অন্ধকারে চিতা – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

অন্ধকারে চিতা – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৫৭৬

অন্ধকারে চিতা – বইটির এক ঝলকঃ

উমাঙ্গোর ভগ্নীপতি হোক আর যাই হোক, সুবিধে করতে পারেনি সে। জেনারেল মাজুলেট যেখানে জড়িত, সুবিধে করতে পারার কথাও নয়। মাজুলেট মন্ত্রীসভায় একমাত্র ম্যাট। বেল সদস্য হলেও, তার নির্দেশ অমান্য করার সাহস বা স্পর্ধা কারো নেই। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অবিশ্বাস্য বীরত্ব দেখিয়ে এই লোক খ্যাতির এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যায়, দেশের মানুষ তাকে পুজো করতে শুরু করে
এই ক’দিন বার কয়েক ফোন করেছে মন্টিপিলার, ডিপ্লোম্যাটিক পার্টিতে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে রানাকে। প্রতিবার এড়িয়ে গেছে রানা। চারদিনের দিন, হঠাৎ করে জেনারেল উমাঙ্গোর ফোন এলো। ‘রানা, আজ বিকেলে আমার সাথে দেখা করতে পারো ? তিনটের সময় ? ড্রাইভার তোমাকে নিয়ে আসবে।’
বাড়িটা শহর থেকে পনেরো মাইল দূরে একটা পাহাড়ের ওপর, নিচের শাস্ত লেকে গোটা বাড়ির প্রতিবিশ্ব স্থির হয়ে আছে। থার্ড ব্রিগেডের পুরোদস্তুর ব্যাটল ড্রেস পরা একজন বডিগার্ড গেটে দাড় করিয়ে রানা আর ড্রাইভারকে তন্ন তন্ন করে সার্চ করলো। পথ দেখিয়ে বাড়ির সামনের অংশে নিয়ে আসা হলো ওকে। ধাপ বেয়ে উঠছে ও, দেখলো সিঁড়ির মাথায় ওর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে জেনারেল উমাঙ্গে।। তার মুখে সাফল্যের হাসি, রানাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে সামনের একটা কামরায় ঢুকলো সে দামী সোফায় অপরিচিত কয়েকজন লোককে বসে থাকতে দেখলো রানা ।
‘রানা, এসো, তোমার সাথে ভদ্রলোকদের পরিচয় করিয়ে দিই,’ বললে। জেনারেল। ‘মিঃ নেবুবি, ল্যান্ড ব্যাংক, “তাভ জিম্বাবুয়ের গভর্ণর। ইনি মি: হিকলি, গভর্ণরের অ্যাসিস্ট্যান্ট। আর ইনি আমার অ্যাটর্নি, মিঃ রামগোপাল। জেন্টেলমেন ইন মিঃ মাসুদ রানা, প্রখ্যাত সাংবাদিক
সবার সাথে করমর্দন করলো রানা। ‘ড্রিঙ্ক, রানা ?’ জানতে চাইলো জেনারেল। ‘আমরা সবাই স্কচ হুইস্কি খাচ্ছি।’
নিঃশব্দে মাথা নাড়লো রানা ।
‘তাহলে কফি, কেমন ? জেনারেলের ইঙ্গিতে একজন উর্দি পরা বেয়ারা কামরা থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রায় সাথে সাথেই কফি নিয়ে এলো। রানার পাশের সোফায় বসলো জেনারেল। একটা চুরুট ধরালো সে আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে আছে চেহারা। ‘প্রথম খবর, তোমার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। দ্বিতীয় খবর, বিশ্ব ব্যাংক তোমাকে পাঁচ মিলিয়ন ডলার ধার দেয়ার জন্যে যতো বড় অংকের ব্যাংক গ্যারান্টি দাবি করুক, ল্যান্ড ব্যাংক অভ জিম্বাবুই তা দিতে রাজি হয়েছে।
হাঁ করে তাকিয়ে থাকলো রানা ।
