো আমি ভাবতেও পারি না। খোদা ও রসূলের পথে জান বাজি রাখতেন যে মুজাহিদ দল, তাদেরই আওলাদ তোমরা । কোনোদিন সেই পূর্বপুরুষের কাছে ফিরে গিয়ে মুখ দেখাতে হবে, এ অনুভুতি যতক্ষণ তোমাদের মনে রয়েছে, ততক্ষণ তোমরা এমনি জঘন্য কার্যকলাপের পথে যেতে পারো না। আমি জানি, তোমাদের মধ্যে এ ধরনের মনোভাব পয়দা করছে অপর কোন লোক ।
ইবনে সাদেক চমকে উঠলো । নাযুক পরিস্থিতি লক্ষ্য করে সে শ্রোতাদের মন থেকে নয়ীমের কথার প্রভাব দূর করবার চেষ্ট করলো। সে চীৎকার করে বললোঃ ‘দেখুন, এও হাজ্জাজের গুপ্তচর। একে বের করে দিন।
এ আরো কিছু বলতে চাইলো, কিন্তু রাগে কাঁপতে কাঁপতে নয়ীম বুলন্দ আওয়াযে বললেনঃ
“আমি হাজ্জাজের গুপ্তচর, তাই ঠিক, তাই ঠিক, কিন্তু ইসলামের গাদ্দার নই । বসরার বদ-নসীব লোকেরা! তোমরা এই ব্যক্তির যবান থেকে শুনেছো আমাদের জিহাদের প্রয়োজন ছিল তখন, যখন আমরা করযোর ছিলাম; কিন্তু একথা শুনেও তোমাদের দেহের খুন গরম হয়ে ওঠেনি। তোমাদের মধ্যে কেউ একথা ভাবলো না যে, আগের দিনের প্রত্যেকটি মুসলমান শক্তি, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার দিক দিয়ে এ যামানার সকল মুসলমানের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করতে পাতেন। তাঁরা কি ছিলেন আর কি করে গেছেন? তাঁদের ভিতরে কি ছিলো, তা তোমাদের জানা নেই? তাঁদের ভিতরে ছিলো সিদ্দীকে আকবরের (রাঃ) আন্তরিকতা, উমর ফারুকের (রাঃ) মহৎ মন, উসমানের (রাঃ) বদান্যতা, আলী মুরতযার (রাঃ) শৌর্য এবং আসমান-যমিনে মালিক আল্লাহ্র প্রীয়তম পয়গাম্বরের দো’আ । তোমাদের মনে পড়ে, যেদিন কৃষ্ণ ও ইসলামের পহেলা লড়াইয়ে তেগ ও কাফন নিয়ে তারা তিনশ তেরো জন বেরিয়েছিলেন, সেদিন দীন-দুনিয়ার রহমতের নবী বলেছিলেনঃ ‘আজ পুরো ইসলাম কুরের পূর্ণ শক্তির মোকাবিলা করতে যাচ্ছে।’ কিন্তু আজ এক নীচ মানুষ তোমাদের মুখের উপর বলছেঃ আমাদের চাইতে তাঁরা ছিলেন কমযোর । নাউযুবিল্লাহ্ ।
নয়ীমের কথাগুলো সবারই মনের উপর দাগ কাটলো। একজন ‘আল্লাহ আর তীর ধ্বনী করলো, আর সবাই তার সাথে আওয়ায তুললো। এর পর সবাই ফিরে ফিরে তাকাতে লাগলো ইবনে সাদেকের দিকে। কেউ কেউ চাপা গলায় তার নিন্দাও শুরু করলো । নয়ীম বক্তৃতা করে চললেনঃ
‘আমাদের দোস্ত ও বুযর্গগণ! খোদার রাহে জান, মাল ও দুনিয়ার তামাম স্বাচ্ছন্দ্য কোরবান করেন যে মুজাহিদ দল, তাঁদের উপর রাজ্য ও মালে-গণিমতের লোভের অপরাধ আরোপ করা না-ইনসাফী। দুনিয়ার লোভ যদি তাঁদের ভিতরে থাকতো, তাহলে মুষ্টিমেয় সহায় সম্বলহীন মুজাহিদ যে ভাবে কাফেরদের সংখ্যাহীন বাহিনীর সামনে বুক ফুলিলে দাঁড়িয়েছেন, আত্মদানের সে উদ্যম-উৎসাহ তোমরা দেখতে পেতে না । রাজ্য লোভ নিয়ে বেরুলে বিজিত কওম কে তাঁরা দিতে পাতেন না সম অধিকার। আজো আমাদের ভিতরে এমন কেই নেই, যে শাহাদতের পরিবর্তে মালে গণিমতের লোভ নিয়ে যাচ্ছে জিহাদের ময়দানে! মুজাহিদ শাসন-ক্ষমতা চায় না, কিন্তু খোদার রাহে যারা সব কিছু কোরবান করে দিতে তৈরী, সব দিক দিয়ে দুনিয়ায় তাঁদের মাথা উঁচু থাকায় বিস্ময়ের কিছু নেই। সালতানাত মুজাহিদের মহিমারই অংশ।
