খুন রাঙা প্রান্তর – আমিরুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আমিরুল ইসলাম
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৫২২
খুন রাঙা প্রান্তর – বইটির এক ঝলকঃ
আস্তে আরম্ভ হল একের পর এক নগ্ন ছবি। যাকে বলে ব্লুফিল্ম। কিছুক্ষণ পর এক নর্তকী এসে অঙ্গ-ভঙ্গিতে নাচ আর গান আরম্ভ করল। অপর এক তরুণী এসে মদের বোতলের চিপি খুলে গ্লাস ভর্তি করে একেক জনের সামনে হাজির করতে লাগল। দর্শকরা গ্লাসগুলো হাতে নিয়ে গড়গড় করে মুখ গহ্বরে ঢেলে গলধকরণ করল। জোর করে মহিলাদেরও পান করানো হল। তারপর যা হওয়ার তা-ই হল । কারো মুখ থেকে কোন প্রতিবাদ জানানো হল না। সবাই সাদরে এসব আচরণ বরণ করে নিল। এভাবেই ওদের রাত পোহাল।
সকাল আটটা বাজার আগেই নাশ্তা পানি হাজির করা হল । সকলে পেশাব-পায়খানা সেরে যার যার রুচিমত নাশতা খেয়ে ক্লাসের জন্য তৈরি হল। সকাল নয়টায় সবাই ক্লাস রুমে হাজির। প্রধান লেকচারার এসে সমবায় ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার উপকারিতার ওপর এক ঘণ্টা বক্তব্য দান করলেন। বিশেষ করে মহিলারা একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে কি কি ফায়দা হতে পারে, তার ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, “হে আমার বোনেরা, পৃথিবী নামক গ্রহে যতগুলো প্রাণী আছে, তার মধ্যে মানুষ নামক প্রাণীই সর্বশ্রেষ্ঠ । মানুষ দু প্রকার নর এবং নারী। একই মাতা-পিতার ঔরসে জন্মে ছেলে এবং মেয়ে, কিন্তু অধিকারের দিক দিয়ে ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি করেছে বৈষম্য। সাক্ষীর দিক দিয়ে এক জন পুরুষের সমান দু’জন মহিলা । পিতৃসম্পত্তি বণ্টনের বেলায়ও দেখা যায় দুই মেয়ের সমান এক ছেলে পায়। তাছাড়া, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও মহিলারা অনুপস্থিত । একজন পুরুষ ৩-৪টি বিয়ে করে আনন্দ উপভোগ করে। মেয়েদেরও তো মন চায় একাধিক পুরুষ থেকে একাধিক মজা লুটতে। তাছাড়া, কিছু হতে না হতেই পুরুষেরা স্ত্রীদেরকে তালাক দেয়। কথা ঠিক নয় কি?” সবাই মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
অতঃপর আরো বললেন, “হে আমার বোনেরা, আমরা (এন. জি. ও. ) আফগানিস্তানে এসেছি নারী জাতিকে মুক্ত করার জন্য। তাদের অধিকার আদায়ের জন্য। তাদেরকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য । মেয়েদের রোজি-রোজগারের ব্যবস্থা করে পুরুষের মত স্বাবলম্বি করে গড়ার জন্য । প্রিয় বোনেরা, আপনারা যদি ঐক্য গড়ে তুলতে পারেন তবে স্বামীরা আপনাদের ওপর নির্যাতন করতে পারবে না। কোন স্বামী যদি স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন করে তবে আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করবেন। যদি বিচার না করে তবে, আপনারা ঘরে ঘরে একসাথে পাক-শাক, রান্না-বান্না বন্ধ করে দেবেন। তখন দেখবেন, পুরুষরা বাগে এসে যাবে।” উক্ত অফিসার একটানা দুঘণ্টা লেকচার দিলেন। অপর এক অফিসার এসে বললেন, “প্রিয় বোনেরা আমার, আমরা (এন. জি. ও.) আপনাদেরকে ধর্মের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে উন্নত দেশের মহিলাদের মত গড়ে তুলতে চাই। ঐসব দেশে