শয়তানের বেহেশত ১ম খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

শয়তানের বেহেশত ১ম খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৯১

শয়তানের বেহেশত ১ম খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ

লুটেরারা মালামাল একত্রিত করতে শুরু করলো। সব মাল একত্রিত করে উটের ওপর ও গরু এবং ঘোড়ার গাড়িতে তুলতে লাগলো। যুবতী মেয়ে ও শিশু-কিশোরদের এক দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে গেলো। ওদেরকে ঘোড়ার গাড়িতে তুলে নিলো লুটেরারা। একটু পর ওরা সব নিয়ে পাহাড় সারির পেছনে অদৃশ্য হয়ে গেলো ।
ভোরের আলো ফুটে উঠলো এর কিছুক্ষণ পর। উজালা আকাশ দেখলো তার নিচের ঐ বিষণ্ণ ময়দানে ক্ষত-বিক্ষত লাশের পর লাশ পড়ে আছে হায়েনার খাদ্য হওয়ার অপেক্ষায় । লাশ ছাড়া সেখানে আর কিছু ছিলো না ।
কাছের এক টিলায় এক বৃদ্ধ শায়িত ছিলো। আস্তে আস্তে মাথা উঠিয়ে তিনি ময়দানের দিকে তাকালেন। এত দীর্ঘ বয়সে এমন নিষ্ঠুরতা আর কখনো তিনি দেখেননি ।
কাফেলার একদিক থেকে যখন পাইকারি হত্যা শুরু হয় তিনি ছাউনির আরেক দিক থেকে কোন ক্রমে বেরিয়ে আসেন এবং এই টিলার উঁচু ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। রাতভর তিনি তার সফরসঙ্গী, নারী ও শিশুদের মরণ আর্তনাদ শুনেছেন। শোয়া থেকে উঠে টিলা থেকে নামলেন তিনি। ধীরে ধীরে হেঁটে লাশগুলো পরীক্ষা করতে লাগলেন। তার কাছে এসব ভয়ংকর কোন দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছিলো। তিনি খুঁজছিলেন তার গোত্রের লোকদের লাশ। কে কোথায় পড়ে আছে তার কোন হদিস ছিলো না। তার চোখ পড়লো কয়েক মাসের একটি শিশুর লাশের ওপর। তার চোখ এই প্রথম চিক চিক করে উঠলো। বহু কষ্টে চোখ সরিয়ে নিলেন তিনি। এক দিকে তাকিয়ে দেখলেন একটি উট চার দিকের এই খুনে বিভীষিকা থেকে নির্বিকার হয়ে ঘাস খাচ্ছে।
-বৃদ্ধ আকাশের দিকে তাকালেন। যেন আকাশের মালিককে খুঁজছেন তিনি। হঠাৎ কি মনে হতেই এক দৌড়ে উটের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন। তার লাগাম ধরে সেখানেই বসিয়ে দিলেন। এক দিকে তার হাওদা পড়ে থাকতে দেখে উঠিয়ে উটের পিঠে রাখলেন। তারপর বাচ্চাটির রক্তাক্ত লাশ নিয়ে উটে সওয়ার হয়ে গেলেন । তার উটের রুখ ছিলো মারু ।
সুলতান মালিক শাহ অন্যান্য বাদশাদের মতো ছিলেন না। তবুও তিনি যেখানে থাকতেন, তা মহলের চেয়ে কোন অংশে কম ছিলো না। একদিন তিনি তার সভাষদদের বললেন – আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, কাফেলা লুট করার ব্যাপারটা মনে হয় বন্ধ হয়ে গেছে …….