‘মুসলমান ভাইরা ! আমাদের অতীত ইতিহাসের পৃষ্ঠা যেমন সিদ্দীকে আকবরের ঈমান ও আন্তরিকতার কাহিনীতে পরিপূর্ণ, তেমনি আব্দুল্লাহ্ বিন উবাইর মুনাফেকির কাহিনী থেকেও তা মুক্ত নয়। সিদ্দীকে আকবরের (রাঃ) পদাংক অনুসরকারীদের সামনে হামেশা যেমন থাকে ইসলামের সংগঠনী দৃষ্টিভংগী, তেমনি আবদুল্লাহ্ বিন্ উবাইর উত্তরাধিকারীরা হামেশা ইসলামের তরক্কীর পথে তুলে দেয়া বাঁধার প্রাচীর; কিন্তু তার ফল কি হয়ে থাকে? আমি আবদুল্লাহ্ বিন উবাইর এই উত্তরাধিকারীর কাছে জিজ্ঞেস করছি।’
ইবনে সাদেকের অবস্থাটা তখন চারদিক থেকে শিকারীর বেড়াজালের মধ্যে অবরুদ্ধ শিয়ালের মতো। সে তখন ঠিকই বুঝে নিয়েছে যে, কথার যাদুকর এ- নওজোয়ান আরো কয়েকটা কথা বললে সমবেত লোকজন সবাই তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। সে এদিক-ওদিক তাকিয়ে হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি দেকে পিছন দিকে সরতে লাগলো । একজন বলে উঠলো, ‘মুনাফেক পালাচ্ছে, ধর। এক নওজোয়ান
‘ধর ধর’ আওয়ায করে তার উপর ঝাপিয়ে পড়লো। সাথীরা তাকে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করলো, কিন্তু জনতার ভিড়ে টিকতে পারলো না। কেউ তাকে ধাক্কা মারে আর কেউ বা মারে চড়চাপড়। মুহম্মদ বিন কাসিম ছুটে এসে জনতার হাত থেকে বহু কষ্টে তার জান বাঁচিয়ে দিলেন।
ইবনে সাদেক কোনমতে বিপদমুক্ত হয়ে ছুটে পালালো। কয়েকটি দুর্দান্ত নওজোয়ান শিকার হাত ছাড়া হচ্ছে দেখে ছুটতে চাইলো পিছু পিছু। কিন্তু মুহাম্মদ বিন কাসিম বাধা দিলেন তাদেরকে। ইবনে সাদেকের দলের লোকেরা একে একে বেরিয়ে গেলো মসজিদ থেকে। আবার সবাই চুপ করে নয়ীমের দিকে মনোযোগ দিলে তিনি বলতে লাগলেনঃ
“এই দুনিয়ার প্রত্যেক অণু-পরমাণুর অস্তিত্ব বজায় রাখবার জন্য আঘাতের জওয়াবে আঘাত দিতে হচ্ছে। তাই জিহাদ হচ্ছে মুসলমানে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। দুনিয়াকে শান্তির আবাস করে তুলবার জন্য জরুরী হচ্ছে কুরে অগ্নিকুন্ড নিভিয়ে দেওয়া।’
‘কুরের যুলুমের আগুনে জ্বলছে যে অগণিত অসহায় মানুষ, বদর, হোনায়েন, কাদসিয়া, ইয়ারমুক ও আজনাদাইনের যুদ্ধের ময়দানের আমাদের পূর্ব পুরুষদের তীর ধ্বনি ছিলো তাদেরই আর্ত হাহাকারের জওয়াব; আর আজকের দুর্গত মানবতা সিন্ধুর ময়দানে আমাদের তলোয়ারের ঝংকার শুনবার জন্য বেকারার। মুসলমান! তোমাদের কওমের যে মেয়ে রয়েছে সিন্ধরাজের কয়েদখানায় বন্দিনী, তাঁর ফরিয়াদ শুনেছো? আমি তোমাদের সিন্ধু বিজয়ের খোখবর দিতে চাই।’
‘মুজাহিদ হচ্ছে আল্লাহর তলোয়ার। যে শির তার সামনে উঁচু হয়ে উঠবে, সে- ই হবে ধুলিলুণ্ঠিত। সিন্ধুরাজ তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন তলোয়ারের তীক্ষ্ণধার ও বায়ুর শক্তি পরীক্ষা করতে।’
‘মুজাহিদ দল! জেগে উঠে প্রমাণ করে দাও যে, এখনো তোমাদের শিরায় আরবের শাহ্ সওয়ারদের রক্তধারা জমে যায়নি। একদিকে খোদাওন্দ করীম তোমাদের জিহাদী মনোভাবের পরীক্ষা নেবেন এবং অপরদিকে দুনিয়া তোমাদের আত্মমর্যাদাবোধের পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে । তোমরা এ পরীক্ষার জন্য তৈরী?’
