আলোর ফোয়ারা – মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৪৯
আলোর ফোয়ারা – বইটির এক ঝলকঃ
আরেক সঙ্গী বললো ঃ আমরা দেখতে চাই তুমি কীভাবে গাছ বেয়ে উপরে উঠো।
তাঁদের বলতে দেরি জোহার জুতো জোড়া খুলতে দেরি নাই। জুতো খুলে পকেটে রেখে অবলীলায় গাছ বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো ।
আরেক সঙ্গী বিষ্ময় প্রকাশ করে বললো, আরে জোহা! তুমি এ কী করছো। জুতো পকেটে নিয়ে যাচ্ছ কেন? গাছের উপর তো তোমার জুতোর কোন প্রয়োজন নেই।
জোহা জবাবে বললো : আমি আশা করছি গাছের উপর আরেকটি রাস্তা পাবো, সেখানে জুতো পায়ে হাঁটবো। তাঁর কথায় সঙ্গীরা সকলে খিলখিল করে হেসে উঠলো।
অন্য একদিনের ঘটনা। এক মহিলা এলো তার কাছে। তিনি মহিলাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি কী উদ্দেশ্য নিয়ে আমার কাছে এসেছেন? উত্তরে মহিলা বললো, বাগদাদে পাঠানোর জন্যে দুটি চিঠি লিখিয়ে নিতে এসেছি। একটি আমার ছেলে মোস্তফার কাছে অপরটি আমার চাচা কাজীর কাছে ।
জোহা তখন বললো, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে মাফ করুন, বাগদাদে যাওয়ার মতো কোন সময় এখন আমার হাতে নেই। তাঁর কথা শুনে মহিলা আশ্চর্য হয়ে বললো, আরে আমি তো আপনাকে বাগদাদ যেতে বলছিনা। বরং আপনাকে বলছি শুধু দুটি চিঠি লিখে
দেয়ার জন্যে।
জোহা তখন মুচকি হেসে বললো, আমি আপনাকে দুটি চিঠি লিখে দিলে, আপনার পুত্র ও চাচা উভয়ে আমার উপর ভীষন চটে যাবে। কারণ আমার হাতের লেখা এতো খারাপ যে, তাঁরা পড়তে পারবে না। সুতরাং চিঠি পড়ে দেয়ার জন্যে আমাকে ও চিঠির সঙ্গে বাগদাদ যেতে হবে।
সে অনেক আগের কথা। এক দেশে ছিলো এক উযীর। দেশ জুড়ে ছিলো তাঁর নাম-যশ, প্রভাব-প্রতিপত্তি। পাইক-পেয়াদা, গোলাম-বান্দী, দাস-দাসীর কোন অভাব ছিলো না, টাকা-পয়সাও ছিলো ঢের। এক কথায় সুখ-শান্তির জন্যে যা কিছু প্রয়োজন সবই ছিলো তার।
কিন্তু হলে কী হবে। প্রবাদ আছে ‘সুস্থতাই সুখের মূল’ সেটাই ছিলো না তাঁর। তাঁর স্বাস্থ্য ছিলো অস্বাভাবিক। মেদভূড়ি নিয়ে তিনি বেশ অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে তাঁর স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। সারা দিন বিছানায় শুয়ে থাকা ছাড়া অন্য কোন কাজ তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
একদিন তিনি সকল ডাক্তারদের ডেকে পাঠালেন। কিন্তু তাঁরা সকলেই তাঁর চিকিৎসা করতে ব্যর্থ হয়।
অতঃপর উযীরকে একজন প্রবীন ও অভিজ্ঞ ডাক্তারের সন্ধান দেয়া হলো। তাঁকেও তিনি ডেকে পাঠালেন। ঐ প্রবীন ডাক্তার সাহেব এলে উযীর মহোদয় বললেন, গোশ্ত ও চর্বি আমাকে সকল কাজ হতে অপারগ করে রেখেছে। আপনি ভালোভাবে এর চিকিৎসা করুন, যাতে এ আযাব থেকে মুক্তি পাই।
ডাক্তার সাহেব তখন উযীরকে বললেন, আল্লাহ পাক আপনার সার্বিক মঙ্গল করুন এবং সুস্থতা দান করুন। আমি একজন ডাক্তার ঠিক। এর সাথে সাথে আমি একজন জ্যোতিষও বটে। আমি আপনার ভাগ্য পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা করবো
তাই আপনার চিকিৎসার জন্যে আমাকে আজ রাতটুকুর সময় দিতে হবে। আজ রাতে আমি দেখবো, আপনার ভাগ্যে কি উদিত হয়? তারপর আপনার রোগের চিকিৎসা বাতলে দেবো। উযীর সাহেব বললেন, শুধু আজ রাত কেন, আপনি যতদিন সময় চান, দেয়া হলো। সেদিন বিদায় নিয়ে ডাক্তার সাহেব চলে গেলেন।
পরের দিন ডাক্তার সাহেব এসে উযীর মহোদয়কে বললেন, জনাব! আগে আমার জানের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিন। পরে আপনার চিকিৎসার কথা বলবো।
