দ্য অ্যালকেমিস্ট – পাওলো কোয়েলহো – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ মোহাম্মদ হাসান শরীফ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১২৪
দ্য অ্যালকেমিস্ট – বইটির এক ঝলকঃ
‘ওই দোকানদার…’ তার মুখ ফুটে শব্দ বের হলো। তবে কথাটি সে কোনো কিছু না ভেবেই বলে ফেলেছিল। ভূমধ্যসাগর থেকে আসা বাতাসের ঝাপটা আরো বাড়ছিল। বাতাসের বেগ ছেলেটা তার মুখে অনুভব করছিল। ওই বাতাস মুরদের নিয়ে এসেছিল। হ্যাঁ। এই বাতাস মরুভূমি আর নেকাব পরা নারীদের গন্ধও বয়ে আনে। এই বাতাস সাথে করে ওইসব মানুষের ঘাম আর স্বপ্ন বয়ে আনে, যারা অজানার খোঁজে বের হয়, যারা স্বর্ণ আর অভিযানের নেশায় ঘর ছাড়ে এবং যারা পিরামিডের জন্য ছুটে যায়। বাতাসের স্বাধীনতার জন্য ছেলেটার হিংসা হলো। বুঝতে পারল, একই স্বাধীনতা সে নিজেও পেতে পারে। সে নিজে ছাড়া আর কেউ তাকে পেছনে টেনে ধরে রাখতে পারে না। ভেড়ার পাল, দোকানির মেয়ে আর আন্দালুসিয়ার মাঠগুলো কেবল তার নিয়তির পথে ছড়ানো কয়েকটা ধাপ। পর দিন দুপুরে বুড়ো লোকটির সাথে দেখা করল ছেলেটা। সে তার জন্য ছয়টি ভেড়া নিয়ে এসেছে।
‘আমি অবাক হয়ে গেছি,’ ছেলেটা বলল। ‘আমার বন্ধু সাথে সাথে অন্য সব ভেড়া কিনে নিয়েছে। সে বলেছে, সে সবসময় রাখাল হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে। ভালো লক্ষণ এটি।
‘এভাবেই সবসময় সবকিছু হয়, বুড়ো লোকটি বললেন। ‘একে বলা হয়, শুভ কাজের তত্ত্ব। তুমি যদি প্রথমবার কার্ড খেলো, তখন তোমার জয়ের প্রায় নিশ্চিত সম্ভাবনা থাকবে। কারণ নতুনের ভাগ্য তোমার সাথেই থাকে।’
‘এমন হয় কেন?’
‘কারণ, এমন একটি শক্তি আছে, যে চায় তুমি তোমার নিয়তিকে বাস্তবায়ন করতে পারো; একটি সফলতার স্বাদ দিয়ে তোমার আগ্রহকে আরো বাড়িয়ে দেয় ওই শক্তি।’
বুড়ো লোকটি ভেড়াগুলো পরীক্ষা করতে লাগলেন, তিনি দেখতে পেলেন, একটি খোঁড়া। ছেলেটা বলল, খোঁড়া হওয়ায় এর দাম কমে যায়নি। কারণ এই ভেড়া তার দলের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান, এটিই সবচেয়ে বেশি পশম দেয়।
‘গুপ্তধন কোথায়?’ সে জিজ্ঞাসা করল।
মিসরে, পিরামিডের কাছে।
ছেলেটা বিস্ময়ে থ হয়ে গেল। বৃদ্ধা তাকে একই কথা বলেছেন। কিন্তু এ জন্য কোনো ফি নেননি ।
‘গুপ্তধন পেতে হলে তোমাকে শুভ-অশুভের ইঙ্গিত অনুসরণ করতে হবে। ঈশ্বর একেবারে প্রত্যেকের জন্য একটি করে পথ তৈরি করে রেখেছেন । তোমাকে কেবল তোমার জন্য তৈরি পথে চলার জন্য শুভ-অশুভের নিদর্শন অনুসরণ করতে হবে।’
