ডেথ ভ্যালি – আবুল আসাদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আবুল আসাদ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৯৫
ডেথ ভ্যালি – বইটির এক ঝলকঃ
বেগে উপরে উঠল। গিয়ে তা আঘাত করল লোকটির কণ্ঠনালিতে । লোকটির দেহ ঈষৎ শূন্যে ছিটকে উঠে গিয়ে আছড়ে পড়ল দরজার উপর ।
পা দিয়ে লাথি মারার সাথে আহমদ মুসা ডান হাত দিয়ে পাঁজরের তলা থেকে রিভলবার বের করে নিয়েই পাশের দু’জনকে গুলি করল এবং তড়াক করে উঠে দাঁড়াল । মাথার পেছনের লোকটি ক্লোরোফরমের রুমাল ফেলে দিয়ে পকেট থেকে রিভলবার বের করেছিল, ঘটনার আকস্মিকতায় বিমূঢ় লোকটি আহমদ মুসাকে নতুনভাবে টার্গেট করার আগেই আহমদ মুসার গুলির শিকার হলো সে। ইতিপূর্বে দরজার সাথে ধাক্কা খেয়ে একজন পড়ে যাওয়ায় দরজা আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ।
দরজার বাইরে থেকে ধাক্কা দেয়ার শব্দ হলো। সেই সাথে রবার্ট রবিনসনের কণ্ঠ, ‘কি হচ্ছে ভেতরে? আমরা সবাই বাইরে দাঁড়িয়ে । আহমদ মুসা গিয়ে দরজা খুলে দিয়েই দরজায় পড়ে যাওয়া লোকটিকে টেনে তুলে তার মাথায় রিভলবার চেপে ধরে বলল, ‘কে তোমরা? কেন আমাকে আক্রমণ করতে এসেছ?’
ইতিমধ্যে রবার্ট রবিনসন ভেতরে ঢুকে ঘরের লাইট জ্বেলে দিয়েছে, ঘরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করেছে অন্যরাও।
সবাই দেখল আহমদ মুসার বেড ঘিরে তিনটি লাশ পড়ে আছে। আর একজনের মাথায় রিভলবার ধরে আছে আহমদ মুসা।
কি ব্যাপার, কি ঘটেছে, জনাব? এসব কি দেখছি?’ বলল রবার্ট রবিনসন ।
*এরা আমাকে কিডন্যাপ করতে এসেছিল?’
‘কেন?’ বলল রবার্ট রবিনসন ।
আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘সেটাই তো এই লোকটার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করছি, অন্যরা সবাই তো মারা গেছে।’ আহমদ মুসা বলল । বলে আহমদ মুসা মনোযোগ দিল মাথায় রিভলবার চেপে রাখা লোকটির দিকে । বলল, ‘শোন, এক আদেশ আমি দু’বার দেই না ।’ লোকটি ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকল। কিছুই বলল না ।
কঠোর হয়ে উঠল আহমদ মুসার মুখ। সে রিভলবারের ব্যারেলটা সরিয়ে নিল । তার তর্জনি ট্রিগারে চাপ দিল । ধোঁয়ার কুণ্ডলি বেরুল তার রিভলবারের নল থেকে । একটা বুলেট ছুটে গিয়ে লোকটির বাম কানের একাংশ ছিড়ে নিয়ে চলে গেল । লোকটা আর্ত-চিৎকার করে উঠল ।
আহমদ মুসা রিভলবার আবার মাথায় তাক করে বলল, ‘আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি। এবারের বুলেট কিন্তু তোমার মাথা গুড়ো করে দেবে। চিৎকার করার সময়ও পাবে না ৷
‘স্যার, আমাদের কোন দোষ নেই । দশ হাজার ডলার করে দেবে বলে আমাদের নিয়ে এসেছে । আপনার মাথার কাছে যে দাঁড়িয়ে ছিল, যে আপনাকে ক্লোরোফরম করেছিল, সেই আসল লোক স্যার। সে ৫ লাখ ডলারের লোভে আপনাকে কিডন্যাপ করতে চেয়েছিল।’
‘পাঁচ লাখ তাকে কে দেবে?’ জিজ্ঞাসা করল আহমদ মুসা।
‘আমি ঠিক জানি না স্যার। তবে আমি শুনেছিলাম, কারা গোপনে বাড়ি বাড়ি নাকি লিফলেট বিলি করেছে, তাতে আপনার ফটো আছে । তাতে বলা হয়েছে আপনি দেশের সাংঘাতিক শত্রু । আপনাকে একটা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে পারলে সংগে সংগে পাঁচ লাখ ডলার । আপনি কোথায় আছেন এ খোঁজ দিলেও এক লাখ ডলার বকশিশ দেয়া হবে স্যার।’ বলল লোকটি ।
