অটল সিংহাসন – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

অটল সিংহাসন – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৯৫

অটল সিংহাসন – বইটির এক ঝলকঃ

ওলুনার সঙ্গে একজন পুরুষ। সুইমিং পুলে একটা ছাতার নিচে পিছন ফিরে বসেছে দু’জনে। আতাসী রানার উদ্দেশে বলে উঠল, ‘ওই পুতুলটা বুঝি তোমার, ওস্তাদ? ও লোকটা ভাগ বসাবার তালে আছে মনে হচ্ছে—ভাগাও তাড়াতাড়ি।’
ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে রানাকে দেখতে পেয়ে হাত নেড়ে ডেকে হাসল গালে টোল ফেলে ওলুনা। ওর সঙ্গী লোকটা হঠাৎ লাফ দিয়ে দু’পায়ে দাঁড়াল। রানার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঘোষণা করল, ‘মামুথ ভুন,’ নাম বলে কৈফিয়ৎ দিল মুখ কাঁচুমাচু করে, “কথা বলার লোক পাচ্ছিলাম না কিনা, তাই আপনার সঙ্গিনীর
সাথে:
পরিচয় দেবার কাজ ওলুনা আগেই সেরে রেখেছে বুঝতে পারল রানা । মামুখ ভুন, বেলজিয়াম, দরাজ গলায় বলে উঠল, আপনারা সবাই আজকের লাঞ্চে আমার গেস্ট। ঠিক এখানে, এই সুইমিং পুলে ব্যবস্থা করছি আমি। একটু সময় দিন আমাকে।’ মামুথ ভুন লাঞ্চের ব্যবস্থা করতে চলে গেল ।
রানা কাপড় বদলাতে গেল নিজের রূমে। আতাসী ইতোমধ্যে পোষ মানিয়ে ফেলেছে ওলুনাকে
টেবিল সাজাবার পর ফিরে এল রানা। হিলটনের ব্যবস্থা দারুণ। চাইনীজ, পাকিস্তানী সব ডিশই পাওয়া যায়। খেতে খেতে অভিযোগ করল কেবল একজন। মামুথ ভুন বলল, ‘এসবে অভ্যাস নেই আমার, সত্যি কথা বলছি । Antwerp থেকে এসেছি আমি। সেখানের রান্নার তুলনা হয় না। শুধু কি খাবার-দাবার অপছন্দ? এখানকার চেম্বারের সদস্যদের ব্যবহারও পছন্দ হচ্ছে না আমার।’ বিরক্ত দেখাল বেলজিয়ানকে।
“চেম্বার?’ রানা বলল ।
‘হ্যাঁ, আমি মাইট্রি বোকের কাজ করি। মাইটি বোক। তিন পুরুষ ধরে Antwerp-এ ন্যোটারী। আমি তার সিনিয়র ক্লার্ক। দশ বছর ধরে কাজ করছি। প্রসঙ্গক্রমে বলছি, আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন আমার কাঁধে।
রানা বুঝতে পারল মামুথ ভুন বলিয়ে লোক। ‘এখানে?’
“হ্যাঁ। কিন্তু সব কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে—দুর্ভাগ্য আমার। Antwerp- 4 একজন বিজনেসম্যানকে মাইটি বোক মোটা টাকা লোন দিয়েছে। গমের একটা লার্জ কারগো ট্র্যানজ্যাকশন করার জন্যে ফাইনান্স করেছেন তিনি। বিজনেসম্যানটি পারফেক্টলি সাউন্ড ম্যান। গম কেনার কথা আর্জেন্টিনায়, ভায়া Antwer হয়ে জাহাজে আসার কথা ইরানে রিয়েলের জন্যে । সবকিছু নির্ধারিত ছিল, মাইটি বোক লোন দিয়েছেন নির্দ্বিধায়। মামুখ ভুনের চোখ মুখ ভীষণ করুণ দেখাচ্ছে, এমন কি ইরানিয়ান কমার্শিয়াল অ্যাটাচী তার পক্ষের ডিলও সম্পন্ন করেছে।’
‘তারপর?’ আতাসী কৌতূহল বোধ করছিল বেলজিয়ান বেপারীর দুর্ভাগ্যে। দুর্ভাগ্যের ছবি এখনও কারও সামনে পরিষ্কার হয়নি যদিও। মামুথ ভুন, বলল, তারপর? তারপর গম ট্রেনে তোলা হয়েছে। খুররমশিয়ার ফ্রন্টিয়ার ক্রস করেছে ট্রেন। এ পর্যন্ত সব ঠিকমত ঘটছিল। এরপর আমাদের ক্লায়েন্ট এখানকার তার প্রতিনিধির কাছ থেকে একটা টেলিগ্রাম পায়। তাতে জানানো হয়েছে যে শেষ মুহূর্তে ইরানিয়ান অথোরিটি ইমপোর্ট লাইসেন্স দিতে অস্বীকার করেছে। এবং কি কারণে জানা যায়নি, ক্রেতাদের কাছে নাকি টাকা নেই।’
‘কিনছিল কে?’
