চলন বিলের পদাবলী – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

চলন বিলের পদাবলী – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ শফিউদ্দিন সরদার

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৭৮

চলন বিলের পদাবলী – বইটির এক ঝলকঃ

বাহার বললো-“মানে ?”
লাল বললো- মানে ‘মাছ থাকলো নদীতে, বউ বসেছে বটিতে!” তোদের ভাবখানা এই আর কি।”
মাথা নেড়ে বছির বললো- “উঁহুঁ ওস্তাদ, ও কথা বললে শুনছিনে। মনে যখন ধরেছে তোমার, তখন, যেভাবেই হোক, গুরু মাতা ওকে আমরা বানাবোই।
ইতিমধ্যেই সমজান আলী এসে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল দুয়ারের এক পাশে । এদের কথা শুনে সে এগিয়ে এসে বললো- “সেগুড়ে বালী!”
সচকিত হয়ে তার দিকে চোখ ফেরালো সকলেই। বছির বললো-“বালী” সমজান বললো “এই মাত্র খোঁজ নিয়ে আসছি। যত কথাই বলো, ও আঙ্গুর টক!”
ধড়াশ্ করে কেঁপে উঠলো লাল মিয়ার বুক খানা। শুকিয়ে গেলো মুখ। দুনিয়ার সব অন্ধকার এক সাথে ঘিরে ফেললো তাকে। তবে কি সে বিবাহিতা! সকলের অলক্ষো কাঁপতে লাগলো লাল মিয়া। তার মুখ দিয়ে একটি কথাও বেরোলনা । প্রশ্ন করলো বাহার-“কেন, টক কেন?”
জবাবে সমজান বললো- “বিল বাথানের তরফদারের মেয়ে ওটা। বিয়ে হয়নি ঠিকই। কিন্তু একে তো সে জমিদারের মেয়ে, তার উপর আবার ওস্তাদের বাপের সাথে ওর বাপের ছিল আজন্মের শত্রুতা। এই সেদিনও তো দুরমার মামলা চললো দুইয়ের মধ্যে। এই ঘরে আর মেয়ে দেবে ভরফদার?”
পাথর নেমে গেল লাল মিয়ার বুক থেকে। শুনে উত্তেজিত হয়ে উঠলো বছির। বললো- “দিতেই হবে। দেবেনা মানে? ওস্তাদ কি কোন দিক দিয়ে তার চেয়ে কম ? এছাড়া এমন সুন্দর পাত্তর এ তল্লাটে আর কোথাও খুঁজে পাবে তরফদার?”
কথাটা মনে ধরলো সমজানের। সে সায় দিয়ে বললো- “কথাটাতো ঠিকই। মেয়েটা দেখতেও পরীর মতো। নামটাও পরীবানু। ওর উপযুক্ত বর তো আর এ তল্লাটে দেখিনা। ওর পাশে একমাত্র ওস্তাদকেই মানায়। কিন্তু –
বাহার আলী প্রত্যয়ের সাথে বললো-“ব্যস্! ওসব কিন্তু ফিন্তু রাখো। মেয়েটাও পরী, আমাদের ওস্তাদও হুর। এই হুর-পরীর মিলন আমরা ঘটিয়েই ছাড়বো । সংশয় জাগলো দু’একজনের মনে। তারা প্রশ্ন করলো-“ক্যানে? তার মেয়ে সে যদি না দেয়, ক্যামনে তা ঘটাবে?”
ক্ষেপে উঠলো বাহার। বললো-“সব শালারা গাড়োল। ক্যানে তা বুঝোনা? এতগুলো মানুষ আমরা ইচ্ছে করলে কি করতে না পারি? আমাদের ভয়ে এ এলাকা কাঁপে, আর তরফদার দেবে না মেয়ে? সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে বাঁকা আঙ্গুল চালাবো। শালা আমাদের তো সে বদনাম আছেই। না কি বলিরে বছির?”
