ভয়ংকর ষড়যন্ত্র – আসাদ বিন হানিফ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

ভয়ংকর ষড়যন্ত্র – আসাদ বিন হানিফ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ আসাদ বিন হানিফ

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬৩

ভয়ংকর ষড়যন্ত্র – বইটির এক ঝলকঃ

‘রাতদিন ঘোড়া ছুটাবে। থামবে না কোথাও। ঘোড়া ক্লান্ত হয়ে পড়লে সামনে যাকে পাবে তার অশ্ব বদলে নেবে। দিতে না চাইলে তাকে হত্যা করবে। শত্রুর হাতে পড়লে পালানোর চেষ্টা করবে, না পারলে চিঠি মুখে পুরে গিলে ফেলবে। কোন অবস্থাতেই যেন চিঠি দুশমনের হাতে পড়তে না পারে।’
দূত রওয়ানা হয়ে গেল। দ্বিতীয় চিঠি লিখলেন ভাই তকিউদ্দীনের কাছে। ‘তোমার কাছে যা আছে এবং যে ক’জন
যুদ্ধ করতে পারে তাদের নিয়ে চিঠি পাওয়ার সাথে সাথে কায়রোর দিকে ঘোড়া ছুটাও। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কোথাও থেমো না। তোমার সাথে কোথায় দেখা হবে অথবা আদৌ দেখা হবে কিনা জানিনা। যদি তোমার আমার সাক্ষাৎ না হয়, যদি আমি মারা যাই তুমি অনতিবিলম্বে মিসরের দায়িত্বভার গ্রহণ করো। মিসর- বাগদাদ খেলাফতের অধীন। যাত্রার পূর্বে আব্বাজানকে কদমবুসি করে বলবে, তোমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে। এরপর আম্মাজানের কবরে গিয়ে ফাতেহা পড়ো। আল্লাহ তোমার সঙ্গী। আমি যেখানে থাকব সেখানে ইসলামের পতাকা নত হতে দেবো না। তুমিও মিসরে ইসলামের পতাকাকে উড্ডীন রেখো।’ আরেক জন দুত ডেকে তাকেও পুর্বের মত নির্দেশ দিলেন। রওয়ানা হয়ে গেল ২য় দূতও।
নুরুদ্দীন জংগীর পায়ের কাছে গিয়ে আছড়ে পড়ল দূত। তার বা হাত তরবারীর আঘাতে ছিন্নভিন্ন। পিঠে বিধে আছে একটা তীর। ‘পথে দুশমনের হাতে পড়েছিলাম। কিন্তু চিঠি নিয়ে পালিয়ে আসতে পেরেছি।’ যন্ত্রণাকাতর কন্ঠে বলল দূত। আরো কিছু বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু কিছুই আর বলতে পারল না, তার কন্ঠ স্তব্ধ হয়ে গেল চির দিনের জন্য।
চিঠি তুলে নিলেন জংগী । চিঠি পড়ে অনতিবিলম্বে সুবাকের কাছে পৌছল নুরুদ্দীন জংগীর বিশাল বাহিনী। সুবাকবাসীরা দেখল এক ধুলিঝড় এগিয়ে আসছে। সকলের মনে শংকিত প্রশ্ন, ‘কারা এরা?’
খ্রিস্টানদের আক্রমণ ভেবে তৈরী হয়ে গেল মুসলিম ফৌজ। হঠাৎ ধুলিঝড়ের আড়াল থেকে উঁকি দিল কালিমা খচিত পতাকা। ভেসে এল সৈনিকদের তাকবীর ধ্বনি। তাই শুনে তাকবীর ধ্বনি দিয়ে তাদেরকে স্বাগত জানাল সুবাকের সৈন্যরা। মুসলিম ফৌজকে অভ্যর্থনা জানাতে দুর্গ থেকে বেরিয়ে এলেন সেনা কর্মকর্তাবৃন্দ
একদিন সকালে মিসরের সেনাবাহিনীকে ময়দানে জমায়েত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হল। কেন্দ্রীয় সেনা কমান্ডের এ আকস্মিক নির্দেশে হতবাক হয়ে গেল সৈন্যরা। কেউ বলল, ‘সম্ভবতঃ দেশে বিদ্রোহ হয়েছে।’ আবার কেউ বলল, ‘সুদানীরা মিসর আক্রমণ করেছে।’ কিন্তু কেন জমায়েত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কমান্ডাররাও তা জানতেন না ।
নির্দেশ পেয়ে ফৌজ ময়দানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াল। একদিক থেকে ছুটে এল সাতজন ঘোড়সওয়ার। সওয়ারদের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল সৈন্যদের প্রশ্নমাখা চোখ। অশ্বারোহীদের প্রথমে রয়েছেন সুলতান আয়ুবী । খালি গা। পাজামা ছাড়া পরনে কিছুই নেই। সবাই জানে সুলতান সুবাকের রণাঙ্গনে। সারিগুলোর সামনে দিয়ে দুলকি চালে এগিয়ে গেল আয়ুবীর ঘোড়া। মাঝ বরাবর এসে ঘোড়া থামালেন তিনি। উচ্চস্বরে বললেন, ‘আমার দেহে কি কোন আঘাতের চিহ্ন দেখছো? আমি কি বেঁচে আছি?’