উযীর সাহেব বললেন, হ্যাঁ, আপনার জীবনের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা
দেয়া হলো ।
এবার ডাক্তার সাহেব বললেন, বিগত রাতে আপনার ভাগ্যের যে তারকা উদিত হয়েছিলো, তাতে আমি দেখেছি আপনার জীবনের আর মাত্র ত্রিশ দিন বাকী আছে। এখন আপনি চাইলে, তবেই আমি আপনার চিকিৎসা করতে পারি এবং ঔষধ লিখে দিতে পারি। আমার মুখের কথায় যদি আপনার বিশ্বাস না হয়, তবে আমাকে বন্দী করে রাখুন। যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে আমাকে মুক্তি দিয়ে দিবেন। আর যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে আমাকে কতল করে দিবেন।
ডাক্তারের নিজের কথা অনুযায়ী উযীর তাঁকে বন্দী করে রাখলেন। এরপর তাঁর সভাসদদের বললেন, আমার জন্যে একটি নিরিবিলি কামরা নির্বাচন কর এবং সেখানে আনন্দ বিনোদনের কিছু সামগ্রী- উপস্থিত কর। উযীরের নির্দেশ অনুসারে সব কিছুর ব্যবস্থা করা হলো। এবার তিনি সবার থেকে আলাদা হয়ে সে নীরব নির্জন কামরায় একাকী থাকতে লাগলেন।
দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছিলো, উযীরের চিন্তা ও ভয় ততোই বেড়ে যাচ্ছিলো। সীমাহীন চিন্তা ও ভয়ের কারণে স্বাস্থ্য ও চর্বি কমে গেলো। এমনিতে চলে গেলো আটাশ দিন। উনত্রিশ দিনের মাথায় উযীর আবার ডাক্তারকে ডেকে পাঠালেন।
ডাক্তার উযীরের সামনে হাজির হয়ে বললেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে সম্মানিত করুন। অদৃশ্যের খবর একমাত্র আল্লাহ পাকই জানেন ।
অতএব যেখানে আমি আমার নিজের জীবনের শেষ সীমানা সম্পর্কে অজ্ঞ, সেখানে আমি আপনার জীবনের আর কতদিন আছে তা কী করে জানবো? কিন্তু জনাব, আপনার অন্তরে চিন্তা ও ভয় ঢুকিয়ে দেয়া ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা আমার জানা ছিলো না। কারণ এ দুটি জিনিষই মানুষের স্বাস্থ্য ও চর্বি কমিয়ে দেয়।
ডাক্তারের দূরদর্শীতা দেখে উযীর একই সঙ্গে আশ্চর্য ও আনন্দিত হলেন। সাথে সাথে তাঁকে সম্মানের সঙ্গে মূল্যবান পুরস্কারে ভূষিত
করলেন। শিক্ষা ও জ্ঞান ছাড়া কেউ কোন দিন প্রকৃত মানুষ হতে পারে না।
জীবনে উন্নতি করতে পারে না। ফলে সফলতা আসে না তার জীবনে। যে দেশের মানুষ যত বেশি শিক্ষিত হয়, সে দেশের উন্নতি ততো বেশি হয়। সমাজের লোকেরা হয় সভ্য-শিষ্ট। তাইতো আমাদের প্রিয় নবীজী (সাঃ) কে আল্লাহ পাক প্রথমেই পড়ার জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন- “পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন।”
আর এ শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের মূল চাবি কাঠি হলো খুব বেশি বেশি করে সুন্দর ও ভালো বই পড়া। কেননা মানুষের জীবন সীমিত আর জ্ঞান হচ্ছে অসীম। তাইতো ইতিহাস পড়লে জানা যায়, আমাদের মনীষীগণ খুব বেশি বেশি করে পড়াশোনা করতেন। যখন কোন ছাপাখানা ছিলো না, বরং নিজ হাতে লিখে পড়তে হতো। এখন তো আমাদের কোনই কষ্ট করতে হয় না। বই আকারে ছেপে বাজারে আসে, সেখান থেকে আমরা টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে আসি ।
মনীষীদের জীবনী পড়লে তাঁদের জ্ঞান পিপাসার অনেক আশ্চর্য ঘটনার কথা জানা যায়। এমনি একটি আশ্চর্য ঘটনার কথা আজ বলছি। জগত বিখ্যাত মনীষী আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার নাম আমরা
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!