ইয়েমেনে একশত বিশদিন – মোঃ আজিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

ইয়েমেনে একশত বিশদিন – মোঃ আজিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১২০

মোঃ আজিজুল ইসলাম – বইটির এক ঝলকঃ

মাখাল ঐদিকে কাত করে দেয়। পাতার চিকন ডাটাগুলো সুন্দর ও শক্ত ঝাঁটা হিসাবে ব্যবহার হয়। যাহোক সকালে খিচুরী খাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে দোকানে যেয়ে আবার ধাক্কা খেলাম। দোকানে পেয়াজ ছাড়া মসল্লা নাই। কাঁচামরিচ চাইলাম, কিন্তু পাব কি ভাবে? ঝালকে এরা বিষ মনে করে। তাই কালজিরা এবং ঐ টাইপের অন্য এক রকম বিচি দিল। রসুন নাই। ফিলফিল (কাঁচামরিচ) এর বদলে শেষে বাড়ীর ভেতর থেকে দুইটা আধাভাঙ্গা শুকনা মরিচ দিল। রশুন বুঝাতে শেষতক পিয়াজ হাতে নিয়ে বলা হল এই রকম সাদা এবং ভেতরে অনেক গোটা মিলে একেকটা হয়। পরে বুঝতে পেরে একজন বাড়ী থেকে একটা বড় রশুন নিয়ে এল । এখানে এ্যাংকর ও সোয়াবিনের ডাল বেশি চলে। চাল প্রায় প্রত্যেক ছোট বড় দোকানেই পাওয়া যায়। এখানের তরমুজ (হাবহাব) গুলো আমাদের দেশের বড় বেলের সমান। ভেতরটা লাল এবং বেশ মিষ্টি। ঝাল হিসাবে অনেকে গোল মরিচও ব্যবহার করে। মরিচের ঝাল দেখলে বিষ বিষ বলে আতঙ্কিত আওয়াজ তোলে।
দিয়ারে জব্বাল-এ আমাদের থাকার কথা দুই দিন। এই মরু এলাকার মেয়াদ আমাদের জন্য বিশ দিনের। ফলে এই মসজিদে আমাদের থাকার মেয়াদ তিন দিন হলেও কোন একটি বিশেষ মসজিদে দুই দিন থাকতে হবে। এলাকার নাম জব্বাল—তাই মসজিদের নাম দিয়ারে জব্বাল। অন্যান্য মসজিদের মতো এরও উঠানের কিছু অংশ পাকা করা। গতকাল রোববার ৮/২/০৯ ছিল পূর্ণিমা। মসজিদের বাইরের চত্বরে মাগরিব এর নামাজের আগে জায়নামাজ বিছিয়ে জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যে কোন কারণেই হোক স্থানীয় পাওয়ার সাপ্লাই কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ দিতে দেরী করল। ফলে ভরা পূর্ণিমার আলোয় এত চমৎকার একটা স্নিগ্ধ ও মায়াময় অবস্থার সৃষ্টি হল যা শুধুই অনুভবের। প্রায় সত্তর/আশি জন মানুষ – নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছে। অনেকটা ইংরেজি সাহিত্যের কবি কোলরিজের দি রাইম অফ দি এনসেন্ট মেরিনার কবিতার সেই “Painted ship in a painted occan” (আঁকানো সমুদ্রের বুকে আঁকানো জাহাজ) এর মতো মনে হল। ছোট বাচ্চা মজমায় প্রায় নাই বললেই চলে। এখানে দেখলাম, শ্রোতাদের মধ্যে যুবক শ্রেণীর সংখ্যাই বেশি। মনে হয় এলাকার যুবকেরা চাকুরীর চেয়ে জমিতেই বেশি কাজ করে।
দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যার আগেই খবর পেলাম বা’দাল এশা আমাদের পরবর্তী মসজিদে চলে যেতে হবে। ভাই মওলানা আব্দুল আওয়াল গতকালই বিশেষ করে অনুরোধ করে এলাকার সাথীদেরও রাজী করিয়ে রেখে গেছেন। মসজিদুল হিন্দ এখান থেকে দশ/পনর কি.মি.। প্রথমে বড় রাস্তা দিয়ে উত্তরে যেতে হবে। সন্ধ্যার পর পরই গাড়ী এল। আজও মসজিদের বাইরেই চাঁদের আলোয় বয়ান হল। আজও অনেক মেহমান এসেছিলেন। নামায শেষ হতে না হতেই রাতের খাবার এসে হাজির। স্থানীয় সাথীরা আমাদেরকে না খাইয়ে যেতে দেবেন না । সুতরাং বসতে হল। স্থানীয় তিনজন সাথী দুই দিন হল আমাদের সঙ্গে তিনদিন এর সময় লাগাচ্ছিলেন। তারাও একদিনের জন্য আমাদের সঙ্গে রওয়ানা হলেন।
ইয়েমেন এয়ারপোর্টে আমাদের ভিসা দিয়েছিল মাত্র দুই মাসের জন্য। এটাই এদেশের নিয়ম, বিশ/পঁচিশ দিন পর সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে হয় একটা মোটা অংকের ফিসসহ। পূর্বের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজকে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ফিসসহ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে ভাই আলী হাসান নাজ্জারী ভোর বেলায় মোটর সাইকেল নিয়ে এ মসজিদে এসে হাজির। আমির সাহেবও আগে থেকেই তৈরি ছিলেন, তবু স্থানীয় সাথীদের অনুরোধে নাস্তা করেই দুই জনে হুদাইদার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। আমির সাহেব ছিলেন আমাদের একমাত্র মুতারজেম। তবু আমাদের সঙ্গে মুতারজেম কেউ না থাকলেও আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে থেকে গেলাম। কথা ছিল বারটার মধ্যেই উনারা কাজ শেষে ফিরে আসবেন, কিন্তু হুদাইদায় মার্কাজের মাশোয়ারা ঐ দিন এশাবাদ ছিল বিধায় তাদের বেশ রাত করে ফিরতে হল। তবে এতে অবশ্য আমাদেরই লাভ হল। পরবর্তী বিশ দিনের রোখ মার্কাজ থেকে উনারা দিয়ে দেওয়ায় আমাদের আর হুদাইদা যেতে হবে না। বর্তমান মসজিদে তিনদিনের বদলে দুইদিন এবং পরের রোখের বিশ দিনের মেয়াদকে একুশ দিন করে দিলেন উনারা। যাই হোক ফয়সালা আসমানের এবং আমাদের জন্য সর্বাবস্থায় আলহামদুলিল্লাহ।
এই এলাকা শস্য শ্যামল, দিগন্ত ছোঁয়া ফসলের ক্ষেত আমাদের দেশের ধান সবুজ মাঠের কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে এখন ফসল তোলা সবে শুরু হয়েছে। বিশাল বিস্তৃত মাঠে বলিষ্ঠ জোয়ারীর ঘন সবুজ আস্তরণ। মাথায় সোনালীর বদলে গাঢ় চকলেট অথবা সবুজের আলপনা। মাঝে মধ্যেই ক্ষেতের মাঝে খোলা তৈরি করে ফসল কেটে জাগ দেওয়া হয়েছে। ধানের পালার মতো গোল করে এক আটির উপরে অন্য আটি না বিছিয়ে, এখানে আটি গুলি খারা লম্বা করে সাজানো হয়, ফলে দূর থেকে চুড়া উঁচু কুঁড়ে ঘরের মতো দেখায় । জমি দেখে মনে হল, এখানে ডিপ টিউব অয়েলের মাধ্যমে গম ও আলু চাষ করলে গোলায় ফসল ধরবে না। এসব কিছু দেখলাম জিয়ারার সময় মাঠের মধ্য দিয়ে জোয়ারী বনের মাঝ দিয়ে এক শেখের খামার থেকে অন্য শেখের খামারে যাওয়ার সময়। এখানে আধুনিকতার আরো কিছু লক্ষণ টের পাওয়া গেল। কিছু কিছু বাড়ীর ভেতরে ঘরের সামান্য উপরে টিভির এন্টিনা দেখা যাচ্ছিল বলে। তবে বাইরে কোথায়ও টিভি বা রেডিও দেখা গেলনা এবং কোন বাড়ীর বাইরে