নারী-পুরুষের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই । মিল-ফেক্টরিতে, কল-কারখানায়, অফিস আদালতে নারী-পুরুষ একসাথেই কাজ করে। ফলে সব দেশে মহিলাদের উন্নতির সাথে সাথে দেশেরও উন্নতি হয়েছে। কাজেই আপনারা ধর্মের বর্ম পরে জাতির ঘাড়ের বোঝা হয়ে থাকবেন না। মৌলবাদীরা যা বলে বলুক, স্বামীরা যা করে করুক, এতে আদৌ-কর্ণপাত না করে আমাদের নির্দেশিত পথে চলুন। এক স্বামীর পরিবর্তে পাবেন আমাদের মত শত শত স্বামী । আপনার আঁচল ভরা পয়সা থাকলে কারো মুখাপেক্ষী হতে হবে না । নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারবেন। আলোচনা এখনকার মত এখানেই শেষ।”
দুপুর বারটা। গোসল, খানা ও বিশ্রামের জন্য ছুটি দেয়া হল। মাঠের এক পার্শ্বে রয়েছে গোসলের জন্য একটি হাউজ। ফাঁকে ফাঁকে বসানো ফুলের টপ্। মহিলা কর্মীরা এখানেই গোসল করে। হাউজের চারি পার্শ্বে রয়েছে কয়েকটি কেদারা। গোসলের সময় অফিসাররা কেদারাগুলো দখল করে বসে থাকেন এবং গোসলের ভি. ডি. ও. করেন। আজকের গোসল অনুষ্ঠানেও তার ব্যবস্থা আছে ।
গোসল সমাপন করে সবাই খানা-পিনা সেরে বিশ্রাম নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে রোকাইয়া নামক একজন মেয়ে মাহমুদাকে লক্ষ করে বলল, “মাহমুদা আপা, এগুলোই কি আমাদের প্রশিক্ষণ? না আরো কিছু আছে? আমাদের রূপ-লাবণ্য ও দেহ নিয়ে ওরা আনন্দ উল্লাস করছে। তা হলে আমরা কি ভোগ্য সামগ্রী? আমরা তো অভাবের তাড়নায় এন. জি. ও. তে চাকরি নিয়েছি। ওদের কাজ করব, ওরা বেতন দিবে। তাই বলে দেহ বা সৌন্দর্য্য বিক্রির জন্য তো আসি নি।”
রোকাইয়া আরো বলল, “মাহমুদা আপা, অফিসার সাহেব যে সব সবক পড়িয়েছেন তা শুধু ইসলামের বাইরেই নয়, যুক্তিরও বাইরে। তিনি বলেছেন, পুরুষরা তিন-চারটি টি বিয়ে করতে পারলে নারীরা তিন, চারটি স্বামী গ্রহণ করতে পারবে না কেন? আচ্ছা সব ধর্মেই সন্তানরা থাকে পিতার। কোন মহিলার যদি তিন-চারটি স্বামী থাকে, আর যদি সে সকলের সাথে মেলামেশা করে তবে কাকে পিতা পরিচয় দিবে? মাহমুদা বলল, “সত্যিই তো, আগে তো তা ভাবি নি।”
রোকাইয়া আরো বলল, “দেখুন তো আপা, তিনি যে বলেছেন, সম্পত্তি বণ্টনে বৈষম্য রয়েছে। এক ছেলের সমান পায় দুই মেয়ে। কেন সমান ভাগ পাবে না? বিয়ের পরে স্ত্রীর ভরণ-পোষণের পূর্ণ দায়িত্ব স্বামী গ্রহণ করে। স্বামীর ওপর এ দায়িত্ব পালন জরুরী করে দেয়া হয়েছে। আর ছেলে বালেগ হলে পিতার ওপর তার ভরণ-পোষণের জিম্মাদারী থাকে না। সে হিসেবে তো ছেলেরাই অসহায়। মেয়েরাতো পিতার সম্পদ থেকে পায় আবার স্বামীর সম্পদ থেকেও চারআনা পায়। এতে মেয়েরা দু’দিক থেকে সম্পদের মালিক হচ্ছে আর ছেলেরা হচ্ছে এক দিক থেকে। এখানেও তো স্যারের যুক্তি অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে। মেয়েদের গঠনপ্রণালী, হাড়-মাংস, চিন্তা-চেতনা, মেধা ও শারীরিক শক্তি পুরুষের মত নয়। পুরুষরা যে ধরনের পরিশ্রম ও শক্ত কাজ করতে পারে, তা কি মেয়েদের দ্বারা সম্ভব? তাহলে কি করে সম অধিকারের দাবী করা যায়? এ দাবী বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়। জানি না এন. জি. ও.