সকল বই (Library)
মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বইয়ের প্রচ্ছদ

মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

লেখক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ডাউনলোড করুন
লেখকবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীবঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
প্রকাশ সাল1884
পৃষ্ঠা64 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

অশিক্ষিত এবং স্থূলবুদ্ধির মুচিরামের ভাগ্যের জোরে উচ্চপদে আরোহণ।
ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামো এবং চাটুকারিতার ওপর তীব্র কটাক্ষ।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির একটি সমাজ-সচেতন ব্যঙ্গরচনা (সোশ্যাল স্যাটায়ার)।
বঙ্কিমচন্দ্রের অনন্য পরিহাসবোধ ও শ্লেষাত্মক ভাষার অপূর্ব নিদর্শন।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

মুচিরাম বর্ণজ্ঞানহীন ও নির্বোধ এক বালক। কিন্তু ভাগ্যচক্র ও সমাজের অদ্ভুত নিয়মে সেই মুচিরামই একসময় সরকারি আমলা ও বিত্তবান ব্যক্তিতে পরিণত হয়। বঙ্কিমচন্দ্রের কলমে এ এক অনন্য সামাজিক প্রহসন।

বই সম্পর্কে

'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত' বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি কালজয়ী ব্যঙ্গাত্মক ক্ষুদ্র উপন্যাস বা সোশ্যাল স্যাটায়ার। ১৮৮৪ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে তৎকালীন পরাধীন ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থা, আমলাতন্ত্রের অসারতা এবং শিক্ষা-দীক্ষাহীন চাটুকার শ্রেণির অবিশ্বাস্য সামাজিক প্রতিষ্ঠা লাভের স্বরূপ নির্মম কৌতুকের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কাহিনী গড়ে উঠেছে মূর্খ, অলস এবং অসৎ প্রকৃতির মুচিরাম নামক এক চরিত্রকে ঘিরে। কোনো যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও স্তাবকতা, মিথ্যাচার এবং ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলিয়ে সে বিপুল ধন-সম্পদ অর্জন করে এবং শেষ পর্যন্ত সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়। এর মধ্য দিয়ে লেখক তৎকালীন ব্রিটিশ শাসন ও নব্য বাবু সংস্কৃতির নৈতিক অধঃপতনকে তীব্র শ্লেষে বিদ্ধ করেছেন।

বইটির প্রতিটি পাতায় বঙ্কিমচন্দ্রের বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস এবং গভীর সমাজদর্শন পরিলক্ষিত হয়। তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতাকে ব্যঙ্গাত্মক রূপক হিসেবে উপস্থাপন করে রচিত এই কাহিনী আজও প্রাসঙ্গিক ও অত্যন্ত উপভোগ্য。

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সাধারণত গম্ভীর ও ঐতিহাসিক রোম্যান্স উপন্যাসের জন্য পাঠক চিনলেও, 'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত' তাঁর অসাধারণ ব্যঙ্গরসের স্বাক্ষর বহন করে। হাস্যরসের আবরণে তিনি সমাজের যে রূপ উন্মোচিত করেছেন, তা একাধারে কৌতুকপ্রদ এবং অত্যন্ত চিন্তাশীল।

উপন্যাসটির মূল শক্তি এর ভাষা ও চরিত্রায়ণ। নির্বোধ মুচিরামের উত্থানের মধ্য দিয়ে সমাজে মেধা ও সততার অবমূল্যায়নের বেদনাদায়ক সত্যকে চমৎকার উপহাসে রূপান্তর করা হয়েছে। কীভাবে একজন অকর্মা ব্যক্তি সমাজের উঁচু স্তরে জায়গা করে নেয়, তার এই বর্ণনা আধুনিক আমলাতন্ত্র ও সমাজের ক্ষেত্রেও আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়।

বাংলা সাহিত্যের ক্ল্যাসিক বা ব্যঙ্গ সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এই বইটি অবশ্যই পাঠ্য। এর সংক্ষিপ্ত কলেবর এবং সাবলীল উপস্থাপনা যে কোনো পাঠককে মুগ্ধ করবে এবং হাসির ছলে সমাজের গভীর ব্যাধি নিয়ে ভাবতে বাধ্য করবে।

মূল বিষয়

ঊনবিংশ শতাব্দীর ঔপনিবেশিক বাঙালি সমাজের দুর্নীতি, স্তাবকতা এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের সামাজিক উত্থানের তীব্র ব্যঙ্গাত্মক বিশ্লেষণ।

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

মুচিরাম গুড়: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র; নির্বোধ ও অশিক্ষিত হলেও চাতুর্য ও চাটুকারিতার মাধ্যমে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও জমিদার পদে উন্নীত হয়।

হোমরা চোমরা: প্রশাসনিক কর্তা ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ যারা তেলবাজি ও পদলেহনে তুষ্ট হতো।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে

সম্পর্কিত আরও বই

সব দেখুন →