সকল বই (Library)
দেবী চৌধুরাণী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Debi Choudhurani) – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বইয়ের প্রচ্ছদ

দেবী চৌধুরাণী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Debi Choudhurani)

লেখক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ডাউনলোড করুন
লেখকবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীবঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
প্রকাশ সাল1884
পৃষ্ঠা160 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

অসহায় গৃহবধূ প্রফুল্লর মহীয়সী 'দেবী চৌধুরাণী' হয়ে ওঠার রূপান্তর।
ভবানী পাঠকের সংস্পর্শে এসে সনাতন জ্ঞান ও অস্ত্রশিক্ষার মাধ্যমে নিষ্কাম কর্মের দীক্ষা।
তৎকালীন সামাজিক অবিচার, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রজাবৎসল রূপ।
নারীর অন্তর্নিহিত অসীম ক্ষমতা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য আখ্যান।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবী চৌধুরাণী' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক ও সমাজ-বাস্তবতার উপন্যাস। একজন নিঃস্ব, লাঞ্ছিত গৃহবধূর দেশপ্রেমী নেত্রীতে রূপান্তরিত হওয়ার ঐতিহাসিক গাথা এটি।

বই সম্পর্কে

১৮৮৪ সালে প্রকাশিত 'দেবী চৌধুরাণী' সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেশপ্রেম ও সামাজিক পুনর্গঠনমূলক ত্রয়ী উপন্যাসের (আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারাম) দ্বিতীয় গ্রন্থ। উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক সাধারণ গ্রাম্য বধূ 'প্রফুল্ল', যাকে দরিদ্রতার অজুহাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। চরম বিপর্যয়ে পড়ে ভবানী পাঠকের সংস্পর্শে এসে সে কঠিন শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সাধনায় লিপ্ত হয় এবং একসময় রূপান্তরিত হয় মহীয়সী 'দেবী চৌধুরাণী'তে।

উপন্যাসটিতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার 'নিষ্কাম কর্মযোগ' তত্ত্বকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ধনীদের লুণ্ঠন করে দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া, ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার রুখে দাঁড়ানো এবং নারীমুক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করে দেবী চৌধুরাণী। শেষপর্যন্ত সমস্ত ঐশ্বর্য ত্যাগ করে আবার সংসারী জীবনে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে উপন্যাসটি গভীর নৈতিক বার্তা প্রদান করে।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

বাংলা সাহিত্যে নারীশক্তির এক অপরূপ নিদর্শন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবী চৌধুরাণী'। বঙ্কিমচন্দ্র এখানে নারীকে অবলা বা সমাজের শিকার হিসেবে আটকে না রেখে, তাকে নেতৃত্বদানকারী এক মহাশক্তিতে পরিণত করেছেন। উপন্যাসের ভাষা তৎকালীন সাধু ভাষার গুরুগম্ভীর হলেও এর কাহিনিবিন্যাস, চরিত্রগুলোর আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং নাটকীয় মুহূর্ত পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুগ্ধ করে রাখে।

ভবানী পাঠক ও প্রফুল্লর মধ্যকার গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক এবং আদর্শ ও ত্যাগের সমন্বয় উপন্যাসটিকে নিছক রোমাঞ্চকাহিনি থেকে এক উচ্চমার্গের দার্শনিক আখ্যানে উন্নীত করেছে। বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী সৃষ্টি পাঠে আগ্রহী যে কোনো পাঠকের জন্য এই উপন্যাসটি অবশ্যপাঠ্য।

মূল বিষয়

নিষ্কাম ধর্মতত্ত্ব, নারী জাগরণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

প্রফুল্ল (দেবী চৌধুরাণী): উপন্যাসের মূল চরিত্র, যিনি পরিস্থিতির চাপে গৃহহীন হয়ে পরবর্তীতে ডাকাতদলের মহীয়সী নেত্রী হন।

ভবানী পাঠক: বিপ্লবী সন্ন্যাসী ও ডাকাত সর্দার, প্রফুল্লর গুরু এবং নিষ্কাম ধর্মের পথপ্রদর্শক।

ব্রজেশ্বর: প্রফুল্লর স্বামী, কর্তব্যপরায়ণ ও ন্যায়নিষ্ঠ কিন্তু পিতৃআজ্ঞায় বাধ্য।

হরবল্লভ রায়: ব্রজেশ্বরের স্বার্থপর ও অর্থলোভী পিতা।

নিশি ও দিবা: দেবী চৌধুরাণীর বিশ্বস্ত অনুচরী ও সহযোদ্ধা।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে

সম্পর্কিত আরও বই

সব দেখুন →