বদনাম এদের আছে খানিক। সে বদনাম লাল মিয়ারও আছে। বিশেষতঃ সে যখন এদের দলের সর্দ্দার। একটা গোলমালকে কেন্দ্র করে এরা একটা ভরা হাট ভেংগে দিয়েছিল গোটা হাটের লোককে পিটিয়ে। পাইক বরকন্দাজ সহ কোন এক গোমস্তাকে এরা শীতের রাতে বিলের পানিতে চুপিয়ে ছিল প্রজার নিকট থেকে বাড়তি পয়সা নেয়ার জন্যে। মাতাল এক পঞ্চায়েতকে পিটে এরা পাটাতন করে এসেছিল তারই এলাকায় গান করতে গিয়ে । হুড় হাঙ্গামায় বড় একটা যায়না এরা। তবুও এদের দোহাই খাটে ছোট খাটো জবর-দখলে। এক বয়সী বিশ-পচিশটি জোয়ান ছেলের এমন জোট দশ-বিশটা গাঁয়ে তখন ছিল না। বাউন্ডেলের মতো এরা প্রায়শঃই গ্রামেগঞ্জে গান বাজনা করে ঘুরে বেড়াতো বলে অনেকেই এদের ‘বাউরে’ বলে আখ্যায়িত করতো।
বাহারের ইঙ্গিতটা বুঝতে পারলো সকলেই। কিন্তু সঠিক পদ্ধতিটা অনুমান করতে না পেরে জনৈক প্রশ্ন করলো-“সেই বাঁকা আঙ্গুলটা কি?”
বাহার বললো-“চুরি। দরকার হলে পরীবানুকে চুরি করবো আমরা। অনেকে সমর্থন দিয়ে বললো-“হ্যাঁ-হ্যাঁ, তাই করবো।”
এবার মুখ খুললো লাল মিয়া। মুখ তাকে খুলতেই হলো। ভয় নেই তারও মনে ঠিকই। কিন্তু সংশয় আছে অনেক। তাই, সে সখেদে বললো, “হায়রে! একেই বলে জোলার বুদ্ধি তিন চোঙ্গা! যাকে চুরি করে আনবে তোমরা, সে তো আর গরুছাগল নয়, মানুষ। চুরি করে আনলেই যে সে ঘর করবে একজনের, এ ধারণা ক্যামনে হলো তোমাদের?”
এবার সোচ্চার কন্ঠে সমজান আলী বললো, “ওটা আমাদের দেখার কথা নয় ওস্তাদ, তোমার দেখার কথা। তোমার দিক তুমি আগে সামলাও, আমাদেরটা পরে।” সঙ্গে সঙ্গে সকলেই সমস্বরে বললো- “ঠিক-ঠিক-ঠিক!”
গুড়গুড় করে ঢাক বাজছে এদিক ওদিক। ঘনিয়ে আসছে দূর্গাপূজা। শারদীয় উৎসব। আনন্দের আবিরে রাঙ্গা হয়ে উঠছে হিন্দু সমাজ। মুসলমান সমাজও কম যায়না বড় একটা। একই সাথে নেচে উঠছে তারাও অনেকেই। স্বচ্ছল পরিবারের অনেকের মনই পুলকিত হয়ে উঠছে ঢাকের এই আওয়াজে। অপর দিকে, শুকিয়ে আসছে গরীব প্রজার বুক । হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল প্রজার উপরই বাঁকী খাজনা পরিশোধের তাকিদ বাড়ছে দিন দিন। এ মৌসুম বাকী খাজনা পরিশোধের যে মৌসুম।
জমিদারী সেরেস্তায় খাজনা আদায়ের জোর মৌসুম চারটি পাকা ধানের অগ্রায়নী আদায়, রবিশস্যের বৈশাখী আদায়, পাট তিলের আষাঢ়ী আদায় আর সব শেষে দুর্গাপূজার মৌসুমে শারদীয় আদায়। হিন্দু-মুসলিম সকল জমিদারের আদায় মৌসুম এক ও অভিন্ন । শারদীয় মৌসুমের তোড়জোড়টা সৰ্বাধিক।