“বিভিন্ন ইরানিয়ান অফিশিয়াল অর্গানাইজেশন।
‘গমের কি হাল হলো?’
চেঁচিয়ে উঠে উত্তর দিল মামুথ ভুন, ‘গম? গম পচছে! আটদিন ধরে খুররমশিয়ার ডকে প্রচণ্ড গরমে পড়ে আছে। গরমে ফাটতে শুরু করেছে কিনা কে জানে। সবরকম উপায় করেছি আমি। কাজ হয়নি। এক অফিসার সই করে অন্য আর একজনের কাছে যেতে বলে কাগজপত্র নিয়ে, সে সই করে পাঠায় অন্য একজনের কাছে। অথচ দেখা নেই হয়তো তার। একজন তো মোটা টাকা ঘুষই চেয়ে বসল।’
‘দিয়েছেন?’ ওলুনা অংশগ্রহণ করল। মামুখ ভুন দাঁত মুখ বিকৃত করে বলল, ‘আমি দেব ঘুষ! আমার এমব্যাসীতে রিপোর্ট করেছি আমি—হুঁ! উত্তেজিত হয়ে খাওয়া বন্ধ করে ফেলেছে মামুথ ভুন। হাত ধুয়ে ফেলল সে। আতাসী জিজ্ঞেস করল, ‘লাইসেন্স আছে আপনার কাছে?’
‘না, মানে, অ্যাজ এ ম্যাটার অভ ফ্যাক্ট…।’
নিঃশব্দে হাসল আতাসী। অনেকক্ষণ পর রানা প্রশ্ন করল, ‘এ ব্যাপারে আপনার কাজটি কি?
“যে বিজনেসম্যান টাকা ধার নিয়েছে সে এখন সব অধিকার সারেন্ডার করছে মাইট্রি বোকের কাছে। গম এখন আমাদের। সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছুনো আমার কাজ এখানে। ক্রেতাদের ঠিকানা রয়েছে আমার কাছে। কিন্তু কি ভয়ঙ্কর সব ঝামেলা যে পোহাতে হচ্ছে! বাজারের একজন ব্যবসায়ীর কথা বলি। আমার দেশ হলে ব্যাটার দাম দিতাম না আধপয়সাও। লোকটার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও নেই, লিখতে পড়তেও জানে না ভাল করে। তার সম্পত্তির নমুনা দেখতে চাইলে পাঁচ হাজার টাকার একটা ময়লা বান্ডিল বের করে দেখাল আমাকে-বাঁদর হয়ে চাঁদ ধরার শখ হারামজাদার। অবশ্য শেষ সুযোগটা দেখব আমি। একজন লোক আছে, যে কিনা ন্যায্য দাম দেবে বলে জানিয়েছে আমাকে। আগামীকাল আমি যাচ্ছি তার সাথে দেখা করতে।’ কিন্তু উৎসাহ নষ্ট হয়ে গেছে মামুখ ভুনের বোঝা গেল। অনেক লম্বা বক্তৃতা দিয়ে বেচারা প্রায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ভদকায় মনোনিবেশ করল ও বিরক্ত করার জন্যে সকলের কাছে মাফ চেয়ে নিয়ে।
রানার মন ওলুনার দিকে ছিল এতক্ষণ। আতাসী গ্লাস সরিয়ে রেখে মুখ মুছে উঠে দাঁড়াল। রানার সাথে দু’একটা কথা বলে বিদায় নিল ও। রানা আর ওলুনা ওঠবার আগেই মামুখ ভুন নিজের রূমে চলে গেল।
ওলুনার রূমে গেল রানা । ফাইভ-স্টার হোটেল ‘কোলবে’। সামার প্যালেসের বিপরীত দিকে। কোলবে তেহরানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নাইটস্পট। ওলুনাকে নিয়ে ডিনার খেতে রওনা হলো রানা ওখানে।
হোটেল লবি পেরোবার সময় চিন্তিত দেখাল রানাকে। টাকা চুরি যাবার খবর ওয়াশিংটনে পাঠানো দরকার, কিন্তু এমব্যাসীর মাধ্যমে নয়। তেহরানের টেলিফোনকে বিশ্বাস করতেও রাজি নয় রানা। ওলুনা যাচ্ছে আগামীকাল সকালে ব্যাঙ্কক। কিন্তু…
হঠাৎ চিন্তায় বাধা পড়ল রানার। ওলুনা তার এক এয়ারহোস্টেস বান্ধবীকে দেখতে পেয়ে চেঁচিয়ে উঠেছে, ‘মার্গারেট!”
