যে গল্পে হৃদয় জুড়ে – মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১২
যে গল্পে হৃদয় জুড়ে – বইটির এক ঝলকঃ
মা দেরি করলেন না। তিনি কিনারে এসেই বাক্সটি পানিতে ভাসিয়ে দিলেন। তারপর দু’হাত উপরে তুলে বললেন-
ওগো করুণাময় খোদা! আমি তোমার হুকুম পালন করেছি। তোমার হুকুম চুল পরিমান অমান্য করিনি। হে রাব্বুল আলামীন! তুমি মেহেরবানী করে আমার যাবতীয় ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দাও। আর তোমার আমানত তুমিই হেফাজত করো।
দোয়া শেষ করে মা মেয়েকে বললেন-
যাও, বাক্সের সাথে সাথে নীল নদের কিনারে কিনারে চলতে থাক। দেখ, সর্বশক্তিমান খোদা তোমার ভাইয়াকে কিভাবে রক্ষা করেন ।
একথা বলে মা ঘরের পথ ধরেন। মরিয়ম বাক্সটির উপর নজর রেখে নীল নদের কিনারা ধরে হাঁটতে থাকে। কোনো কোনো সময় ঢেউয়ের চাপে বাক্সটি একেবারে নদীর কিনারে চলে আসে। তার মন চায়, এটি তুলে নিয়ে গহীন বনে চলে যেতে। কিন্তু আবার মায়ের সেই কথাই তার মনে পড়ে- “এটাই আল্লাহর হুকুম। দেখো, আল্লাই তোমার ভাইয়াকে কিভাবে রক্ষা করেন।
মরিয়ম চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দেখতে দেখতে পূর্বদিক ফর্সা হয়ে আসে। এদিক ওদিক দু’একটি পাখির কলকাকলী মৌনী রজনীর নিস্তব্ধতা ভাঙ্গতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে সূর্য উঠে দুনিয়ার সব আঁধার দূর করে দেয়।
ক্লান্ত দেহ নিয়ে মরিয়ম এগিয়ে চলে। হঠাৎ তার সামনে পড়ে একটি বিরাট প্রাসাদ ৷ অনেকখানি জায়গা জুড়ে একেবারে নদীর কিনারা ঘেঁষে এর অবস্থান। এজন্য নদীর তীর ধরে সামনে এগুনো সম্ভব হচ্ছে না। সে ভাবে, এখন কি উপায় হবে? বাক্সের অনুসরণ করা তো আর সম্ভব হচ্ছে না। প্রাসাদ ঘুরে নদীর কিনারে আসতে আসতে বাক্স অনেক দূর চলে যাবে।
মরিয়মের চিন্তা এখনো শেষ হয়নি। ঠিক এমন সময় সে দেখল, নদীর দিকে প্রাসাদের একটি দরজা খুলে গেছে। মূল্যবান পোষাকে সজ্জিতা বেশ কয়েকটি অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে ঘাটে এসে দাঁড়িয়েছে।
মেয়েদের মধ্যে একজন ছিল তাদের তুলনায় একটু বেশি বয়সের। তার মনোমুগ্ধকর রূপ লাবন্য বাস্তবিকই ছিল ঈর্ষণীয়। এ রূপের যেন শেষ নেই। এমন মনোহরিণী রূপ মরিয়ম আর দেখেনি কোনো দিন। তার নিকট মনে হলো, মেয়েটি যেন একটি ফুটন্ত গোলাপ ৷
মরিয়ম অত্যধিক সুন্দরী মেয়েটিকে প্রাসাদের গৃহকর্ত্রী বলেই ধরে নিল। আর বাস্তবতাও ছিল তা-ই। মেয়েটির দৃষ্টি নদীর দিকে পড়তেই সে দেখল, একটি বাক্স ঢেউয়ের তালে তালে হেলে-দুলে এগিয়ে চলছে। একটু দূরে কয়েকজন জেলে মাছ ধরছিল। মেয়েটি তাদেরকে ডেকে বলল, তোমরা যে কোনোভাবে বাক্সটি আমাকে এনে দাও। তারা বাক্সটি এনে প্রাসাদের অভ্যন্তরে পৌঁছে দেয়।
মরিয়ম নদীর তীরে দাঁড়িয়ে সবকিছুই দেখছে। জেলেরা পানি থেকে বাক্সটি তুলে প্রাসাদের দিকে নিয়ে যেতে থাকলে সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। সেও জেলেদের পেছনে পেছনে চলে এবং তাদের সাথে প্রাসাদের মধ্যে ঢুকে পড়ে।