থেকেই কোন প্রকার আওয়াজও পাওয়া গেলনা। ছোট ছেলেরা মসজিদে এবং ছোট মেয়েরা কোন বাড়ী বা চারদিকে ঘেরা কোন মাদ্রাসায় দিনে প্রথম ব্যাচ ও বিকাল / সন্ধ্যায় এক ব্যাচ পড়তে আসে। উপস্থিতি প্রচুর এবং পড়ার ব্যাপারে বেশ কড়াকড়ি আছে। এখানে এসে আরো একটা ছোট পরিবর্তন চোখে পড়ল। বোরখা কালো থাকলেও দুই একটা ছাত্রীর ওরনা রঙ্গীন। বাবলা গাছ প্রায় নাই তবে প্রচুর বড়ই গাছ এবং প্রতিটি গাছই অসম্ভব রকমের ফসলের ভারে অবনত। কিন্তু খাওয়ার মানুষ কৈ? খাওয়ার বিষয় খুব বেশি লিখেছি জন্য ভেবেছিলাম এ বিষয়টি আর কোন বর্ণনায় আনব না। কিন্তু আজ দুপুরের কথা না লিখে পরলাম না। এক শেখের বাড়ী দুপুরের দাওয়াতে গাড়ী করে নিয়ে পেল । আলহেলাল মসজিদে বয়ান করা সেই বিখ্যাত ইয়ামেনী আলেম ড. মওলানা আহমদ হোসেন জিবরান হঠাৎ করে দুপুরে এক নং ফুটবলের সাইজের কতগুলো খিরা ও একঝুরি কলা নিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসে হাজির। খুবই গুনী মানুষ। প্রথমে সউদি আরবে পড়াশুনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে সুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন ছয় বৎসর। তারপর আবার কিং ফাহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বৎসর পড়ে ডক্টরেট ডিগ্রী নিয়েছেন। অসম্ভব ব্যস্ত মানুষ- বহু জায়গায় পড়াতে হয়। এলাকার তিনশত মাদ্রাসার তিনি প্রিন্সিপাল। তাছাড়াও অনেক সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আসায় আমরা খুবই খুশি হলাম ও আমরা উনাকে নিয়েই দলবেঁধে দাওয়াতে গেলাম এবং যথারীতি চমকে গেলাম। কমপক্ষে একেকটা ষোল/সতের ইঞ্চি করে লম্বা গোটা গোটা কালচাদা (রূপচাঁদার মতো ছোট সাইজের নয়) জাতীয় মাছ আগুনে ভাজা, প্রত্যেক বড় প্লেটে দুইটা করে। সঙ্গে গোস্তসহ অন্য তরকারী ছালাদ ইত্যাদি তো আছেই, কমপক্ষে দশ/বারটা মাছ। আল্লাহু খায়রুর রাজেকীন।
সকালের সালাতের পর বাইরে এলাম। এখনও সূর্য উঠেনি, পুব দিগন্তে হালকা লাল গোলাপী ছোপ পড়তে শুরু করেছে কেবল। পূর্ব দিগন্ত জুড়েই পাহাড়, হালকা কালো আঁকা বাঁকা উঁচু নিচু অসমতল খাঁজকাটা। মনে হল, আকাশে হেলান দিয়ে থাকা পাহাড়ের ঘুম এখনও ভাঙ্গেনি। একটু ক্ষণ পরেই বোধহয় ধরমর করে উঠে বসবে।
আমাদের দুয়ারে পালকি দাঁড়িয়ে। মওলানা ইয়াহ্হিয়া তার গাড়ী নিয়ে এসেছেন নুতন মসজিদে লিফট দেবেন বলে। ঐ এলাকায় তার ছোট ভাইয়ের বাড়ী। আজকেই সন্ধ্যার পর ভাই আব্দুল্লাহর বিয়ে। আবার এলাকার মাসতুরাত জামাতও কিছু পরে এসে তার বাড়ীতেই উঠবে। প্রচন্ড ব্যস্ততা তবু তিনিই লিফট দেবেন আর কাউকে সুযোগ না দিয়ে।