মেয়েদের কথা শেষ হবার নয়। রানার সাথে মার্গারেটের পরিচয় করিয়ে দিল ওলুনা। হংকং, ম্যানিলা, ব্যাঙ্কক, তারপর ক্যালকাটা করাচী হয়ে তেহরানে এসেছে মার্গারেট SAS coronado-তে। ইউরোপের উদ্দেশে রাত্রে উড়বে ওর প্লেন। রোম জুরিখ ছুঁয়ে আগামীকাল দশটায় কোপেনহেগেনে ল্যান্ড করবে। হঠাৎ প্রশ্ন করল রানা মার্গারেটকে, ‘অত্যন্ত জরুরী একটা মেসেজ নিয়ে যেতে পারবে তুমি আমার হয়ে?’ রানা প্রস্তাব করে তাকিয়ে রইল। ইতস্তত করতে শুরু করল মার্গারেট। কিন্তু ওলুনা ভরসা দিল ওকে। রাজি হয়ে গেল মার্গারেট। কোপেনহেগেন নিউ ইয়র্ক শিডিউল চেক করে দেখা গেল প্রতি রবিবারে একটি মাত্র ফ্লাইট আছে SK 915, টেক অফ করবে ফিফটিন ফোরটি ফাইভে, নিউ ইয়র্কে পৌছুবে নাইনটিন ফিফটিনে। রানা আগেই বলেছে মার্গারেটকে যে একজন এয়ারহোস্টেসকে দিতে হবে মেসেজটা ।
মার্গারেটের ঠিকানা লিখে নিয়ে রানা জানাল সে যদি যোগাযোগ করে উঠতে না পারে তাহলে ওর লোক দেখা করবে কোপেনহেগেনে তার সাথে। মার্গারেটকে ছোট ছোট বাক্যে লেখা একটা মেসেজ দিল রানা। মার্গারেট বিদায় নিল ওলুনার কাছ থেকে ।
কোলরেতে সন্ধেটা কাটাল রানা ওলুনাকে নিয়ে। ওলুনা সকালে রওনা হবে বলে হিলটনে ফিরে এল ওরা তাড়াতাড়ি। শুতে যাবার আগে রানা কোপেনহেগেনে এমব্যাসীর থার্ড সেক্রেটারিকে তার পাঠাল একটা ‘আর্জেন্টলি কন্টাক্ট এয়ারহোস্টেস মার্গারেট জনসন অ্যারাইভিং ফ্লাইট ভাইকিং টোকিও— কোপেনহেগেন 10.00 সানডে। মেয়েটির ঠিকানা এবং নাম্বারও উল্লেখ করতে ভুলল না রানা।
রাত্রে আধো ঘুমের মধ্যে প্লেনের শব্দ শুনল রানা। ঘড়ি দেখল ও। দুটো দশ। নির্ধারিত সময়ে SAS coronado আর ওর মেসেজ উড়ে চলেছে কোপেনহেগেনের উদ্দেশে।
জেনারেল ভ্যান জুডু মাথার খুলি চাঁছা বিরাট এক দানব বিশেষ। স্বচ্ছ কাঁচের মত নীল চোখ দুটো। ধীরে ধীরে চুমুক দিচ্ছে ও গ্লাসে। লম্বা সিগারেট আঙুলে ধরা। কিন্তু রানাকে স্বাগতম জানাতে কুণ্ঠা দেখায়নি এতটুকু। লম্বা একটা ক্রাইসলার হোটেল থেকে তুলে এনেছে রানাকে। গভীর আর্মচেয়ারে ডুবে আছে রানা। জেনারেল জুড ঝুঁকে পড়েছে ওর দিকে বেশ খানিকটা। রানা যতদূর সম্ভব টাকা চুরির কথা বলে বিরতি না নিয়েই প্রশ্ন করল, ‘আমার সাথে মেহেরাবাদে দেখা করেননি কেন? আমরা দু’জনা থাকলে আমাদের টেন মিলিয়ন রক্ষা পেত।’
জেনারেলের মুখাবয়ব কঠিন দেখাল, ‘কোডেড কেবল সিধে আমার ডেস্কে পৌঁছেছিল। দক্ষিণ দিকে ক’জন ইরানিয়ান এজেন্টের সাথে আলাপ করতে বেরিয়েছিলাম আমি। সোভিয়েট বর্ডারে ব্যস্ততার কারণ বের করার জন্যে।
রানা গ্রাহ্য করল না উত্তরটা, হয়তো। কিন্তু কেবল পাবার পর বেরুতে, পারতেন আপনি।’
