আর্মেনিয়া সীমান্তে – আবুল আসাদ – Armenia Shimante – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

আর্মেনিয়া সীমান্তে – আবুল আসাদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ আবুল আসাদ

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৯৪

আর্মেনিয়া সীমান্তে – বইটির এক ঝলকঃ

একটা শাখা, বলা যায় একমাত্র অবশিষ্ট শাখা। এদের মোট জনসংখ্যা এখন প্রায় পঁচিশ হাজার। পরিবারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার । মজার ব্যাপার হলো এরা যে গাজী সালাহউদ্দীনের উত্তরসূরি এটা তারা জানে না । আর্মেনিয়ারও কেউ এটা জানে না । ওআইসি’র সংখ্যালঘু নিরাপত্তা শাখা ও রাবেতার মুসলিম সংখ্যালঘু শাখার যৌথ অনুসন্ধানে এই পারিচয়টি আবিষ্কৃত হয়েছে । যখন কেউই এটা জানে না, তখন আমরাও কাউকে এটা জানানো ঠিক মনে করিনি । অনুসন্ধানে যে তথ্য আমরা পেয়েছি, তাতে আমরা জেনেছি, ১১৯৩ সালে সুলতান গাজী সালাহউদ্দীনের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানরা ও ভাইদের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়, সেই সময় সুলতান সালাহউদ্দীনের সপ্তম পুত্রের পরিবার সংঘাতের এলাকা থেকে পূর্ব আনাতোলিয়ার হিসন কেইফা’য় হিজরত করে। ১২৩২ সালে এখানেও সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় । আর ১২৬০ সালে হিসন কেইফা মোঙ্গল আক্রমণের মুখে পড়ে। পরে মোঙ্গলরা চলে গেলে এখানে সালাহউদ্দীন আইয়ুবী বংশের শাসন আবার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এক সময় এই শাসন ক্ষমতা হারিয়ে ফেললেও গোটা পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত তাদের প্রভাব- প্রতিপত্তি, বজায় ছিল । কিন্তু মোঙ্গল আক্রমণের সময়ই সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর সপ্তম পুত্রের ঐ পরিবার হিসন কেইফা থেকে হিজরত করে আর্মেনিয়ার প্রাচীন নগরী দিভিনে চলে যায় । এর সাড়ে পাঁচশ বছর পরে সোভিয়েতের কম্যুনিস্ট শাসনের শুরুতেই এই বংশের বিশাল জনপদকে দিভিন থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। তারা আশ্রয় নেয় আর্মেনিয়ার দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন একটা উপত্যকায় । তারা উপত্যকাটির নাম দেয় দিভিন, তাদের হারানো জনপদের নাম অনুসারে । এই দিভিন উপত্যকাতেই তারা এখন বাস করছে। পেছনের এই ইতিহাসটা আপনাকে এই জন্যেই জানালাম যে, আপনি যাতে নিশ্চিত হতে পারেন দিভিনের পরিবারটি সুলতানসালাহউদ্দীন আইয়ুবীর প্রত্যক্ষ উত্তরসূরি। সাধারণভাবে দিভিন উপত্যকার এই পরিবার, এই জনপদকে কুর্দিদের বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্ন অংশ বলে মনে করা হয়। কিন্তু এরা কুর্দিদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না, কুর্দিরাও রাজনৈতিকভাবে এদের হিসেবে ধরে না। দিভিনের এই আইয়ুবী পরিবারের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এরা আধুনিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়, কিন্তু ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতির চর্চা এদের মধ্যে খুব বেশি। প্রাচীন নগরী দিভিনে এরা গড়ে তুলেছিল ইসলামী শিক্ষার কয়েকটি বিশাল কেন্দ্র। এর মধ্যে ছিল কুরআন, তাফসির ও হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়নের বিশ্ববিদ্যালয় ধরনের উচ্চতর শিক্ষালয়। এর সাথে ছিল ইসলামের ইতিহাস গবেষণা, অনুসন্ধান ও সংগ্রহের উচ্চতর একাডেমি ধরনের প্রতিষ্ঠান । ইতিহাস, ভুগোল, বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রভৃতি