‘সে জায়গাটা কোথায় যেখানে আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পৌঁছাতে বলেছে?’ আহমদ মুসা বলল ।
‘সেটা আমি জানি না স্যার। শুধু ঐ লোকটাই তা জানত।’ বলল লোকটি।
‘কেন তুমি পোস্টার বা লিফলেট পড়নি?’ আহমদ মুসা বলল । ‘পড়েছি স্যার । কিন্তু পোস্টারে সেটা লেখা নেই । ওকথাটা মুখে মুখে বলেছে।’
‘বুঝেছি । শোন, আমার কাজ যতদিন শেষ না হয় তোমাকে ততদিন বন্দী থাকতে হবে । যাতে আমার কথা কাউকে বলতে না পার, এজন্যে এই ব্যবস্থা ।’ আহমদ মুসা বলল ।
‘স্যার, আপনার কথা আমি কাউকে বলব না। আমায় ছেড়ে দিন স্যার।’ বলল লোকটি।
‘আমি তোমাকে বিশ্বাস করলাম, কিন্তু আমার আসল শত্রুকে তো বিশ্বাস করি না।’ বলল আহমদ মুসা । ‘ওদের আমি চিনি না স্যার।’ বলল লোকটি।
‘তোমার চেনার দরকার নেই। আজকের এই ঘটনার পর তারাই তোমাকে চিনে নেবে । আমি কোথায় আছি না বললে তুমি মরবে তাদের হাতে।’ আহমদ মুসা বলল।
লোকটি চমকে উঠল। বলল, ‘তাহলে আপনি যা ভালো মনে করেন তাই করেন স্যার।’
“আচ্ছা বলত, আমাকে তোমার যে বন্ধু চিনেছে, সে এই কথা কি ওদেরকে জানিয়েছে?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার ।
‘না জানায়নি স্যার, দু’টো কারণে। এক. খবর জানলে ওরা নিজেরা এসে ধরে নিয়ে যাবে, টাকা থেকে সে বঞ্চিত হবে। দুই. সে ওদেরকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল।’ বলল লোকটি।
‘ধন্যবাদ । তোমার এ খবরটি খুব মূল্যবান।’ বলল আহমদ মুসা। লোকটির সাথে কথা শেষ করে আহমদ মুসা ফিরল রবার্ট রবিনসনের দিকে ।
ওরা সবাই আহমদ মুসা ও লোকটির কথা গোগ্রাসে গিলছিল। ভয় ও বিস্ময় উভয়ই তাদের চোখে মুখে।
‘জনাব, এই লোকটাকে দু’একদিন কোথায় আটকে রাখা যাবে?’ বলল আহমদ মুসা।
‘আমাদের বাড়িতেই তো আমরা রাখতে পারি ।’
‘আমি সংগে সংগে কিছু বলল না আহমদ মুসা। একটু ভাবল। বলল, ভাবছি জনাব, এই বাসায় আপনাদের থাকা ঠিক হবে কি না। অন্তত কয়েকদিন।’
বিস্ময়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল রবার্ট রবিনসনের। অন্যরাও বিস্ময়ে হা হয়ে গেছে।
“কি বলছেন আমি বুঝতে পারছি না। কেন আমাদের বাড়ি ছাড়তে হবে সাময়িকভাবে হলেও?’ বলল রবার্ট রবিনসন।
‘এটা আমার একটা আশংকার ব্যাপার। সত্য নাও হতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল ।
‘কি আশংকা?’ বলল রবার্ট রবিনসন। ‘আমাকে যে লোকটি চিনেছিল, সে এই কথা কাউকে জানাতেও পারে, আবার মূল শত্রুপক্ষকেও জানাতে পারে। যদি তাই হয় তাহলে আপনারা, আপনাদের বাড়ি ভয়ানক টার্গেটে পরিণত হবে। তাছাড়া জুলিয়া ও এলিজাকে নিয়ে যে রক্তারক্তি হয়ে গেল, তার প্রতিশোধ নিতে আবার তারা আসতেও পারে।’ আহমদ মুসা বলল ।
‘আপনি ঠিকই চিন্তা করেছেন । আমাদের সরে থাকা দরকার। কিন্তু কত দিন?’ বলল রবার্ট রবিনসন ।
‘আমার মনে হয় বেশি দিন সরে থাকতে হবে না। সংকটের সমাধান খুব তাড়াতাড়ি হবার কথা আমি মনে করি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘সংকটটা কি? সেটা কি আপনার নিজের, না আমাদের, না দেশের, না সরকারের?’ জিজ্ঞাসা রবার্ট রবিনসনের।
