হেজাযের তুফান ১ম খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৪২
হেজাযের তুফান ১ম খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ
খলীফা আবুবকর (রা) এর হুকুমে দুই ভাইকে মদীনায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। এরা ছিলো বনু ফারাযার একটি পরিবার। ‘বাতাহ’ নামক বসতিতে এরা থাকতো । এরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তিকালের পর তুলায়হা নামক আরেক লোক নবী দাবী করে বসে। তখন এই গোত্রের লোকেরা তাকে নবী মেনে নেয়। আশ পাশের আরো দুই তিন গোত্রও তাকে নবী মেনে নেয়। মদীনায় খবর পৌঁছলে মুরতাদদের এই ধর্মদ্রোহ কর্ম বন্ধ করার জন্য মুজাহিদ লশকর বের হয়ে পড়লো। এক লশকরের সালার ছিলেন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা)।
খালিদ (রা) এই আশায় মুরতাদদের এলাকায় গিয়েছিলেন যে, অল্প কয়েকদিনেই তাদেরকে অনুগত করে নেবেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখলেন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক দৃঢ়চেতা সুশৃংখল ফৌজ। যারা সহজে হাতিয়ার ফেলবে না ।
: ‘আমি এই মুরতাদদের শুধু খতমই করবো না’- খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) বললেন- “আমি তাদেরকে আরেকবার ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে এমন পাক্কা মুসলমান বানাবো যে, আর কখনো ইসলাম ত্যাগ করার নামও নেবে না তারা।
খালিদ (রা) তাঁর এই অঙ্গীকার পালন করেও দেখালেন; কিন্তু অনেক মূল্যবান প্রাণ আর অকাতরে রক্ত ঝরানোর মাধ্যমে। মুরতাদ মহিলারাও লড়াইয়ে অংশ গ্রহণ করেছিলো। অনেক মুরতাদ মহিলার নেতৃত্বও মহিলাদের হাতে ছিলো।
তুলায়হা বনু ফারাযারই লোক ছিলো। সে নবী দাবী করে ভবিষ্যদ্বাণীও করতো। মুসলিম ফৌজ সেখানে এসে পৌঁছলে লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করলো- ‘এখন কি হবে? সে বললো- ‘ওহী নাযিল হবে এখন ।
খালিদ (রা) এই কবীলার লশকরের ওপর একের পর এক হামলা করে গেলেন। প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হলো। মুরতাদরা বেশি সময় দাঁড়াতে পারলো না। তাদের এতো লোক মারা গেলো যে, তারা প্রায় ধ্বংসই হয়ে গেলো। জীবিত লোকেরা ভয়ে অস্থির হয়ে তুলায়হাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতো ওহী কবে নাযিল হবে? আর খোদার মমদ কবে আসবে ?
তুলায়হা তখন তার তাঁবুতে ডুব মেরেছিলো। এত লোক মারা পড়েছিলো যে, তুলায়হাকে যারা নবী মেনেছিলো তাদের চোখ খুলে গেলো। তাদের মধ্যে অসন্তোষজনক ক্ষেপাটে আওয়াজ উঠতে লাগলো-
‘তুলায়হা কাযযাব- মিথ্যাবাদী।’
‘শোন সবাই! এই মিথ্যাবাদীকে কেউ যেতে দিয়ো না ।
*পালাও আগে, নিজের জান বাঁচাও।’
‘আমরা ধোঁকায় পড়ে মারা পড়ছি।’
বনু ফারাযার যারা বেঁচে গিয়েছিলো তারা পালাতে লাগলো । নাসিরা বিনতে জাব্বার ময়দানে তার স্বামী ও দুই ছেলেকে নাম ধরে ডাকছিলো আর পাগলের মতো দৌড়ে বেড়াচ্ছিলো। হঠাৎ তার স্বামীর লাশ তার নজরে পড়লো। রক্তে একেবারে গোসল হয়ে গিয়েছিলো। স্বামীর লাশের পাশে বসে সে তার বুক চাপড়াতে লাগলো।
