বিপদসীমা – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

বিপদসীমা – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬৩

বিপদসীমা – বইটির এক ঝলকঃ

মধ্যে ঠিকঠাক মুখস্থ করেছে কি না।
রিসিভার তুলে ডায়াল করল রানা। অপরপ্রান্তে একবার মাত্র রিঙ হলো, কেউ যেন বেল বাজার অপেক্ষায় ফোনের সামনে বসে ছিল। ‘হ্যালো?’ সুরেলা নারীকণ্ঠ। তবে কি কারণে কে জানে উত্তেজনায় টান টান।
রানা ভাবল, নার্ভাস? ‘খেজুর গাছ কেটে রস বের করা হয়, কেমন?’ জিজ্ঞেস করল ও, যেন কৌতুক করছে।
‘সেই রস দিয়ে গুড়ও তৈরি করে ওরা,’ অপরপ্রান্ত থেকে প্রায় রুদ্ধশ্বাসে বলল অচেনা নারীকণ্ঠ। তবে ওরা সিউলি, একটা বিশেষ সম্প্রদায়। আমি শিউলি-শেফালি বা শেফালিকা – ফুল।
মনে মনে মেয়েটার প্রশংসা করল রানা, পাসওয়ার্ডের প্রতিটি বর্ণ মুখস্থ করে রেখেছে। তবে নডু বলেই বোধহয় একটু নার্ভাস। নার্ভাস? নাকি এজেন্সির সুদর্শন ডিরেক্টরকে নিয়ে দিবাস্বপ্নে বিভোর? সস্নেহে নিজেকে একটু তিরস্কার করল রানা, আপনমনে হাসছে। তবে ওর এজেন্সির ইয়ানগন শাখা ঐতিহ্যের অফিস কামরায় এই মুহূর্তে কি ঘটছে তা যদি দেখতে পেত, এই হাসি ওকে আর হাসতে হত না।
‘মাসুদ ভাই,’ আবার বলল শিউলি, শিরদাঁড়ার ওপর পিস্তলের মাজল চেপে বসায় গলার আওয়াজের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না। ‘তাড়াতাড়ি চলে আসুন, আমরা সবাই আপনার জন্যে তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছি।’
হাসিটা এখনও রানার মুখে একটু লেগে আছে। ‘ঠিক বুঝলাম না, তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছ মানে?”
অপরপ্রান্তে কোন শব্দ করছে না শিউলি। ওর পাশে সমবয়েসী ও অপরূপ সুন্দরী পাকিস্তানী যে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে, অন্য আরেক সেট রিসিভারে সে-ও রানার কথা শুনছে, শোনার পর শিউলির কানে ঠোঁট ঠেকিয়ে নিচু গলায় শিখিয়ে দিচ্ছে উত্তরে কি বলতে হবে। চমৎকার বাংলা জানে সে। গতকাল ঢাকা থেকে শিউলির কাছে পাঠানো পাসওয়ার্ড এবং রাহাত খানের সমস্ত নির্দেশ আড়ি পাতা যন্ত্রের সাহায্যে সংগ্রহ করেছে ওই মেয়ে- আইএসআই এজেন্ট শাহিদা নাসরিন । শিউলির শিরদাড়ায় পিস্তল ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একজন বার্মীজ গ্যাঙ লীডার, নাসরিন তার চোখে চোখ রেখে একবার একটু মাথা ঝাঁকালেই ট্রিগার টেনে দেবে সে। এটা যে স্রেফ হুমকি নয়, শিউলি তা উপলব্ধি করতে পেরেছে। সেজন্যেই পাসওয়ার্ড উচ্চারণ করার সময় দু’একটা শব্দ এদিক ওদিক করে রানাকে সাবধান করে দেয়ার চিন্তাটা বাতিল করে দেয় সে । এবার রানার প্রশ্নের জবাব দিতে দেরি হচ্ছে, কারণ উত্তরটা তৈরি করতে অনেক বেশি সময় নিচ্ছে নাসরিন। দশ সেকেন্ড পার হলো। এতক্ষণে শিউলির কানে ফিসফিস করল সে, ‘বলো,…’
শিখিয়ে দেয়া উত্তরটা এক দমে আওড়ে গেল শিউলি, ‘বস্ আপনার জন্যে একজন গাইডের ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন, জানেন নিশ্চয়ই, মাসুদ ভাই?’
