আদিম আতঙ্ক – কাজী আনোয়ার হোসেন – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ কাজী আনোয়ার হোসেন
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩৭৮
আদিম আতঙ্ক – বইটির এক ঝলকঃ
মন্টেরেইর দিকে উড়ে চলেছে খুদে বিমান ।
টুকটাক কথা ছাড়া প্রায় নীরবেই কেটে গেছে আড়াই ঘণ্টা। বিমান চালনায় পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছে মানামি, মাঝে মাঝে পাশ থেকে দেখছে ওকে রানা। আকাশ চিরে এই উড়ে যাওয়া উপভোগ করছে ও ।
বিগ সারের উপকূলে দুটো তিমি দেখতে পেয়েছে মানামি । ওগুলো তীর ঘেঁষে চলেছে দক্ষিণে। ‘দেখুন, ওই যে নীল তিমি! আজকাল আর ওদের দেখাই যায় না। বিরল প্রজাতি।’
‘বাজা-র দিকে চলেছে,’ মন্তব্য করল রানা।
জানালা দিয়ে নীচে চেয়ে আছেন নাসিম আহমেদ, ভয় কেটেছে খানিকটা।
‘ডক্টর, আসলে লেকচারের সময় আপনাকে বিরক্ত করতে চাইনি,’ বলল মানামি। ‘কিন্তু বাবা বলেছিলেন, আপনাকে নিয়ে আসতে হবে। আমার অবশ্য মনে হয়, আপনার সময় নষ্ট না করলেও চলত। এমন নয় যে আমাদের আরেকজন সাবমারসিবল পাইলট দরকার।’
‘গুড,’ বললেন নাসিম। ‘কারণ আমি নিজেও আগ্রহী নই।’
‘তা হলে তো ভালই,’ বলল মানামি । নতুন করে’ গরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে ওর রক্ত। ‘আপনি হয়তো আমার বাবাকে বোঝাতে পারবেন, আসলে টয়োডার সঙ্গে আমিই যেতে পারি দ্বিতীয় অ্যাবিস গ্লাইডারে করে।’
‘এ কথা বলা উচিত হবে না আমার,’ আবারও জানালা দিয়ে নীচে চাইলেন নাসিম ।
‘কেন উচিত হবে না, প্রফেসর?’
কেবিন থেকে বললেন নাসিম, ‘প্রথম কথা, আমি কখনও তোমার সাবমারসিবল পাইলটিং দেখিনি। বিষয়টা আকাশে বিমান চালনার চেয়ে অনেক জটিল। অত নীচে সবার মনে প্রচণ্ড চাপ…’ ‘আপনি সুস্থ তো, নাসিম ভাই?’ পাশ থেকে বলল রানা। আটকে দিতে শুরু করেছে ওঁর সিটবেল্ট।
ফ্যাকাসে হয়ে গেছেন নাসিম ।
‘ককপিট থেকে বলল মানামি, ‘চাইলে আপনাদের যে-কেউ ককপিটে এসে বসতে পারেন।’
ওপাশে কন্ট্রোল প্যানেলের ডায়াল ও মিটারগুলো দেখতে পেলেন নাসিম, আরেকবার ঢোক গিললেন ।
‘আমি এখানেই ভাল আছি,’ শুকনো স্বরে বললেন ।
‘মিস্টার রানা?’ বলল মানামি, ‘আপনি ইচ্ছে করলে ককপিটে
আসতে পারেন।’
নাসিম আহমেদের সিটবেল্ট আটকে দিয়েছে রানা, কয়েক মুহূর্ত ভাবল, তারপর বলল, ‘আসছি।’
‘এক গ্লাস পানি পেলে…’ বিড়বিড় করলেন নাসিম !
