
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সাইদ মাহরান দেখে তার পুরো জীবনটাই তছনছ হয়ে গেছে। স্ত্রী নবুবিয়া ও বিশ্বস্ত সহচর ইলিয়াশ তাকে ধরিয়ে দিয়ে নিজেদের সংসার পেতেছে। আর বিপ্লবী আদর্শের দীক্ষা দেওয়া রউফ ইলওয়ান এখন এক অভিজাত ধনিক শ্রেণির দালাল। সাইদের মনে জ্বলে ওঠে অন্ধ প্রতিশোধের আগুন...
বই সম্পর্কে
‘চোর ও সারমেয় সমাচার’ নোবেলজয়ী মিশরীয় সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস ‘দ্য থিফ অ্যান্ড দ্য ডগস’ (Al-Liss wal-Kilab)-এর বাংলা রূপান্তর। উপন্যাসটির মূল চরিত্র সাইদ মাহরান জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবিষ্কার করে তার ভালোবাসার স্ত্রী, সহকারী এবং রাজনৈতিক গুরু সবাই তার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। প্রতারিত ও নিঃস্ব সাইদের অন্তরে জন্ম নেয় তীব্র প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা।
উপন্যাসটিতে মাহফুজ তৎকালীন মিশরের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সমাজতন্ত্রের নামে প্রতারণা এবং শ্রেণিবৈষম্যের নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। সাইদের ভুল লক্ষ্যে পরিচালিত আক্রমণগুলো কীভাবে তাকে আরও গভীর অন্ধকারে নিয়ে যায় এবং রাষ্ট্রযন্ত্র তাকে ‘কুকুর’দের মতো তাড়া করে শিকার করতে নামে—তা অত্যন্ত চমৎকার ভাষায় ফুটে উঠেছে। সুফিবাদের নিঃশব্দ আহ্বান বনাম জাগতিক অবিচারের দ্বন্দ্ব কাহিনিকে দিয়েছে এক অনন্য গভীরতা।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
নাগিব মাহফুজের ‘চোর ও সারমেয় সমাচার’ শুধু একটি ক্রাইম বা রিভেঞ্জ থ্রিলার নয়, বরং এটি মানুষের আত্মিক বিচ্ছিন্নতা ও অস্তিত্ব সংকটের এক গভীর দলিল। উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় সাইদ মাহরানের মানসিক টানাপোড়েন ও হতাশা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে চিত্রিত হয়েছে। স্ট্রিম অব কনশাসনেস (চেতনাপ্রবাহরীতি) এবং অভ্যন্তরীণ স্বগতোক্তির মাধ্যমে লেখক পাঠকের মনে এক গভীর সহানুভূতি ও শূন্যতাবোধ তৈরি করেন।
অনুবাদটি অত্যন্ত সাবলীল ও মূলের আবহ ধারণে সক্ষম। বিশ্বসাহিত্যের ক্লাসিক অনুরাগী এবং গভীর ভাবনার উপন্যাস পছন্দকারী যেকোনো পাঠকের জন্য বইটি এক অবশ্য পাঠ্য অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।
মূল বিষয়
বিশ্বাসঘাতকতা, সামাজিক অবিচার, অন্ধ প্রতিশোধ এবং অস্তিত্বের সংকট
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
সাইদ মাহরান: উপন্যাসের মূল চরিত্র, কারামুক্ত এক আদর্শবাদী চোর যে বিশ্বাসঘাতকদের ওপর প্রতিশোধ নিতে ব্যাকুল।
রউফ ইলওয়ান: সাইদের সাবেক গুরু ও বিপ্লবী সাংবাদিক, যে নিজের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে সুবিধাবাদী বুর্জোয়া বনে যায়।
নবুবিয়া: সাইদের সাবেক স্ত্রী, যে সাইদের সহকারী ইলিয়াশের সাথে যোগসাজশে সাইদকে জেলে পাঠায়।
নূর: একজন পতিত নারী, যে সাইদকে ভালোবাসে এবং পালিয়ে থাকার সময় তাকে আশ্রয় দেয়।
শেখ আলি আল-জুনেদি: সাইদের পিতার বন্ধু ও সুফি আধ্যাত্মিক গুরু, যিনি সাইদকে অন্তরাত্মার শান্তির পথ দেখান।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





