বিস্মরণ – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

বিস্মরণ – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬৯

বিস্মরণ – বইটির এক ঝলকঃ

এর ওপর কথা চলে না। কাজেই আবার রওনা হলো লীলা রান্নাঘরের দিকে। ‘তাহলে কিছু ফল-মূল কেটে নিয়ে আসি।’
‘দোহাই আপনার। প্লীজ। একটা কথা শুনুন, ‘ আধ গ্লাস পানি খেয়ে টেবিলের উপর নামিয়ে রাখল রানা গ্লাসটা। ‘সত্যি বলছি, এই পর্যন্ত ভরে গেছে, আর পারব না। এমনিতেই অনেক বেশি খেয়ে ফেলেছি। এরপর যদি জোর করেন তাহলে আর চেয়ার ছেড়ে উঠতে পারব না।’
রানার করুণ মিনতি শুনে হেসে ফেলল লীলা। বলল, ‘আচ্ছা, থাক তাহলে। এবার চা নিয়ে আসি।’
‘হ্যাঁ। চা খাওয়া যায়।’
‘চট করে উঠে পড়বেন না যেন আবার। কথা আছে।’ চলে গেল নীলা লীলায়িত ভঙ্গিতে।
সিগারেট ধরাল রানা। কিছুক্ষণ যাবৎ গম্ভীর মুখে কি যেন চিন্তা করছে থিরু। কিছুক্ষণ কেন, সন্ধের সেই ঘটনার পর থেকেই কথা কম বলছে সে। রানাকে দোতলায় ওর কামরা দেখিয়ে দিয়ে বউয়ের সঙ্গে কি নিয়ে যেন আলোচনা করেছে সে অনেকক্ষণ। স্নান সেরে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে নেমে এসেছে রানা নিচে—তখনও কথা হচ্ছিল ওদের মধ্যে, রানাকে দেখেই থেমে গেল। সেই ব্যাপারেই কিছু বলবে বোধহয় লীলা ।
“কি ভাবছেন?’ জিজ্ঞেস করল রানা থিরুকে।
‘ভাবছি রঘুনাথ কিভাবে নেবে আজকের ঘটনাটা,’ বলল থিরু চিন্তিত মুখে। ‘আপনাদের একজন কাস্টোমার তো আমাকে পালিয়ে যাবার পরামর্শ দিয়েছে।’
‘আমিও প্রথমে তাই ভেবেছিলাম, পরে বুঝলাম বিশেষ ভয়ের কিছুই নেই । বিঘ্নরাজের মুখেই সমস্ত ঘটনা শুনতে পাবে রঘুনাথ। আর আসলে হাম্বানটোটার চাম্পিয়ানের পিছনেই টাকা ধরেছে সে এবার। বীরবর্ধনকে মারলে ওর বিশেষ কিছু যায় আসে না। যদি রঘুনাথ একে ব্যাক করত তাহলে আপনার পালানো ছাড়া উপায় ছিল না।’
“বিঘ্নরাজটা আবার কে হলেন? ওই দৈত্যটার সাথের মোটা, টেকো লোকটা?’