ঃ ‘তুমি যদি সত্যের পথে থেকে জান দিতে, আজ আমি আমার মাথা কুটতাম না – নাসিরা হাউ মাউ করে বলছিলো- ‘এক মিথ্যাবাদীর ধোঁকায় পড়ে নিজের প্রাণ দিয়ে আমাকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে গেলে। নিজের ছেলে দুটিকেও সঙ্গে করে নিয়ে গেলে। হায়! আমি শুধু কান্নাকাটি আর চিৎকার চেচামেচির জন্য এই দুনিয়ায় একলা রয়ে গেলাম।’
সে তার ছেলেদের আর তালাশ করলো না। নিজের স্বামীর লাশ আর এদিক ওদিক শত লাশের সারি দেখে নিশ্চিত হয়ে গেলো যে, তার ছেলেরাও শেষ হয়ে গেছে। সে অনেক সময় ধরে বুক চাপড়ে মাথা কুটে হাউ মাউ করে কেঁদে টেদে হঠাৎ চুপ হয়ে গেলো। তারপর এলো মেলো পায়ে ময়দানময় ঘুরে বেড়ালো। আর দাঁতে দাঁত পিষতে লাগলো। তারপর তুলায়হার তাঁবুর দিকে ছুটতে লাগলো ।
‘তুলায়হা মিথ্যা নবী! সে চিৎকার করতে করতে যাচ্ছিলো- ‘তুলায়হা নবী নয় ! কোথায় সে মিথ্যাবাদী! আমি তার মুখ ভেঙে দেবো। তার চামড়া উঠিয়ে নেবো । আমার দুই ছেলে আর স্বামীর খুনের প্রতিশোধ নেবো।’
তুলায়হা তার তাঁবুতেই ছিলো। তার সঙ্গে তার স্ত্রী নুরও ছিলো। তাঁবুর বাইরে একটি ঘোড়া ও একটি উট বাঁধা ছিলো। সওয়ারীর জন্য উভয়েই তৈরী ছিলো। মুসলমানদের হাত থেকে যারা বেঁচে গিয়েছিলো তারা আশে পাশে জমা হয়ে শোরগোল করছিলো। “তুলায়হা বাইরে বেরিয়ে এসো। সত্যি নবী হলে মুজিযা দেখাও।
‘আমাদেরকে বলে দাও আমরা কি করবো?’
‘সত্যি নবী হলে ভয় পাচ্ছো কেন? বেরিয়ে এসো।’
এদের চিৎকার চেচামেচিতে ক্রমেই শোরগোল বাড়ছিলো।
তুলায়হা তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। সে উটকে বসালো । তাতে তার স্ত্রীকে সওয়ার করিয়ে উট দাঁড় করালো। সে নিজে ঘোড়ার ওপর সওয়ার হলো।
: ‘এখন জিজ্ঞেস করছো তোমরা কি করবে?’ তুলায়হা লোকদেরকে বললো-‘আমি বলছি —তোমাদের যাদের কাছে উট বা ঘোড়া আছে তারা আমার মতো সওয়ার হয়ে নিজের স্ত্রীকেও সওয়ার করাও এবং পালিয়ে যাও।’
: ‘দাঁড়া মিথ্যা নবী!’ -এটা ছিলো নাসিরার আওয়াজ। সে দৌড়ে আসছিলো- ‘আমি তোর গলাটিপে তোকে শেষ করবো।’
তুলায়হা তার ঘোড়া পা দিয়ে খোঁচা লাগালো এবং তার স্ত্রীও উট নিয়ে দৌড় শুরু করলো। ঘোড়া আর উট লোকদের ভীড় চিড়ে বেরিয়ে গেলো। কিছু দূর গিয়ে তারা দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো। এরপর আর তুলায়হাকে কেউ দেখেনি। এটা ছিলো খলীফা আবুবকর (রা) এর খেলাফতকালীন ঘটনা। আরো কয়েকটি মুরতাদ গোত্রকে খালিদ (রা) প্রাণপণে একথা বুঝিয়ে তাদের মধ্যে বদ্ধমূল করে দিলেন যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নবুওয়াত ও রিসালাতের ধারা শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন যেই নবুওয়াত দাবী করবে সে মিথ্যাবাদী ও ধোঁকাবাজ হবে ।
