আমিই রানা – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৫১
আমিই রানা – বইটির এক ঝলকঃ
পারবে না ও যে আসলে চেহারাটা ওর একবার দেখেই চোখ ফিরিয়ে নেবার মত ছিল না ।
হঠাৎ একটা কথা মনে হতেই শিউরে উঠল রানা। ওর এই বুড়ো হাবড়া নতুন চেহারা—এটা কি স্থায়ী হতে যাচ্ছে? কোন মেয়ের কাছে আর কখনও ঘেঁষতে পারবে না ও?
একটা আক্রোশ অনুভব করছে রানা। টেবিলে পড়ে থাকা হাত দুটো নিজের অজান্তেই শক্ত মুঠো হয়ে গেল। অসহায় একটা রাগে ঝাপসা হয়ে গেল চোখের সামনেটা। নিঃশব্দ পায়ে কখন আবার কাছে চলে এসেছে সেই ঠাণ্ডা কোমল অবয়বধারিণী, ঠক্ করে একটা শব্দ হতে হুঁশ ফিরল রানার, দেখল কফির কাপটা নামিয়ে রেখে চলে যাচ্ছে ।
কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে রানা, সেইসাথে চোখ বুলাচ্ছে লিফলেটে। ও এখন Bragernesasen-এর মাথায় রয়েছে, ড্রামে মার্কার দরজা বলা হয় জায়গাটাকে। শীতের সময় এটা স্কিয়ারদের স্বর্গ, তাদের চলার পথে ফ্লাড লাইটের ব্যবস্থা আছে। আর গ্রীষ্মের সময় এটা শিকারীদের স্বর্গ, তখন বিশাল এলাকা জোড়া জঙ্গলে প্রাণীবধের মহোৎসব চলে। হয়তো ওখানেই কিছু আছে, ভাবল ও। কফির দাম চুকিয়ে দিয়ে বেরিয়ে পড়ল তখুনি ।
আরেকটা গাড়ি পৌঁছেচে, কার পার্কের অপর দিকে দাঁড়িয়ে আছে সেটা। হুইলের পেছনে বসা লোকটা খবরের কাগজ পড়ছে। রেস্তোরাঁর দরজা বন্ধ হবার শব্দে মুখ তুলে তাকাল, রানাকে বেরিয়ে আসতে দেখে আবার পড়ায় মন দিল সে। গায়ে ভাল করে বসিয়ে নিল রানা টপকোটটা। হঠাৎ ঠাণ্ডা বাতাস ছেড়েছে। পাহাড়ের কিনারার দিকে পেছন ফিরে দৃঢ় পায়ে এগোচ্ছে ও।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সুন্দর একটা বনভূমিতে প্রবেশ করল রানা। চারদিকে তাল গাছের মত লম্বা দেবদারু গাছ। পাতা ঝরা, নিঃস্ব আরেক জাতের গাছ দেখতে পাচ্ছে রানা, দেবদারুগুলোর মতই আকাশ ছোঁয়া, কিন্তু পাতা নেই বলেই বুঝি ঠিক চেনা যাচ্ছে না। কাণ্ডগুলো সাদাটে, বার্চও হতে পারে।
কার পার্ক থেকে খানিকদূর সোজা, তারপর এঁকেবেঁকে চলে এসেছে পায়ে চলা পথটা । ঘাড় ফিরিয়ে পেছন দিকে তাকাল ও। রেস্তোরাঁর উঁচু ছাদটাও এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
পথটা দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে, নিজেকে জিজ্ঞেস করে ডান দিকে এগোবার অনুমতি নিল ও। আরও মিনিট দশেক হাঁটার পর হঠাৎ দাঁড়াল। এখানে ও করছেটা কি? একটা গাড়িতে কদাকার চেহারার একটা পুতুল দেখেই নরওয়ের পাহাড়ী
এলাকার জঙ্গলে চলে এল সে?