জেলেরা তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে চলে যায়। এবার গৃহকর্ত্রী ধীরে ধীরে বাক্সের ঢাকনা উত্তোলন করে। বাক্সের ভেতর একটি সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা দেখে তার চোখে-মুখে দেখা দেয় রাজ্যের বিস্ময়। সাথে সাথে মুখ থেকে একটি শব্দ বেরিয়ে আসে-“শিশু”।
মরিয়মের বুক দুরু দুরু করতে থাকে। সে প্রাসাদ কর্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে থাকে। কাঁপতে শুরু করে গোটা দেহ ।
প্রাসাদকর্ত্রী বাক্স থেকে শিশুটি বের করেন। দু’হাতের উপর রেখে তাকে উঁচু করে ধরেন। নিজের ভাইকে জীবিত অবস্থায় আঙ্গুল চুষতে দেখে মরিয়মের আনন্দের সীমা থাকে না। সে চুপচাপ সবকিছু দেখতে থাকে ।
মেয়েটি সুন্দর শিশুটিকে নিজের মুখের কাছে তুলে আনেন। অসীম মমতায়, মাতৃত্বের গভীর আবেগে আপনা আপনি তার মুখ নেমে যায় শিশুর ঠোঁটের উপর। তাকে চুমো খান। বুকে জড়িয়ে আদর করেন। দাসীদের হুকুম দেন, যাও, দাঁড়িয়ে কি দেখছো? এক্ষুণি ভদ্র, অভিজাত ও সুন্দরী দুগ্ধ দায়িনীর খোঁজে বেরিয়ে পড়। এতক্ষণ দাসীরা যেন হুকুমের অপেক্ষায় ছিল। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তারা বেরিয়ে যায়। দেখতে দেখতে কয়েক ঘন্টার মধ্যে একের পর এক দাই আসতে থাকে। প্রত্যেকেই গভীর মমতায় কোলে নিয়ে শিশুকে দুধ পান করাতে চায়। কিন্তু শিশু দুধ পান করবে তো দূরের কথা, মুখই খোলে না। বিপুল পুরস্কারের লোভে সকলেই নানারকম কায়দা কৌশলের আশ্রয় নেয়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।
মরিয়ম এসব দেখতে থাকে। হঠাৎ সে এগিয়ে এসে প্রাসাদ কর্ত্রীর সামনে দাঁড়ায়, তারপর দৃঢ়তার সাথে বলে-
যদি আপনি অনুমতি দেন, তবে আমি এমন এক দাইকে আপনার নিকট হাজির করতে পারি, যার দুধ এই শিশু খাবে বলে আমার নিশ্চিত বিশ্বাস।
যাও, এখনই চলে যাও। নিয়ে এসো তাকে ।
মরিয়ম প্রায় দৌড়ে প্রাসাদ থেকে বের হয়। অপরিসীম এক আনন্দ তার মনে দোল খায়। অসীম ক্ষমতাশালী আল্লাহর প্রশংসা করার ভাষা তার ছিল না। সারাটা পথ যেন সে বাতাসে উড়ে আসে। এক দুর্বার আকর্ষণ, এক আনন্দ মোহ যেন তাকে পেয়ে বসেছে।
সে হাঁপাতে হাঁপাতে আম্মি….. আম্মি…… বলে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে । মরিয়মের মা যেন এই ডাকের অপেক্ষায়ই ছিলেন। কোনো মানুষ সফরের নির্ধারিত সময়ের পূর্ব মুহূর্তে যেমন সবকিছু রেডি করে প্রস্তুত হয়ে থাকেন, তিনিও তেমনি সব কিছু গুছিয়ে প্রস্তুত হয়ে আছেন। সুতরাং তার দেরী হলো না। তিনি মরিয়মের মুখ থেকে সংক্ষেপে সবকিছু শুনে তৎক্ষণাৎ তার সাথে রওয়ানা দেন ।
শিশু বাচ্চাটি কারো দুধ পান করছে না দেখে একটা দুশ্চিন্তার কালো ছায়া প্রাসাদকর্ত্রীর সমস্ত মুখ ছেয়ে ফেলেছে। ললাটে ফুটে উঠেছে গভীর চিন্তার রেখা। মনের অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে গোটা মুখ মন্ডলে । কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না সে।
ঠিক এমন সময় মরিয়ম তার মাকে নিয়ে প্রাসাদে পৌঁছলো। তাকে দেখে গৃহকর্ত্রীর চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠল। দ্রুত জিজ্ঞেস করলেন- এই যে মেয়ে! তুমি না বলেছিলে ভাল দাই নিয়ে আসবে। এনেছ কি? মরিয়ম বলল, এই যে, এনেছি বেগম সাহেবা । প্রাসাদকর্ত্রী মরিয়মের মাকে খুব পছন্দ করলেন। তারপর বাচ্চাটিকে তার কোলে তুলে দিলেন ।
মা ছেলেকে কোলে নিয়ে গভীর মমতায় আদর করলেন। মনে মনে শুকরিয়া জানালেন মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে। ততক্ষণে শিশু মায়ের কোলে উঠে চুক্ চুক্ করে দুধ খেতে শুরু করেছে।
প্রিয় পাঠক। আলোচ্য ঘটনায় যে শিশুর কথা বলা হয়েছে তার নাম আমরা সবাই জানি । তিনি হলেন, বনী ইসরাঈলের মহান নবী হযরত মূসা (আ.)। তাঁর বিভিন্ন কাহিনী পবিত্র কুরআনের অধিকাংশ সূরায় বর্ণিত হয়েছে। এর কারণ হলো, ঈমানের মজবুতি ও চরিত্র সংশোধনের জন্য এসব কাহিনীতে হাজারো শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।
উল্লেখিত ঘটনা নিয়ে যদি একটু চিন্তা করা যায়, তবে আল্লাহ পাকের অপার শক্তি ও কুদরতের বিষয়টি অত্যন্ত সুষ্পষ্টভাবে আমাদের সামনে প্রতিভাত হয়ে উঠে। অর্থাৎ আল্লাহ পাক সর্বশক্তিমান, তাঁর কাজে বাধা দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই- এ কথার সুদৃঢ় বিশ্বাস অন্তরে বসানোর জন্য এটি একটি উত্তম ঘটনা। কেননা, ফেরাউন যখন জানতে পারল যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে একটি ছেলে জন্ম গ্রহণ করে তার বাদশাহী খতম করবে, সাম্রাজ্যের পতন ঘটাবে, তখন সে পুত্র-সন্তানদের জন্ম রোধ করার উদ্দেশ্যে ব্যাপক হত্যাকান্ডের আদেশ জারি করে। এরপর প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য করে এক বছরের ছেলেদের জীবিত রাখার এবং পরবর্তী বছরের ছেলেদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আল্লাহপাক ইচ্ছা করলে ঐ বছর হযরত মূসা (আ.)কে জননীর গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট করতে পারতেন, যে বছর ছেলেদেরকে জীবিত ছেড়ে দেওয়া হতো। কিন্তু তিনি স্বীয় কুদরতের বহিঃপ্রকাশ ও ফিরাউনের যাবতীয় পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য সন্তান হত্যার বছরেই হযরত মূসা (আ.)কে ভূমিষ্ট করালেন। শুধু তাই নয়, যে ছেলের ভয়ে ফিরাউন লক্ষ লক্ষ ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আল্লাহপাক ঐ ছেলেকে স্বয়ং ফেরাউনের গৃহে আরাম-আয়েশ ও পরম আদর যত্নের সাথে লালন-পালন করেছেন।
এখানে আরেকটি বিষয় হলো, হযরত মূসা (আ.) যদি সাধারণ শিশুদের ন্যায় কোনো ধাত্রীর দুধ গ্রহণ করতেন, তবে তার লালন পালন
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!