দ্য বুক অব সালাদিন – তারিক আলী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

দ্য বুক অব সালাদিন – তারিক আলী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ সাদেকুল আহসান কল্লোল

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩৯৩

দ্য বুক অব সালাদিন – বইটির এক ঝলকঃ

উজিরই সেখানের আসল শাসক আর তার হত্যাকারীই সাধারণত তার উত্তরাধিকারী হয়।’
একদিন মিসর থেকে সংবাদ আসে। সেটা ছিল ১১৬৩ সালে গ্রীষ্মকাল এবং প্রাসাদে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শাআর, অতি সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত উজিরের, নিজের প্রাণ নিয়ে কোনোমতে পালিয়ে দামেস্কে উপস্থিত হবার আগমন বার্তা ঘোষিত হয়। কয়েক দিন পরে কায়রো থেকে নতুন উজির দিরগামের একটা বার্তা নিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবাহকের আগমন ঘটে। সে গজদন্তের তৈরি মণিমুক্তাখচিত একটা বিশাল বাক্স সাথে করে নিয়ে এসেছে, যার ভেতর ছিল আমাদের শহরে আগত সবচেয়ে নিখুঁত হীরকখণ্ডের একটা সংগ্রহ।
নূর আল-দ্বীন মুচকি হেসে বাক্সটা তার ব্যক্তিগত সচিবের হাতে তুলে দিয়ে নির্দেশ দেন যে সেটা যেন সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। বাক্সের সাথে প্রেরিত বার্তায় অন্যান্য প্রবর্তনাও আছে এবং সেই সাথে দামেস্কের সুলতানের কাছে শাআরকে পরিত্যাগ করার অনুরোধ। নূর আল-দ্বীন মন্ত্রণা কক্ষে আমার আব্বাজান আর চাচাজানকে ডেকে পাঠান।
‘আমার মনে হয় আমাদের মিসরের কর্তৃত্ব গ্রহণ করা উচিত। একটা দেশের পরিস্থিতির কথা চিন্তা করতে পারেন
অনুরোধ করেছে ক্ষমতাচ্যুত উজিরকে নয় তাকে
সক আমাদের তে? ফ্রানজদের
কাছেও তারা একই অনুরোধ করবে। শত্রুর আগে আমাদের কায়রো আর আলেকজান্দ্রিয়ায় পৌঁছানো অতি জরুরি। শিরকুহ
Thana মানের আপনারা কি
আমাদের বাহিনীর নেতৃত্ব দেবে।
পাহাড়ি সিংহের শৌর্যে
‘মরুভূমির ওপর দিয়ে দীর্ঘ যাত্রার সময় একজন পর্যটক যেভাবে একটা রসাল খেজুর গাছের যত্ন নেয় শাআরের সাথে ঠিক সে রকম আচরণ করবে। তার কার্যকারিতা শেষ হবার পর তুমি যেভাবে ফল খেয়ে বিচি ফেলে দাও ঠিক সেভাবে তাকে ছুড়ে ফেলবে। সময় নষ্ট করবে না। কায়রোর শস্য শুল্কের এক তৃতীয়াংশ সে আমাদের দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাকে বাধ্য করবে তার কথা রাখতে।’
শিরকুহ আমাকে সাথে যাবার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। আমি খুব একটা আগ্রহী ছিলাম না। আমি যুদ্ধ পছন্দ করি না ব্যাপারটা ঠিক তা নয় । আসল বিষয়টা ছিল আমি প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা একদল বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম এবং আমরা একত্র হয়ে কবিতা আবৃত্তি আর বিশ্লেষণ এবং নব্যতান্ত্রিক ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতাম। আমি কোনো কোনো রাতে সর্বসাধারণের জন্য নির্ধারিত হাম্মামের কাছে গোপন অভিসারে যেতাম এমন একজন যুবতীর সাথে দৃষ্টি বিনিময় করতে কখনো বা তার বেশি কিছু, যাকে বিয়ে করার অনুমতি আমার ছিল না।