সমস্বরে ধ্বনিত হল, ‘আমাদের সেনা প্রধান, জিন্দাবাদ । আমাদের বলা হয়েছিল আপনি গুরুতর আহত। বাঁচার সম্ভাবনা নেই ।
‘এ খবর যদি মিথ্যে হয় তবে তোমাদের যা বলা হয়েছে তার সবই গুজব। যে সব মুজাহিদদের ব্যাপারে তোমাদের বলা হয়েছে— তাদের স্বর্ণ-রৌপ্য দেয়া হচ্ছে, খ্রিস্টান মেয়েদের নিয়ে স্ফূর্তি করছে ওরা, তার সবই গুজব। অথচ ওরা ঘুরে মরছে বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে। ক্রাক দুর্গ, তার পরের এবং তার পরের দুর্গ পদানত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ওরা। ওরা কেন অনাহারে- অর্ধাহারে পাহাড়ে-পর্বতে ঘুরে মরছে? ওরা ঘুরে মরছে শুধুমাত্র খ্রিস্টান পশুদের হাত থেকে তোমাদের মা, বোন এবং মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষা করার জন্য। সুবাকে দেখেছি যুবতী মেয়েরা খ্রিস্টানদের হারেমে, পুরুষ আর বৃদ্ধরা ওদের বেগার ক্যাম্পে। জেরুজালেম, ফিলিস্তিন এবং ক্রাকের প্রতিটি গ্রামে মুসলমানদেরকে একই অবস্থায়ই আমি দেখেছি। আমাদের অনেক মসজিদ এখন ওদের ঘোড়ার আস্তাবল। পবিত্র কোরআনের পাতাসমূহ শহরের অলিগলিতে পদদলিত হচ্ছে।’
একজন কমান্ডার চিৎকার দিয়ে বললেন, ‘তাহলে এখানে আমরা কি করছি? আমাদেরকে কেন যুদ্ধের ময়দানে নেয়া হচ্ছে না?’
‘আমিই সে প্রশ্ন করছি তোমাদের। তোমাদেরকে এখানে রাখা হয়েছে কি এই কারণে যে, শত্রুরা গুজব ছড়াবে আর তোমরা তা বিশ্বাস করবে? তাদের ছড়ানো গুজবে বিশ্বাস করে তোমরা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে এবং খ্রিস্টানদের হাতে তুলে দেবে মিসরের পবিত্র ভূমি? লুণ্ঠিত হবে তোমাদের মেয়েদের সম্ভ্রম, কোরানের পাতা ছিড়ে বাইরে ছুড়ে ফেলা হবে আর তোমরা তাকিয়ে তাকিয়ে তা দেখবে, এজন্য? তোমরা কি খ্রিস্টানদের হাতে কোরানের অপমান দেখতে চাও? তোমরা নিজের ঈমানেরই হেফাজত করতে পারছ না, স্বাধীনতার হেফাজত কিভাবে করবে?”
একটু থামলেন তিনি। পিনপতন নিরবতা নিয়ে মূর্তির মত দাড়িয়ে আছে সৈনিকেরা। তিনি সবার চোখ-মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন। বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে দু’একজন কমান্ডার দেখা যাচ্ছে না। ওরা কোথায় তোমরা কি জানো? জানোনা। ঠিক আছে ওদের দেখিয়ে দিচ্ছি আমি।’
সুলতানের ইশারায় একদিক থেকে দশজন লোককে সামনে নিয়ে আসা হল। ওদের হাত পিছমোড়া করে বাধা। ঘাড়ে রশি। অবনত মস্তক। সম্মুখ সারির সামনে দিয়ে ওদের হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হল। সুলতান বললেন, ‘এরা ছিল তোমাদের কমান্ডার। জাতির দুশমনের সাথে এদের বন্ধুত্ব। তোমাদের নবী এবং কোরানের শত্রুর সাথে মিশে গেছে এরা। কিন্তু ধরা পড়েছে।’
সুলতান খিজরুল হায়াতের হত্যা এবং মুসলেহ উদ্দীনের গ্রেপ্তারের কথা শুনালেন। তাকে সামনে নিয়ে আসা হল। মুসলেহ উদ্দীন এখনো স্বাভাবিক হয়নি। গতরাতে সুলতান তাকে গারদে দেখে এসেছিলেন। মুসলেহ উদ্দীন সুলতানকে চিনতে পারছিল না।
তখনও দেশ ভাগ করে নিজে স্বাধীন সম্রাট হবার কথা বলে যাচ্ছিল। সুলতান তাকে সেনাবাহিনীর সামনে ঘোড়ার পিঠে বসিয়ে দিলেন। সৈন্যদের দেখে মুসলেহ উদ্দীন চিৎকার দিয়ে বললেন, ‘এ হল আমার বাহিনী। মিসর সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কর। আমি তোমাদের সম্রাট। সালাহউদ্দীন তোমাদের এবং মিসরের শত্রু। হত্যা কর তাকে।’ পাগলের মত বলে যাচ্ছিল মুসলেহ উদ্দীন।
সৈন্যদের মাঝখান থেকে শন শন শব্দে ছুটে এল একটি তীর। বিধল তার বুকে। পড়ে যাচ্ছিলেন তিনি, ততোক্ষণে আরও

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top