রক্তকেশী মেয়েটার কথা মনে পড়ছে। তার ধারণা, গাড়িটা এর আগে যে ভাড়া করেছিল পুতুলটা সেই ফেলে রেখে গেছে। উঁহু, তা ঠিক বলে মনে করা যায় না। গাড়িটা একেবারে নতুন। এর আগে কাউকে ভাড়া দেয়া হয়নি। তাছাড়া, পুতুলটা এমন ভঙ্গিতে সীটের উপর রাখা ছিল, যেন ওর দৃষ্টিতে পড়ে।
চিরকুটে ভোরে আসার কথা বলা হয়েছে। ভোরে বলতে কি বোঝাচ্ছে? কত ভোরে? বৈরিয়ে এসো, বেরিয়ে এসো, মনে মনে ডাকছে রানা, বেরিয়ে এসো আমার ছোট্ট ড্রামেন পুতুল। তোমার যাদু দণ্ড নেড়ে আমাকে তেল আবিবে পৌঁছে
দাও।
7%
ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিরতি পথে এগোচ্ছে রানা। তেমাথায় পৌঁছে এবার বাঁ দিকের পথটা ধরন। বৃষ্টির পর তাজা আর পরিষ্কার হয়ে গেছে বাতাস। পাতার কিনারায় ঝুলন্ত পানির ফোঁটাগুলো পড়ো পড়ো, রোদ লেগে স্বচ্ছ মুক্তোর মত দেখাচ্ছে, বাতাসের নাড়া খেয়ে টপ টপ করে ঝরে পড়ছে রানার মাথায়।
ভিজে ঘাস, ঝোপ-ঝাড়, মাথা উঁচু গাছ ছাড়া কোথাও কিছু দেখছে না রানা। সামনে আরেকটা তেমাথা। থামল। কি করবে ভাবছে। শব্দটা হঠাৎই এল. একটা ডাল ভাঙার আওয়াজ, কিন্তু অস্পষ্ট। দ্রুত ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল ও। কপালে হাত তুলে রোদ ঠেকাল। কোথায়! কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। ঘাড় ফিরিয়ে নেবে, এমন সময় আবার একটা শব্দ। এবার ওর ডান দিক থেকে এল ।
চোখের কোণ দিয়ে কিছু একটা দেখল রানা। গাঢ় রঙের কি যেন, দ্রুত সরে গেল গাছের আড়ালে।
তৃতীয় শব্দটা এল পেছন দিক থেকে। চরকির মত আধপাক ঘুরল রানা। প্রচণ্ড ঝড়ের বেগে আসছে আক্ৰমণ। এত কাছে চলে এসেছে লোকটা, হকচকিয়ে গেল
রানা ।
লোকটা বিশাল, মস্ত কাঁধ, ডান হাতটা উপরে তোলা, তাতে লোহার রড কিংবা আর কিছু ধরা, সবেগে নেমে আসছে রানার মাথায় ।
হকচকিয়ে গেলেও, গতকাল ও আজকের অভিজ্ঞতায় বেপরোয়া একটা মনোভাব তৈরি হয়েছে রানার মধ্যে। তার উপর, লোকটার চেহারা দেখেই বুঝল দেশ এবং জাতির পরম শত্রু ব্যাটা, আরব। পাল্টা আঘাত করার এই সুযোগের জন্যেই যেন অপেক্ষা করছিল ও। পিছিয়ে আসার কথা, কিন্তু, লোকটাকে বোকা বানিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ-বেগে সামনে বাড়ল এক পা । বাঁ হাত তুলে শত্রুর ডান হাতের কজি ধরে ফেলল, সেইসাথে প্রচণ্ড একটা ঘুসি চালাল তলপেট লক্ষ্য করে।
হুস্ করে বাতাস বেরিয়ে এল লোকটার নাক মুখ থেকে। হাঁটু ভাঁজ হয়ে গেল, প্রথমে কোমরটা পড়ল মাটিতে, তারপর ঠুকে গেল মাথাটা। ঘুসিটা কিরকম জোরে লেগেছে অনুমান করে একটু অবাক হলো রানা। বমি করছে লোকটা।