‘ও ব্যাপারে ভাববেন না,’ জেনারেলের কন্ঠস্বর কঠিন শোনাল, ‘সব দায়িত্ব বহন করব আমি। আজ রাতেই রিপোর্ট তৈরি হয়ে যাবে আমার।
‘ওরা জানল কিভাবে বলতে পারেন?’
‘দুদিন ধরে কেল্টা আমার ডেস্কে পড়ে ছিল। অনুমান করে নিন। যাকগে, কাজের কথায় আসি। আমার ওল্ড ফ্রেন্ড জেনারেল ইয়াজদী হাতামির সাথে কথা বলে দেখি। ও হয়তো সাহায্য করতে পারবে।’
রানা এই সময়ের জন্যেই অপেক্ষা করছিল, ‘জেনারেল ইয়াজদী? ভেরি ইন্টারেস্টিং ম্যান। ওর সাথে আমার দেখা করবার ব্যবস্থা করতে পারেন কি আপনি?’
ঘন ঘন চোখের পাপড়ি কাঁপল ভ্যান জুডের, ‘হোয়াই, শিশুর। আমি এখুনি যাচ্ছি, চলুন আপনি সঙ্গে।
গাড়িতে চড়ে ভ্যান জুড বলল রানাকে, ‘আপনার মিশন শেষ হয়ে গেছে এখন, আরও ক’দিন ইরানে কাটিয়ে যান না কেন? আমি একটা গাড়ি এবং শোফার দিতে পারি, কাম্পিয়ান কিংবা পারশিয়ান উপসাগর দেখতে ইচ্ছা করেন যদি।
*ওয়েল, থ্যাঙ্কু । আমি আগে তেহরান দেখতে চাই, জেনারেল।
. “তেহরান আবার দেখবার মত নাকি! ইস্পাহান বা সিরাজ মিস করা আপনার উচিত হবে না।’ কথাটা বলে রহস্যময়ভাবে হাসল জেনারেল। ব্রেক কষে দাড় করাল গাড়ি নতুন একটা সরকারী ভবনের সামনে। প্রবেশ পথে সশস্ত্র সেন্ট্রি দেখতে পেল রানা।
জেনারেল ইয়াজদীর অফিস ফার্স্ট ফ্লোরে। করিডরে চারজন সাব-মেশিনগান নিয়ে টহল দিচ্ছে। নক না করে ভিতরে ঢুকল ভ্যান জুড। জেনারেল ইয়াজদীকে স্পটলেস হোয়াইট ইউনিফর্ম পরে ডেস্কের সামনে বসে থাকতে দেখল রানা। ঘন কালো ব্যাক ব্রাশ করা চুল। নিখুঁত কামানো গাল। চোখ জোড়া প্রায় রক্তজবা ফুলের মত লাল। বাঘের মত গাল হাঁ করে হাসল সে রানার দিকে তাকিয়ে। ভ্যান জুড ভূমিকা করল। ব্রীফকেসের গল্প বলে গেল রানা ধীরে ধীরে। ইয়াজদী মাথা
কাত করল।
‘এ সম্পর্কে আমি শুনেছি। হিজ হাইনেস মিস্টার মাসুদ রানা ইতিমধ্যেই আমাদের লোককে সব কথা ব্যক্ত করেছেন। ভদন্তের অগ্রগতি ঘটলে অবশ্যই জানানো হবে।’ জেনারেল ইয়াজদীকে মোটেই উদ্বিগ্ন মনে হলো না রানার। কিন্তু তার বন্ধু স্বয়ং ভ্যান জুড রানাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে বলেই বোধহয় অস্বস্তি দেখা দিয়েছে তার মধ্যে। রানা লক্ষ করল হাতের কাছে একটা ড্রয়ার খোলা। সদাসতর্ক সাবধানী লোক নিঃসন্দেহে।
কথা বলল রানা, “জেনারেল, আমারও বিশ্বাস যে আপনারা সম্ভাব্য সব কিছুই করবেন এ ব্যাপারে। কিন্তু আপনি আরও একটা সামান্য কাজ করতে পারেন কি? আমার জন্যে? টাকার ব্যাপারে নয়। ক’বছর আগে একজন ইরানিয়ান আর্মি অফিসারকে চিনতাম আমি। তখন সে পাকিস্তানে থেকে পড়াশোনা করত । ফৈয়াজ বকশী। বলতে পারেন ও তেহরানে আছে কিনা?