“আমরা সবাই তৈরী, আমরা সবাই তৈরী ‘ – এই গগণভেদী আওয়ায তুলে বুড়ো- জোয়ান সবাই তরুণ মুজাহিদের ডাকে সাড়া দিলো ।
নয়ীম বৃদ্ধ ওস্তাদের দিকে তাকালেন। তাঁর ঠোঁটে মৃদু হাসি আর চোখে আনন্দের আঁসু । ইবনে আমের আবার উঠে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পর ভর্তির জন্য নাম পেশ করবার জরুরি নির্দেশ দিলে সভা ভাঙলো। রাতের বেলা মুহাম্মদ বিন কাসিমের গৃহে ইবনে আমের, সাঈদ, নয়ীম ও শহরের আরো কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তি দিনের ঘটনাবলীর আলোচনায় ব্যস্ত। নরীমের প্রভাব কেবল বসরার নওজোয়ানদের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েনি, বরং তাঁর প্রশংসা শোনা যাচ্ছে বয়স্ক লোকদেরও মুখে মুখে। ইবনে আমের তাঁর সুযোগ্য শাগরেদকে ভালো করেই জানতেন। তিনি জানতেন যে, অকুতোভয়ে যে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতির মোকাবিলা করবার মতো যোগ্যতা তাঁর ভিতরে রয়েছে পুরোমাত্রায়; কিন্ত নয়ীম আজ যা করেছেন, তা তাঁর প্রত্যাশার চাইতেও অনেক বেশি। সাঈদের খুশীরও সীমানা নেই। তিনি বারবার নওজোয়ান ভাগ্নের মুখের দিকে তাকান আর তাঁর মুখ থেকে উৎসারিত হয় তার দীর্ঘজীবন কামনার নেক দোয়া। বক্তৃতার শেষে নয়ীমকে উৎসাহিত করবার জন্য তিনি সবার আগে ফউজে শামিল হবার জন্য নিজের নাম পেশ করেছেন এবং মকতবে তাঁর খেদমতের সবচাইতে জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার জন্য তৈরী হয়েছেন । ইবনে আমেরের দুর্বল হাতে তলোয়ার ধরার তাকৎ আর নেই, তথাপি তিনি তাঁর সুযোগ্য শাগরেদ মুহাম্মদ বিন কাসিম ও নয়ীমের সাথী হবার ইরাদা জানিয়েছেন। কিন্তু বসরার লোকেরা তাঁকে বাধা দিয়ে একবাক্যে বলেছে, ‘মাদ্রসায় আপনার প্রয়োজন সবচাইতে বেশি।’ বসরার লোকেরা সাঈদকেও বাধা দিতে চেয়েছে, কিন্তু মুহাম্মদ বিন কাসিম অগ্রবর্তী দলের নেতৃত্বের জন্য একজন অভিজ্ঞ সালারের প্রয়োজন অনুভব করে তাঁকে নিয়েছেন সেনা বাহিনীর শামিল করে।
নয়ীম প্রতি মুহূর্তে এক মনযিলের নিকটবর্তী হচ্ছেন, আর এক মনযিল থেকে সরে যাচ্ছেন দূরে-বহুদূরে। তিনি মজলিসে বসে বেপরোয়া হয়ে শুনছেন সব আলোচনা । ইবনে আমের অভ্যাসমতো বর্ণনা করে যাচ্ছেন কৃষ্ণ ও ইসলামের গোড়ার দিকের সংঘাথের কাহিনী । তিনি আলোচনা করেছেন ইসলামের আযীমুশ্শান মুজাহিদ খালিদ বিন ওয়ালীদের হামলার বিভিন্ন তরিকা ।
কে যেন বাইরে থেকে দরজায় করাঘাত করলো। মুহাম্মদ বিন কাসিমের গোলাম দরজা খুলে দিলো । এক বৃদ্ধ আরব এক হতে একটি পুটলি ও অপর হাতে লাঠি নিয়ে ভিতরে ঢুকলেন। বৃদ্ধের ভুরু পর্যন্ত ভার্ধক্যে সাদা হয়ে গেছে। তাঁর মুখে পুরনো যখমের দাগ। দেখে মনে হয় এককালে তিনি খেলেছেন তলোয়ার- নেযাহ নিয়ে। ইবনে আমের তাকে চিনতে পেরে এগিয়ে এসে মোসাফেহা করলেন । বৃদ্ধ ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, ‘মকতবে আমি আপনাকে খুঁজে এসেছি। সেখানে শুনলাম আপনি এখানে এসেছেন।
‘আপনি বড়ই তকলীফ করেছেন। বসুন।’
‘বৃদ্ধ ইবনে আমেরের কাছে বসলেন ।
ইবনে আমের তাঁকে বললেন, ‘বহুদিন পর আপনার যিয়ারত নসীব হলো । বলুন, কি করে এলেন?’