সময় নষ্ট করল না রানা। দৌড়তে শুরু করেছে ফিরতি পথ ধরে। কিন্তু আরেক জোড়া পায়ের আওয়াজ। ঠিক পেছনেই। তাকিয়ে দেখে সময় নষ্ট করছে না ও, মাথা নিচু করে ছুটছে। বাঁ চোখের কোণে আরেকটা লোক ধরা পড়ল । লম্বা লম্বা লাফ দিয়ে ওর আগে আগে, কোনাকুনিভাবে ছুটছে লোকটা। গাছের ফাঁকে মাঝেমধ্যে দেখা যাচ্ছে তাকে। সামনের পথের উপর রানার আগে পৌঁছতে চেষ্টা করছে সে। তার চেষ্টা সফল হতে যাচ্ছে, সহজ হিসাবেই বুঝে নিল রানা।
রুখে যখন দাঁড়াতেই হবে, খামোকা দৌড়ে ক্লান্ত হবার কোন মানে হয় না। দাঁড়িয়ে পড়ল ও। ঠিক পনেরো গজ সামনে পৌঁছল লোকটা। এও দশাসই চেহারার একজন আরব দুশমন। হাঁপাচ্ছে। পেছনের পায়ের আওয়াজটাও দ্রুত কাছে চলে আসছে।
পরিস্থিতিটা বুঝতে এক সেকেন্ড সময় নিল রানা। দাঁড়িয়ে থাকা মানে ফাঁদে ধরা দেয়া ! কথাটা মনে হতেই ছুটল আবার। সামনে পথ রোধ করে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা তার দিকে রানাকে আবার ছুটে আসতে দেখে অবাক হয়ে গেল। পরমুহূর্তে বাধা দেবার জন্যে তৈরি হলো সে। একটানে বের করল কোমরে গোঁজা ধারাল ছোরাটা, কোমরের কাছে ভাঁজ হয়ে গেল শরীর, মাথা নিচু করে আক্রমণের ভঙ্গিতে ছোরাসহ ডান হাতটা বাড়িয়ে দিল সামনে। রোদ লেগে ঝিঁকিয়ে উঠল ইস্পাতের ফলা ।
তবু সোজা ওর দিকে রানাকে ছুটে আসতে দেখে থতমত খেলো লোকটা, লোকটার একগজের মধ্যে পৌঁছেও দিক বদলাল না রানা। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সামনের দিকে ছোরা চালাতে যাচ্ছে লোকটা এইসময় বাঁ-দিক দিয়ে পাশ কেটে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করল রানা। শেষ মুহূর্তে আক্রমণের ধারাটা সংশোধন করতে যাচ্ছে শত্রু, দেখেই আগে থেকে যা ভেবে রেখেছিল তাই করল ও। শরীরটাকে অদ্ভুতভাবে একটা মোচড় খাইয়ে চোখের পলকে লোকটার ডানদিকে চলে এল রানা, পাশ কেটে বেরিয়ে যাচ্ছে, এমন সময় ছোরাটা বাঁক নিয়ে, অর্ধবৃত্ত রচনা করে ঝিলিক দিয়ে ছুটে এল। গরম একটা ছ্যাকা অনুভব করল রানা পাঁজরে। কিন্তু লোকটাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে ও, ঝেড়ে দৌড়চ্ছে। মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে থাকা শিকড়গুলোকে সাবধানে টপকে যাচ্ছে, এখন পা বেধে না গেলেই শেষ রক্ষা হয়। এক নম্বর শত্রুকে গোনার মধ্যে ধরছে না ও, উঠে দাঁড়াতে তার কম করেও দু’মিনিট লাগবে। বাকি থাকল ছোরাধারী আর পিছু ধাওয়াকারী।