-রা আমাদেরকে কোন স্বর্গ রাজ্যে নিয়ে যাবে। আমার মনে হয়, ওরা আমাদের পবিত্র রেম থেকে জারজ সন্তান পয়দা করে দেশ ভরে দিতে চাচ্ছে। যখন আমরা বার্ধক্যে পা দেব আর চাকরিও হারাব তখন আমাদেরকে ওরা দেশের বোঝা মনে করে চিড়িয়াখানার বাঘের খোরাক বানাবে, যা রাশিয়াতে হচ্ছে। অন্যসব মহিলাদের সন্তান থাকবে। তারা বৃদ্ধ পিতা-মাতার খেদমত করবে। আমাদের তো তা থাকবে না। অন্য কোন পুরুষও আমাদেরকে সেকেন্ড হ্যান্ড মনে করে গ্রহণ করবে না। কাজেই এ ধরনের চাকরি আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আগামী কালই এমন চাকরির মাথায় লাথি মেরে বিদায় নেব।” কথাগুলো অনেক দরদ নিয়ে বলল রোকাইয়া ।
রোকাইয়ার কথা শুনে অন্য সব মেয়েদের অনুভূতিতে স্পন্দন শুরু হয়েছে। একজন বলল, “বোন রোকাইয়া, তোমার কথা তো সত্যিই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু আমরা কি করছি? পেটের দায়ে আমাদেরকে এ পর্যন্ত টেনে এনেছে। তা না হয় কি
মাহমুদা বলল, “আমি তো যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ করে চলে এসেছি। যা হওয়ার তা-ই হবে। আমিও যা করার তা-ই করব। ফিরে যাব না। আছি, থাকব, যা ভাগ্যে আছে তা মাথা পেতে নেব।” পরদিন রোকাইয়া চাকরি রিজাইন দিয়ে বাড়ি চলে গেল । নীরব নিথর রজনী। বিয়ে অনুষ্ঠানে যে কিয়ামত সংঘটিত হয়েছে তা নিয়ে সকলের মনেই কষ্ট। শংকিত অবস্থায় রাত পোহাল। মসজিদে মসজিদে আযান হচ্ছে। মুসল্লিরা ঘুম থেকে জেগে গাত্রোত্থান করে, অযু ইস্তেঞ্জা সেরে মসজিদ পানে ছুটে চলছেন। রফিকের বাড়ির আঙ্গিনায় আসতেই তিনটি লাশ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কয়েক জন মুসল্লি আঁতকে উঠেন। ভোরের আলো এখনো পূর্ণ প্রকাশ না পাওয়ায় লাশ সনাক্ত করতে পারে নি।
নামায সমাপন করে মুসল্লিদের মধ্যে কানা-ঘুষা হচ্ছিল। মাওলানা আকরাম মুসল্লিদের কানা-ঘুষার কারণ জানতে চাইলে একজনে বিষয়টা তাঁকে জানালেন । ইমাম সাহেব সে সংবাদ পেয়ে উপস্থিত মুসল্লিদেরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলেন। সকলেই লাশের কাছে গিয়ে সনাক্ত করলেন এগুলো এ মহল্লারই তিন যুবক ছাদেক, এমদাদ ও রঈছের লাশ। সকলেই মনে মনে খুশী হলেন ও আল্লাহর শোকর আদায় করলেন। দেশের ও মুসলমানদের দুশমন, আল্লাহ ও রাসূলের দুশমন নিপাত হল। তাই ঘরে ঘরে, অন্তরে অন্তরে, মনে মনে নীরবে বইছে আনন্দের ঢেউ।
পল্লী সর্দার লাশের অভিভাবক ও এলাকার লোকজনকে নিয়ে লাশের বিষয়ে পরামর্শ করলেন, কি করা যায়। ছাদেকের আব্বা বলে উঠলেন, রাশিয়ান ফৌজকে আমি ধন্যবাদ জানাই এজন্য যে, ওরা আমার ছেলেকে হত্যা করে নি, আমাদের গ্রামটা বাঁচিয়েছে। সে অনেক আগেই কমিউনিস্ট হয়ে গিয়েছিল। আমি তাকে মনে মনে ত্যাজ্য পুত্র করে দিয়েছি। বাড়ি থেকেও বের করে দিতাম অনেক আগেই, কিন্তু প্রশাসনের ভয়ে তা করি নি। আজ রাশিয়ান ফৌজের উছিলায় ও আল্লাহর খাছ রহমতে এ কুপুত্র লাশ হওয়ায় আমার কলিজা ঠান্ডা হয়েছে। সে যদি বেঁচে থাকত তবে এলাকাটা ধ্বংস হয়ে যেত। এমদাদ ও রঈছের আব্বার কথাও অনেকটা এ রকমই। সকলের একই ধারণা যে, গত রাতে রাশিয়ান ফৌজের গুলীর আঘাতে ওরা নিহত হয়েছে। সর্দারজী বললেন, থানায় না জানিয়ে দাফন করা যাবে না। তাই তিনজনকে থানায় পাঠিয়ে দিলেন। থানার লোকেরা ঘটনা শুনে বলল, “এতে আমাদের কিছু করার নেই। তোমরা গিয়ে লাশ দাফন করে ফেল।” থানার সংবাদ পেয়ে সর্দারজী দাফন-কাফনের হুকুম দিলেন। তিন ঘণ্টার মধ্যেই কাফন-দাফন শেষ করে সর্দারজী পল্লীর গণ্যমান্য ৩/৪ জন লোক নিয়ে রফিকের সন্ধানে বের হলেন । রামাল্লা পল্লী থেকে দু’কিলোমিটার দূরে শালাংপাশ গীরিপথের সন্নিকটে একটি অনুচ্চ টিলার অপর পার্শ্বেই রুশী ফৌজের ছাউনী।