‘তোমার সাথে বিশ্ব ব্যাংকের সম্পর্ক গোপন কোনো ব্যাপার নয়, রানা,’ আবার বললো জেনারেল। ‘জাসটিন চ্যাপেলকে আমরা ভালো করে চিনি।’ হাসলো সে। ‘অবশ্যই, ব্যাংক গ্যারান্টি পাবার জন্যে কিছু শর্ত থাকবে, কিন্তু সেগুলো ফরমালিটিজ মাত্র।’ অ্যাটি রামগোপালের দিকে ফিরলো সে। ‘গোপাল, কাগজ-পত্র সব তৈরি তো? মিঃ রানাকে একটা কপি দাও, তারপর সব আমাদের পড়ে শোনাও একবার ‘
রামগোপাল তার বাই ফোকাল চশমা ভালো করে নাকে বসিয়ে নিয়ে পড়তে শুরু করলো, ‘এটা একটা ল্যাও পারচেজ অ্যাপ্রুভ্যাল। অথরিটি ফর মাসুদ রানা, এ বাংলাদেশী সাবজেক্ট…।’
একটা শেষ করে আরেকটা ডকুমেন্ট পড়ছে রামগোপাল, সবই গৎ বাঁধা, সেদিকে তেমন খেয়াল নেই রানার। রুবেনসনের স্বপ্ন সফল হতে যাচ্ছে দেখে ভারি খুশি সে। মনে মনে বললো, টস – মাজুলেট, তুমি হেরে গেছো !
এতো উত্তেজনার মধ্যেও হঠাৎ একটা কথা কানে আসতে শিল্প- দাড়া খাড়া হয়ে গেল ওর। ‘তারমানে ? এনিমি অভ দি স্টেট অ্যাণ্ড দি পিপল অভ জিম্বাবুই, এ-সব কি ??
*আমাদের সমস্ত ডকুমেন্টে থাকে এটা,’ রামগোপাল আশ্বস্ত করলো ওকে। ‘একটা গৎ আর কি। ল্যাণ্ড ব্যাংক একটা সরকারী প্রতিষ্ঠান, খাতক যদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো রকম ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে, কিংবা তাকে যদি রাষ্ট্রের শত্রু বলে ঘোষণা করা হয়, ল্যান্ড ব্যাংক তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।’
‘সেটা কি লিগ্যাল ?’ সন্দিহান দেখালো রানাকে। এ-ব্যাপারেও অ্যাটর্নি ওকে আশ্বস্ত করলো। এবার রানা জানতে চাইলো, ‘কিন্তু বিশ্ব ব্যাংক কি এই শর্তের ওপর লোন দিতে রাজি হবে ?’
‘ওদের সাথে আরো লোকের আরো অনেক চুক্তি হয়েছে, সব- গুলোতে এই শর্ত ছিলো, ব্যাংকের গভর্ণর বললেন। ‘ওরাও জানে • এটা একটা ফরমালিটি মাত্র।’
‘আহা, রানা,’ হাসতে হাসতে বললো জেনারেল উমাঙ্গো, ‘তুমি তো আর সরকার উৎখাতের জন্যে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটাতে যাচ্ছো না !’
জোর করে একটু হেসে রানা বললো, ‘ঠিক আছে। বিশ্ব ব্যাংক যদি আপত্তি না তোলে, আমারও কিছু বলার নেই।
পড়া শেষ হতে এক ঘণ্টার মতো লাগলো। একে একে সবগুলো কপিতে সই করলেন গভর্ণর নেবুবি, তাকে সই করতে দেখার সাক্ষী হিসেবে জেনারেল উষাঙ্গে। আর তার অ্যাটর্ণিও সই করলো। এর-
পর রানার, আর রানাকে যারা সই করতে দেখলো তাদের পালা । সবশেষে প্রত্যেকে আবার শপথনামায় সই করলো ।
‘শুভ কাজ সম্পন্ন হলো— সাইনড়, সীড, অ্যাণ্ড ডেলিভারড, ‘ বললো রামগোপাল ।
‘তোমাকে বলেছি, রানা ?’ মিটি মিটি হাসি দেখা গেল জেনারেল উমাঙ্গোর মুখে। ‘গভর্ণর নেবুবি চ্যাপেলের সাথে কাল নিউইয়র্ক সময় দশটায় কথা বলেছেন। ব্যাংক গ্যারান্টি তাঁর হাতে পৌঁছুবার সাথে সাথে তোমার নামে টাকা বরাদ্দ করা হবে।
আরেক দফা হুইস্কি খাওয়ার পর বিদায় নিলেন গভর্ণর নেবুবি । সহকারীকে নিয়ে তিনি বেরিয়ে যাবার পর জেনারেল উমাঙ্গো রানাকে বললো, ‘এবার আমার ফি নিয়ে আলোচনা হবে। রাম- গোপাল কাগজ-পত্র সব তৈরি করে রেখেছে।
কাগজগুলো পড়তে পড়তে রানার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল । ‘পঁচিশ পার্সেন্ট!’ অবিশ্বাসের সাথে বললো ও। ‘সাউল র‍্যাঙ্কিং কোম্পানীর পঁচিশ পার্সেন্ট শেয়ার !
