মুহাম্মদ ইবন কাসিম – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

মুহাম্মদ ইবন কাসিম – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ আবদুল হক

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৫৮

মুহাম্মদ ইবন কাসিম – বইটির এক ঝলকঃ

দস্যু সর্দারের পায়ে বেড়ি লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। দিলীপ সিংহের নির্দেশ ছিল, তাকে যেন কোন রকম বিশ্বাস না করা হয়। দু’বেলা তার খাবার পৌঁছিয়ে দেয়ার ভার ছিল আলীর উপর। আলী সর্বদাই ভাবতো হয়ত তার পেট ভরেনি।
যুবায়রের ব্যবহার তার কাছে অপ্রত্যাশিত ঠেকছিল। যুবায়র রোজ দু’একবার তার কাছে যেতেন। প্রথমে তিনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা সিন্ধীতে তার সঙ্গে কথা বলতে চেষ্টা করেন; কিন্তু তিনি শীঘ্রই জানতে পারলেন সে অনায়াসে আরবীতে কথা বলতে পারে ।
একদিন সে যুবায়রকে বলল মৃত্যুর অপেক্ষায় বেঁচে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর। যদি আমাকে দয়া করতে না চান তবে আমার প্রাপ্য শাস্তি তাড়াতাড়ি দিলেই আমি সুখী
হব।
যুবায়র জবাব দিলেন- তোমার বৃদ্ধ বয়সের উপর আমার কৃপা হয়। কিন্তু মুক্ত হয়ে তুমি আবার দস্যুতা আরম্ভ করবে না- সে সম্বন্ধে আমি যতক্ষণ পর্যন্ত স্থির নিশ্চয় না হতে পারি, ততক্ষণ তোমাকে কয়েন থেকে ছাড়া সম্ভব নয়।
সে জবাব দিল- আমার জাহাজ ডুবে গেছে। বাকী জীবন বনে লুকিয়ে কাটানো ছাড়া এখন আর আমি কি করতে পারি?
দস্যু সর্বত্রই বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। তুমি সমুদ্রে জাহাজ লুট করতে। ডাঙ্গায় লোকের বাড়ীতে ডাকাতি করবে। আমি যদি তোমাকে বসরা নিয়ে যাই সেখানে সম্ভবত তোমার হাত কেটে দেয়া হবে। তোমার বিচার জয়রামের হাতে ছেড়ে দিলে বাকী জীবন তোমাকে জেলের কঠুরীতে কাটাতে হবে ।
দস্যু সর্দার জবাব দিল- আপনার সরকারের কথা কিছু বলতে পারি না। কিন্তু আমি অবশ্যই বলবো আমাকে শাস্তি দেয়ার কোন অধিকার দেবল সরকারের নেই।
তা কেন?
কারণ এই যে, গত ক’বছর ধরে আমি সমুদ্রে জাহাজে আরোহণ করে যা করছি, সিন্ধু রাজও সিংহাসনে বসে তাই করছেন। পার্থক্য শুধু এই যে, তাঁর কর্মচারীরা দুর্বল ও দরিদ্রের শোষণ করে এবং আমার সাথীরা ছোট ছোট নৌকার পরিবর্তে কেবল বড় জাহাজ লুট করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উভয়ের ব্যবসা একই। তবে আমাদের নাম ভিন্ন । আমি ডাকাত আর তিনি রাজা। তাঁর পিতাও তাঁর মত রাজা ছিলেন, কিন্তু আমার পিতা ডাকাত ছিলেন না। আমি নিজেও ডাকাত হতাম না। কিন্তু রাজার অত্যাচার আমাকে ডাকাত বানিয়েছে। যা হোক এসব কথা বলে কোন ফল নেই। আপনি বিজয়ী এবং আমি পরাজিত। কিন্তু আমি এটুকু প্রার্থনা করব যে সিন্ধু-রাজের কৃপা ও দয়ার উপর না ছেড়ে আপনি আমাকে যে শান্তি দিতে চান দিন ।