‘হ্যাঁ। বীরবর্ধন তো ওরই প্লেয়ার। বিমরাজ লোকটা আসলে খারাপ না । মাঝে থেকে ওর কপালটা পুড়ল বলে খারাপই লাগছে আমার।’
চা নিয়ে এল নীলা। থিরুর পাশের চেয়ারটায় বসল। চা খেতে খেতে খানিকক্ষণ উসখুস করল থিরু তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘কতদিন থাকবেন কাণ্ডিতে?” ‘ভাবছি আগামীকাল উভা লাইনে বাদুলার ট্রেনে চাপব। শুনেছি এত সুন্দর দৃশ্য পৃথিবীর আর কোন ট্রেন জার্নিতে দেখতে পাওয়া যায় না।
*এখানে থেকে গেলে হয় না? মানে, আপনার তো আত্মীয়স্বজন কেউ নেই বলছিলেন, আধাআধি শেয়ারে আমাদের পার্টনার হয়ে যান না? আপনাকে লীলার আর আমার খুব ভাল লেগেছে। আপনার মত একজন লোক দরকার আমাদের এখানে। বেশ ভাল রোজগার হয়, অর্ধেক করলে চার পাঁচশো টাকা হবে। কি বলেন, থাকবেন আমাদের সাথে? সব কথা একসাথে বলে ফেলল থিরু।
হো হো করে হেসে উঠল রানা। আপনি কি পাগল হয়েছেন? আমাকে চেনেন না জানেন না, একজন লোককে মেরে চিৎ করে দিয়েছি, ব্যস ব্যবসার অর্ধেক শেয়ার দেয়ার জন্যে খেপে উঠেছেন? ছেলেমানুষির একটা…’
‘আমাদের সাহায্য দরকার, মিস্টার রানা! সনির্বন্ধ অনুরোধ থিরুর কণ্ঠে । “শক্তি আর সাহসেরও দরকার আছে। মাঝেমাঝেই এই রকম গোলমাল হয় আমাদের এখানে। আমি দুর্বল মানুষ, কিছুই করতে পারি না। আমার আত্মীয়স্বজন ভাই বেরাদার কেউ নেই। আর রাদালার কোনও ব্যাপারে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায় না। আপনি যদি থাকেন…
‘আপনাদের অসুবিধাটা আমি বুঝতে পেরেছি, মিস্টার পিল্লাই। কিন্তু আমার পক্ষে এখানে থেকে যাওয়া সম্ভব নয়। সব কথা বুঝিয়ে বলাও যাবে না। তবে আমি আপনাদের সমস্যার একটা সহজ সমাধান করে দিয়ে যাব।
‘কি রকম?’
‘আমি কয়েকটা কৌশল শিখিয়ে দিয়ে যাব আপনাকে, যার ফলে ওই রকম এক-আধটা বীরবর্ধনকে আপনিও পিটিয়ে লাশ করতে পারবেন ।
‘আমি?’ করুণ হাসি হাসল থিরু। ‘আপনি ঠাট্টা করছেন।’
“না। ঠাট্টা করছি না আমি। মারামারি করতে আসলে জোরের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন কৌশলের। একটু ভেবে বলুন, আমার গায়ে কি ওই বীরবর্ধনের চেয়ে বেশি জোর আছে?’
“তা নেই। ওর গায়ে অসুরের শক্তি।’ স্বীকার করতে হলো থিরুকে।
“অথচ ও আমার সঙ্গে পারল না কেন?
‘কিন্তু আপনার দশ ভাগের এক ভাগ শক্তিও তো আমার গায়ে নেই ।
“শক্তির প্রয়োজন নেই। আরও একটা জিনিস মনে করবার চেষ্টা করুন। আমি কি ওকে খুব জোরে মেরেছিলাম? না। জোরে মারলে মরেই যেত লোকটা। ওকে মেরে ফেলার মত গায়ের জোর শুধু আপনার কেন, লীলাদেবীরও আছে।’ কথাটা বিশ্বাস হয়ে এসেছে থিরুর। তাই আর বোঝাবার চেষ্টা না করে সোজাসুজি বলল, ‘কাল সকালে আধঘণ্টার মধ্যে আমি আপনাকে ছয়টা কৌশল শিখিয়ে দিয়ে যাব। প্রতিদিন দশ মিনিট করে এক সপ্তাহ প্র্যাকটিস করবেন। ব্যস, আর কিছু লাগবে না। লীলাদেবীকেও শিখিয়ে দেবেন। দুজন বেয়াড়া লোকের উপর বার দুই এই কৌশল প্রয়োগ করলেই ভবিষ্যতে আর কেউ বেয়াদবি করতে সাহস পাবে না। উৎসাহ উদ্দীপনায় জ্বলজ্বল করছে লীলার দুই চোখ। বলল, ‘আমিও পারব? সত্যি? কী মজা হবে, তাই না?’
রানা মুচকে হাসল একটু। বলল, ‘দেখুন তো, মাসে মাসে পাঁচশো করে টাকা বাঁচিয়ে দিচ্ছি আপনাদের, তবু আরেক কাপ চা খাওয়াবার কথা ভাবছেন না একটিবারও!’