ঃ ‘তোমরা তো দেখেছো নবুওয়াতের দাবীদারদের অবস্থা কি হয়েছে।’ খালিদ (রা) প্রত্যেক গোত্রে গোত্রে এই পয়গাম পৌঁছাতে লাগলেন- ‘কোথায় সে ধোঁকাবাজরা? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নবী ছিলেন। কোন ময়দানে তিনি পরাজয় বরণ করেছিলেন? তাঁর হাতে গোনা কয়েকজন অনুসারী হাজার হাজার ফৌজকে ময়দান থেকে নাস্তানাবুদ করে পালাতে বাধ্য করেছে। এখন আমাদের প্রিয় নবীজী আমাদের সঙ্গে নেই, কিন্তু তাঁর পবিত্র রুহ মোবারক আমাদের সঙ্গে রয়েছে। প্রতিটি ময়দানেই আমরা বিজয় লাভ করছি।’
এর ফলে মুরতাদরা পুনরায় ইসলামে দীক্ষিত হতে লাগলো। খালিদ (রা) তুলায়হার নবুয়তের নাম নিশানা মুছে দিলেন এবং শক্তিশালী বনু ফারাযাকে দুর্বল করে দিলেন। তখন মনে হয়েছিলো, আর কিছু দিনের মধ্যেই ধর্মদ্রোহীদের তৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু এক মহিলা কালনাগিনীর মতো বিষধর হয়ে আত্মপ্রকাশ করলো। তার নাম ছিলো উম্মে যুমাল সালমা বিনতে মালিক। সালমা নামে তাকে ডাকা হতো ।
আরো কিছু দিন আগের ঘটনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন জীবিত ছিলেন। প্রসিদ্ধ সাহাবী ও সালার উসামা (রা) এর পিতা যায়েদ ইবনে হারিসা (রা) বনু ফারাযার এলাকা দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরো কয়েকজন মুসলমান ছিলেন।
বনু ফারাযা মুসলমানদের শত্রু গোত্র ছিলো। এর সরদাররা তো মুসলমানদের শত্রু ছিলোই। উম্মে কুরফা ফাতিমা বিনতে বদর নামক সরদার খান্দানের এক মহিলা ছিলো । মুসলমানদের বিরুদ্ধে কেন জানি তার মনে এত বিষ ছিলো যে, অন্যান্য গোত্রেও সে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াতো। সে যেমন সুন্দরী রূপসী ছিলো তেমনি চতুর চালবাজ ছিলো। তার মুখে এত জাদু ছিলো যে, তার প্রতিটি কথা নিকৃষ্ট দুশমনের মনে গিয়েও জায়গা করে নিতো।
সেই মহিলাকে কেউ জানালো, কিছু মুসলমান এই কবীলার ওপর দিয়ে ‘ওয়াদিউল কুরা’ যাচ্ছে। ফাতিমা বিনতে বদর তার আশে পাশের কবীলাগুলোতে প্রায় ঘূর্ণির মতোই ঘুরে আসলো এবং সবাইকে সশস্ত্র থাকতে বললো। বনু ফারাযার সকলেই সশস্ত্র হয়ে ওয়াদিউল কুরায় পৌঁছলো এবং যায়েদ (রা) ও তাঁর সঙ্গীদের উস্কানি দিলো । জবাবে মুসলমানরা লড়াই করলো এবং মরণপণ হামলাই করলো। কিন্তু বিপক্ষের দল কয়েকগুণ বেশি থাকায় মুসলমানরা সবাই শহীদ হয়ে গেলো।
বনু ফারাযার লোকেরা শহীদদের জামা কাপড় ঘাটাঘাটি করে যা পেলো সব নিয়ে গেলো। তারা চলে যাওয়ার পর একটি লাশ নড়ে উঠলো। সেটা ছিলো যায়েদ ইবনে হারিসার লাশ। তিনি মারাত্মক যখমী ছিলেন। যখম এত গভীরে পৌঁছে গিয়েছিলো যে তিনি আর নড়তে পারছিলেন না। তারা তাকে মৃত মনে করে ছেড়ে দিয়েছিলো। যায়েদ (রা) কোনক্রমে উঠে এই যখম নিয়েও প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে পথে পথে রক্তের চিহ্ন রেখে শুধু মনের জোরে মদীনায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। মদীনার যে কারো জন্য সেটা ছিলো হয়রান আর বিস্ময়কর উদাহরণ।
যায়েদ (রা) পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা জানালেন। তিনি কোন জবাবী হামলার কথা না বলে শুধু এতটুকু বললেন, যায়েদের ক্ষত শুকিয়ে গেলে সে নিজেই এর বদলা নেবে।