সব বিষয়েই এই গবেষণা, অনুসন্ধান ও সংগ্রহের মধ্যে শামিল ছিল। গোটা ককেশাস, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে জ্ঞান অনুসন্ধানী ও ছাত্ররাও এখানে আসত । কম্যুনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন আর্মেনিয়া দখলে নেয়ার পর সবকিছুই ধ্বংস করে দেয় এবং আইয়ূবী পরিবারকেও উচ্ছেদ করে । দিভিনে নতুন বসতি গড়ার পর দিভিন নগরী থেকে তারা যা রক্ষা করে আনতে পেরেছিল, তাই দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিগুলোর পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে । মানের দিক দিয়ে, কার্যকারিতার দিক দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন গোটা ককেশাস, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে অনন্য । এখানে যেমন বিশ্বমানের আলেম তৈরি হচ্ছে, তেমনি এরা এদের একাংশকে উচ্চতর শিক্ষার জন্যে বিদেশে বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, চিকিৎসাবিজ্ঞানীও তৈরি করছে। এই দিভিন উপত্যকার তৈরি আলেম ও বিজ্ঞানীরা ককেশাস, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছে । বিশেষ করে এখানে তৈরি বিশ্বমানের আলেমরা অমূল্য সেবা দিয়ে চলেছে গোটা মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ায়। আর এসব তারা করছে নীরবে, কোন প্রচার ছাড়াই । কুর্দিদের যে বহুমুখী রাজনীতি, তার কোনটির সাথেই তারা যুক্ত নয়। দেশীয় রাজনীতিতেও তারা কোন পক্ষ নয়, আর্মেনিয়ার বড় দলগুলোকে তারা ভোট দেয় ।
এরপরও তারা আজ বিপদগ্রস্ত। তারা বহুমুখী নীরব ও ভয়ংকর আক্রমণের শিকার। সে আক্রমণগুলো ‘সম্পূর্ণ নির্মূল’ প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সে আক্রমণ বা অন্তর্ঘাতমূলক কাজগুলো নিম্নরূপ ঃ
এক. প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী লোকদের মধ্য থেকে মাত্র গত এক বছরে দু’শ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি নিহত হয়েছে এবং প্রায় এক শর মতো কিডন্যাপড হয়েছে। এদের মধ্যে গণ্যমান্য নারী ও পুরুষ ব্যক্তিত্ব রয়েছে ।
দুই. দিভিন উপত্যকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগারে রহস্যময় আগুন লাগছে। গত এক বছরে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দু’টি গ্রন্থাগার রহস্যময় আগুনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ।
তিন. আর্মেনিয়ার অন্যান্য উপত্যকার মতো দিভিন উপত্যকার মানুষরাও বলতে গেলে পাথরের বুক চিরে ফসল ফলায় । এই ফসল স্বর্ণখণ্ডের চেয়েও মূল্যবান । যা বেঁচে থাকার জন্যে অপরিহার্য । গত এক দেড় বছর ধরে কোন অদৃশ্য কারণে ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । একটা দানাও ক্ষেত থেকে আনা যাচ্ছে না । ক্ষেতের মাটি, পাথর, ফসলের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করা হয়েছে ল্যাবটেরিতে । বলা হয়েছে, বিষাক্ত বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। নতুন কোন প্রাকৃতিক কারণেই ঐভাবে ফসল বিনষ্ট হয়েছে। দিভিনের অধিবাসীরা এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারছে না। ফসল ধ্বংসের ফলে দিভিন উপত্যকার অবস্থা মারাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ও বাইরের খাদ্য সাহায্যে তারা বেঁচে আছে । এই উপত্যকা থেকে তারা প্রাকৃতিকভাবেই উচ্ছেদ হবার পথে ।
চার. প্রায় গত এক বছর ধরে দিভিন উপত্যকায় যে ঔষধগুলো আসছে বা আনা হচ্ছে, তার বেশির ভাগই নকল, বিষাক্ত কিংবা কোনওভাবে ক্ষতিকর। দিভিনের ঔষধ ব্যবসায়ীরা আর্মেনিয়ার