‘আমি এক্ষুণি নিয়ে আসছি।’ মিষ্টি হেসে চলে গেল লীলা রান্নাঘরের দিকে। সকালে নাস্তার পর চা খাচ্ছে রানা, এমনি সময় ঘরে এসে ঢুকল থিরু। ভোর বেলা আধ ঘণ্টা ট্রেনিং দিয়েছে রানা থিরুকে। গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে শিখেছে সে কৌশলগুলো। সবশেষে রানাকে পাঁচ হাত দূরে আছড়ে ফেলে দিয়েই পূর্ণ আত্মবিশ্বাস এসে গেছে ওর। হাসি গিয়ে ঠেকেছে দুই দিকের দুই কান পর্যন্ত। এখনও সে হাসি ম্লান হয়নি একবিন্দু। যেন গোপন কি পরামর্শ করছে এমনিভাবে রানার কানের কাছে মুখ এনে বলল, ‘একটা লোক এসেছে নিচে। মাস দুয়েক আগে আমাকে অপমান করেছিল। দেব নাকি দু’ঘা লাগিয়ে?
হেসে ফেলল রানা। অস্থির হয়ে উঠেছে থিরু নিজের গোপন বিদ্যা জাহির করবার জন্যে। ঠিক ছেলেমানুষের মত। কিছুক্ষণ আগেই লীলা এসে নালিশ করে গেছে, ওর ডান-হাতটা নাকি ভেঙে ফেলার জোগাড় করেছিল থিরু বেমক্কা এক মোচড় দিয়ে ।
“আপনি দেখছি ঝগড়া কুড়োবার তালে আছেন।’
‘না মশায়, না। আসলে আমার খালি হাসি পাচ্ছে। যত ষণ্ডামার্কা লোক চা খেতে আসছে সবাইকে “আহা বেচারা” মনে হচ্ছে। অথচ কাউকে কিছু বলতে না পেরে ভুট্‌ট্ করছে পেটের ভেতরটা। যাক, যে-জন্যে এসেছিলাম- বিমরাজ এসে বসে আছে অনেকক্ষণ হলো, দেখা করতে চায় আপনার সঙ্গে। বিদায় করে দেব, না বসিয়ে রাখব, না নিয়ে আসব?’
“কেন দেখা করতে চায় বলেছে কিছু?
‘নাহ্। জিজ্ঞেস করেছিলাম, বলল আপনার কাছে বলবে। ‘আচ্ছা, ওপরেই পাঠিয়ে দিন তাহলে।’
একটু পরেই হাঁসফাস করতে করতে ঘরে ঢুকল বিমরাজ। চেহারার দিকে চাওয়া যায় না। চোখের কোণে কালি—যেন সাতদিন সাতরাত ঘুম হয়নি ওর। তেলতেলে একটা মলিন ভাব ফুটে রয়েছে ওর মুখে। রানার ইঙ্গিতে বসে পড়ল একটা চেয়ারে। দুই কনুই টেবিলের উপর রেখে বুড়ো আঙুল দিয়ে টিপে ধরল কপালের দুই পাশ।
ও কিছু বলবার আগেই রানা বলে উঠল, ‘আপনার পালোয়ান রোববার কুস্তি করতে পারছে না শুনে আমি সত্যিই দুঃখিত। কিন্তু আমার কি আর করবার ছিল, বলুন? উপযুক্ত শাস্তিই হয়েছে ওর।
“সেটা আর আমাকে বলতে হবে না। আমি নিজেই তো দেখেছি।’ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল বিঘ্নরাজ। অসম্ভব হারামী আর বজ্জাত ছোকরাটা। জীবন আমার অতিষ্ঠ করে তুলেছে একেবারে। যেখানেই যাবে সেখানেই গোলমাল বাধাবে একটা না একটা।’ হঠাৎ সামনের দিকে ঝুঁকে চাপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ‘ওই মার আপনি শিখলেন কোথায়?’