ইয়ার মুহাম্মদ আফগানী সহচরদেরে নিয়ে ছাউনিতে গিয়ে দেখেন সেখানে আরো দু’জন আলেমকে গ্রেফতার করে আনা হয়েছে। এদেরকে শারীরিক নির্যাতনের পর বাংকার খননের কাজে লাগান হয়েছে। কাজ করতে করতে যখন হয়রান বা পরিশ্রান্ত হয়ে যায় তখন বড় বড় কুত্তারা এসে লাল চক্ষু মেলে তাকায় এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করে। একজন এসে জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা মাওলানা জালাল উদ্দীন হাক্কানী, আরসালান খান রহমানী ও পীর মুহাম্মদ রূহানীকে চেন?” এক এক করে সবাই উত্তর দিলেন, “স্যার। আমরা উনাদের নাম শুনেছি কিন্তু কোন দিন দেখি নি।”
মাওলানা রফিক পিতার দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে আছেন। পিতা-পুত্রের চার চোখের মিলনে এক পুলক শিহরণ অনুভূত হল। কিছুক্ষণ যেন বাপ-বেটা নীরব ভাষায় হৃদয়ের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন। তারপর বৃদ্ধ পিতার নয়নযুগলে অশ্রুর বান ডাকল । মাওলানা রফিক পিতার অবস্থা দেখে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় বললেন, “আব্বা, আপনার সিক্ত আঁখি অবলোকন করব এমন কোন দিনই চিন্তা করি নি । আপনি হযরত সাহাবায়ে কেরামের মত প্রস্তরসম দিলের অধিকারী হোন । আমার ওপর বেলাল হাবশী (রা)-এর মত ঈমানী পরীক্ষা আরম্ভ হয়েছে। দোয়া করুন, যেন এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারি। আব্বা, আপনার আদরের ছেলের রক্তের বিনিময়ে যদি এদেশে কালিমাখচিত ঝাণ্ডা উত্তোলিত হয়, তবে তো আপনি সার্থক পিতার মর্যাদা পেলেন। আপনার প্রিয় সন্তানের জীবনের বিনিময়ে যদি আফগানের পবিত্র ভূমি শত্রুমুক্ত হয়, লাখ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের হেফাজত হয়, মসজিদ-মাদরাসা ও খানকাসমূহের নিরাপত্তা বিধান হয় তবে তো আপনার চোখ অশ্রুতে ভারী হওয়ার পরিবর্তে খুশীতে চকচক করে ওঠার কথা।”
“আব্বাজান, আপনি হয়ত আমাকে ছাড়িয়ে নিতে বা দেখে যেতে এসেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওরা কিছুতেই আমাকে ছাড়বে না। কারণ, আমার বিরুদ্ধে আমার প্রতিবেশী বাল্যবন্ধু ছাদেক, এমদাদ ও রঈছরা রিপোর্ট দিয়েছে। আমার সমস্ত জিহাদী প্রোগ্রাম ও কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিষয়ে এদেরকে জানানো হয়েছে । তাই মুক্তির আশা করতে পারি না। তবে আল্লাহ যদি কোন সুরত বের করে দেন।”
রফিকের কথা শুনে পল্লীসর্দার বললেন, “বাবা, তোমার দুশমন, দ্বীনের দুশমন ছাদেক গংরা গত রাতে গোলার আঘাতে নিহত হয়েছে। তাদের বক্ষদেশে তিন তিনটি বুলেটের ক্ষত দেখা গেছে। এই মাত্র তাদের কাফন-দাফনের কাজ সেরে এসেছি। তা না হয় অনেক আগেই আসার ইচ্ছা ছিল ।”
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!