মসজিদটির নাম দারে খালাইয়া। বেশ বড় ও পুরাতন মসজিদ- পরে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। মসজিদে পানির ট্যাঙ্কি নষ্ট। চিন্তার ভাজ কপালে- কিন্তু সমাধান হতে বেশি সময় লাগল না। সাথী ভাই মোটর সাইকেল চালিয়ে চলে গেলেন। আমাদের মাশোয়ারা শেষ হয় নাই- এর মধ্যেই গাধার পিঠের দুই পাশে দুইটা করে চল্লিশ গ্যালন ভরা পানি নিয়ে ছোট ছোট মেয়েরা এসে হাজির। এক এক করে বারটা গ্যালন জমা হল। এর মধ্যেই বড় একটা ড্রাম এসে হাজির। বড় ড্রামে পানি ঢেলে রেখে বাচ্চাগুলো আবার গাধার পিঠে রওয়ানা হল। এর মধ্যে সাইকেলের ভটভটি বাজিয়ে সাথী ভাই ফিরে এলেন, সম্মুখে সাইকেলের উপরে বসানো খাওয়ার পানি ভরা ট্যাঙ্কি। সব মসজিদের এলাকায়ই দশটা থেকে বারটার মধ্যেই বরফ নিয়ে ট্রাক আসে। যার যা প্রয়োজন বরফের চাই নিয়ে খাওয়ার পানির ট্যাংকিতে ছেড়ে দেয়। সারাদিন রাত বরফ গলানো ঠান্ডা পানি খেতে বড় আরাম লাগে। পানি ঘরে নিয়ে রাখা হল এবং যথাসময়ে বরফ এল । অবশ্য ঠান্ডা পানিসহ ছোট একটা ট্যাংকি আগেই কেউ একজন দিয়ে গিয়েছিলেন। হঠাৎ পলিথিনের প্যাকেটে আমাদের জন্য কয়েকটি তুলসি পাতার মতো গুল্ম গাছের পাতাসহ ছোট ছোট ডাল নিয়ে একটি ফুটফুটে ছোট মেয়ে এসে হাজির। জিজ্ঞেস করে জানলাম এটা রাইয়ান গাছের ডাল ও ফুল। বেশ সুগন্ধি। বেহেশতী বান্দাদের জান কবজের সময় পাঁচশত ফেরেশতা এই ডাল নিয়ে এস্তেকবাল করতে আসবে। খুব যত্ন করে রেখে দিলাম।
দুপুরে বিয়ে বাড়ীতে দাওয়াত। এ দাওয়াত অবশ্য সাত দিন আগেই নাজারিয়া মসজিদে পাওয়া। এই সুযোগে এ দেশের বিয়ের কিছু খন্ড চিত্র পাওয়া গেল। মেয়েরা এখানে পিতামাতার গলগ্রহ নয়। সমগ্র আরবেই মেয়ের বিয়েতে বাপ মায়ের দুশ্চিন্তা নাই। ছেলে পক্ষকে মেয়ের নগদ মোহরানা দিতে হয় প্রচুর। এছাড়া মেয়ের কাপড়-চোপড়সহ অলঙ্কারাদি, প্রসাধনি, ওলিমার যাবতীয় খরচ সবই বরকে দিতে হয়। গালেব আব্দুল্লাহ আব্বাসী তবলীগের সাথীর মেয়েকে বিয়ে করছে। মাত্র দুই লাখ রিয়েল দেনমোহর দিতে হয়েছে। না হলে কমপক্ষে পাঁচ/সাত রিয়েল দিতে হত। এখানে বিয়েতে মেয়েদের বাড়ীতে কোন খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা নিষেধ। যে জিনিষটি আমার কাছে বেশি গুরুত্ব পেল তা হল বিয়ের বাসর ঘর। চারদিকে ঘেরা ফসলের ক্ষেতের মধ্যে পাথরের ব্লকের প্রাচীর ঘেরা বাড়ী, দুইটা গাধা, তিনটা গরুওয়ালা সচ্ছল গৃহস্ত পরিবার। নিজস্ব সেচ ব্যবস্থাপনা। সকালেও আসার সময় আট/দশটা বোরখা পড়া মেয়েকে বাড়ী সংলগ্ন জমিতে কাজ করতে দেখেছি। এসব মেয়েদের স্বামীরা বিদেশে চাকুরী করে আর মেয়েরা পরের জমিতে কাজ করে। বিয়ে বাড়ীতে কোন সাজ সজ্জা নাই । যেখানে মেহমানদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে তার পাশেই একটা টং-এর মতো ঘর। দেওয়ালের জংলা গাছ-গাছরার মধ্যে তিলের গাছও দেখলাম। অন্যসব বাড়ীতে দেখা ঘরের মতোই গোল করে আবর্জনা দিয়ে হাওয়া। ভেতরে দুই/তিনটা নূতন খাটলা ও কয়েকটা বালিশ। সম্মুখে ঢোকার একটি জায়গা— দরজাও বলা যেতে পারে। এটাই হল বরবধূর বাসর ঘর। রাত্রে একটা পর্দা অথবা চাদর দরজায় টাংগানো হবে। আর কোন কিছুই