
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
জোছনা রাতে বাঁশঝাড়ের ভেতর একটি যুবতীর মৃতদেহ আবিষ্কার করে যুবক শিক্ষক আরেফ আলী। পাশেই দাঁড়িয়ে গ্রামের ক্ষমতাধর মাতব্বরের ভাই কাদের। শুরু হয় সত্য গোপন রাখা আর প্রকাশের এক চরম মানসিক সংঘাত।
বই সম্পর্কে
'চাঁদের অমাবস্যা' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক ও অস্তিত্ববাদী উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসের পটভূমি গ্রামীণ সমাজ হলেও এর মূল সুর ব্যক্তিমানুষের অন্তর্জগতের গভীর সংকট। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আরেফ আলী এক তরুণ আদর্শবাদী স্কুলশিক্ষক। এক জ্যোৎস্নারাতে বাঁশঝাড়ে সে এক যুবতীর নিথর দেহ দেখতে পায় এবং বুঝতে পারে কাদের এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।
হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হয়েও আরেফ আলী সামাজিক বাস্তবতা ও ক্ষমতার চাপের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সত্য প্রকাশ করলে সমাজ ও ক্ষমতার রোষানলে পড়ার ভয়, আর চেপে রাখলে বিবেকের দংশন—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে তার চেতনা এক তীব্র অমাবস্যার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ নিখুঁত মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে মানব মনের সেই গোপন স্তর উন্মোচন করেছেন।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
বাংলা উপন্যাসের ধারায় 'চাঁদের অমাবস্যা' এক যুগান্তকারী সৃষ্টি। প্রচলিত প্লট বা বাহ্যিক অ্যাকশনের বদলে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ চরিত্রের গভীরের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, অপরাধবোধ ও অস্তিত্বের সংকটকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আরেফ আলীর মনস্তত্ত্বের প্রতিটি সূক্ষ্ম বাঁক লেখক এতোটাই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে পাঠকও এক অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি হতে বাধ্য হন।
উপন্যাসের ভাষা প্রতীকী এবং গম্ভীর। জ্যোৎস্না ও অন্ধকারের বৈপরীত্য ব্যবহার করে লেখক মানুষের দ্বৈত রূপ প্রকাশ করেছেন। যারা বিশ্বমানের মনস্তাত্ত্বিক ও অস্তিত্ববাদী বাংলা সাহিত্য পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য 'চাঁদের অমাবস্যা' একটি অবশ্যপাঠ্য উপন্যাস।
মূল বিষয়
মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, অস্তিত্ব সংকট এবং সত্য প্রকাশের নৈতিক দায়বদ্ধতা
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
আরেফ আলী: গ্রামের তরুণ স্কুলশিক্ষক, যে সত্য জেনেও প্রচণ্ড মানসিক দোলাচলে ভোগে।
কাদের: গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর আলী আসমান প্রধানের ছোট ভাই এবং হত্যাকাণ্ডের মূল অপরাধী।
আলী আসমান প্রধান: গ্রামের ক্ষমতাধর মাতব্বর, যার আশ্রয়ে পুরো পরিবার সুরক্ষিত।
নিহত যুবতী: বাঁশঝাড়ে পড়ে থাকা অজ্ঞাতনামা এক হতভাগ্য নারী।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