খুব দ্রুতই যায়েদ (রা) এর ক্ষত শুকিয়ে গেলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে একদল মুজাহিদ সঙ্গে দিয়ে জবাবী হামলার জন্য পাঠালেন। যায়েদ (রা) বনু ফারাযার ওপর প্রচণ্ড হামলা চালালেন। এরাই তো যায়েদ (রা) এর নীরিহ সঙ্গীদেরকে অমানুষিক নির্যাতনে হত্যা করেছে- প্রচণ্ড ক্ষোভে যায়েদ (রা) এর এ দৃশ্য মনে ভাসতেই আকাশের বিদ্যুৎ গর্জনের মতো তিনি বনু ফারাযার ওপর ভেঙে পড়লেন। বনু ফারাযাও বেশ জমেই মোকাবেলা করছিলো। কিন্তু প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকা মুজাহিদদের সামনে তারা আর দাঁড়াতে পারলো না। কবীলার অসংখ্য লোক যমদূতের কবলে মারা পড়লো। যারা বেঁচে গেলো তবে পালাতে পারলো না, তাদেরকে গ্রেফতার করা হলো। কয়েদীদের মধ্যে উম্মে কুরফা ফাতিমাও ছিলো। আর তার সঙ্গে ছিলো তার মেয়ে সালমা।
বন্ধু ফারাযার যুদ্ধবন্দীরা বললো, যায়েদ (রা) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে এই ফাতিমাই হত্যা করিয়েছিলো । তারা এটাও বললো, এই মহিলা মানবী বেশী এক শয়তান। তার চলাফেরার মধ্যেই ফেতনা ফাসাদ ছড়িয়ে পড়ে। এটাও বলা হলো, মুসলমানদের বিরুদ্ধে তার মনে এত ঘৃণা জমে আছে যে, সে বলে বেড়াতো, ‘আমি শুধু সেই মুসলমানকেই পছন্দ করি যে মৃত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মহিলা সম্পর্কে যা শুনলেন তা তার গোত্রের লোকদের কাছ থেকেই শুনলেন। তিনি যখন দেখলেন একটিমাত্র মহিলার কারণে অসংখ্য লোকের মৃত্যু ঘটেছে তখন বাধ্য হয়েই তার প্রতি মৃত্যুর আদেশ জারী করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।
ফাতিমা বিনতে বদরের তো এ ব্যবস্থা করা হলো। কিন্তু তার নব যৌবনবতী কন্যা সালমা রয়ে গেলো। একেবারেই মাসুম-নিষ্পাপ চেহারা ছিলো তার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে দেখার পর তাঁর মনে দয়া হলো- আহা! মায়ের পাপের বেদনা তাকে না জানি কত কাঁদাবে। তাই তিনি একে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা) এর কাছে সোপার্দ করলেন। আয়েশা (রা) এমন নির্দোষ-নিষ্পাপ চেহারার মেয়েকে পেয়ে মায়ের আদরে তার যত্ন আত্তি করতে লাগলেন। কিন্তু এই মেয়ে সামান্য সময়ের জন্যও খুশি হতে পারেনি। সবসময়ই তার মুখ ভার হয়ে থাকতো । কোন কাজে বা কোন কথাই সে গা করতো না। নির্বিকার নির্জীব থাকতো। আয়েশা (রা) তাকে আযাদ করে তার কবীলায় পাঠিয়ে দিলেন। সালমার যৌবনের পাপড়ি তখন খুলতে শুরু করে ছিলো, সে কবীলার কোন সাধারণ ঘরের মেয়ে ছিলো না। খুবই অভিজাত ও সরদার বংশের মেয়ে ছিলো। সে যখন তার কবীলায় ফিরে আসলো তখন কবীলার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা তাকে স্বাগত জানিয়ে বরণ করতে এলো।
: ‘এমন রূপসী আর যৌবনবতী মেয়েকে মুসলমানরা কি মনে করে আযাদ করে দিলো?’- স্বাগত-দলের কেউ আওয়াজ তুললো। ‘এটা মনে হয় মুসলমানদের একটা চাল’- আরেকজন বললো- ‘এই মেয়েকে বিশ্বাস করা যাবে না।
ঃ আরে এর মা কোথায়?