‘হ্যাঁ, জানি।’
‘তো আমরা আমাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত একটা ট্র্যাভেল এজেন্সিকে ব্যাপারটা জানাই,” বলল শিউলি’। ‘সেখান থেকে কিভাবে যেন খবরটা রটে গেছে-সকালে অফিসে এসে দেখি পাঁচজন গাইড ইন্টারভিউ দেয়ার জন্যে অপেক্ষা করছে। সেজন্যেই বলছিলাম, তাড়াতাড়ি এসে ভিড় কমাতে সাহায্য করুন। সকালে অফিসে এসে পাঁচজন বার্মীজ গুণ্ডা আর নাসরিনকে দেখেছে শিউলি, ছ’জন মিলে রবিন আর মুকুলকে যান্ত্রিক পুতুল বানিয়ে রেখেছিল। ছ’টা পিস্তলের মুখে সে নিজেও এখন ওদের মত একটা দম দেয়া পুতুলে পরিণত হয়েছে। ওদের সব ক’টা অস্ত্র, দুই সেট চাবির গোছা কেড়ে নেয়া হয়েছে। অ্যালার্ম সিস্টেমও অকেজো করা হয়েছে। তবে নিজের প্রাণের ওপর ঝুঁকি নিয়ে কথা বলার সময় কখনও দম আটকে রাখছে শিউলি, কখনও হাঁপাচ্ছে-এজেন্সির ডিরেক্টর মাসুদ ভাই যাতে কিছু একটা সন্দেহ করেন, বোকার মত যাতে নাসরিনের ফাঁদে পা না দেন। কারণ নাসরিন তাকে বলেছে, তাদের এই গোটা আয়োজন শুধু মাসুদ রানাকে খুন করার জন্যেই।
‘ও, আচ্ছা।’ শব্দ করে হাসল রানা। “ঠিক আছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসছি আমি। রবিন আর মুকুলকে থাকতে বলো, কেমন?’
‘জ্বী, মাসুদ ভাই।’
রূম সার্ভিস ইন্টারকমে জানাল, হোটেলর পার্কিং এরিয়ায় ক্রীম কালারের টয়োটা স্টারলেট অপেক্ষা করছে। আগে থেকেই সুটেডবুটেড হয়ে আছে রানা, তবে সশস্ত্র হতে মিনিট পাঁচেক সময় লাগল। ব্রিফকেসের ফলস বটমে ভরে প্রিয় ওয়ালথার পিস্তল ও ছুরিটা আনতে হয়েছে, সেগুলো বের করে জায়গা মত রাখল। হোলস্টার আনেনি, পিস্তলটা গুঁজে রাখল নাভির পাশে বেল্টে। খাপ সহ ছুরিটা স্ট্র্যাপ দিয়ে আটকাল বাম বগলের কাছাকাছি বাহুতে ।
ঠিক দুটোর সময় গাড়ি নিয়ে রওনা হলো রানা। জেনারেল খই খই কুয়া অভিজাত এলাকা, বড় বড় হোটেল-রেস্তোরাঁ আর শপিং মল-এর ছড়াছড়ি। যানবাহনের অবিচ্ছিন্ন মিছিলে অংশ নিয়ে হ্যান্ডিক্রাফটস্-এর দোকান ঐতিহ্যকে পাশ কাটিয়ে এলো ও, অস্বাভাবিক কিছুই চোখে পড়ল না। তবে নিশ্চিত হবার জন্যে আরও সময় নিয়ে তাকিয়ে থাকা দরকার।
বড় একটা দালানের পুরো গ্রাউন্ডফ্লোর ভাড়া নিয়েছে ঐতিহ্য। দালানটার পিছন দিকে এসে নির্জন ফাঁকা রাস্তার এক পাশে গাড়ি থামাল রানা। দ্রুত হেঁটে আবার খই খই কুয়া রোডে ফিরে এলো, রাস্তার ওপার থেকে ঐতিহ্যের দিকে তাকিয়ে আছে। খানিক পর একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকে জানালার সামনে বসল, এখান থেকেও দোকানটা দেখতে পাচ্ছে। রবিন ও মুকুলকে চিনতে পারল ও, পাঁচ-সাতজন বর্মী খদ্দেরকে অ্যান্টিকস্ বা হ্যান্ডিক্রাফটস্ দেখাচ্ছে। দু’জনকেই সুস্থ, শান্ত ও স্বাভাবিক লাগছে। দোকানের সামনের অংশে কোন মেয়ে নেই। শিউলির অবশ্য অফিস কামরাতেই থাকার কথা, ভাবল রানা। তবে মনে একটা প্রশ্ন জাগল-গাইড পাঁচজন কোথায়?
ক’জন খদ্দের গুনল রানা। ছ’জন। এদের মধ্যে পাঁচজন যদি গাইড হয়, তাদেরকেও দোকানের জিনিস-পত্র দেখাতে এত ব্যস্ত হবে কেন রবিন আর মুকুল?