ছেলেটা কিছু বলার চেষ্টা করেছিল। তার আগেই একটি প্রজাপতি এসে তার ও বুড়োর মাঝখানে এসে উড়াউড়ি করতে লাগল। তার দাদার কথা মনে পড়ে গেল। তিনি একবার বলেছিলেন যে ঝি ঝি পোকা, কল্পনা, সরীসৃপ, চার পাতার লবঙ্গের মতো প্রজাপতিও শুভ লক্ষণ।
‘একেবারেই ঠিক, বুড়ো লোকটি বললেন। তিনি ছেলেটার মনে থাকা ভাবনা পড়তে পেরেছেন। ‘ঠিক যেমন তোমার দাদা তোমাকে শিখিয়েছেন। এসব হলো শুভ লক্ষণ।’
বুড়ো তার জামা খুলে ফেললেন। উজ্জ্বল সোনার তৈরি, রত্নপাথর বসানো একটি বর্ম দেখা গেল তার বুকে। মনে পড়ল, আগের দিন এটিই চমক দিয়েছিল! তিনি আসলেই রাজা। চোর-ছ্যাচ্ছরদের এড়ানোর জন্য তিনি নিশ্চয় ছদ্মবেশ
ধারণ করেছেন ।
‘এগুলো নাও, বুড়ো বললেন। তার হাতে তখন একটি সাদা আর একটি কালো পাথর। পাথর দুটি ছিল তার বর্মের একেবারে মাঝখানে। “এ দুটিকে বলে উরিম আর ঘুমিম। কালোটির মানে ‘হ্যাঁ’, সাদাটির মানে ‘না’। যখন কোনো শুভ- অশুভ লক্ষণ বুঝতে পারবে না, তখন পাথর দুটি তোমাকে সাহায্য করবে। সবসময় সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানতে প্রশ্ন করবে।”
“তবে চেষ্টা করবে, নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে। গুপ্তধন যে পিরামিডে আছে, তা তুমি আগে থেকেই জানো। কিন্তু আমি তোমার কাছ থেকে ছয়টি ভেড়া নিয়েছি এ কারণে, যাতে তুমি সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারো :
ছেলেটা পাথর দুটি তার ঝোলায় রাখল। এর পর থেকে সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে থাকবে।
‘কখনো ভুলবে না, তুমি যা কিছুই করো না কেন, কিছুই কিন্তু আলাদা কিছু নয়, সবই আসলে একই জিনিস। তাদের বাইরের রূপটি কেবল ভিন্ন। আর কখনোই শুভ-অশুভ ইঙ্গিতের ভাষা ভুলবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, একেবারে লক্ষ্যে পৌঁছার আগে কখনো তোমার নির্ধারিত পথ ভুলে যাবে না।’
‘আর যাওয়ার আগে আমি তোমাকে ছোট্ট একটি গল্প বলছি, শোনো ।
‘এক দোকানদার তার ছেলেকে পাঠিয়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে সুখের গোপন রহস্য সম্পর্কে জানতে। বালকটি ৪০ দিন ধরে মরুভূমিতে ঘুরে ঘুরে শেষ পর্যন্ত এক পর্বতের উপরে সুন্দর একটি প্রাসাদের সামনে এলো। এখানেই সেই জ্ঞানী ব্যক্তিটি বাস করতেন ।
‘বালকটি প্রাসাদের প্রধান কক্ষে প্রবেশ করল। সে আশা করেছিল, এখনে সে দরবেশ-ধরনের কাউকে দেখতে পাবে। না, সে তেমন কাউকে দেখতে পেল না। বরং সেখানে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। সওদাগরেরা আসা-যাওয়া করছে, কোণায় কোণায় লোকজন কথাবার্তায় মশগুল, মৃদু ছন্দে ছোট অর্কেস্ট্রা চলছে, একটি টেবিলে পৃথিবীর ওই অংশে পাওয়া সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার থরে থরে সাজানো। জ্ঞানী ব্যক্তিটি সবার সাথে কথা বলছেন। বালকটিকে তার মনোযোগ আকর্ষণ করে তার পালা আসার জন্য দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলো।