যুবায়র বললেন- আমি তোমার পূর্ণ কাহিনী শুনতে চাই।
কিছুক্ষণ ভেবে দস্যু সর্দার সংক্ষেপে তার কাহিনী এরূপ বর্ণনা করল :-
॥ দুই ॥
আমার নাম গংগু। সিন্ধু নদীর তীরে এক ছোট গ্রামে আমার জন্ম হয়। পিতার ন্যায় আমিও জেলের জীবিকা অবলম্বন করি। বিশ বছর বয়সে আমার পিতা-মাতার মৃত্যু হয়। আমাদের গ্রামে এক বালিকা ছিল। নাম লজ্জাবতী। ছিলও সে লজ্জাবতী। তার চক্ষু হরিণ নয়নের চেয়েও অধিকতর মনোহর এবং তার কন্ঠস্বর কোকিলের চেয়েও মধুর ছিল। লোকে তার নাম দিয়েছিল জলপরী। গ্রামে এমন যুবক ছিল না, যে লাজুর জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু সে শুধু আমাকেই ভালবাসত। তার পিতা ছিল সরল প্রাণ। একবার বর্ষায় নদীর স্রোত অত্যন্ত প্রবল হয়ে ওঠে। লজ্জাবতীর পিতা পণ করল, যে ব্যক্তি সাঁতরিয়ে নদী পার হতে পারবে তার সঙ্গেই সে মেয়ের বিয়ে দেবে। গাঁয়ে ভালো ভালো সাঁতারু ছিল। কিন্তু বর্ষায় নদীর অবস্থা দেখে কেউ পানিতে ঝাঁপ দিতে সাহস করল না। লাজুর জন্য আমি প্রাণ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলাম। আমি শর্ত পূর্ণ করি। কয়েকদিন পরেই লজ্জাবতীর সাথে আমার বিয়ে হয়।
আমরা উত্তরে সুখী ছিলাম। অধিকাংশ সময় নৌকাতেই কাটাতাম। আমি মাছ ধরতাম আর সে ভাত রাঁধত। রাত্রে আমরা হাসতাম, গাইতাম। তারার ছায়ার ঘুমিয়ে পড়তাম। সে ছিল এক অপূর্ব সুখের জীবন।
এ পর্যন্ত বলার পর গংগুর চোখে অশ্রু উথলে উঠলো। অনেকক্ষণ পর্যন্ত ফুঁপিয়ে কেঁদে আবার তার কাহিনী শুরু করল-
কিন্তু কালচক্র লাজুকে আমার কাছ থেকে চিরকালের জন্য ছিনিয়ে নিল। আমার জানা ছিল না নীচ জাতীয় দুর্বল লোকের পক্ষে সুন্দরী স্ত্রী রাখা পাপ। আমাদের গ্রাম থেকে এক ক্রোশ দূরে সে অঞ্চলের মোড়ল শহরে বাস করত। কয়েকজন সিপাই নিয়ে সে একদিন নদীর পাড়ে আসে এবং তাদেরকে নদী পাড় করে দিতে আমাকে আদেশ করে। নৌকায় উঠে সে নির্লজ্জভাবে লাজুর দিকে পাপ দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল । তার প্রশ্নের উত্তরে আমাকে বলতে হয় সে আমার পত্নী। সে বলে ওঠে- একে জেলের মেয়ে বলে মনে হয় না। তুমি কোথা থেকে একে এনেছ? আমি তার কোন জবাব দেইনি। অপর তীরে পৌঁছে সে বলে- সন্ধ্যায় আমি ফিরে আসব। তুমি ততক্ষণে আমার জন্য অপেক্ষা করবে। কিন্তু সে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসে এবং আমি তাকে নদীর পার করে দেই। আমার নাম জেনে নিয়ে সে চলে যায়। এর পরে গ্রামের জেলেদের মাছ ধরা দেখার ছলে সে মাঝে মাঝে আমাদের গ্রামে আসতে থাকে। লোকের সাথে ভালভাবে মিশত বলে গ্রামবাসী খুশী হত। লাজু একদিন আমাকে বলে মোড়লের উদ্দেশ্য ভালো নয় । সে আমার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ।