পেছন থেকে চেঁচামেচি ভেসে আসছে, কিন্তু তাকাল না রানা। ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে সমতল জায়গাটায় পৌছল, তীরবেগে সোজা গাড়ির দিকে ছুটছে। দড়াম করে একটা দরজা বন্ধ হবার শব্দ শুনে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাবার ঝুঁকিটা নিল ও, দেখল পার্ক করা গাড়ি থেকে নেমে ওর দিকে ছুটে আসছে সেই লোকটা। খবরের কাগজ পড়াটা তাহলে ভান।
ফুটোয় চাবি ঢোকাচ্ছে রানা। চুল পরিমাণ এদিক ওদিক ঠোকর খেয়ে ফিরে আসছে চাবি, ভিতরে ঢুকছে না। অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এমন হচ্ছে বুঝতে পেরে নিজেকে চোখ রাঙাল রানা। ঢুকল চাবিটা, মোচড় দিতেই ক্লিক করে শব্দ হলো একটা, হেঁচকা টান মেরে দরজাটা খুলেই লাফ দিয়ে উঠে পড়ল ড্রাইভিং সীটে। ইগনিশন লকে চাবি ঢোকাচ্ছে এক হাতে, অপর হাত দিয়ে দরজাটা বন্ধ করছে।
দরজা বন্ধ করে চোখ ফেরাতে যাবে, লোকটাকে দেখতে পেল বাইরে। মুঠো পাকানো ঘুসি মারল জানালার কাঁচে, তারপর হাত বাড়াল দরজার হাতলের দিকে আঁতকে উঠল রানা। দরজাটা ধরতে গিয়ে চাবিটা পড়ে গেল আঙুলের ফাঁক গলে । বাইরে থেকে লোকটা সর্বশক্তি দিয়ে হাতলটা টানছে, কিন্তু টেনে আটকে রেখেছে রানা, হাতের পেশী ফুলে উঠেছে ওর। একটা হাত সরিয়ে নিয়ে ঝটকা মেরে নামিয়ে দিল ডোর ক্যাচ। নিচু হয়ে মেঝেতে ঠেকাল ডান হাতটা, হাতড়াচ্ছে।
ফুসফুসে কষ্ট হচ্ছে ওর। হাঁপাচ্ছে। পাঁজরের ব্যথাটা হঠাৎ তীব্র হয়ে উঠল। কোথায় পড়েছে চাবিটা? পাঁচটা আঙুল কিলবিল করছে মেঝেতে। নিদারুণ ব্যস্ততার মধ্যেও ঠাণ্ডা একটা যুক্তি ঢুকল ওর মাথায়, এখন ও মোটামুটি নিরাপদ, তালা দেয়া গাড়ির ভিতর কেউ ঢুকতে পারবে না। আর চাবিটাও পাওয়া যাবে।
শীতল ধাতব স্পর্শ পেল রানার আঙুল। খপ্ করে ধরল, তুলে এনে ইগনি লকের ফুটোয় ঢোকাল। ঠাণ্ডা যুক্তিটা কর্পূরের মত উবে গেল হঠাৎ লোকটা এক পা পিছিয়ে গিয়েই পকেট থেকে রিভলভার বের করল দেখে উন্মত্তের মত ক্লাচে পা ঠুকল রানা, ঝটকা মেরে ফার্স্ট গিয়ার দিল, রাস্তার কংক্রিটের সাথে ঘষা খেয়ে পুড়ে গেল টায়ারের রাবার—হুইল ধরার আগেই তীরবেগে ছুটতে শুরু করেছে মার্সিডিজ, মাতালের মত এদিক ওদিক করছে, তারপর সিধে হয়ে ডাইভ দিয়ে পড়ল টানেলের মুখে, ভীতসন্ত্রস্ত ইঁদুরের মত স্যাত্ করে ঢুকে গেল গর্তের ভিতর।
পলকের জন্যে এক ঝলক দিনের আলো দেখতে পেল রানা ভিউমিররে দুটো দরজাই খোলা অপর গাড়িটার, চালকের হাতে বন বন করে ঘুরছে স্টিয়ারিং হুইল, টানেলের দিকে ছুটে আসছে গাড়িটা। ইঁদুরের পিছু ধাওয়া করছে যেন বিড়াল।