‘জ্ঞানী লোকটি মনোযোগ দিয়ে বালকটির আসার কারণ শুনলেন। তবে সুখের রহস্য সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো সময় তখনই দিতে পারলেন না। তিনি বালকটিকে প্রাসাদটি ঘুরে দুই ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসতে বললেন।
‘তবে এর মধ্যে আমি তোমাকে একটি কাজ করতে বলব,’ বললেন জ্ঞানী ব্যক্তিটি। তিনি বালকটিকে দুই ফোঁটা তেল ভরা একটি টেবিল চামচ দিলেন। ‘তুমি ঘুরে বেড়ানোর সময় একটু তেলও যাতে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রেখে চামচটি ধরে রাখবে।’
‘বালকটি প্রাসাদের অসংখ্য সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠল, নিচে নামল, চামচের দিকে কড়া নজর রেখেই। দুই ঘণ্টা পর সে ওই জ্ঞানী ব্যক্তির বসার ঘরে ফিরে
এলো।
““আচ্ছা, জ্ঞানী ব্যক্তিটি জানতে চাইলেন, ‘তুমি কি আমার ডাইনিং হলে ঝুলন্ত চমৎকার ঝাড়বাতিগুলো দেখেছ? ১০ বছর সময় নিয়ে গড়া চোখ জুড়ানো বাগানটি লক্ষ করেছ? আমার লাইব্রেরির সুন্দরভাবে বাঁধাই করা বইগুলোর দিকে কি তাকিয়েছিলে?
“বালকটি লজ্জিত হলো, স্বীকার করল, সে কিছুই দেখেনি ।
তার একমাত্র চিন্তা ছিল জ্ঞানী ব্যক্তিটির দেওয়া চামচ-ভরা তেল যাতে একটুও
না পড়ে ।
““তাহলে আবার যাও, আমার দুনিয়ার আশ্চর্য জিনিসগুলো ঘুরে-ফিরে দেখ, ‘ জ্ঞানী ব্যক্তিটি বললেন। ‘তুমি যদি কোনো লোকের বাড়ি না চেনো, তবে তাকে বিশ্বাস করতে পারো না।’
“স্বত্তি পেরে বালকটি চামচটি তুলে নিলো, প্রাসাদটি দেখতে বের হলো। এবার সে ছাদ, দেয়াল- সবকিছু দেখল। সে বাগান দেখল, আশপাশের পর্বতগুলো দেখল, সুন্দর সুন্দর ফুল দেখল, পছন্দ হওয়া সবকিছুর স্বাদ নিলো। জ্ঞানী ব্যক্তিটির কাছে ফিরে গিয়ে সে যা যা দেখেছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিলো ।
“কিন্তু আমি তোমাকে যে তেলের ফোঁটা দিয়েছিলাম, তা কোথায়?’ জ্ঞানী ব্যক্তিটি জানতে চাইলেন ।
“হাতে ধরা চামচের দিকে তাকিয়ে বালকটি দেখল, একটু তেলও নেই। “ঠিক আছে, আমি তোমাকে কেবল একটি পরামর্শই দিতে পারি, জ্ঞানীদের মধ্যে পরম জ্ঞানী ব্যক্তিটি বললেন। ‘সুখের গোপন কথা হলো, তুমি দুনিয়ার সব আশ্চর্য জিনিস দেখবে, কিন্তু কখনোই চামচের তেলের ফোঁটার কথা ভুলবে না।