‘সার্টেনলি।’ ইন্টারকমের বোতাম টিপল জেনারেল ইয়াজদী। লেফটেন্যান্ট ফৈয়াজ বকশী সম্পর্কে প্রশ্ন করল ও! তারপর ইন্টারকম নামিয়ে রেখে বলল, ‘ক’মিনিট অপেক্ষা করুন। ওরা ডাকবে আমাকে।’
অপরিহার্য চা এল। টগবগ করে ফুটছে। অধৈর্য ভাবে উত্তর পাবার জন্যে অপেক্ষা করে রইল রানা। এটাই ওর শেষ সুযোগ ইয়াজদীকে কাঁপিয়ে দেবার। খানিকপরই প্রাণ ফিরে পেল ইন্টারকম। জেনারেল কথা শুনতে শুনতে কাগজে লিখল কিছু। ইন্টারকম নামিয়ে লেখা কাগজটা বাড়িয়ে ধরল রানার দিকে। বলল, ‘লেফটেন্যান্ট ফৈয়াজ বকশীর ঠিকানা।’
রানা কাগজটা নিয়ে ইয়াজদীর দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলল, “লেফটেন্যান্টের সাথে দেখা করবার সময় আপনি আমার সঙ্গে থাকলে খুশি হব, জেনারেল।
‘আপনার সঙ্গে থাকব?’ ইয়াজদীর বিস্ময়বোধ নির্ভেজাল। অনুসন্ধিৎসু চোখে দেখছে সে রানাকে ।
রানা বলল, ‘আ ন,নিরাপদ বোধ করব। ইউ সি আই অ্যাম অ্যাফ্রেড হোয়াট আই টোল্ড ইউ ওয়াজ নট স্ট্রিক্টলি অ্যাকুরেট। সেই রাতে আমাকে যারা আক্রমণ করেছিল তাদের নেতার নাম লেফটেন্যান্ট ফৈয়াজ বকশী। আপনার তদন্তে সে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে বলে মনে করি…’
চার
ইয়াজদী কাঁপল না। নরম গলা আরও নরম করে বলল, ‘বড় মজার কথা যা হোক, আগামীকাল এই লেফটেন্যান্টকে ধরে আনা হবে। আপনি অবশ্যই আসবেন। এবং আমরা সত্য আবিষ্কার করব তখন।
এই উত্তরই আশা করেছিল রানা। আগামীকালের মধ্যে কত কিছুই ঘটতে পারে। এটা হুমকি ছাড়া কিছু নয় বুঝতে পারল রানা। ইয়াজদী যদি একটা ক্যু করার প্ল্যান করে থাকে তাহলে রানাকে সরিয়ে ফেলতে দেরি করবে না। কিন্তু ঠিকানাটা কেন অমন নির্দ্বিধায় দিল ও? দারুণ আশ্চর্য ব্যাপার…
ইয়াজদী কথা বলতে শুরু করেছে আবার, ইওর হাইনেস, আপনি কি আজ সন্ধ্যায় আমার অতিথি হয়ে আমাকে সম্মানিত করবেন? আমার কন্যার বিশতম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে? ইয়েস? আমার গাড়ি আটটার সময় আপনাকে তুলে আনবে।’

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top