প্রথম বাঁকটায় পৌছতে দশ সেকেন্ড লাগল রানার। বুঝল, বিপজ্জনক স্পীডে গাড়ি চালাচ্ছে ও। ক্রমশ ঢালু হয়ে প্রতি দশ ফিটে এক ফুট নেমে গেছে টানেলের মেঝে, মোচড়টার ব্যাসার্ধ মাত্র একশো বাইশ ফুট, বাঁক নিয়ে চলে গেছে ডানদিকে, যার ফলে মাঝের রেখার ভিতর দিকে থাকতে হচ্ছে রানাকে। অস্বাভাবিক দ্রুতবেগে গাড়ি ছুটছে, কেন্দ্রাতিগ শক্তি (centrifugal force) মাঝের রেখার ওপারে টেনে আনতে চাইছে গাড়িটাকে, বিপরীত দিক থেকে কিছু যদি এই মুহূর্তে আসে, মুখোমুখি সংঘর্ষ ঠেকাবার কোন উপায় নেই ।
একটু একটু করে পায়ের চাপ কমিয়ে আনল রানা অ্যাকসিলারেটর থেকে । দৃষ্টি সরানো বিপজ্জনক, তবু পলকের জন্য ঝুঁকিটা নিয়ে ভিউমিররে তাকাল। পিছনের গাড়ির চালক নিঃসন্দেহে দুঃসাহসী। নিজের বা বিপরীত দিক থেকে আসতে পারে যে সব গাড়ি সেগুলোর প্রতি তার কোন দরদ নেই। মাঝের রেখা পেরিয়ে ওপারে চলে গেছে সে, ক্রমশ মার্সিডিজের কাছে চলে আসছে।
ইঞ্জিনে আরও ফুয়েল ঢালল রানা, মোচড় দিয়ে ঘোরাল হুইল, ভাবল- সামনের মুখ দিয়ে যদি কোন গাড়ি টানেলে ঢুকে থাকে, সংঘর্ষের পর রক্ত, গুঁড়ো হাড় আর আগুন ছাড়া কিছু চেনা যাবে না।
টানেলের ভিজে দেয়ালগুলো আলোর দীর্ঘস্থায়ী ঝলক যেন, এক জায়গায় সেই আলোর ঝলক একটু বেশি উজ্জ্বল, পলকের জন্যে একটা সংখ্যা দেখতে পেল রানা, 5, তার মানে নিচে পৌঁছতে আরও চারটে সার্কিট পেরোতে হবে। অকস্মাৎ চেঁচিয়ে উঠল গাড়ির চাকা, থরথর করে কেঁপে উঠল মার্সিডিজ, ধাক্কা খেয়ে বেঁকে গেল নাক। হুইলটাকে ধরে রাখতে পারছে না রানা, সেকেন্ডে কয়েকবার তীব্র ঝটকা মেরে মুঠো থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। এক সেকেন্ড পরই পুনরাবৃত্তি হলো ঘটনাটার, ধাতুব কান্নাটা পেছন থেকে ভেসে এল, ধাক্কাটা লাগল আবার জোরে। মার্সিডিজকে গুঁতো মারছে পেছন থেকে। আরেকটা তীক্ষ্ণ কান ফাটানো আওয়াজে কেঁপে উঠল গোটা টানেল, ইস্পাতের নখরের আঁচড় লেগে ছিঁড়ে যাচ্ছে ইস্পাতের পাত । হুইল ঘুরিয়ে লাভ হচ্ছে না, ঘুরে যাচ্ছে গাড়ি। টানেলের উপর আড়াআড়ি অবস্থায় পৌঁছে গেছে।
শুনল এবং অনুভব করল রানা, বিপরীত দিকের দেয়ালে গাড়ির রিয়্যার অফ- সাইড ধাক্কা খেয়ে ভেঙে গেল। ঠিক এই সময় বুঝতে পারল ও, পিচকারি দিয়ে রক্ত ছুটতে আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাকি। নিচে থেকে ওর দিকে উঠে আসছে একটা গাড়ি, হেডলাইটের চোখ রাঙানি দেখে ভয়ে হিম হয়ে গেল বুকের রক্ত।
হাত আর পা বিদ্যুৎ গতি লাভ করল রানার। হুইল, ক্লাচ আর অ্যাকসিলারেটর নিয়ে পাগলের মত ব্যক্ত হয়ে উঠেছে। চোখের পলকে ঘুরে গেল গাড়ি, ট্যুর বাসটার সামনে দিয়ে প্রকাণ্ড একটা শিয়াল যেন রাস্তা পেরোচ্ছে। বাসের ড্রাইভারকে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের জন্যে দেখল রানা, হাঁ হয়ে আছে মুখ, চোখ দুটো বিস্ফারিত। পরমুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে গেল সে।