তরফদার সাহেবের কাচারী ঘরে ভিড় জমেছে সকাল থেকেই। শারদীয় আদায়ের আজ শেষ দিন। খাজনা নিয়ে হাজির হয়েছে আশে-পাশের প্রজারা। কেউ এসেছে স্বইচ্ছায়। কাউকে তার ইচ্ছে বিরুদ্ধে ধরে এনেছে পেয়াদা। কাঠের একটা হাত বাশো সামনে নিয়ে খাতা খুলে বসে আছেন বিল বাথানের নায়েব মিয়াজান মিয়া। দূর এলাকার গোমস্তারা জমা দিয়েছে আদায়। নায়েব এবার মন দিয়েছেন আশে পাশের আদায়ে। তাঁর একপাশে জমাবন্দীর খাতা। অন্য পাশে একটার উপর একটা করে ভুলে সাজানো আনী-দুয়ানী, সিকি-আধুলীর পৃথক পৃথক ভাগা। পয়সা- আধলা-পোয়া পয়সার ভাগাও একপাশে আছে। নিতান্তই দুঃস্থজনের খুঁটে পেতে যোগাড় করা খাজনা এসব। এক টাকা পূর্তি হলেই ভাগাগুলো বাশের মধ্যে পাচার করছেন নায়েব সাহেব। আদায় এবার আশানুরূপ নয়। কর্মদক্ষতা নিয়ে বাহাদুরী করার তাঁর সুযোগ খুবই কম। তাই নায়েব বাবুর মেজাজ আজ সকাল থেকেই তিরিকে।
এক নজরে সবাইকে দেখে নিয়ে নায়েব সাহেব হাঁক দিলেন- “আছিরুদ্দীন”- হাঁক শুনে আছির পেয়াদা এসে দাঁড়াতেই নায়েব তাকে বললেন- “গো’দে কই, গোদা ধর?”
আছিরুদ্দীন ঘাড় চুলকিয়ে বললো- “ওকে পাওয়া যায়নি হুজুর। গাঁয়ে গিয়ে না ঢুকতেই ও ব্যাটা পালিয়েছে।”
পালিয়েছে তো কি হয়েছে ? বাড়ীতে ওর গরু বাছুর ছিলনা? বউ বাচ্চা ? জি, তাতো ছিল হুজুর। কিন্তু পূজার সময়। গাঁয়ের প্রধান মাতবর বললে- এ সময় আর হুড় হাঙ্গামা করোনা। ওর ব্যবস্থা আমরাই করে দেবোখন।
ব্যস্। তবে আর কি! ঐ শুনেই তুমি নাচতে নাচতে চলে এলে?
হুজুর!
তোমাকে কি ঐ বাহানা শোনার জন্যে গাঁয়ে পাঠানো হয়েছিল? না ঐ বাহানা শুনতে গেলে খাজনা দিতে আসবে কেউ?”
তা কথা হলো-
যত্তসব ফাঁকি বাজের দল! পারলে কাজ করো, না পারলে ছেড়ে দাও। ঐ সব কেচ্ছা শোনার জন্যে তোমাকে পয়সা দিয়ে রাখা হয়নি। পেয়াদা কিছু বলার আগেই নায়েব সাহেব নজর দিলেন খাতায়। খাতা থেকে চোখ তুলে হাঁকলেন- ” ফোড়ে – “
মাথা গুঁজে বসেছিল ফকির আলী, ফোড়ে। সে কাছে এসে দাঁড়াতেই নায়েব বাবু বললেন-“পয়সা ফ্যাল্ । দুই টাকা দশ আনা। ছয়মাস ধরে এগুেলা দিয়েও পাওয়া যায়না ব্যাটাকে । জমি খাস্, খাজনা দিতে হবে না?”
আছিরুদ্দীন এবার তার কর্তব্যপরায়নতা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে সোচ্চার কণ্ঠে বললো- “এবারও সটকে পড়ার তাল করছিল হুজুর। আমি সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলেছি ব্যাটাকে।”
নায়েব সাহেব ভ্রূ-কুঁচকে বললেন-“বটে! বের কর। পুরো দুই টাকা দশ আনা গুণে গুণে দিয়ে তবে যাবি এখান থেকে।”
ফকির আলী নত চোখে বললো- “এবারের মুতো মাফ করে দ্যান হুজুর। খুবই ঠেকার মধ্যে আছি। সামনের মাসে যেমুন করে হোক, শোধ করবো অদ্দেকটা।” নায়েব বললেন- “মানে?”