পিছনে ফ্রি আছে, ওটার কাছে চলে গেল রানা, ডালা খুলে পানির বোতল পেয়ে তুলে দিল নাসিমের হাতে। খেয়াল করল, অল্প অল্প কাঁপতে শুরু করেছে ওঁর হাত।
ঢকঢক করে অর্ধেক বোতল শেষ করলেন তিনি, তারপর ব্রিফকেস খুলে বের করলেন ছোট, সবুজ এক বোতল। ওটার ভিতর থেকে নিলেন হলদে দুটো বড়ি। ক্লস্ট্রোফোবিয়ার। গভীর সাগরে দুর্ঘটনার পর থেকে ব্যবহার করতে হয়। আজকাল আকাশে উড়লেও সমস্যা হয় তাঁর। উচ্চতা পছন্দ করেন না, একদম। পানি দিয়ে গিলে নিলেন বড়ি, তারপর চুপ করে চোখ বুজে বসে রইলেন।
রানা খেয়াল করল, ধীরে ধীরে কমে আসছে নাসিমের হাতের থির-থির কাঁপন। আরও পাঁচ সেকেও পাশেই রইল ও, তারপর নিঃশব্দে গিয়ে বসল কো-পাইলটের সিটে। ধাঁই করে মাথায় রক্ত চেপে গেল মানামির। ‘চাপ? আপনি বোধহয় গভীর চাপের কথা ভাবছেন?’ ঝট্ করে বিচক্রাফটের হুইল পিছিয়ে নিল ও, একের পর এক তিন শ’ ষাট ডিগ্রির বৃত্ত তৈরি করতে শুরু করেছে শূন্যে । তারপর নাক নিচু করে ডাইভ দিল নীচে। সাঁই-সাঁই করে নেমে যাচ্ছে বিমান। বুক আঁকড়ে দিচ্ছে প্রচণ্ড জি ফোর্স ।
কয়েক সেকেণ্ড পর পিছন থেকে হড়হড় করে বমির আওয়াজ পেল মানামি, সেই সঙ্গে টকটক বাজে দুর্গন্ধ । ‘যথেষ্ট হয়েছে,’ চাপা স্বরে বলল রানা।
‘না, যথেষ্ট হয়নি, রাগ কমেনি মানামির।
কো-পাইলটের সিট থেকে খপ্ কন্ট্রোল প্রায় কেড়ে নিল রানা, কয়েক সেকেণ্ডে সিধে করে ফেলল বিমান।
কড়া চোখে ওকে দেখছে মানামি। আড়ষ্ট স্বরে বলল, ‘ও, আপনি তা হলে প্লেনও চালাতে পারেন!’
রেগে গেছে রানাও। ‘অনেকের চেয়ে ভালই পারি। কোনও আনাড়ি, মাথাগরম পাইলটের কারণে মরার ইচ্ছে নেই। আর এটাও জেনে রাখো, বিমান চালানোর চেয়ে অনেক বেশি ভাল লাগে আমার সাবমারসিবল নিয়ে সাগরের হাজার হাজার ফুট নীচে নেমে যেতে।’
মেয়েটার চোখের তারায় ভয় দেখল রানা। বোধহয় মন দুলতে শুরু করেছে। মনে হয়, বাবা এই যুবককেই কাজটা দিয়ে দেবেন। কে এই লোক!
‘এবার হয়তো ঠিকভাবে বিচক্রাফট চালাতে পারবে,’ সুন্দরীর বুকে গজাল বসিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল রানা। পিছনে গিয়ে নাসিম আহমেদের অবস্থা বুঝতে হবে।
ককপিট থেকে বেরিয়ে গেল ও।
নাকের উপর ওয়ায়ার-রিড্ বাইফোকাল চড়িয়ে নিয়ে হোটেলের ৮০৫ নম্বর সুইটের দরজায় টোকা দিল সাংবাদিক ডন রে। পেরিয়ে গেল কয়েক সেকেণ্ড, ওদিক থেকে খুলছে না কেউ দরজা।
আবারও নক করল সে।
এবার খুলে গেল দরজা।
সামনে এসে দাঁড়িয়েছে অ্যানি আহমেদ, চোখে ঘুম। পরনে প্রায় স্বচ্ছ সাদা রোব। বুক ধরতে গেলে খোলাই। ব্রোঞ্জ রঙের উদ্ধত স্তন পরিষ্কার দেখা গেল।
“ডন! ক্রাইস্ট! বাজে কয়টা?’
‘সাড়ে দশটা, রাতে বোধহয় বেশি ব্যস্ত ছিলে?’