‘আমরা তো কাউকে পাকড়াও করতে পারিনি। আসলে পাকড়াওকারী ও সাজাদানকারী তো আল্লাহ। তিনিই আমাকে সাহায্য করেছেন। মারুর কাফেলারা এখন নিরাপদ।’ এসময় দারোয়ান এসে জানালো, এক বৃদ্ধ তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে চাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বৃদ্ধ কোত্থেকে এসেছে, কি চায় এগুলো সে জিজ্ঞেস করেছে কিনা? দারোয়ান জানালো, তার অবস্থা ভালো নয়। মনে হয় দীর্ঘ পথ সফর করে এসেছে। এজন্য কিছু জিজ্ঞেস করেনি। সঙ্গে তার রক্তাক্ত এক বাচ্চার লাশ ।
‘লাশ? ছোট বাচ্চার লাশ?’ – মালিক শাহ চমকে উঠে বললেন – তাকে জলদি ভেতরে পাঠাও।’
বৃদ্ধ কাঁপতে কাঁপতে ফ্যাকাসে মুখে ভেতরে ঢুকলেন। সুলতান তাকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন – ‘মহামান্য বুযুর্গ। কোন বিপদ আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছে?’ উটে করে তিন দিন তিন
‘মহামান্য সুলতান! এক বাচ্চার লাশ নিয়ে এসেছি’ বৃদ্ধ বললেন – ‘এটা আপনার বাচ্চা’ – বৃদ্ধ সুলতানের পায়ের সামনে লাশ রেখে দিলেন রাত সফর করেছি। না উটটি কিছু খেয়েছে না আমি ছিলো, সেলজুকি সুলতান যার খেয়ানত করেছেন
এটা আল্লাহর আমানত দেখে নিন সুলতান! নিষ্পাপ
এই বাচ্চাটিকে দেখে নিন। এই অবোধ বাচ্চা, মরার সময় তার এই অনুভূতিও হয়নি যে, তার মার নিরাপদ কোল থেকে মৃত্যু তার কোলে তুলে নিচ্ছে।
সুলতান লোকদের ডেকে বাচ্চাকে গোসল দিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করতে বললেন । ‘হে বুযুর্গ। এই বাচ্চাটি কার এবং কে একে হত্যা করেছে? অনুযোগের আগে এটা বলে ফেললে কি ভালো হয় না ?
অভিযোগ
‘এটা আমার কোন এক সফরসঙ্গীর বাচ্চা। কে তার মা বাপ তা আমি জানিনা । ভারা কে ছিলো, কাথেকে এসে কোথায় যাচ্ছিলো তা আর কোন দিন জানতে পারবো না। কাফেলার ওপর ডাকাতরা হামলা করে সব ইতিহাস মুছে দিয়েছে।’
বৃদ্ধ পুরো ঘটনা শোনালেন। সুলতান রাগে ফেটে পড়লেন। উঠে ক্ষুব্ধ পায়ে কামরায় পায়চারী করতে লাগলেন।
‘কয়েক বছর আগে কাফেলার ওপর হামলা শুরু হয়েছিলো’ – বৃদ্ধ বললেন – *তারপর সেই হামলা বন্ধ হয়ে গেলো। এর কারণ এই নয় যে, আপনি ডাকাতদের শায়েস্তার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। বরং লোকেরা সফরই বন্ধ করে দেয়। দুর্ভাগ্য আমাদের, আপন মঞ্জিলে নিরাপদে পৌঁছতে পারবো এই ভাবনায় আমরা বের হয়েছিলাম। ‘এই বাচ্চার লাশ এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?’ নিজ্ঞেস করলেন। সুলতান থমথমে গলায়
‘সুলতানকে এটা দেখানোর জন্য যে, রাজাদের পাপের সাজা পায় প্রজারা। আমি আহলে সুন্নাতের সমর্থক। আমার পরিণাম নিয়ে ভীত না আমি। খুলাফায়ে রাশেদীনের কথা বলবো আমি, যাদের কালে মুসলমান অমুসলমান সবার জানমাল এবং ইযযত নিরাপদ ছিলো। তারা প্রজা ও প্রজা-সন্তানদের আল্লাহর আমানত মনে করতেন। প্রভার লাশ আমি এজন্য এনেছি, এর নিষ্পলক স্থির চোখে যেন সুলতান তার পাপের প্রতিবিম্ব দেখে নেন। ‘হ্যাঁ দেখেছি আমার বুযুর্গ। ঐ ডাকাতদের আমরা পাকড়াও করবোই।’
‘আমাদের কাফেলার সব যুবতী মেয়ে ও শিশু কিশোরদের ওরা ধরে নিয়ে গিয়েছে। বড় বড় আমীর উমারাদের ঘরে ওদের বিক্রি করা হবে। রাসূল (স)-এর উম্মতের সন্তানদের ওরা নর্তকী আর শয্যাসঙ্গিনী বানাবে। সারা জীবন ওরা তাদের সুলতানের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে। সুলতানের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়া উচিত। সেই কাফেলার মৃত আত্মাদের এই পয়গামই আমি নিয়ে এসেছি।
সুলতান বৃদ্ধের কথার ধরনে মোটেও ক্ষুব্ধ হলেন না। বিষণ্ণ গলায় হুকুম দিলেন বৃদ্ধকে যেন সসম্মানে রাষ্ট্রীয় মেহমানখানায় রাখা হয়।
মালিক শাহ সেদিনই সিপাহসালার ও মারু শহরের কতোয়ালকে ডেকে পাঠালেন। তিনি বললেন –