আমি কিছুদিন জাপানে ছিলাম। ওখানেই শখ করে শিখেছিলাম সামান্য কিছু। আমি জানতাম না অতখানি আনাড়ি আপনার ছোকরা—তাহলে আরও আস্তে
মারতাম।
“আনাড়ি? বলেন কি আপনি? কাণ্ডির সেরা ফাইটার ও তিন হাজার টাকা পায় প্রতি মাসে। হাম্বানটোটার চেয়ে অনেক ভাল। কিন্তু হলে কি হবে, আপনার কাছে তো দেখলাম নস্যি। ধরতে গেলে সারাজীবনই এই লাইনে আছি, কিন্তু এমন মার তো জীবনে দেখিনি! দুইটাতেই খতম!’ চোখ বড় বড় করে চাইল বিঘ্নরাজ রানার দিকে ।
*ওটা হঠাৎ হয়ে গেছে। ঝড়ে বক… মানে, অপ্রস্তুত অবস্থায় লেগে গেছে।
‘উঁহুঁ। আমি পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি, আপনি এই লাইনেরই লোক। শেষের যে নক্-আউটটা মারলেন; ওটা তো রীতিমত ওস্তাদের হাতের কাজ। যুদ্ধের ট্যাঙ্কও ট্যাপ খেয়ে যাবে। টেবিলের ওপর একটা তুশতরীতে রানার অভুক্ত একখানা বাটার-টোস্ট ছিল, অন্যমনস্কভাবে সেটা তুলে নিয়ে কামড় দিল বিমরাজ। “আরও তিনজন পালোয়ান আছে। কিন্তু অন্য লোকের সাথে কন্ট্রাক্ট সই করা আছে ওদের—কোনও ম্যানেজারই ধার দিতে রাজি হলো না। এদিকে রঘুনাথ কিছুই শুনতে চায় না, বহু টাকা ধরেছে ও বাজি- সোজা বলে দিয়েছে যেখান থেকে পারো লোক নিয়ে এসো, রোববার কুন্তি হতেই হবে। যদি জোগাড় করতে না পারো তাহলে যে লোকটা বীরকে মেরেছে…’ থেমে গেল বিমরাজ। নিজের হাতে বাটার-টোস্ট দেখে বিস্মিত হয়ে নামিয়ে রাখল সেটা তশতরীর ওপর। টেবিলের ওপর রাখা হাতের সঙ্গে কথা বলছে এমনিভাবে বলল। ‘আমার সর্বনাশ হয়ে যাবে, মিস্টার মাসুদ রানা। ছোট ছোট আটটা ছেলেমেয়ে আমার, পথে বসতে হবে ওদেরকে নিয়ে। আমাকে যদি মেরে ফেলে তাহলে ওদেরকে দেখার কেউ নেই ।’
“তা, আমি কি করতে পারি বলুন?’
রানার কণ্ঠে হয়তো একটু সহানুভূতির আভাস ছিল, হঠাৎ রানার দুই হাত ধরে ফেলল বিমরাজ। ‘আমাকে বাঁচান, মিস্টার মাসুদ রানা। আপনার দুটো হাত ধরে অনুরোধ করছি, আমি বুড়ো মানুষ, দয়া করে আমাকে বাঁচান। নইলে মেরে ফেলবে আমাকে রঘুনাথ।’
ব্যাপারটা সবই বুঝতে পারল রানা। কেন ওর কাছে এসেছে বিঘ্নরাজ, কি করাতে চায় সে ওকে দিয়ে, কিছুই বুঝতে বাকি রইল না ওর। হঠাৎ রেগে গেল সে। এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিল হাত দুটো।
‘গেট আউট!’ দরজার দিকে আঙুল তুলে দেখাল রানা। ‘বেরিয়ে যান এখান থেকে। কোনও রকম সাহায্য করতে পারব না আমি আপনাকে। কুস্তি করে বেড়ানো আমার পেশা নয়। আপনার সমস্যা নিয়ে আপনি দূর হয়ে যান আমার সামনে থেকে।’