ওয়েটার কফি দিয়ে গেল। রাস্তার ওপারে চোখ, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে রানা। পাঁচ মিনিট পার হলো। ছ’জন থেকে কমে ঐতিহ্যে খদ্দের এখন দু’জন, বাকি চারজন কেনাকাটা শেষ করে চলে গেছে। পরবর্তী তিন মিনিটে দোকানটা খদ্দের শূন্য হয়ে গেল। রানা চিন্তিত। গাইডরা তাহলে কোথায়? শিউলি নিশ্চয়ই তাদেরকে অফিস কামরায় বসায়নি!
এই সময় ভেতর দিক থেকে দোকানে একটা মেয়েকে বেরিয়ে আসতে দেখল রানা। কত দূর থেকে দেখছে, তারপরও যেন মাথাটা ঘুরে উঠতে চাইল, এতই সুন্দর সে। গ্রীক দেবীর সঙ্গে খুব মেলে দৈহিক গড়ন আর মুখের আদল। লাল, বেগুনি ও সবুজ রঙের বুটিদার কামিজের সঙ্গে কলাপাতা রঙের সিল্ক সালোয়ার আর ওড়না দারুণ মানিয়েছে। সোহেল তাহলে বাড়িয়ে বলেনি, শিউলি সামাদ লাখে একটা মেয়েই বটে, ভাবল রানা। এই যে ভুলটা করছে ও, সেজন্যে ওকে দোষ দেয়া চলে না। ওর তো আর জানার কথা নয় যে শিউলিকে নয়, ও নাসরিনকে দেখে হাঁ হয়ে গেছে। আসলে শাহিদা নাসরিনও লাখে একটা সুন্দরী।
রানা লক্ষ করল, রবিন বা মুকুলের দিকে একবারও তাকাচ্ছে না শিউলি। সে তাকিয়ে আছে দোকানের কাঁচ লাগানো উইন্ডো বা জানালার দিকে। ঠিক সরাসরি জানালার দিকেও নয়, তার দৃষ্টি জানালার নিচে স্থির হয়ে আছে। দৃষ্টি স্থির হলেও, ঠোঁট জোড়া নড়ছে। রানা ভাবল, কি ব্যাপার, কার সঙ্গে কথা বলছে শিউলি?
নিজেকে দোকান ঘরটার ভেতর নিয়ে এলো রানা-শোকেস, র্যাক, চেয়ার, সোফা যেখানে যা আছে সব খুঁটিয়ে দেখল-সবই স্মৃতির সাহায্যে কল্পনায়। তবে তাতেই রহস্যটা পরিষ্কার হয়ে গেল। জানালার নিচে রয়েছে নিচু ও লম্বা এক প্রস্থ সোফা, রাস্তার দিকে পিছন ফিরে তাতে যদি একটু বেঁটে পাঁচজন লোক বসে থাকে, বাইরে থেকে তাদেরকে দেখতে পাবার কথা নয় ।
বিল মিটিয়ে দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এলো রানা, রেস্তোরাঁর পাশের সিঁড়ি বেয়ে ওই একই দালানের চারতলার ছাদে উঠে এসে পকেট থেকে বিনকিউলারটা বের করল। তথাকথিত পাঁচজন গাইডের হিসাব পেতে হবে ওকে।
কিন্তু হিসাব মিলল না। ঐতিহ্যের ভেতর এখন সবখানে রানার দৃষ্টি পড়ছে। কাঁচ লাগানো জানালার নিচে ঠিকই আছে লম্বা একটা সোফা, তাতে রাস্তার দিকে পিছন ফিরে একটু খাটো তিনজন বার্মীজ বসে আছে। মাত্র তিনজন। তাদের সঙ্গে কথা বলে রানার শিউলি এখন আবার ভেতর দিকে ফিরে যাচ্ছে। তবে রানার মনে একটা প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে সে। রবিন বা মুকুলের সঙ্গে কোন কথাই বলল না মেয়েটা কেন? শুধু যে কথা বলেনি তা নয়, ওদের দু’জনের দিকে একবার ফিরেও তাকায়নি। এ হয়তো কিছুই নয়, তবে মনটা খুঁত-খুঁত করছে।
আবার রাস্তায় নেমে এলো রানা । অনেক হয়েছে, এবার ওকে ঐতিহ্যে যেতে হয়। তবে সামনে দিয়ে নয়, পিছন দিক দিয়ে ঢুকবে। ওর মন বলছে, তা না হলে পাঁচজন গাইডের হিসাব মেলানো যাবে না ।
ফাঁকা, নির্জন রাস্তার যেখানে রেখে গিয়েছিল সেখানেই টয়োটাকে পেল রানা, উপরি লাভ হলো এই যে পাঁচ গাইডের হিসাব

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top