
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
দুই শতাব্দী ধরে আগ্রাসী হিকসোস জাতির পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি থেবস। কিন্তু ফারাওদের রক্তে যে স্বাধীনতার আগুন জ্বলছিল, তা অবশেষে জ্বলে ওঠে মহাযুদ্ধের রূপ নেয়। নাগিব মাহফুজের কলমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে প্রাচীন মিশরের স্বাধীনতা অর্জনের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।
বই সম্পর্কে
নোবেল বিজয়ী মিশরীয় লেখক নাগিব মাহফুজের প্রাথমিক সাহিত্যজীবনের অন্যতম সেরা সৃষ্টি 'থেবস অ্যাট ওয়ার' (মূল আরবি নাম: কিফাহ তিবা)। উপন্যাসটিতে প্রাচীন মিশরের ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়কে উপজীব্য করা হয়েছে, যেখানে বিদেশী যাযাবর জাতি হিকসোসদের দখলদারিত্ব থেকে প্রাচীন মিশরকে মুক্ত করার অবিস্মরণীয় লড়াই তুলে ধরা হয়েছে।
প্রায় দুইশত বছর ধরে হিকসোসদের পদানত হয়ে থাকার পর থেবসের শাসক পরিবার ও জনগণ তাদের মাতৃভূমি উদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ফারাও সেকেনেনরে, কামোস এবং পরবর্তীতে তরুণ ফারাও আহমোসের নেতৃত্বে মিশরীয়রা কীভাবে একে একে দখলদারদের পরাস্ত করে স্বাধীন নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে, তা নাটকীয়ভাবে রূপায়িত হয়েছে।
উপন্যাসটিতে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি রাজনীতি, কূটনীতি, প্রেম এবং আত্মত্যাগের গভীর মানবিক আবেগ অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অনুবাদকের চমৎকার ভাষায় বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য প্রাচীন মিশরের পটভূমি যেন এক জীবন্ত নাট্যমঞ্চ হয়ে ওঠে।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
'থেবস অ্যাট ওয়ার' শুধু একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়, বরং এটি জাতীয় মুক্তি ও দেশপ্রেমের এক অনন্য মহাকাব্য। নাগিব মাহফুজ যেভাবে ইতিহাসের শুষ্ক ঘটনাগুলোকে রোমাঞ্চকর সাহিত্যরসে রূপান্তরিত করেছেন, তা পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ধরে রাখে।
চরিত্রগুলোর নির্মাণ অসাধারণ। বিশেষ করে ফারাও আহমোসের সাহস ও নেতৃত্বগুণ এবং থেবসবাসীদের দেশপ্রেমের তীব্রতা পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। যুদ্ধ বর্ণনার নিখুঁত কৌশল ও চরিত্রের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন মাহফুজের লেখনীকে ক্লাসিক মানে উন্নীত করেছে।
মিশরের ইতিহাস বা ঐতিহাসিক অনুবাদ উপন্যাসের পাঠকদের জন্য এটি অত্যন্ত চমৎকার ও অবশ্যপাঠ্য একটি বই। অনুবাদের সাবলীলতা মূল বইয়ের আবহ ও ভাবগাম্ভীর্য সম্পূর্ণভাবে বজায় রেখেছে।
মূল বিষয়
প্রাচীন মিশরের স্বাধীনতার লড়াই এবং হিকসোস হানাদারদের বিরুদ্ধে থেবসবাসীদের ঐতিহাসিক সংগ্রাম।
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
আহমোস (Ahmose): থেবসের তরুণ রাজপুত্র ও পরবর্তীতে ফারাও, যিনি হিকসোসদের বিরুদ্ধে মিশরকে নেতৃত্ব দেন।
সেকেনেনরে তাও (Seqenenre Tao): সাহসী ফারাও যিনি স্বাধীনতার প্রথম ডাক দেন এবং বীরত্বপূর্ণ মৃত্যুবরণ করেন।
কামোস (Kamose): আহমোসের বড় ভাই ও ফারাও, যিনি যুদ্ধের হাল ধরেছিলেন।
আফোফিস (Apophis): হিকসোস শাসক ও মিশরের দখলদার স্বৈরাচারী রাজা।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