আমার আব্বাজান তার ভাইয়ের প্রস্তাবে যেভাবে সম্মতি প্রকাশ করে তাতে আমি খানিকটা আহতই হই। আমি পরিচিত কারো কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় পাই না। আমার ওপর নজর রাখার জন্য সাধিকে পাঠানো হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নেয়ার তিন দিনের ভেতরেই কায়রোর পথে রওনা হয়ে যাই। আইয়ুব আর শিরকুহ একত্র হয়ে দুর্ধর্ষ এক বাহিনীর সৃষ্টি করে। ‘পাহাড়ি সিংহ’ ছিলেন অদম্য, অসতর্ক, বিবেচনাহীন আর আবেগচালিত। আমার আব্বাজান ছিলেন কুশলী কিন্তু সতর্ক। তিনি ছিলেন রসদের তুখোড় জোগানদার। তরবারি নির্মাতা আর তাঁবু-নির্মাতার দল শিরকুরর প্রয়োজন সম্বন্ধে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পারত কেবল তার কারণেই। তিনিই নিশ্চিত করতেন যে আমাদের অভিযানের জন্য প্রয়োজন এমন সব কিছুর কাঁচামাল আর রসদ তাদের কাছে রয়েছে।
এই প্রাসাদে যার সমাপ্তি এভাবেই হয়েছিল সেই অভিযানের সূচনা। আমার কোনো বন্ধু যদি সেই সময়ে রসিকতা করত যে আমি একদিন সুলতানের পদে অধিষ্ঠিত হব, আমার চাচাজান আর সাধি তাহলে মিসর পর্যন্ত পুরোটা পথ হাসতে থাকত ।
ইবনে ইয়াকুব, আমাদের নিজেদের জীবনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কখনো আমাদের হাতে থাকে না। আমাদের আল্লাহতালা একটি নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে নিয়ে যান, আমাদের সেনাপতিদের দক্ষতা আর সাহস একটা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে, কিন্তু তারপরও সবশেষে নিয়তির ওপর অনেক্ পুরোটাই অনেকাংশে নির্ভর করে যারা বেঁচে থাকে এবং জীবিত ফিরে আসে, বা যুদ্ধ যেখানে সংঘটিত হবে ওপর, যা আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। সময় এইসব প্রাথমিক বিষয়গুলো রপ্ত আমরা পঁচিশ দিন একনাগাড়ে যাত্রা
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে চীনে পৌঁছাবার রাস্তার আমার প্রথম অভিযানের
Bangla BD ২ নির্ভরশীল।
সাগরের তীরে অবস্থিত আকাবা আইলায় পৌঁছাই, পুরোটা সময় আমরা পুরনো নদীখাতের মধ্যবর্তী পথ অনুসরণ করেছিলাম। কায়রো পৌঁছাবার পূর্বে আমরা এখানেই সবচেয়ে দীর্ঘসময় যাত্রাবিরতি করব।
ইবনে ইয়াকুব নয় হাজার লোকের একটা বাহিনী সাথে সমান সংখ্যক ঘোড়া আর উট নিয়ে লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি ঘুরে বেড়ানো ফ্রানজদের ছোট ছোট সৈন্যবাহিনীর চোখ এড়িয়ে দামেস্ক থেকে কায়রো পৌঁছানোর বিষয়টা মোটেই সহজ ছিল না। আমরা তাদের পরাজিত করতে পারতাম কিন্তু তার ফলে আমাদের ভেতরে একটা অগোছাল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারত, যা আমাদের মূল অভিযানের বিলম্ব ঘটাত।