এক সন্ধ্যায় লাজু যথারীতি নৌকায় ভাত রাঁধছিল। মোড়ল ঘোড়ায় চড়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল কোন তাজা মাছ আছে কিনা। থাকলে নিয়ে এস। কিছুক্ষণ আগে আমি দু’টি বড় মাছ ধরেছিলাম। তাই নিয়ে এলাম। মাছ নিয়ে তার সঙ্গে যেতে সে আমাকে আদেশ দিল। শহর বেশী দূরে ছিল না। আমি লাজুকে বললাম- রান্না শেষ হতে না হতেই আমি ফিরে আসব ।
আমি তার ঘোড়ার পিছে পিছে হেঁটে যাচ্ছিলাম। পথে ঝোঁপের আড়াল থেকে দশজন লোক বের হয়ে আমাকে হঠাৎ আক্রমণ করল। আমি তাদের হাত হতে মুক্ত হবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম। কিন্তু একজন আমার মাথায় লাঠি মারার আমি অচেতন হয়ে পড়ে গেলাম। এরপরে যখন আমার চেতনা ফিরে এল তখন আমি এক অন্ধকার কুঠরীতে আবদ্ধ।
॥ তিন ॥
দু’দিন পর্যন্ত আমি ক্ষুধা তৃষ্ণায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে থাকি। তৃতীয় দিনে কুঠরীতে দরজা খোলা হয়। লজ্জাবতী তিনজন লোকসহ কুঠরীতে প্রবেশ করে। একজনের হাতে সামান্য আহার্য ও পানি ছিল এবং দু’জনের হাতে নগ্ন তরবারি। লাজুর চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল। তার চোখ দেখে মনে হচ্ছিল, অশ্রুর সমস্ত পুঁজি নিঃশেষিত হয়ে গেছে। তার উপর চোখ পড়তেই ক্ষুধা তৃষ্ণা ভুলে গেলাম। আমার মনে হচ্ছিল লাড দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরি। কিন্তু আমার হাত-পা বাঁধা ছিল। লাজু সিপাইদের দিকে তাকালো। তারা তলোয়ার দিয়ে আমার বন্ধন-রজ্জু কেটে দিয়ে বাইরে চলে গেল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম- লাজু, তুমি এখানে কি করে এলে? ঠোঁট কামড়িয়ে কান্না রোদ করে সে আমার গলা জড়িয়ে ধরে। কিন্তু সে অকস্মাৎ ভীত হয়ে আমাকে ছেড়ে দিল এবং দরজার দিকে তাকাতে লাগল। সে আমাকে বললো আমি চলে আসার কিছুক্ষণ পরে, কয়েকজন লোক গিয়ে নৌকা আক্রমণ করে এবং তাকে ধরে মোড়লের কাছে নিয়ে যায়। আমার অবস্থা তার জানা ছিল না। অসৎ জীবন যাপন করার চেয়ে সে জীবন বিসর্জন দেওয়া শ্রেয় মনে করছিল। কিন্তু মোড়ল তাকে আমার বন্দীদশার কথা বলে ভয় দেখায় যে, সে যদি অসতী জীবন যাপন করতে রাজি না হয় তবে তার স্বামী বন্দী অবস্থায় ক্ষুৎ পিপাসায় তিলে তিলে শুকিয়ে মারা যাবে।