তৃপ্তির হাসি হাসল অ্যানি। ‘খুব বেশি নয়। ডোনোভানের পাশে ঘুম আমার ঠিকই হয়েছে, কিন্তু নাসিম বোধহয় ঘুমাতে পারেনি।’ বিশাল সাদা ডিভান ও প্রকাণ্ড টিভি দেখাল সে। হাতের ইশারা করে পিছিয়ে গেল ।
‘সুন্দর সুইট । ডোনোভান কোথায়?’ ভিতরে ঢুকল ডম রে।
সে একটা আরামকেদারায় বসবার পর ডিভানের কোণে বসল অ্যানি। ‘দু’ ঘণ্টা আগে বেরিয়ে গেছে। অডিটোরিয়ামের লেকচারে ভালভাবেই নাসিমকে বিব্রত করতে পেরেছ। ‘
‘সত্যিই কি এসব দরকার ছিল, অ্যানি? আমার তো মনে হয়েছে ভদ্রলোক যথেষ্ট….
“তা হলে পারলে তুমিই গিয়ে ওকে বিয়ে করো। ছয়বছর সুহ্য করেছি, আর নয়!’
‘তা হলে ডিভোর্স দাও, ঝামেলা মিটে যাক।
‘ব্যাপারটা অত সহজ নয়, ডন। এখন মিডিয়ার চোখ পড়েছে আমার ওপর। আমার এজেন্ট বলে দিয়েছে, এখন থেকে খুব সাবধানে চলতে হবে। পাবলিক যেন খুঁত বের করতে না পারে । এ শহরে নাসিমের অনেক বন্ধু, তাদেরকে চটিয়ে দিতে চাই না । কিন্তু একবার যদি নাসিমকে পাগলাটে বলে প্রমাণ করা যায়, কেউ বলবে না ডিভোর্স দিয়ে ভুল করেছি। গতরাতের ঘটনাগুলো আমার পক্ষেই যাবে।’
‘বেশ। এখন আমার পরের কাজ কী?’
‘নাসিম এখন কোথায়?’
নোটবুক বের করে চোখ বুলিয়ে নিল ডন রে। ‘প্রথমে বাড়ি ফিরেছে। সঙ্গে ওই জাপানি মেয়েটাও ছিল।’
খিলখিল করে হেসে ফেলল অ্যানি। ‘নাসিম? ওর সঙ্গে আবার মেয়ে? ভাল হলো যে…’
‘কথা শেষ করিনি, সঙ্গে ছিল বাংলাদেশি এক যুবক।’ ‘বাহ্! দু’জন মিলে এক মেয়ের সঙ্গে…’
আবারও ভুল করছ। নাসিম আহমেদ আর মাসুদ রানা -পুরস্কারের অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ওদেরকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফিরে গেছে মেয়েটা। সকালে ওদের পিছু নিয়ে গেছি কমিউটার এয়ারপোর্টে। ছোট এক বিমান নিয়ে মন্টেরেইর দিকে গেছে। আমার ধারণা, সিনোসুকা ওশনোগ্রাফিক ইন্সটিটিউটের নির্মাণাধীন তিমির লেগুন দেখতে গেছে।”
“ঠিক আছে, লেগে থাকো ওর পেছনে। আমাকে জানাবে কী করছে। আমি চাই আগামী সপ্তাহেই নেভির ওই দুর্ঘটনার কথা সবাই জানুক। জোর দেবে, নেভির দু’জন অফিসার মারা গেছে। ওই কাহিনি জমে উঠলেই আমার ইন্টারভিউ নেবে। তারপর দেরি না করেই ডিভোর্স চাইব। সবাই বুঝবে, বারবার সমাজের কাছে হেয় হওয়ায় অপদার্থ স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছে অ্যানি ল্যামবার্ট।’
‘তুমিই বস্। কিন্তু একটা কথা, নাসিমের পিছনে যেতে হলে প্রথমেই ক্যাশ টাকা লাগবে।’
রোব পকেট থেকে পুরু, লাল খাম বের করল অ্যানি। ‘ম্যাক্স
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!