বৃদ্ধ বললেন, ‘আজকের মসজিদের ঘটনা শুনেছি লোকের মুখে। যে নওজোয়ানের হিম্মতের তারিফ করছে বসরার বাচ্চা-বুড়ো সবাই, তাকেই খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি। শুনালাম, সে নাকি আব্দুর রহমানের বেটা। আবদুর রহমানের বাপ ছিলেন আমার অতি বড় দোস্ত। ছেলেটির সাথে দেখা হলে আমার তরফ থেকে কয়েকটি জিনিস আপনি তাকে দেবেন।
বৃদ্ধ তাঁর পুটলি খুলে বললেন, ‘পরশু তুর্কীস্তান থেকে খবর পেয়েছি, উবায়দা শহীদ হয়েছে।;
‘কোন উবয়দা? আপনার নাতি?’ ইবনে আমের প্রশ্ন করলেন।
“হ্যাঁ তাই। আমার ঘরে তার এই তলোয়ার আর বর্ম ফালতু পড়েছিলো। আমার ঘরে এ সব জিনিসের হক আদায় করবার মতো কেউ নেই আর। তাই আমার ইচ্ছা কোন মুজাহিদকে এগুলো নযরানা দেবো।’
ইবনে আমের নয়ীমের দিকে তাকালেন। তাঁর মতবল বুঝতে পেরে নয়ীম উঠে গিয়ে বৃদ্ধের কাছে বসতে বসতে বললেন, ‘আপনার গুণগ্রাহিতায় আমি ধন্য। যথাসাধ্য আপনার তোহফার সদ্ব্যবহার আমি করবো। আমায় আপনি দোয়া করুন।’
মধ্যরাত্রের কাছাকাছি মজলিস শেষ হলে সবাই যার যার ঘরে চলে গেলেন। নয়ীম তাঁর মামুর সাথে যেতে চাইলেন, কিন্তু মুহাম্মদ বিন কাসিম তাঁকে কাছে
রাখলেন।
মুহাম্মদ বিন্ কাসিমের অনুরোধে সাঈদ নয়ীমকে সেখানে থাকতে বললেন। ইবনে আমের ও সাঈদকে বিদায় দেবার জন্য নয়ীম ও মুহাম্মদ বিন কাসিম ঘরের বাইরে এলেন এবং কিছু দূর গেলেন তাঁদের সাথে সাথে। নয়ীমের সাথে তখনও সাঈদের কোনো আলাপ হয়নি বাড়ি ঘর সম্পর্কে। চললে চলতে তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘নয়ীম, বাড়ির খবর সব ভাল তো?’
“জি হ্যাঁ, মামুজান! বড়িতে সবাই ভাল। আম্মিজান……।’ নয়ীম আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। চিঠিটা বের করবার মতলব করে তিনি হাত ঢুকালেন জেবের মধ্যে, কিন্তু কি যেন চিন্তা করে খালি হাতই জেব থেকে বের করলেন । ‘হ্যাঁ, বোন কি বলেছিলেন?’
“তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন মামুজান!
বাকী রাতটা নয়ীম বিছানায় পড়ে এপাশ-ওপাশ করে কাটালেন। ভোর হবার খানিকটা আগে তাঁর চোখে নামলো ঘুমের মায়া। তিনি স্বপ্নে দেখলেন, তিনি যেনো
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!