*এটা নিশ্চয় বড় কোন সুসংগঠিত দলের কাজ। গোয়েন্দাবৃত্তি ছাড়া এর সন্ধান পাবে না তোমরা। এসব ছোট ছোট কেল্লার আমীরদের ওপরও আমার সন্দেহ আছে। ওদের সঙ্গে আমাদের বিনয়ী আচরণ করা উচিত, না হয় ওরা স্বঘোষিত রাজা বনে যাবে। এজন্য ওদের বিরুদ্ধে ফৌজ পাঠাতে চাইনা, না হয় ওরা বিদ্রোহী হয়ে যাবে ।
‘মহামান্য সুলতান? – সিপাহসালার বললেন কেল্লা শাহদরের আমীর আহমদ ইবনে গুতাশকে আমার সন্দেহ। সে কোন অপতৎপরতা চালাচ্ছে মনে হয়। শাহদরে অন্য কেল্লার তুলনায় আবাদী একটু বেশি। সেখান থেকে আহমদ সহজে ফৌজ সংগ্ৰহ করতে পারবে।
“কিছু গুণাগুণ দেখেই তাকে আমি শাহদরের আমীর বানিয়ে ছিলাম। সবাই জানে সে আহলে সুন্নত । যখন সে বক্তৃতা দেয় কাফেরের পাথর মনও গলে যায়। তাছাড়া তার পূর্বের আমীর যাকিরও তার ব্যাপারে অসিয়ত করে গিয়েছিলো’ – সুলতান বললেন ।
‘গোস্তাখি মাফ সুলতানে মুহতারাম’ কতোয়াল বললেন- ‘কোন বক্তার কথায় মুগ্ধ হওয়া আর সেই বক্তার মনের গোপন অভিসন্ধি জানা ভিন্ন কথা। আর এটা এমন বিষয় যা জানা খুবই জরুরী। বিভিন্নভাবে আমি জানতে পেরেছি শাহদরে ইসমাঈলিরা একত্রিত হচ্ছে।
“আহমদ কেল্লার
‘এই সন্দেহ অন্য কারণেও দৃঢ় হচ্ছে’- সিপাহসালার বললেন আমীর হয়েই সুন্নীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কাজ করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ইসমাঈলিদের মুক্ত করে দেয়। কিন্তু আমরা তাকে এখন কিছু বলতে পারছি না, কারণ এরপর তিন বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এখন আমাদের উচিত অত্যন্ত বিচক্ষণ,তৎপর ক্ষিপ্র ও যে-কোন কথার গভীরে পৌছার মতো তীক্ষ্ণ মেধার কোন গুপ্তচরকে শাহদরে পাঠানো। তবে তাকে উঁচু স্তরের লোক হতে হবে যাতে কেল্লাদারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে।’
‘তোমাদের কাছে কি এমন কেউ আছে? – সুলতান জিজ্ঞেস করলেন।
.‘আমার কাছে এমন দু’জন ছেলে আছে’ কতোয়াল বললেন – ‘আপনি হুকুম দিলে ওদের মধ্যে যে বেশি উপযুক্ত তাকে শাহদর পাঠিয়ে দেবো। অবশ্য এর আগে তাকে কিছু দিন প্রশিক্ষণও দেবো।’
‘পাঠিয়ে দাও তাকে। ফৌজ পাঠাতে হলেও আমি আপত্তি করবো না। আমি আমার নিজের অপমান বরদাশত করবো, কিন্তু আমার ধর্ম-বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি শব্দও বরদাশত করবো না।’
কতোয়াল যার কথা বলেছিলো সে হলো ইয়াহইয়া ইবনে হাদী। প্রায় ত্রিশ বছরের সুদর্শন এক যুবক। লম্বা ঋজু ভঙ্গি এবং মেদহীন সুগঠিত দেহাবয়বের কারণে প্রচণ্ড ভীড়ের মধ্যেও তাকে আলাদা করা যায়। ইরাকী বংশোদ্ভূত হলেও এখন সে তুর্কী। তীরন্দাবি, তলোয়ার চালনা ও শাহসওয়ারীতে আশে পাশে তার সমকক্ষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কতোয়াল আট দশদিন তাকে নিয়ে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেন। শাহদর পাঠানোর এক দিন আগে কতোয়াল তাকে বলেন –
“ইবনুল-হাদী! তুমি তো জেনেছো, শাহদর যাচ্ছো তুমি গোয়েন্দাবৃত্তি করতে। আমি আশা করছি সফল হয়ে ফিরবে তুমি। তবুও আরেকবার শুনে নাও, আমাদের আশংকা হলো আহমদ গোপনে নাশকতামূলক কোন কাজে লিপ্ত। এমনও হতে পারে ইসমাঈলি ও বিদ্রোহীরা তাকে খেলাচ্ছে। এমন না হলেও তুমি বের করবে সালতানাতের বিরুদ্ধে তার গোপন কোন অভিসন্ধি আছে কিনা।’
*আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবো কিভাবে?’ – ইয়াহইয়া জিজ্ঞেস করলো।
“সিনান তোমার সঙ্গে যাচ্ছে। সে-ই এ কাজ করবে, আল্লাহর হাতে তোমাকে সোপর্দ করছি।
পরদিন ভোরে ইয়াহইয়া ও সিনান শাহদর রওয়ানা হয়ে গেলো।
কাফেলা লুটের প্রায় আট-দশ দিন পর আহমদ লুট করা মালামালগুলো পায়। একদিন হাসান ইবনে সবা মুচকি হেসে আহমদকে বললো ।
“মুহতারাম উস্তাদ! আচ্ছা এত ধন-সম্পদ আর এতগুলো সুন্দরী মেয়ে আর কোন কাফেলা থেকে আপনি পেয়েছেন?