আহমদ মুসা গম্ভীর হলো। বলল, ‘আপনাদের সব কথা বলতে পারলে আমার খুব ভালো লাগত। কিন্তু বিষয়টা খুবই গুরুতর। আমি বেঁচে আছি, শত্রুপক্ষ এটা জানা মানে দেশকে ভয়ংকর বিপদের দিকে ঠেলে দেয়া।
“শত্রুপক্ষ কি আপনার শত্রু, না দেশের শত্রু?’ বলল রবার্ট রবিনসন *আসলে ওরা দেশের শত্রু, আবার আমারও শত্রু।’ আহমদ মুসা বলল ।
*দেশের শত্রু হলে দেশ তার মোকাবিলা করবে। আপনার বেঁচে থাকা না থাকার সাথে এর সম্পর্ক কি?’ বলল রবার্ট রবিনসন ।
আহমদ মুসা হাতজোড় করে বলল, ‘কথায় কথায় আপনারা অনেকখানি জেনে ফেলেছেন। আর নয়। যখন জানার তখন সবই জানতে পারবেন । আপনাদের কাছে একটা সাহায্য চাই আমি।’
‘কি সাহায্য?’ জিজ্ঞাসা রবার্ট রবিনসনের।
‘ডেথ ভ্যালি সম্পর্কে কিছু জানেন কি না? ডেথ ভ্যালির কাছাকাছি যেহেতু আপনারা থাকেন। ডেথ ভ্যালিতে কোন লোক থাকে কি না, কোন লোক এখানে আসে কি না? এমন কিছু আপনারা দেখেছেন কি না?’ আহমদ মুসা বলল ।
‘ডেথ ভ্যালিতে মানুষ যাওয়া বা থাকার প্রশ্নই উঠে না । আসলে ওটা ডেড উপত্যকা। সে উপত্যকায় একটাই পথ ছিল, সেটা ঈশ্বর ভূমিকম্পের মাধ্যমে বন্ধ করে দিয়েছেন। ঐ ডেথ ভ্যালিতে প্রবেশের কোন স্থলপথ খোলা নেই। যেহেতু সরকারিভাবেই এটা নিষিদ্ধ এবং ডেড উপত্যকা হিসাবে ঘোষিত হয়েছে, তাই আকাশ বা অন্যপথে এতে প্রবেশ করার চেষ্টা করা যাবে না। তবে এর চারদিকে মানুষের আনাগোনা বন্ধ নেই। বিশেষ করে ক্রিকের জলপথে কখনও কখনও মানুষ আসতে দেখা গেছে।’ বলল রবার্ট রবিনসন ।
“ক্রিকের জলপথে মানুষ আসতে দেখা গেছে!’ বিস্ময় ঝরে পড়ল আহমদ মুসার কণ্ঠে ।
বিস্ময় প্রকাশের পরই আহমদ মুসা আবার বলে উঠল, ‘জলপথে এসে তারা কি করত ?’ তেমন কিছু করতে দেখা যায়নি । মনে হয় ওরা পর্যটক হতে পারে । ওদেরকে ডেথ ভ্যালির উত্তর পাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।’ বলল রবার্ট রবিনসন ।
ভ্রু-কুঞ্চিত হলো আহমদ মুসার। বলল, ‘ওরা কোন্ সময়ে আসত?’ কথা বলল বরিস বুবুকি। বলল, ‘আমি কিছু দিন ক্রিক এলাকায় বিশেষ ধরনের পাথর সংগ্রহের কাজ করতাম। তখন অনেক সময় সন্ধ্যা হয়ে যেত । সে সময় পর্যটকদের নৌকা বিকেলে, অনেক সময় সন্ধ্যায়ও আসতে দেখতাম ।’
‘নৌকায় কি থাকত?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার ।
একটু চিন্তা করল বরিস বুবুকি । বলল, ‘নৌকায় লোহা-লক্কড়সহ নানা সামগ্রী থাকত। অনেক সময় বড় বাক্স-কার্টুন দেখেছি। তবে ওসবে কখনো তেমন মনোযোগ দেইনি।’
আহমদ মুসার মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। নিশ্চয় ক্রিকের নদীপথেই ডেথ ভ্যালিতে সামরিক ঘাঁটি তৈরির সরঞ্জাম আনা হয়েছে এবং এটা নিশ্চিত যে, ডেথ ভ্যালিতেই এইচ থ্রি ও ফোম-এর সামরিক ঘাঁটি তৈরি হয়েছে ।
আহমদ মুসা মনে মনে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়ে বলল, ‘ভোর হয়ে গেছে । আপনাদের সিদ্ধান্ত বলুন।’
‘ভার্জিনিয়াতে আমার ভাই থাকেন । আমরা কিছুদিন সেখানে গিয়ে থাকব সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনি কি করবেন?’ বলল রবার্ট রবিনসন ।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!