ফকির বললো- “পূজার সুমায় হুজুর। বাড়ীত্ বিটি-জাওই আনিচি। লতুন জাঁত্তই। সাথে আরো লতুন কুটুম আচ্ছে (এসেছে) পাড়া-পড়শী সকলেরই লাডু- বড়ু, খই-মুড়ি, গুড়-লারকোল-মানে সব রকম যোগাড় যন্তর সারা। বিটি-জাত্তই লিয়্যা তারা কি ধুম লাগাচে (লাগিয়েছে)। কিন্তুক হাতে একটা পয়সা না থাকায়, আমি এখনও কিছুই করতে পারিনি হুজুর! একটা মাত্তর কাঁসার কলসী সম্বল। কলসীড্যা লিয়্যা (নিয়ে) সারাবেলা ঘুরিচি। কিন্তুক কেউ লিতে আজী হয়নি। ওড্যা বন্ধক দিয়্যা আনা-আষ্টেক পয়সা যুদি যোগাড় করবার না পারি, তাহলে আর মান- সম্মান কিছুই আমার থাকবেনা হুজুর! খাজনা দিবো কেমুন করা?”
ধমকে উঠলেন নায়েব সাহেব। বললেন- “আরে থাম ব্যাটা লবারের বাচ্চা। মান সম্মান দেখাচ্ছে! তোর ঐ মান সম্মান দেখার জন্যে জমিদারী কেনা হয়নি। খাজনা দিতে না পারলে জমিদারের জমিদারীও লাটে উঠে। জমিদারেরও মান সম্মান থাকে না । ওসব প্যান-প্যানানী রাখ। পয়সা ফ্যাল্ ।”
হাত জোড় করে ফকির আলী বললে- “কুটি থাকা ফেলবো হুজুর। ফাটা পয়সা হাতে নাই।
চোখে আগুন ছুটলো নায়েবের। বললেন “বটে! ঠিক আছে! পয়সা বেরোয় কিনা দেখছি।”-বলেই তিনি পেয়াদাকে হাঁক দিলেন, “আছিরুদ্দীন”-
আছিরুদ্দীন হাজির হতেই তিনি হুকুম করলেন- “এই ব্যাটাকে বেঁধে রাখ বারান্দায় । পাওনা-গোস্তা আদায় হলে তবেই এর মুক্তি ।”
আছিরুদ্দীন এগুলো। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো ফকির আলী। কাঁদতে কাঁদতে বললো- “দোহাই হুজুর, বাড়ী আমার লতুন কটুম!”
তার আর কোন কথায় কান দিলেন না নায়েব। আছিরুদ্দীন এসে বিলাপরত ফকিরকে বাইরে নিয়ে যেতেই নায়েব সাহেব চোখ তুললেন অন্যের দিকে। এবার কাজ হলো যাদুর মতো। নাম ডাকার আগেই এবার উঠে এলো অনেকে। তারা মানের ভয়ে স্বগরজে শোধ করলো খাজনা। যারা একান্তই পারলো না, তারা দুই হাত জোড় করে এক সাথে দাঁড়ালো। এক সপ্তাহের মধ্যে পাওনা আদি শোধ করার ওয়াদা করে মুক্তি নিয়ে বিদেয় হলো।
পাতলা হলো ভিড় । খাতাপত্র গুটিয়ে নিয়ে পয়সাকড়ি গুণতে লাগলেন নায়েব । এমন সময় বাইরে থেকে ছুটে এলো এক ব্যক্তি। নায়েব সাহেবের কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো- “হুজুর, হারু সাঁতাল আসছে।”
“মুখ নাতুলেই নায়েব বললেন- “কে?”
__আগন্তুক নীচু কণ্ঠে বললো-“ঐ বিকেলে বুড়ো, হুজুর। সাঁতালদের সর্দ্দার। ঐ যে কি যেন সব যেয়ে প্রায় সময় মাতাল হয়ে থাকে, ঐ হারু সাঁতাল !” নায়েব বললেন-“তো কি হয়েছে?”