‘নামটা নিশ্চই তুমি বদলাতে চাইবে, রানা ?’ রানার কথা যেন শুনতেই পায়নি জেনারেল। হঠাৎ ভুরু কোঁচকালো সে। ‘আরেকটা কথা, আমার নমিনি হিসেবে রামগোপাল শেয়ারগুলো হোল্ড করবে। আমি একজন সরকারী কর্মচারী, বোঝোই তো, আমার নামে প্রকাশ্যে সম্পত্তি থাকলে পরে নানান কথা উঠতে পারে।
চুক্তিপত্রটা আবার পড়ার ভান করলো রানা, কিভাবে আপি জানাবে ভাবছে। ওরা দু’জন নিঃশব্দে লক্ষ্য করছে ওকে। পঁচিশ পার্সেন্ট মানে স্রেফ ডাকাতি, কিন্তু এ ছাড়া রানার উপায়ই বা কি ? ধীরে ধীরে কলমের ক্যাপ খুলে রানার দিকে বাড়িয়ে দিলো রাম- গোপাল। ‘জেনারেল উষাঙ্গে। স্লিপিং পার্টনার হিসেবে থাকছেন, ‘ শাস্ত সুরে বললো সে। ‘একজন জেনারেলকে পার্টনার হিসেবে পেলে আপনার এই ব্যবসা দিনে দিনে ফেঁপে উঠবে, মিঃ রানা।’
‘কপি এই একটাই,’ হাসতে হাসতে বললো জেনারেল উমাঙ্গো। ‘আমার কাছে থাকবে। মাথা ঝাঁকালো রানা ।
তারমানে উমাঙ্গোর কাছেই শুধু প্রমাণ থাকবে। কিছু এসে যায় না। এই র‍্যাঞ্চিং কোম্পানী মি: রুবেনসনের দরকার। তিনি জানিয়ে গেছেন, কাউকে অর্ধেক শেয়ার দিতে হলেও তাঁর আপত্তি নেই। রামগোপালের হাত থেকে কলমটা নিয়ে সই করে দিলো রানা। স্বস্তির নিঃশ্বাস চাপলো জেনারেল ।
‘ডিব্ৰু, কংগ্রাচুলেশন্স ! এই মাত্র পঁচিশ হাজার ডলার কমিশন পেয়েছো তুমি!’
কালিচরণ ডিব্রু হাঁ করে রানার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো । “তারমানে কনসরটিয়ামের অফার আপনি অ্যাকসেপ্ট করছেন!’
‘অবশ্যই।’ ডিব্রুর বিয়ার খাওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় বেরিয়ে এলো রানা। একটা ট্যাক্সি নিলো, হোটেলে ফিরবে। ফিরবে সোহানার হোটেলের সামনে দিয়ে ।
জানালা খোলা, ভেতরে আলো জ্বলছে। ড্রাইভারের কাধে টোকার বদলে রীতিমতো খাবড়া মেরে বসলো রাগী। ঘ্যাচ করে ট্যাক্সি থামিয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করলো ড্রাইভার, কিন্তু পেলো তারও বেশি।
‘কে?’ সোহানার গলা অস্পষ্ট শোনালো।

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top