রাখাল ছেলেটা কিছুই বলল না। বুড়ো রাজা তাকে যে গল্পটা বলেছেন, সে এর মর্মকথা বুঝতে পেরেছে। একজন রাখাল হয়তো ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে, কিন্তু সে কখনো তার ভেড়ার কথা ভোলে না ।
বুড়ো লোকটি এবার ছেলেটার দিকে তাকালেন। তিনি তার হাত দুটি একসাথে করলেন, ছেলেটার মাথার ওপর বেশ কিছু অদ্ভূত ইঙ্গিত করলেন। তারপর তার ভেড়াগুলো নিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে গেলেন । তারিফার সবচেয়ে উঁচু জায়গায় আছে একটি পুরনো দুর্গ। মুরেরা তৈরি করেছিল এটি। এর প্রাচীরের উপর থেকে আফ্রিকা দেখা যায়। সালেমের রাজা মেলচিজেদেক ওই দিন বিকেলে দুর্গ-প্রাচীরের উপর বসেছিলেন, ভূমধ্যসাগরের বাতাস তার মুখে আছড়ে পড়ছিল। ভেড়াগুলো আশপাশে অস্থিরভাবে ছুটাছুটি করছিল। তারা তাদের নতুন মালিকের সাথে সহজ হতে পারছিল না, এত বেশি পরিবর্তনে তারা অস্থির হয়ে পড়েছিল। তারা সবাই খাবার আর পানি চাচ্ছিল।
মেলচিজেদেক দেখলেন, একটি ছোট জাহাজ বন্দর ছেড়ে দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি আর কখনো ছেলেটাকে দেখতে পাবেন না, ঠিক যেমন তিনি আর কখনো আব্রাহামকে দেখেনি, তার কাছ থেকে এক-দশমাংশ ফি নেওয়ার পর। এই তার কাজ।
দেবতাদের কোনো আকাঙ্ক্ষা থাকতে নেই। কারণ তাদের কোনো নিয়তি নেই। কিন্তু তবুও সালেমের রাজা মনে-প্রাণে চাইছিলেন, ছেলেটা যেন সফল হয়। বিষয়টি খুবই খারাপ যে ছেলেটা খুব তাড়াতাড়ি আমার নাম ভুলে যাবে, তিনি ভাবলেন। আমার উচিত ছিল, বারবার নামটি তাকে শুনিয়ে দেওয়া। তারপর আমার সম্পর্কে যখনই কথা ওঠত, সে কথা বলত, আমি ছিলাম সালেমের রাজা মেলচিজেদেক।
তিনি আকাশের দিকে তাকালেন। একটু লজ্জিত হলেন। তারপর বললেন, ‘আমি জানি, এটিই হলো অসংখ্য অসার দম্ভের সবচেয়ে বড় দম্ভ, ঠিক যেভাবে তুমি বলেছ, আমার প্রভু। কিন্তু একজন বুড়ো রাজা মাঝে মাঝে নিজেকে নিয়ে সামান্য গর্ব করতেই পারে।’ আফ্রিকা কেমন খাপছাড়া, ছেলেটা ভাবল।
তানজিয়ারের একটি বারে বসেছিল সে। তানজিয়ারের সরু রাস্তাগুলোর দুই পাশে আরো যেসব বার দেখেছে সে, এটি সেগুলোর মতোই। কেউ কেউ বিশাল পাইপে ধূমপান করছে, টান দিয়ে একজন অন্যকে পাইপটি দিচ্ছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সে দলে দলে হেঁটে বেড়ানো পুরুষ মানুষ দেখেছে। দেখেছে মুখ ঢাকা নারীদের। মিনারে উঠে মুয়াজ্জিনের আজান দেওয়ার পর সবার হাঁটু ভাঁজ করে মাটিতে কপাল ঠেকানোটাও তার চোখে পড়েছে। অনেক কিছুই সে দেখে
ফেলেছে।