সবাই যেখান থেকে ঔষধ আনে, সেখান থেকেই ঔষধ আনছে । দোষ দেয়া হচ্ছে দিভিনের ঔষধ ব্যবসায়ীদের। দিভিনের সব ঔষধের দোকান বন্ধ হবার পথে । অনেক ব্যবসায়ীর জেল হয়েছে, কারও মামলা বিচারাধীন রয়েছে, কেউ গ্রেফতার হয়ে মামলার অপেক্ষা করছে। দিভিনে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সংকট চরমে। পার্শ্ববর্তী উপত্যকাও বেশ দূরে। সেখানে গেলেও অধিকাংশ সময় ঔষধ মিলছে না।
পাঁচ. হত্যা, অপহরণ বন্ধে, রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড তদন্তে, ফসল নষ্ট হওয়ার প্রতিবিধানে নকল ও বিষাক্ত ঔষধের অনুসন্ধানে আর্মেনীর সরকার সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছে, কিন্তু কোনই লাভ হয়নি । কোন কিছুরই প্রতিকার প্রতিবিধান হয়নি। মাঝখানে এই সব তদন্তের সাথে যুক্ত চারজন দক্ষ ও পেশাদার গোয়েন্দা অফিসার নিহত হয়েছেন। দিভিনবাসীদের পক্ষে এই সব তদন্তকারী ও দিভিনবাসীদের সহযোগিতাকারী ইউনিসেফ, ওআইসি ও রাবেতার পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবী অফিসার নিহত হয়েছেন আর্মেনিয়ায় । এর ফলে একটা ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে তদন্তকারী ও স্বেচ্ছাসেবী অফিসারদের মধ্যে । প্রতিকারের জন্যে এখন যা হচ্ছে নামকাওয়াস্তে ।
ছয়. আমরা, এমনকি আর্মেনিয়ার পুলিশ আর গোয়েন্দাদেরও অনেকে মনে করেন এ সবের পেছনে বড় কোন ষড়যন্ত্র জড়িত রয়েছে । মনে করলেও এর পক্ষে কোন প্রমাণ কেউ যোগাড় করতে পারেনি। পুলিশ, গোয়েন্দা ও দিভিনের লোকরা যারা নিহত হয়েছে, সেসব হত্যাকাণ্ডের তদত্তও কোন ‘কু’-এর অভাবে এক ইঞ্চিও এগোতে পারেনি ।
সাত. এই অবস্থায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। তার চেয়েও অসহায় ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে দিভিন উপত্যকার পঁচিশ হাজার ভালো মানুষ, ভালো মুসলিম এবং ইসলামের সেবক ও ঐতিহাসিক এক মহান শাসকের বংশধারার অবশিষ্ট একমাত্র শাখা । এই অবস্থায় কোন পথ না পেয়ে আমরা আপনাকেই স্মরণ করছি। এই স্মরণ করাটাকে আমরা মনে করছি আল্লাহরই ইচ্ছা । আল্লাহ আপনাকে অশেষ নেয়ামত দিয়েছেন । আমাদের মতো দিভিন উপত্যকার পঁচিশ হাজার অসহায় মানুষ আপনার মতো অজানা কোন এক ত্রাণকর্তার দিকেই তাকিয়ে আছে, আল্লাহর সাহায্য হিসেবে যিনি আসবেন তাদের কাছে অভয় আর মুক্তির আশ্রয় হিসাবে । আমরা আমাদের মহান ভাই আহমদ মুসার উত্তরের অপেক্ষা করব । ”
মেসেজটা নীরবে পড়ছিল জোসেফাইন । শেষদিকে এসে অশ্রুতে তার দু’চোখ সিক্ত হয়ে গেল । শেষে তার দু’গণ্ড বেয়ে নেমে এল নীরব অশ্রুর ধারা।
পড়া শেষ হয়ে গেলেও একইভাবে পাথরের মতো বসে থাকল জোসেফাইন। যেন সে সম্বিত হারিয়ে ফেলেছে ।
এ সময় তার হাত থেকে মেসেজের কাগজটা পড়ে গেল তার কোলের উপরে ।
সবাই তাকিয়েছিল জোসেফাইনের দিকে। পাশেই বসেছিল সারা জেফারসন।
বিস্ময় তার চোখে-মুখে! বলল, ‘কি হলো আপা? তোমার চোখে পানি কেন? কি আছে মেসেজে?’
জোসেফাইন নীরবে তাকাল সারা জেফারসনের দিকে। কোল থেকে মেসেজের কাগজটা নিয়ে তুলে দিল সারা জেফারসনকে ।
সারা জেফারসনও পড়ল মেসেজটা ।
পড়তে পড়তে ভারি হয়ে উঠেছিল তার মন । যখন পড়া শেষ করল, তখন বিষাদে ঢেকে গেল তার মুখ। দিভিনের অধিবাসীদের মর্মান্তিক অবস্থায় তার মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সেই সাথে আহমদ মুসার প্রতি আহ্বানের বিষয়টায় তার মন কেঁপে উঠেছিল! একি আহমদ মুসার নতুন অভিযানের ডাক!

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top