সকল বই (Library)
লালসালু - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ বইয়ের প্রচ্ছদ

লালসালু - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

লেখক: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্

ডাউনলোড করুন
লেখকসৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীনওরোজ কিতাবিস্তান
প্রকাশ সাল1948
পৃষ্ঠা112 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

মজিদ চরিত্রের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ সমাজে ধর্মীয় ভণ্ডামির চমৎকার উন্মোচন।
কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অজ্ঞ জনসাধারণের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ভয় সৃষ্টির প্রক্রিয়া।
রহিমার অন্ধ আনুগত্য এবং জমিলার নীরব প্রতিবাদের বৈপরীত্য।
গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, শোষণ ও বেঁচে থাকার আদিম সংগ্রামের চিত্র।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধুনিক ও বাস্তবধর্মী উপন্যাস।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

একটি অজ্ঞাত কবরকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা লাল কাপড়ে ঢাকা মাজার এবং সেই মাজারকে কেন্দ্র করে ধূর্ত মজিদের শোষণ ও আধিপত্যের গল্প নিয়ে রচিত বাংলা সাহিত্যের অমর উপন্যাস 'লালসালু'。

বই সম্পর্কে

'লালসালু' বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য মাইলফলক এবং কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অবিস্মরণীয় সৃষ্টি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের প্রেক্ষাপটের সামান্য পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি তৎকালীন পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ মুসলিম সমাজের ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে তীব্রভাবে উন্মোচিত করেছে। উপন্যাসটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মহব্বতনগর গ্রাম ও এক কপর্দকহীন বহিরাগত যুবক 'মজিদ'-কে কেন্দ্র করে।

মজিদ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে একটি পরিত্যক্ত কবরকে 'মুদাব্বির পীর'-এর মাজার হিসেবে ঘোষণা করে। গ্রামের সহজ-সরল ও ধর্মভীরু মানুষদের অজ্ঞতা ও পরকালের ভয়কে পুঁজি করে মজিদ ধীরে ধীরে পুরো গ্রামের চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। ধর্মীয় অনুশাসন ও ভয়ের জাল বিস্তার করে সে সামাজিক কর্তৃত্ব এবং সম্পদ দুটিই অর্জন করে। কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি ও অবাধ্যতা যখন তার সেই কৃত্রিম আধিপত্যে আঘাত হানে, তখন শুরু হয় মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন।

উপন্যাসটিতে জমিলার চরিত্রের মাধ্যমে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ভণ্ড ধর্মীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানবসত্তার অবচেতন প্রতিরোধের এক অনন্য চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। 'লালসালু' শুধু একটি গল্প নয়, বরং এটি সমাজ কাঠামোর গভীর বিশ্লেষণ এবং মানুষের ভণ্ডামি ও টিকে থাকার আদিম লড়াইয়ের এক চিরন্তন দলিল।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

বাংলা সাহিত্যে আধুনিক বাস্তবতাবাদী ধারা প্রবর্তনে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' এক যুগান্তকারী সংযোজন। লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে দেখিয়েছেন কীভাবে ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে একশ্রেণির সুবিধাবাদী মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত পরিমিত, প্রতীকী এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন। প্রতিটি দৃশ্যপট গ্রামীণ আবহের নিখুঁত রূপ তুলে ধরে।

উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক চিত্রায়ন। মজিদ কোনো সাধারণ খলনায়ক নয়, বরং সে এক বেঁচে থাকার চরম বাস্তবতার প্রতীক। তার ভেতরের শঙ্কা, অপরাধবোধ ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় লেখক অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে জমিলার অবাধ্যতা এবং মাজারের ওপর থুতু ফেলার দৃশ্যটি পুরো ব্যবস্থার মুখে এক নীরব অথচ প্রবল চপেটাঘাত।

সামগ্রিকভাবে, 'লালসালু' এমন একটি উপন্যাস যা প্রকাশের সাত দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে আজও সমান প্রাসঙ্গিক। কুসংস্কার ও ধর্মব্যবসায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি পাঠকের জন্য এই বইটি পাঠ করা অপরিহার্য।

মূল বিষয়

ধর্মীয় গোঁড়ামি, ভণ্ডামি এবং কুসংস্কারকে পুঁজি করে গ্রামীণ জনপদে আধিপত্য বিস্তারের বাস্তবতা।

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

মজিদ: উপন্যাসের মূল চরিত্র; যে অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে মিথ্যা মাজারের ভিত্তি গড়ে পুরো গ্রামকে শাসন করে।

রহিমা: মজিদের প্রথম স্ত্রী; ধর্মভীরু, শান্ত, পরিশ্রমী এবং মজিদের প্রতি পরম অনুগত।

জমিলা: মজিদের তরুণী দ্বিতীয় স্ত্রী; যে মজিদের ভণ্ডামী ও আরোপিত শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে অবচেতন প্রতিবাদের প্রতীক।

খালেক ব্যাপারী: গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর; যে সামাজিক ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে মজিদকে সমর্থন দেয়।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে