আল্লাহর তলোয়ার – এ.আই আকরাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ এ.আই আকরাম
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৪৮১
আল্লাহর তলোয়ার – বইটির এক ঝলকঃ
থেকে এই আলোর অনুপস্থিতিতে তারা নিঃসঙ্গ ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। বর্ণনাকারীর মতে তাদের অবস্থা ছিল, “বৃষ্টি ভেজা ঠাণ্ডা রাতে অসহায় ভেড়ার মতো। ১১২- আরবের চারদিক থেকে বিদ্রোহের খবর আসতে থাকলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে ওঠে। তায়েফের সাকীফ এবং মক্কা ও মদীনায় বসবাসকারী গোত্রসমূহ ছাড়া আরবের অন্যান্য সব গোত্র মদীনার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ভণ্ড নবীগণ মুহাম্মদ (সা)-এর রিসালতের অংশীদারিত্ব দাবি করতে থাকে । তারা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ত্যাগ ও কষ্টের দিকটাকে উপেক্ষা করে শুধু তাঁর সফলতার দিকটা বিবেচনায় এনে নবুয়তকে খুব আকর্ষণীয় বিষয় বলে ভাবতে থাকে এবং এর সুফল ভোগের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। আসওয়াদ ছাড়াও আরও তিনজন ভণ্ডনবী (চারজনও হতে পারে, এদের মধ্যে একজন মহিলা) আত্মপ্রকাশ করে। অন্যান্য গোত্রপ্রধানও নবুয়তের দাবি না করলেও ভণ্ডনবীদের সংগে সংহতি প্রকাশ করে এবং ইসলামের আলোকে দূরীভূত করে অন্ধকার যুগের তথাকথিত স্বাধীনতা ভোগের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। স্বধর্মত্যাগের অগ্নিশিখা দাবানলের মতো সর্বত্র এতো দ্রুত বিস্তার
লাভ করে যে, তা নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের আধ্যাত্মিক, রাজনৈতিক ও কেন্দ্রভূমি মক্কা মদীনাকেও হুমকির সম্মুখীন করে।
ইসলামের প্রতি গভীর ও প্রকৃত বিশ্বাসের অভাব থেকেই মূলত ধর্মত্যাগের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জীবনের শেষ পর্যায়ে নবম ও দশম হিজরীতে অধিকাংশ গোত্রই ইসলাম গ্রহণ করে রাজনৈতিক কারণে। তারা মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নতুন বাণীকে উপলব্ধি করার চেয়ে তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাবের বিষয়টিই বেশি করে বিবেচনা করে। মক্কা ও মদীনার বিশেষ করে মদীনার মুসলমানগণই ছিল বিশ্বাসের দিক থেকে দৃঢ়। কেননা তারা রাসূল (সা) -এর সাহায্য পেয়েছিল অধিক সময় ধরে। অপরপক্ষে মক্কা ও মদীনার বাইরের গোত্রগুলো তার আধ্যাত্মিক সাহচর্য লাভের সুযোগ থেকে ছিল বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রেই গোত্রপ্রধানগণ ইসলাম গ্রহণের সংগে সংগে তার অনুসারিগণও তার প্রতি আনুগত্যবশত ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এসব ক্ষেত্রে ইসলামের প্রতি বিশ্বাসের ব্যাপারটি ছিল অনুপস্থিত। তাই রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইন্তিকালের পর পরই তারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শুরু করে। কেননা তাদের আনুগত্য ছিল একজন ব্যক্তির প্রতি, ইসলাম বা মদীনার নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতি নয়। ইসলাম স্ত্রীর সংখ্যা, গোত্রের স্বার্থে কর নির্ধারণ, নামায, রোযা ইত্যাদি সম্পর্কে যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল তা অমান্য করার ব্যাপারে তারা কোনো বাধা দেখতে পায় না ।
আবু বকর (রা) প্রথম খলীফা নির্বাচিত হওয়ায় মুসলমানগণ অনেকটা চিন্তিত হয়ে পড়ে। তিনি কি পারবেন চারদিকের বিদ্রোহের দাবানলকে নির্বাপিত করে ইসলামের জয়যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে? ইসলামের এই দুর্যোগের সময় সকলে আশা করেছিল একজন দুর্জয় শক্তি ও কঠোর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতৃত্বের। আবূ বকর (রা) ছিলেন হালকা-পাতলা গড়নের এবং বয়সের চাপে অনেকটা ন্যুব্জ। তাঁর চেহারায় ছিল বয়সের স্পষ্ট ছাপ যদিও দাড়িতে খেযাব লাগাতেন। তাঁর স্বভাব ছিল এতো ভদ্র ও অন্তর ছিল এমন নরম যে, সহজেই চোখে পানি এসে যেতো।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য সমবেত মুসলমানদের উদ্দেশ্যে তিনি যে বক্তব্য রাখেন তার মধ্যেও তাঁর স্বভাবেরই প্রতিফলন ঘটে। তিনি বলেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আমি তোমাদের নেতা নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু আমি তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। আমি যদি সঠিক পথে থাকি তোমরা আমাকে সাহায্য করবে আর আমি ভুল পথে চললে সংশোধন করে দিবে। সততাই আনুগত্য আর মিথ্যা বিদ্রোহের শামিল। ‘
‘তোমাদের মধ্যে যে দুর্বল সে আমার নিকট শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি আল্লাহর হুকুমে তার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করি। আর তোমাদের মধ্যে যে শক্তিশালী আমার দৃষ্টিতে সে দুর্বল যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর ইচ্ছায় সে তার কর্তব্য পালন করে।’
“আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ হতে বিরত থেকো না, কেননা যারা জিহাদ থেকে বিরত থাকে আল্লাহ তাদেরকে চরমভাবে অপমানিত করেন। কোনো সমাজে অনাচার সাধারণ রূপ লাভ করলে আল্লাহ তাদেরকে কঠোর শাস্তির মধ্যে ফেলেন। ‘
‘আমি যতক্ষণ আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশমাফিক চলবো তোমরা আমাকে অনুসরণ করবে এবং আমার মধ্যে তার ব্যতিক্রম দেখলে আমাকে অনুসরণ করতে বাধ্য নও।’
“নামায ত্যাগ করিও না! তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। ১১৩
আবূ বকরের সৎ গুণাবলী ও ইসলামের প্রতি তাঁর অসাধারণ দরদ ও খেদমতের কথা ছিল সর্বজনবিদিত। তাঁর ব্যক্তিগত সাহস, প্রিয় রাসূল (সা)-এর প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বস্ততা, উন্নত নৈতিকতা এবং ইসলামের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ছিল প্রশ্নের অতীত। ইসলাম গ্রহণকারী তৃতীয় পুরুষ হিসেবে আল্লাহর নিকট হতে সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজনের মধ্যেও তাঁর আসন ছিল উঁচুতে। ১১৪ কিন্তু এসব গুণ থাকলেই কি দুর্যোগকালে নেতৃত্ব দেয়া যায়? মুসলমানদের আশংকাকে আরও ঘনীভূত করেছিল পূর্ব পরিকল্পিত একটি অভিযানে উসামা বাহিনীর মদীনা ত্যাগ ।
৬৩২ খৃস্টাব্দের মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ রাসূলুল্লাহ (সা) জর্দানে একটি বিশাল অভিযানের প্রস্তুতির নির্দেশ দান করেন। তখন তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি প্রত্যেক মুসলিমকে এই অভিযানে যোগদানের নির্দেশ দেন। এই অভিযানের কমান্ডার হিসেবে তিনি তাঁর এক সময়ের ক্রীতদান যায়েদ বিন হারিসার ২২ বছরের যুবক পুত্র উসামাকে নিয়োগ করেন। যায়েদ মৃতার যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন। উসামা একটি অতি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁকে আরবের অভিজাত গোত্রগুলোর বিশিষ্ট যোদ্ধাগণের উপর কমান্ডার নিযুক্ত করেন। মুসলিমগণ ওহুদের পশ্চিম প্রান্তে সমবেত হয়। এই বাহিনী উসামার বাহিনী নামে পরিচিত। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জীবনের শেষ অভিযানের নির্দেশ।
উসামাকে জর্দানের মৃতা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়। তার প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নির্দেশ ছিল, “তোমার পিতাকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল সেই এলাকায় আকস্মিক আক্রমণ পরিচালনা করো। সংগে পথপ্রদর্শক নিয়ে নাও এবং সামনে স্কাউট ও গুপ্তচর প্রেরণ করো এবং দ্রুত যাত্রা করো। ”১১৫ ইন্তিকালের কিছু পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সা) এই অভিযানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “উসামার বাহিনীকে প্রেরণ করতে ভুলিও না। ১১৬ ৫ই জুন ৬৩২ খৃস্টাব্দে (১২ই রবিউল আউয়াল, ১১ হিজরী) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর শেষ বিদায়ের প্রাক্কালে উসামার বাহিনী ক্যাম্পেই ছিল। একই দিনে আবূ বকর (রা) খলীফা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
পরদিন খলীফা আবু বকর (রা) উসামার বাহিনীকে অভিযান যাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। সমস্ত বিশিষ্ট সাহাবাকে এমন কি খলীফার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বন্ধু উমরকেও যুবক উসামার নেতৃত্বে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হয়।
চারদিক থেকে স্বধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহের খবর আসা সত্ত্বেও অভিযানের প্রস্তুতি চলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবী খলীফার সংগে সাক্ষাৎ করে বলেন, “এই মুহূর্তে অধিকাংশ আরব গোত্র বিদ্রোহী হয়ে পড়েছে এবং চারদিক থেকে বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতার খবর আসছে। এরপরও কি আপনি উসামার বাহিনীকে অভিযানে পাঠাতে চান? মুসলিমগণ সংখ্যায় অল্প আর অবিশ্বাসীরা প্রচুর। এ অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা উচিত।”
জবাবে হযরত আবূ বকর (রা) অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, “আমি যদি জানতে পারি যে, চারদিক থেকে বন্যপ্রাণী এসে অরক্ষিত মদীনায় প্রবেশ করে আমার শরীরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে তবু রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নির্দেশিত এ অভিযানে উসামার বাহিনী পাঠানো হবে। “১১৭
আরও কয়েকদিন অতিবাহিত হয়। চারদিক থেকে বিদ্রোহের ভয়াবহ খবর আসতে থাকে। উসামাও অন্যদের মতোই মদীনা ও ইসলামের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং উমরের সংগে সাক্ষাৎ করে অনুরোধ করেন, “খলীফার নিকট গিয়ে মুসলিম বাহিনীকে মদীনায় অবস্থানের অনুমতি প্রার্থনা করুন। প্রত্যেকটি গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ আমার সংগে। আমরা সকলে অভিযানে গেলে মদীনাকে কে শত্রুর আক্রমণ হতে রক্ষা করবে ?”
উমর (রা) খলীফার সংগে সাক্ষাৎ করতে সম্মত হন। ক্যাম্প ত্যাগের প্রাক্কালে একদল নেতৃস্থানীয় মুসলিম তার সংগে সাক্ষাৎ করে একই পরামর্শ দেন এবং বলেন, “তিনি যদি আমাদের মদীনায় অবস্থানের প্রস্তাব অনুমোদন না করেন, তাহলে অন্তত উসামার চেয়ে একজন বিজ্ঞ কমান্ডার নিয়োগের অনুরোধ করবেন। ” উমর (রা)
খলীফাকে এই প্রস্তাব দানেও সম্মত হন।
১১৮
আবু বকর (রা) তাঁর ঘরের মেঝেতে বসেছিলেন। তাঁর ঘাড়ে দুর্যোগময় মুহূর্তে খেলাফতের গুরু দায়িত্ব। বিশ্বাসের দৃঢ়তা না থাকলে চারদিকের প্রতিকূলতা হয়তো তাঁকে ঘাবড়িয়ে ফেলতো। উমর (রা) ধীরে সুস্থে ও দৃঢ় প্রত্যয় সহকারে তাঁর বিনয়- নম্র ঘনিষ্ঠ সহকর্মীর নিকট বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
আবূ বকর (রা) উমরের বক্তব্য শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তিনি কমান্ডারের পরিবর্তন সংক্রান্ত উমরের মতামতও শ্রবণ করেন। তার পর তিনি পায়ের উপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উমর (রা)-কে উদ্দেশ্য করে উচ্চকণ্ঠে বলেন, “ওহে খাত্তাবের পুত্র উমর, আল্লাহর রাসূল (সা)-ই উসামাকে কমান্ডার নিয়োগ করেছিলেন। আর তুমি চাও আমি তাঁকে কমান্ড থেকে সরিয়ে দেই?”১১৯
৬৩২ খৃস্টাব্দের ২৪শে জুন (১লা রবিউল আখির, ১১ হিজরী) উসামার বাহিনী ক্যাম্প ত্যাগ করে যাত্রা শুরু করে। আবূ বকর (রা) অশ্বারোহী উসামার সংগে পায়ে হেঁটে কিছুদূর অগ্রসর হন। উসামা (রা) ঘোড়া থেকে নেমে হাঁটতে চাইলে তাকে বারণ করেন। তিনি বলেন, একজন মুসলিম সৈনিক আল্লাহর পথে প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য ৭০০ ভাল কাজের ফলাফল লাভ করে ও ৭০০ পাপ কাজের ক্ষতি হতে মুক্তি পায় । ”১২০
আবূ বকর (রা) তাঁর উপদেষ্টা হিসেবে উমরকে রেখে যাওয়ার অনুরোধ করলে উসামা (রা) সংগে সংগে রাজী হয়ে যান। তারপর তিনি যুদ্ধগামী কমান্ডারের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দান করেন, “কুজার বিরুদ্ধে আকস্মিক আক্রমণের মধ্যদিয়ে তোমার অভিযান শুরু করবে। কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর রাসূলের দেয়া এই মিশন থেকে তুমি বিরত হবে না।” ১২১ উসামার বাহিনী যাত্রা শুরু করে। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইন্তিকালের পরবর্তী নাজুক পরিস্থিতিতে উসামার বাহিনীর মদীনা ত্যাগ ও অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্তকে অনেকে ভুল বলে মনে করেন। আবার অনেকে এটাকে আবূ বকরের একটি বিজ্ঞ সিদ্ধান্ত বলেও মনে করেন। কেননা এই অভিযানের সিদ্ধান্ত বিদ্রোহীদেরকে হয়তো একটা ধারণা দিয়ে থাকবে যে, মুসলিমগণ খুব শক্তিশালী। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি ছিল ভিন্নরূপ। উসামা অত্যন্ত দক্ষতা ও দ্রুততার সংগে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন সত্য, কিন্তু তার অপারেশন স্বধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহ দমনের সংগে সংশ্লিষ্ট ছিল না। এই অভিযানের সিদ্ধান্তটি ছিল সদ্য ওফাতপ্রাপ্ত প্রিয় রাসূল (সা)-এর অন্তিম ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা প্ৰদৰ্শন মাত্র । এছাড়া এর সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশলগত তেমন কোনো গুরুত্ব ছিল না। সম্ভবত একারণেই অধিকাংশ মুসলিম নেতা ও ভবিষ্যতের ইতিহাসের বিখ্যাত জেনারেলগণ এই অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন।
এই অভিযান পরিচালনায় আবূ বকরের প্রধান বিবেচ্য ছিল রাসূলুল্লাহ (সা)-এর অন্তিম ইচ্ছাকে চরিতার্থ করা। আবূ বকর সামরিক প্রজ্ঞার অভাবের কারণে মদীনায় তৎকালীন নাজুক পরিস্থিতিতেও উসামার বাহিনীকে অভিযানে পাঠিয়েছিলেন এমন মনে করা ঠিক নয় । কেননা তিনি পরবর্তীতে স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে এবং সিরিয়া ও ইরাকে সামরিক অভিযান পরিচালনায় প্রচুর প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন।
উসামার বাহিনীর বিদায়ের পর চারদিক হতে বিদ্রোহের ও বিদ্রোহী গোত্রগুলোর সমাবেশের খবর আসতে থাকে। মুসলমানদের আশংকাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। অপর পক্ষে স্বধর্মত্যাগীগণ আবূ বকরের খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ ও উসামার বাহিনীর মদীনা ত্যাগের সংবাদে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে। আবূ বকরের নেতৃত্বে পরিচালিত নবগঠিত মুসলিম রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা তাদের জন্য অপেক্ষাকৃত সহজ মনে হতে থাকে। তাদের এটুকু সান্ত্বনা ছিল যে, উমর (রা) ও আলী (রা)-এর মতো কঠোর ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্বের তাদেরকে মোকাবিলা করতে হবে না । মোকাবিলা করতে হবে একজন ভদ্র ও বৃদ্ধ ব্যক্তিকে।
কিন্তু এই ভদ্র ও বৃদ্ধ ব্যক্তিটির তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই শংকিত মুসলিমগণ হলো বিস্মিত এবং স্বধর্মত্যাগীগণ পেলো চরম আঘাত। একজন গোত্রপ্রধান আবূ বকরের বাহিনীর হাত হতে পালিয়ে ছুটতে ছুটতে আর্তনাদ করে বলেছিল, “আরবদের উপর অভিশাপ নাজিল হয়েছে আবূ কাহাফের পুত্রের পক্ষ থেকে।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!