ওকে ঘাটাবেন না হুজুর । একে তো ওর দিক-বিদিক জ্ঞান নেই, তাতে আবার সে লালমিয়াদের জব্বোর পেটোয়া । সাঁতাল পাড়ার সবাই ঐ লালমিয়ার দলকে পীরের মতো ভক্তি করে। !
ঐ বুড়োর সাথে ফ্যাসাদ করে কৃষ্ণ পুরের মোড়লেরা লালমিয়াদের ভয়ে দুই তিন মাস হাটে যেতে পারেনি। খামাখা ফ্যাসাদ করে লাভ কি হুজুর! যে গুন্ডপান্ডা মানুষ ওরা, বলা যায় না, রাত-বিরাতে চলতে ফিরতে কখন কি করে।
আত্ম-সম্মানে ঘা লাগলো নায়েবের। তিনি রুষ্টকণ্ঠে বললেন- “আরে রাখো তোমার গুন্ডাপান্ডা! অমন কতশত গুন্ডাকে এই মিয়াজান আলী মিয়া একপলকে ঠান্ডা করে দিয়েছে- সে খবর রাখো? ঐ সব বখাটেদের ভয় করলে নায়েবী করা চলে না। ওদের জব্দ করার বিদ্যা আমার জানা আছে। তুমি যাও”
বিদেয় হলো আগন্তুক। ঘরে ঢুকলো হারু সাঁতাল। তার নাতজামাই আজ খাজনার দায়ে বাঁধা পড়েছে সকালে। খবর পেয়ে ছুটে এসেছে হারু । তার চোখদুটো চক্‌-চক্ করে জ্বলছে। ঘরে ঢুকেই সে বললো-“পেন্নাম হই নায়েব বাবু। আমার নাতজামাইকে বেঁধেছো ক্যান্ বটে?”
নায়েব নির্বিকার কণ্ঠে বললেন-” খাজনা দেয়নি বলে।”
হারু অবাক হয়ে বললো- “হেই বাবা! খাজনা ?”
নায়েব এবার রুক্ষ্মকন্ঠে বললেন- “হ্যাঁ, খাজনা। জমি খেলে খাজনা দিতে হবে না? মগের মুল্লুক পেয়েছো?
খাজনা লাই তো জমিন লাই । ও তু লিয়া লিবেক বটে। বাঁধবেক ক্যানে তারে? সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে বাঁধবোনাতো কি সোহাগ করবো বসে বসে? এত দরদ থাকে তো খাজনাটা শোধ করে নাতজামাইকে নিয়ে যাও।
খাজনাও দিবেক লাই, জমিনও আর করবেক লাই। উহারে ছেড়ে দ্যান বটেক । ছেড়ে দেবো!
দিবেক বটে। পূজার দিন আছে। ধরমের দিন। উহারে বাঁধবেক ক্যানে তুমি? মানুষ তো বটেক, গরু-ছাগল লয়।
ক্ষেপে গেলেন নায়েব। বললেন- “আরে ভাগ ব্যাটা। বেশী বক বক করিসনে। হয় পয়সা ফ্যাল, নয় ভাগ শিল্পির।
ক্যানে, যাবো ক্যানে বটেক? লাভ জামাইরে দেবেক লাই?
তবেরে ।
গর্জে উঠলেন নায়েব । হাঁক দিলেন- “আছিরুদ্দীন-”
ক্ষেপে গেল হারু সাঁতালও। আরো কয়েক ধাপ সামনে এলো হারু। বললো- “বাঁধবেক বটে? তো আছিরুদ্দীন ক্যানে? তু হামারে বাঁধনা দেখি ক্ষ্যামৃতা। ছোটাজাত আছি তো মরদ লাই আছি? আয়না ক্যানে দেখি? হাত দেনা গায়ে? হারুও আজ ছেড়ে কুতা বুলবেক লাই বটে! দ্যাশে বিচার-উচার লাই? মানুষ লয় জমিনদার বাবু?”

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top