‘বিধর্মীদের ধর্মকর্ম,’ সে মনে মনে বল। শৈশবে চার্চে সে সবসময় সেইন্ট স্যান্টিয়াগো মাতামুরুসকে তার সাদা ঘোড়ার মূর্তিতে দেখেছে। সেইন্টের হাতে খাপ-খোলা তরবারি। আর এ ধরনের পা-ভাঁজ করা লোকজন তার সামনে নত হয়ে থাকতে দেখা যেত তাতে। ছেলেটা অস্বস্তি অনুভব করল, নিজেকে ভয়ঙ্কর রকমের নিঃসঙ্গ মনে হলো। তাদের সম্পর্কে বিধর্মীদের খারাপ মনোভাব রয়েছে।
এছাড়াও, সফরের তাড়াহুড়ায় একটি বিষয় তার মনে ছিল না। মাত্র একটি বিষয়। আর এটিই তাকে তার গুপ্তধন সন্ধানের কাজ অনেক দিন পিছিয়ে দিতে পারে। সেটি হলো এই দেশে কেবল আরবি ভাষাই চলে।
বারের মালিক তার দিকে এগিয়ে এলেন। ছেলেটা পাশের টেবিলে যে পানীয় পরিবেশন করা হচ্ছিল, তেমন কিছু দিতে অর্ডার দিলো। এলো তেতো চা। ছেলেটার মনে হলো, সে মদের কথা বললে পারত।
তবে তা নিয়ে তার ঠিক এখনই চিন্তা করার সুযোগ নেই। তার এখনকার একমাত্র চিন্তা গুপ্তধন এবং তা পাওয়ার পথ খুঁজে বের করা। ভেড়ার পাল বিক্রি করার ফলে তার ঝোলায় বেশ ভালো টাকাই জমা হয়েছে। ছেলেটা জানে, টাকার মধ্যে জাদু আছে। আর যার হাতেই টাকা আছে, সে কখনো একা থাকে না। বেশি দেরি হবে না, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সে হয়তো পিরামিডে যেতে পারবে। স্বর্ণের বর্ম পরা ওই বুড়ো মাত্র ছয়টি ভেড়ার জন্য নিশ্চয় মিথ্যা বলেননি।
বুড়ো লোকটি কেবল নিদর্শন আর শুভ-অশুভ ইঙ্গিতের কথা বলেছেন । ছেলেটা খাড়ি পার হওয়ার সময় শুভ-অশুভ ইঙ্গিত নিয়ে অনেক ভেবেছে। হ্যাঁ, বুড়ো লোকটি জানতেন, সে কী নিয়ে কথা বলছে : আন্দালুসিয়ার মাঠে মাঠে ছেলেটার থাকার সময়, সে শিখেছিল আকাশ আর মাটি দেখেই কোন পথটি বেছে নিতে হবে। সে জেনেছিল, বিশেষ কোনো পাখির উপস্থিতি মানে কাছাকাছি সাপ আছে, নির্দিষ্ট ধরনের ঝোপ থাকা মানে ওই এলাকায় পানি রয়েছে। ভেড়ারা তাকে এগুলো শিখিয়েছে।
ঈশ্বর যদি ভেড়াদের এমন চমৎকারভাবে চালিত করেন, তিনি তবে মানুষকেও চালাবেন, সে ভাবল। এই ভাবনাই তার মধ্যে ভালো লাগার অনুভূতি এনে দিলো। এখন চা কম তেতো লাগছে।
‘তুমি কে?’ স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন শুনতে পেল সে।
ছেলেটা স্বস্তি পেল। তার শুভ-অশুভ ইঙ্গিত নিয়ে ভাবনার মধ্যেই কেউ একজন এসে পড়েছে।
তুমি কিভাবে স্প্যানিশ শিখলে?’ সে জানতে চাইল। নবাগত লোকটি পাশ্চাত্যের পোশাক পরা, তবে তার গায়ের রঙ দেখে মনে হচ্ছে সে এই নগরীরই লোক। তার বয়স আর উচ্চতা ছেলেটার কাছাকাছি।
‘এখানকার প্রায় সবাই স্প্যানিশে কথা বলে। এখান থেকে স্পেন যেতে লাগে মাত্র দুই ঘণ্টা।’
‘বসো, কিছু আপ্যায়ন করতে দাও,’ ছেলেটা বলল। ‘আর আমাকে এক গ্লাস মদ দিতে বলো। এই চা বাজে লাগছে। ‘
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!