সালমা পৌঁছতে পৌঁছতে সারা কবীলায় এটা ছড়িয়ে গেলো যে, ফাতিমা মুসলমানদের দলে ভীড়ে গেছে এবং তার মেয়ে সালমাকে উল্টা পাল্টা কোন কিছু বুঝিয়ে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছে। এভাবে সালমার ফিরে আসাটা তারা মুসলমানদের একটা ধোঁকা বলে মনে করলো ।
স্বাগত দল যখন সালমাকে তার ঘরে নিয়ে যেতে চাইলো সে সটান দাঁড়িয়ে গেলো । ‘আমি আমার ঘরে এখন পা রাখবো না’- সালমা তার আত্মীয়দের বললো- ‘আজ আমি বনু ফারাযার আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তুলতে চাই।’
সে দৌড়ে গিয়ে এক উঁচুস্থানে গিয়ে দাঁড়ালো এবং হাতের ইশারায় সবাইকে তার কাছে ডাকলো। পুরুষরা তো আগেই বাইরে বের হয়ে এসেছিলো। ঘর থেকে এবার মহিলারাও বেরিয়ে এলো। তার আশে পাশে লোকদের ভীড় জমে গেলো ।
: ‘হে বনু ফারাযা!’ সালমা চিৎকার করে বললো- ‘তোমাদের কি আত্মমর্যাদাবোধ মরে গেছে? জবাব দাও ….. । চুপ চাপ দাঁড়িয়ে আছো কেন জবাব দাও।’
: ‘না উম্মে যুমাল!’- ভীড় থেকে অসংখ্য আওয়াজ উঠলো- ‘আমরা জীবিত এবং আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ মরেনি।’
: ‘তুমি শুধু তোমার বাবার নয় পুরো কবীলারই তুমি মেয়ে:- উচ্চ আওয়াজে একজন বললো- ‘সত্যি করে বলো তো মুসলমানরা কি তোমাকে দাসী-বাঁদী করে রেখেছিলো?’
ঃ ‘আর এটাও বলো’-আরেকটি আওয়াজ উঠলো—’তোমার মা কোথায়?’ : ‘মুসলমানরা তো আমাকে দাসী করে রাখেনি’ – সালমা উঁচু আওয়াজে বললো-‘ তারা আমাকে মেয়ের মতো যত্ন করেই রেখেছিলো। কিন্তু আমার মাকে তারা হত্যা করেছে।
ঃ ‘হত্যা করেছে? ফাতিমা বিনতে বদর নিহত হয়েছে? সে তো বনু ফারাযার আত্মা ছিলো।’ এ ধরনের আরো অনেক আওয়াজ উঠতে লাগলো। আওয়াজ উঠতে উঠতে এক সময় তা হাঙ্গামার রূপ নিলো। সালমা যে আগুন উঙ্কাতে চেয়েছিলো তা ভালো করেই উল্কালো। সে কিছুক্ষণ নীরব রইলো। লোকদের শোরগোল যখন কমে এলো সে আবার বলে উঠলো-
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!