সে এসেছিল আমাকে বলতে- গংগু তুমি মুক্ত। তুমি চলে যাও এবং মনে করো তোমার লাজু মরে গেছে। সে নিজের সতীত্বের বিনিময়ে আমার যুক্তি ক্রয় করেছিল। কিন্তু আমি তাকে ভুল বুঝেছিলাম। আমি মনে করেছিলাম সে গরীব জেলের নৌকা ছেড়ে ধনীর প্রাসাদে বাস করতে চায়। আমি রাগে অন্ধ হয়ে তাকে ভর্ৎসনা করি ও কটু কথা বলি। এমন কি কয়েকটি থাপ্পড়ও মারি। প্রস্তর মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে সে আমার সব অত্যাচার সহ্য করে। সে শুধু বলে- গংগু অসতী জীবনের মৃত্যুই আমি শ্রেয়ঃ মনে করি । আমি এখানে এসেছি শুধু এই জন্য আমার জীবনের চেয়ে তোমার জীবন আমার কাছে অধিকতর প্রিয়। ভগবানের দোহাই, তুমি যাও। এ সুযোগ হারিয়ো না। তুমি মুক্ত হয়ে হয়তো এই জালিমের হাত থেকে আমাকে বাঁচাবার কোন ব্যবস্থা করতে পারবে ।
তার অশ্রু ও কান্না আমার ভুল সন্দেহ ভেঙ্গে দিলো। আমি তাকে আবার গলায় জড়িয়ে নিলাম। তাকে প্রতিশ্রুতি দিলাম আমি শিগগীর ফিরে আসব। আমি এই কুটীরের ইট একটি একটি করে খসিয়ে ছাড়ব।
বন্দীশালার দরজা আবার উন্মুক্ত হলো। সিপাহীদের পরিবর্তে সে পিশাচ প্রবেশ করল। তার হাতে নগ্ন তরবারি না থাকলে আমি নিশ্চয় তাকে আক্রমণ করতাম। সে লাজুকে বলল- এখন বলো তুমি কি স্থির করলে। এর জীবন তোমার হাতে।
লাজু উত্তর দিলো- আমি যদি আপনার শর্ত মানি, তাহলে আমার স্বামী জীবিত ও নিরাপদে শহর থেকে যে বের হয়ে যেতে পারবেন, তার প্রমাণ কি?
সে বলে- আমি কথা দিচ্ছি।
অশ্রু ফেলতে ফেলতে লাজু তার সাথে চলে গেল। চারজন সিপাই আমাকে শহরের বাইরে নিয়ে এল। তাদের হাতে নগ্ন তলোয়ার ছিল। মোড়লের প্রতিজ্ঞার উপর আমার বিশ্বাস ছিল না। শহরের বাইরে নদীর ধারে ধারে অনেকদূর পর্যন্ত ঘন বন ছিল। সেখানে পৌঁছার পর এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে আমার উপর আঘাত হানে। আমি আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় এক পাশে সরে গিয়ে বেঁচে যাই। তখন চারজন এক সঙ্গে আমাকে আক্রমণ করে। কিন্তু দৌড়ে আমি তাদের চেয়ে ক্ষিপ্র ছিলাম। কাজেই বনের মধ্যে ঢুকে এক ঘন ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকি। তারা কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।
সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে নদীর তীরে পৌঁছলাম। আমার নৌকা আগুনে জ্বলছিল। সেখানে চার সিপাই তীরে দন্ডায়মান ছিল। এসব ঘটনায় আমার মত শান্তি-প্রিয় লোককেও পিশাচে পরিণত করে। আমি গ্রামে দৌড়ে গিয়ে চিৎকার করে উঠলাম। আমার কন্ঠস্বরে এক প্রভাব ছিল। অল্পক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন যুবক লাঠি ও কুড়াল নিয়ে এসে আমার সাথে জুটল। আমাদের দেখে সিপাইরা হতবুদ্ধি হয়ে দৌড় দিল। কিন্তু কাউকে জীবন্ত ফিরে যাবার সুযোগ দিলাম না। তাদের হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিলাম। মধ্যরাত্রি পর্যন্ত জেলেদের কুড়ি-পঁচিশটি বস্তি থেকে প্রায় দু’শ যুবক সংগ্রাম করলাম। তৃতীয় প্রহরে মোড়লের গৃহের উপর আক্রমণ করলাম । শহরবাসী তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েছিল। কেউ তার সাহায্যের জন্য অগ্রসর হলো না। তার জন্য কয়েক সিপাই বাধা দিতে চেষ্টা করল। কিন্তু অধিকাংশ পরের ঘরে আশ্রয় নিল। আমি মোড়লকে পাকড়াও করে লাজুর কথা জিজ্ঞেস করলাম। প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তরে সে জবাব দিতে লাগল- আমি নিরপরাধ। ভগবানের দোহাই, আমাকে ছেড়ে দাও।