মরুভূমির ভেতর দিয়ে সমস্ত পথ আমাদের বেদুইন পথপ্রদর্শকদের নখদর্পণে ছিল; আমাদের বাহিনীর সাথে তাদের পঁচিশজনের একটা দল ছিল। তারা পথ চলার জন্য কোনো ধরনের মানচিত্র বা রাতের আকাশের কোনো তারার সাহায্য নিত না। তারা প্রতিটি মরূদ্যানের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত ছিল এবং পানির ছোট কোনো কুয়াও তাদের নজর এড়িয়ে যেত না। তাদের এই জ্ঞান ছাড়া আমাদের পক্ষে ছাগলের তৈরি মশকগুলো পানিভর্তি করা অসম্ভব হতো। সব সৈন্যই সংগত কারণেই শত্রুর চেয়েও পানির তৃষ্ণাকে ভয় পায়। আজ সেই অভিযানের প্রতিটি খুঁটিনাটি বর্ণনা করা বা স্মরণ করার চেষ্টা করা ক্লান্তি কর কিন্তু অভিজ্ঞ সেনাপতিরা এমন সব যাত্রার সময়ই তাদের অধীনে যারা লড়াই করবে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারে। তারা এমনকি তাদের ঘোড়ার মেজাজ আন্দাজ করার উপায়ও টের পেয়ে যায়।
সাধিই সেই লোক যে আমায় শিখিয়েছিল কীভাবে ঘোড়ার যত্ন নিতে হয়। সে আজও বলতে পারে কখন একটা ঘোড়া ক্লান্তবোধ করে এবং তার ঝাপসা চোখের সামনে পৃথিবীটাকে বিচিত্র বৃত্তে ঘুরতে দেখে। যুদ্ধের উত্তুঙ্গ অবস্থায় যদি এমন কিছু ঘটে তাহলে পরিস্থিতিটা একবার কল্পনা করতে চেষ্টা করেন! ঘোড়ার চেয়ে এ কারণেই তার আরোহী তখন আরো বেশি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই একই সাধিই আমায় আরো শিখিয়েছিল কীভাবে ঘোটকীর শক্ত স্তনবৃন্ত থেকে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি আর ফেনায়িত দুধ দোয়ানো যায়।
আমরা রাতের বেলা অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত করতাম এবং নিজেদের মনোবল অটুট রাখতে সেখানে সমবেত হয়ে গান গাইতাম। আমাদের বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যদের মতো আমি তাঁবুতেই রাত্রি যাপন করতাম কিন্তু
বেদুইন পথপ্রদর্শক
Bondage,
আর তাদের দ্বারা প্রভাবিত সেইসব সৈন্যদের আমি। করতাম যারা নিজেদের কম্বলে আবৃত করে বালুর ওপর শুয়ে, চামড়ার তৈরি মশক থেকে খেজুরের রস দিয়ে প্রস্তুত তাড়ি পান কর আর আমাদের নবীজির বিজয়ের পূর্বের মরুভূমি সম্বন্ধে পরস্পরের সুখে গল্প করত। তারা কপালের ওপর ঝিলমিল করতে থাকা তারার করে ঘুমিয়ে পড়ত। আমরা একনাগাড়ে পনেরো দিন অগ্রসর হবার পরে আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাই। কায়রোর উজিরের প্রতিপক্ষ, ডিরঘাম, বিলবাআস থেকে আধাবেলার দূরত্বে অবস্থিত ভেল বাসতাতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। আমার ভালোমানুষ চাচাজান শিরকুহ উপযুক্ত কারণ ছাড়া তার অধীনস্থ লোকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলতে চাইতেন না। তিনি শাআরকে পরামর্শ দেন যে পুরো বিষয়টা যেহেতু একটি মিসরীয় সমস্যা, শাআর আর তার অনুসারীদের উচিত- ক্ষমতার দাবিদার হিসেবে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেয়া। তিনি, শিরকুহ, যদি প্রয়োজন হয় কেবল তখনই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করবেন। শাআর যুদ্ধে জয়লাভ করে। কায়রোর ক্ষমতাসীন খলিফা ডিরঘামকে পরিত্যাগ করেন। শাআর বাব আল-জুয়েলা দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন এবং উজির হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নূর আল-দ্বীন বিচক্ষণতার সাথে যা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছিল কেবল তখনই সত্যি হতে শুরু করে।