গাড়ির সামনের ফেন্ডারটা টানেলের দেয়ালে ঘষা খেলো, মুষলধারে বৃষ্টির মত একরাশ ফুলকি ছুটল আগুনের, আগেই উল্টো দিকে ঘোরাতে শুরু করেছে ইইলটাকে রানা। আর একটু হলে পাশ ঘেঁষে ধাবমান বাসের পেছনের অংশে সেঁধিয়ে যেত মার্সিডিজের সামনের একটা কোণ। আতঙ্কিত ইঁদুরের মত টানেলের এদিক ওদিক ছুটছে গাড়ি, প্রায় দেড়শো গজ এভাবে এগিয়ে যাবার পর সেটাকে আয়র্তে আনতে পারল রানা। ভাগ্যিস বাসের পেছনে আর কোন গাড়ি ছিল না, ঢোক গিলে ভাবল রানা।
উজ্জ্বল একটা টানা বিদ্যুতের ঝলকের মত পিছিয়ে গেল লেভেল 2, এক সেকেন্ডু পর ভিউমিরর হয়ে আলোর একটা ছোট্ট কণা চোখে পড়ল রানার। ব্যাপারটা বুঝতে অসুবিধে হলো না ওর। বাসটাকে এড়িয়ে যেতে পেরেছে পেছনের গাড়িটাও, দ্রুত কাছে চলে আসছে আবার ।
স্পীড বাড়াল আবার রানা। তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠল টায়ারগুলো। গোটা টানেল পোড়া রাবারের উৎকট দুর্গন্ধে ভরাট হয়ে গেছে।
লেভেল ওয়ান।
সামনে একটা উজ্জ্বলতা। আরেকটা গাড়ি আসছে বুঝতে পেরে শক্ত হয়ে গেল পেশীগুলো। কিন্তু টানেল সোজা হতেই ও দেখল সামনে টানেলের মুখ, ভিতরে ঢুকছে দিনের আলো, গাড়ি নয়। অ্যাকসিলারেটরে পায়ের চাপ বাড়াল, টানেল থেকে কামানের গোলার মত বেরিয়ে এল মার্সিডিজ। টোল আদায়কারী দু’হাত শূন্যে তুলে লাক দিয়ে সরে গেল একপাশে, বাতাসের ঝাপটা খেয়ে দম বন্ধ হয়ে এল তার, গাড়িটা আধ হাত দূর দিয়ে চলে গেছে।
প্রখর রোদ লেগে কুঁচকে উঠেছে চোখ দুটো রানার! পাহাড় থেকে ড্রামেনের মেইন রোডের দিকে টপ স্পীডে নেমে যাচ্ছে গাড়ি।
পাহাড়ের নিচে পৌঁছে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে ব্রেক নামিয়ে রেখে বন বন করে হুইল ঘোরাচ্ছে রানা। বাঁক নিচ্ছে গাড়ি, উল্টে পড়ার অবস্থা এখন, আর্তনাদ করছে টায়ারগুলো, কালো রাবার রেখে যাচ্ছে রাস্তার গায়ে। পরমুহূর্তে ব্রেক প্যাডেলের উপর প্রায় দাঁড়িয়ে পড়ল রানা, সীট ছেড়ে উঠে পড়েছে। অল ক্লিয়ার নীল সিগন্যাল দেখে একদল নিরীহ লোক রাস্তা পেরোচ্ছে। ওদেরকে বাঁচাবার জন্যে শেষ চেষ্টা করে দেখছে ও। গাড়ির পেছনটা উঁচু হয়ে উপর দিকে উঠে গেল খানিকটা, হুইলের সাথে সেঁটে আছে রানার বুক। গাড়ির নাক নিচু হয়ে গেল। কাজ হয়েছে রেক প্যাডেলে দাঁড়িয়ে পড়ায়। ভিড়ের কয়েক ইঞ্চি তফাতে থেমেছে গাড়ি। মৃদু ধাক্কা
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!