আমি মশাল দেখিয়ে তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ভয় দেখলাম। তখন সে গৃহের এক নিচের ঘরে আমাকে নিয়ে গেল। বিছানায় লাজুর লাশ দেখে আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম। সে করজোড়ে বলতে লাগল আমি তাকে হত্যা করিনি। সে নিজেই ছাদ হতে লাফ দিয়ে পড়েছে। তুমি সিপাইদের জিজ্ঞেস করতে পার। ভগবানের দোহাই, আমার উপর দয়া কর।
আমি জ্বলন্ত মশাল তার চোখে ঢুকিয়ে দেই এবং কুড়াল দিয়ে কোপাতে কোপাতে তাকে খন্ড-বিখন্ড করে ফেলি।
এরপর থেকেই আমি ডাকাতে পরিণত হই। আমার মনে কারো জন্য দয়া ছিল না। আমি সর্দারের গৃহ লুট করি। রাজার সৈন্যরা ডাঙ্গায় আমাদের কাবু করতে চাওয়ার আমি নদী পথে সমুদ্রের দিকে যাত্রা করি। দেবল বন্দর থেকে রাত্রি বেলায় আমি দু’টি জাহাজ চুরি করি। তারপর এ পর্যন্ত আমি অনেকগুলো জাহাজ লুট করেছি। যারা রাজা ও মোড়লদের সাহায্য করে তাদের প্রত্যেককে আমি শত্রু মনে করি। প্রত্যেক ধনীর মধ্যে আমি সেই পিশাচ মোড়লের আত্মা দেখতে পাই। প্রত্যেক উচ্চ প্রাসাদে লজ্জাবতীর উৎপীড়িত আত্মা প্রতিশোধের জন্য চিৎকার করছে শুনতে পাই।
যুবায়র বললেন- ঐ মেয়েটির মর্মস্তুদ মৃত্যুর জন্য আমি বিশেষ দুঃখিত। মোড়লের সঙ্গে তোমার যুদ্ধ ন্যায়সঙ্গতই মনে হবে। একজনের অত্যাচারের প্রতিশোধ তুমি অন্যের উপর নিতে চাও কোন যুক্তিতে? তুমি আমাদের জাহাজ আক্রমণ করেছিলে। কিন্তু এতে কোন মোড়ল আরোহী ছিল না। এতে ছিল কতগুলো এতিম শিশু এবং বিধবা নারী।
গংগু বললো- আমি দুঃখিত। কিন্তু অপর জাহাজের উপর লংকারাজের পতাকা উড্ডীয়মান ছিল এবং আপনি তার সহায়ক ছিলেন। তা সত্ত্বেও আপনার জাহাজে নারী ও শিশু আরোহী ছিল জানা থাকলে আমি কখনো আক্রমণ করতাম না। কয়েক মাস আগেই এই সাগরে আপনার দেশীয় আর একটি জাহাজ দেখেছিলাম। তাতে পুরুষদের সাথে কয়েকজন নারীও ছিল- কেবল এই কারণেই তা আমি ছেড়ে দেই।
খালিদ এ কথা শুনে চিৎকার দিয়ে বললো- তাতে কি কয়েকজন লংকাবাসী নাবিকও ছিল?
হাঁ ।
তা’হলে সেটা আব্বার জাহাজ ছিল। এ পর্যন্ত তার কোন পাত্তা নাই। তুমি মিথ্যা কথা বলছ। তুমি তাঁর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছ।
গংগু জবাব দিল- আমি জাহাজটি ডুবিয়ে দিয়ে থাকলে একথা এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল না।

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top