কেউ যেন চাবুক মারল বিমরাজকে। রক্তশূন্য হয়ে গেল চেহারাটা, কুঁচকে গেল গাল দুটো। অর্থহীন দৃষ্টিতে কয়েক সেকেণ্ড চেয়ে রইল সে রানার মুখের দিকে। সব আশা ভরসা দপ করে নিভে গেছে যেন ওর। আর একটি কথা না বলে ধীর পায়ে এগোল সে দরজার দিকে। মাথাটা ঝুলে পড়তে চাইছে সামনের দিকে।
রানা বুঝল, হার হয়ে গেছে ওর। এই অসহায় লোকটাকে কিছুতেই ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু একে সাহায্য করতে গেলে বিচ্ছিরি ঝামেলায় পড়ে যাবে সে। দেরিও হয়ে যাবে দুই দিন। বেড়াতে এসে এ কী ঝামেলায় জড়াচ্ছে সে নিজেকে? নিজের উপরই অসম্ভব রেগে গিয়েছিল রানা। সেই রাগ গিয়ে পড়েছিল বিমরাজের উপর। কিন্তু রেগে গিয়েও তো লাভ হলো না. কিছুই।
‘শুনুন,’ ডাকল রানা।
থামনে দাঁড়াল মিরাজ। ঘাড় ফিরিয়ে চাইল পিছন দিকে। রানা দেখল জল গড়াচ্ছে ওর চোখ থেকে । টনটন করে উঠল ওর বুকের ভিতরটা বুড়ো মানুষটাকে কাঁদতে দেখে।
“কি ধরনের কুত্তি হয় আপনাদের এখানে? ফ্রী স্টাইল?’ জিজ্ঞেস করল রানা নরম কণ্ঠে ।
আধ ময়লা রুমাল দিয়ে চোখ মুছে নিয়ে ফিরে এল বিমরাজ। একটু আশার আলো দেখতে পেয়েছে সে, কিন্তু ভরসা করতে পারছে না।
*অনেকটা ফ্রী স্টাইলের মত। কিন্তু তার চাইতেও ফ্রী। হাত পা দাঁত নখ যে যা খুশি ব্যবহার করতে পারে, কোন নিষেধ নেই।
“বক্সিং-ও চলবে?”
“সব।’
‘কি করম ফাইটার হাম্বানটোটার চাম্পিয়ন?”
‘রীরবর্ধনের চেয়ে খারাপ, কিন্তু অন্য অনেকের চেয়ে অনেক ভাল। খুবই পেটা শরীর, জোরও অনেক। অবশ্যি ওর ভাল-মন্দতে কিছুই এসে যায় না। আপনি যদি কয়েক রাউণ্ড টিকে যেতে পারেন তাহলেই চলবে। রঘুনাথ বাজি ধরেছে ওর নামেই। আর যদি দেখেন বেশি মারছে, চিৎ হয়ে পড়ে গেলেই হলো। দশ গুনলেও উঠবেন না, ব্যস।
বাম হাতের তালু দিয়ে কিছুক্ষণ গাল ঘষল রানা চিন্তিত মুখে। তারপর বলল, ‘প্র্যাকটিস নেই বেশ কিছুদিন। তা আপনাদের জিমনেশিয়ামটা কোথায়? এক্সটা হ্যাণ্ড পাওয়া যাবে প্র্যাকটিসের জন্যে? কথা দেবার আগে নিজের অবস্থাটা একটু বুঝে নিতে চাই ।’
বসে ছিল বিঘ্নরাজ, তড়াক করে উঠে দাঁড়াল।
‘চলুন না, স্টেডিয়ামের কাছেই আমাদের জিমনেশিয়াম। বীরবর্ধনের প্র্যাকটিস পার্টনার স্যানসোনিও আছে ওখানেই। এখুনি যাবেন?’
এতক্ষণ কথা হচ্ছে দেখে দুই কাপ চা পাঠিয়ে দিয়েছে থিরু দোতলায়। কিন্তু চা খাওয়ার দেরিটুকুও মিরাজের পক্ষে অসহ্য- তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জিভ পুড়িয়ে ফেলল। রানার রাজি হওয়া না হওয়ার উপরই নির্ভর করছে এখন ওর সবকিছু। বেরিয়ে এল ওরা হোটেল থেকে।
জিমনেশিয়ামটা আর দশটা আখড়ার মতই। আমি জিমনেশিয়ামের কথা মনে

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top