শাআর ক্ষমতা গ্রহণ করা মাত্র আমাদের উপস্থিতির কারণে বিচলিত বোধ করতে শুরু করে। সে যদি কেবল চুক্তি অনুযায়ী নিজের করণীয় ঠিকমতো পালন করত সেটা হতো তার জন্য শ্রেষ্ঠ পরামর্শ। নূর আল-দ্বীনের পক্ষে তখন আমাদের দামেস্কে ফিরে আসতে বাধা দেয়াটা কঠিন হতো। শাআর এসব কিছুই না করে বরং ময়ূরের মতো নির্বুদ্ধিতা আর গর্বোদ্ধত হয়ে উঠে ভেবে বসে যে সে ফ্রানজদের সাথে সন্ধি করে আমাদের পরাজিত করতে পারবে। জেরুজালেমের রাজা আমালরিকের কাছে, যে লোকটা আগে থেকেই ভাগ্যবিড়ম্বিত ডিরঘামের সাথে অসংখ্য ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল, একটা গোপন বার্তা পাঠায়। সে একই সাথে কায়রোতে কেন আমাদের বাহিনীর প্রবেশ করাটা যুক্তিযুক্ত হবে না সেটা বোঝাতে বিশ্বাসযোগ্য অজুহাতের একটা সৌধ রচনা করতে আরম্ভ করে। শিরকুহ, ফুসতাতে অলস সময় কাটাতে বাধ্য হয়ে, ভীষণ ক্রুদ্ধ হয় ।
তার সহজাত প্রবৃত্তি সমস্ত সামরিক চায় সমস্ত সামরিক বিচক্ষণতা জলাঞ্জলি দিয়ে শহর আক্রমণ করে শাআরকে বন্দি করে নিয়ে আসে। কিন্তু এমন একটা অভিযানে সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং আমাদের সেই সাথে লোকবলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার আমির-ওমরাহরা তাকে এমন একটা অভিযান থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেয়। তিনি আমার দিকে বেপরোয়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।
‘সালাহ আল-দ্বীন, তোমার কী মনে হয়?’ তিনি আমার কাছে আমি পারিবারিক আনুগত্য আর শুভবুদ্ধির
আমি ভালো করে বিষয়টা চিন্তা করি এবং শেষ পর্য রায় দিই। তিনি ক্রুদ্ধ না হলে আমি তখন
স্নানতে চান। ঝে জর্জরিত হই।
তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
। আর যাই হোক আমার
যুক্তিপাত তাকে মুগ্ধ করে। আমরা যখন আলোচনা করছি এমন সময় একজন বার্তাবাহক খবর নিয়ে আসে যে আমলিরিকের নেতৃত্বে ফ্রানজদের একটা বাহিনী বিলবাআসের দিকে এগিয়ে আসছে।
নূর আল-দ্বীনের ন্যায় ফ্রাংকিশ রাজা ঠিকই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে তিনি যদি মিসর দখল না করেন তাহলে আমরা করব, আর তখন সেটা তার জেরুজালেম রাজ্যের পতন ডেকে আনবে। ফ্রানজরা আমাদের সমস্ত সুলতান আর আমিরদের ভেতর নূর আল-দ্বীনের মতো আর কাউকেই তার ভয় পেত না। তাদের সে জন্য দোষও দেয়া যায় না। তিনি ছিলেন আমাদের ভূখণ্ড থেকে ফ্রানজদের বিতাড়িত করার তার সিদ্ধান্তের প্রতি একাগ্রচিত্ত। তার হৃদয়ের ভেতরে এই আবেগ এতটাই তীব্র ছিল যে তোমার মনে হবে তিনি দখলদারিতাকে ব্যক্তিগত অপমান বলে মনে করেন।
শাআর মৈত্রীচুক্তির শর্তাবলি মেনে চলা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। শিরকুহ আমায় আমাদের বাহিনীর অর্ধেক সঙ্গে নিয়ে বিলবাআস দখল করতে নির্দেশ দেন। শাআর সাহায্যের জন্য আমালরিকের কাছে আবেদন জানায় এবং আমাদের অবশিষ্ট বাহিনী নিয়ে শিরকুহ তখন আমার সাথে এসে মিলিত হয়। ইবনে ইয়াকুব, আমরা ফ্রানজদের পুরো তিনটি মাস শহরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখি। বিলবাআসে পুরো তিনটি মাস আমরা