নাই। বাচ্চা না হওয়া পযন্ত নতুন দম্পতি এই ঘরে থাকবে। বাচ্চা হলে পাশেই নিজের পাকা ঘরে স্বামী স্ত্রী পার হবে। হুজুর পাক (স.) এর ঘর এরকম সাধারণ ছিল। তাই এই রকম ঘরেই তারা নূতন জীবন শুরু করতে চায়। জানতে চাইলাম, এই পুরাতন ঘরের রহস্য কি? সে জানাল, ঘরটা তার দাদার। তাই এটা পারিবারিক ঐতিহ্য হিসাবে রেখে দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু ওর একার ক্ষেত্রে নয় বরং সামজিকভাবেই ওরা এটা মেনে চলার চেষ্টা করে থাকে। বরের বাড়ীতেই দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট বড় সব ধরনের পুরুষ মানুষ দাওয়াতের খানা খেল। কিন্তু একটা ছোট্ট মেয়েকেও সেখানে দেখলাম না। বাড়ীতেও গান বাজনা বা হৈ চৈ নাই । পোলাও এর উপরে রাংতায় মোড়া গোস্ত ও বাটিতে সুপ । সবার জন্য একই রকম খাবারের ব্যবস্থা। শুনলাম, বর বিয়ে করতে যাবে রাত দশটায়। মনে মনে বরের বিয়ের সাজ গোজ ইত্যাদি দেখার খুব ইচ্ছা ছিল । এশার নামাযের পর বিয়ে বাড়ীতে যেয়ে দেখি ওখানেই একটা খাটলায় বর বসে আছে। একটা খাটলার উপর একটা নতুন কম্বল বিছানো, তার উপর দুই ধারেই চারটা করে আটটা বালিস। এসব খাটলার প্রত্যেকটায় একজন করে বসতে হয়। দেখলাম এক দিকের বালিশে হেলান দিয়ে বর বসে আছে, অপর দিকের বালিশের সঙ্গে একটা কলাসনিকভ (এ, কে-৪৭)-রাইফেল হেলান দিয়ে রাখা। এখানে প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতেই এ অস্ত্রটা আছে এবং বাড়িতে একটা বন্দুক থাকলে তা নিয়ে আমাদের যত সতর্কতা এদের তাও নেই। একটা লাঠি পড়ে থাকা আর রাইফেল পড়ে থাকা মনে হল একই রকম। বেশ কিছু ছোট ছেলেপেলে (কোন একটা ছোট মেয়েও নেই) ঘুরাঘুরি করছে। তারাও ওদিকে ফিরেও তাকচ্ছে না।
বর উঠে এসে আমাদের সঙ্গে বসে গল্প করছে। দুপুরের পোষাকের সঙ্গে পার্থক্য যা দেখলাম তা হল, বর মেহেদী দিয়ে সারা শরীর ডলে নিয়ে গোসল করেছে। হালকা মেহেদীর রং টের পাওয়া যাচ্ছে। দুপুরের মতই একটা পুরাতন সার্ট ও লুঙ্গি। মাথায় টুপির উপর সাধারণ একটা রুমাল পাগরীর মতো পেঁচানো । নতুনের মধ্যে শুধু একটা মস্তবড় বেলী ফুলের মালা। প্রায় হাটু পর্যন্ত লম্বা। বিয়ের পর বর কনেকে এই মালাটাই পড়িয়ে দেবে। মেয়ের বাড়ীতে বরযাত্রীদের জন্য কোন খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা নাই। বর যাবে, বিয়ে পড়ানো হবে তারপর বরকনেসহ সবাই বাড়ী চলে আসবে। শুনেছি অধিকাংশ বিয়ের ক্ষেত্রেই একই রকম চিত্র। একার ক্ষেত্রে নয় বরং সামাজিকভাবেই ওরা এটা মেনে চলার চেষ্টা করে থাকে।
শরীয়ত মোতাবেক একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটা বিয়ে করার জন্য এদেশে কোনই বাধা, নিষেধ নাই-বিশেষতঃ মেয়েদের পক্ষ থেকে তো একদমই না । #রাবাহিকতায় যদি দশটা বিয়েও করে তর কোন আপত্তি নাই। স্বামীর সংসার

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top