অবরুদ্ধ থাকি। আমার কাছে সেটা ছিল একটা দুর্বিষহ সময়। নূর আল-দ্বীন তখন বুঝতে পারেন আমাদের পক্ষে আর বেশি দিন প্রতিরোধ বজায় রাখা সম্ভব হবে না, তিনি ফ্রানজদের অতর্কিতে আক্রমণ করেন এবং এ্যান্টিওকের কাছে, হারিমের দুর্গের বাইরে তাদের মুখোমুখি হন। সেটা ছিল একটা দারুণ বিজয়। ফ্রানজদের বাহিনী পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয় আর তাদের দশ হাজার লোক সেদিন নিহত হয়েছিল। তাদের নেতা, অ্যান্টিওকের বল্ডউইন আর ত্রিপলির কাউন্টকে আমরা বন্দি করি। আমালরিক এই পরাজয়ের সংবাদে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সে সন্ধি প্রস্তাব পাঠায়। আমরা অপমানের হাত থেকে বেঁচে যাই। পাহাড়ি সিংহ আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে দামেস্কে ফিরিয়ে নিয়ে আসে ।
এই অভিযানের পূর্বে যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি সম্বন্ধে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। একটা বাহিনীকে শিরকুহর নেতৃত্ব দেয়া পর্যবেক্ষণ করে আমি অনেক কিছু শিখতে পারি কিন্তু শারীরিকভাবে আমি একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাই। আমি অভিযান থেকে ফিরে আসবার পরে প্রথম সপ্তাহে বেশির ভাগ দিনই তেল মালিশ করে হাম্মামে অলস দিন অতিবাহিত করি। আর সরাইখানায় সুরা আর কবিতার রস উপভোগ করতে। তারপর, আপনি জানেন আমার ভেতর একটা অদ্ভুত পরিবর্তন অস্থির হয়ে উঠি। আমার দৈনন্দিন জীবনের
রা যেতাম ইবনে ইয়াকুব, টের পাই। আমি
হীনতা আমার কাছে
বিরক্তকর মনে হতে থাকে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সহযোদ্ধাদের অন্তরঙ্গ সাহচর্যের জন্য উন্মুখ হয়ে উঠি। আমি ফ্রানজদের
দেখেছি এবং সহসাই
এখন ছেলেবেলার গল্পের সেইসব সময়ের কথা আমার মনে পড়ে যখন তারা প্রথম আমাদের ভূখণ্ড আক্রমণ আর দখল করেছিল। কীভাবে নিয়তি আমাদের আমরা যেন কাচের ছোট ছোট টুকরো এভাবে শুঁড়িয়ে দিয়েছিল। ভাঙা টুকরোগুলো কীভাবে বিক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
আমার মনে আছে সাধির কণ্ঠস্বর চাপা আতঙ্কিত ফিসফিসে পরিণত হতো ‘আইয়ুবের পুত্রেরা, ফ্রানজরা মা’আরায় কি করেছিল তোমরা কি জান? তারা বিশ্বাসীদের বন্দি করেছিল এবং গরম পানিভর্তি রান্না করার পাত্রে তাদের সিদ্ধ করেছিল। তারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের শিকে গেঁথে আগুনে ঝলসেছে আর তাদের ভেজে খেয়েছে। এইসব বন্য জন্তু যারা আমাদের দেশটাকে গিলে খেয়েছে।’
আপনাকে সত্যি বলছি, সাধির কথা আমার কখনো পুরোপুরি বিশ্বাস হয়নি। আমার মনে হতো আমাদের ভয় দেখাতে সে এসব গল্প তৈরি করেছে, যাতে করে আমরা যেন কখনো অশ্বচালনার তালিম নিতে গড়িমসি না করি, কিন্তু এসবই সত্যি। নির্জলা সত্যি, কোনো রং চড়ানো হয়নি। আমি অবিশ্বাসী নাস্তি ক দিনপঞ্জি রচয়িতাদের পাণ্ডুলিপি পাঠ করেছি। আপনি নিশ্চয়ই পড়েছেন? বেশ। আপনি তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন মিসরে আমি প্রথম যখন

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top