‘না হাসান! এতদিনের সব লুট করা মাল একত্রিত করা হলেও এই এক কাফেলা থেকে লুট করা মালের সমান হবে না’ – একথা বলে আহমদ থেমে গেলো, হাসানের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বললো – ‘কেন হাসান! আজ যেন তোমাকে বেশ আনন্দিত মনে হচ্ছে?’ “হ্যাঁ শুরু। এসব মালের কারণে খুশী না, আমি খুশী এজন্য যে ডাকাতির ব্যাপারে আমার বলে দেয়া পদ্ধতি সফল হয়েছে। এখন এই সফলতা উপলক্ষে উৎসব করা উচিত। আর এই উৎসবে শহর ও শহরের আশে পাশের লোকদের নিমন্ত্রণ করা হবে।
‘লোকদের খাওয়াবে না কি? নাচগান এসবও হবে? যাই করো আগে ভাবতে হবে, এই উৎসবের উপলক্ষ সম্পর্কে লোকদের কি বলবে?
‘বলার দরকার কি? উৎসব তো আমরা করতেই পারি। ঘোষণা করা হবে, দু’দিন ব্যাপী ঘোড়দৌড়, নেযাবাদী, তীরন্দাযী, তলোয়ার চালনা, মল্লযুদ্ধ এসবের প্রতিযোগিতা হবে এবং বিজয়ীদের পুরষ্কৃত করা হবে এতে আমাদের উৎসবও হবে শহরবাসীও খুশী হয়ে যাবে। কারণ এদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক রাখাটা জরুরী। তবে লোকদের সামনে আমার চেহারা উন্মুক্ত করবো না, আবৃত রাখবো পরে আমি অন্য রূপে আত্ম প্রকাশ করবো। সবার মনোরঞ্জনের জন্য এই উৎসব খুবই জরুরী।’
এই প্রস্তাবে আহমদ বেশ খুশী হলো। তখনই শহর ও শহরের আশে পাশে নিজস্ব লোকদের দিয়ে উৎসবের ঘোষণা দেয়া হলো। ঘোষণায় দারুণ কাজ হলো। উৎসবের একদিন আগে থেকেই লোকেরা শাহদর পৌঁছতে লাগলো। শহরের আশে পাশে অসংখ্য তাঁবুর এক গ্রাম গড়ে উঠলো। আসতে লাগলো অসংখ্য উট আর ঘোড়ার পাল। হাসান শাহদরের মহলের ছাদে দাঁড়িয়ে লোকদের এই ভীড় দেখে তার শুরু আহমদকে বললো-
‘এরাই সেই খোদার সৃষ্টি যাদেরকে আমাদের শিষ্য বানাতে হবে। এটা কি সম্ভবঃ’ ‘কেন সম্ভব নয় হাসান? এটা সহজ না হলেও অসম্ভবকে আমাদের সম্ভব করে দেখাতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় বাধা সেলজুকি প্রশাসন। আমরা সংখ্যায় অল্প । মানুষের হৃদয় আমাদের কব্জা করতে হবে। তুমি আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। মানুষের এই ভীড় দেখে এখন বুঝতে পারছি তোমার এই বুদ্ধি কতটা মূল্যবান।’
‘আসলে মানুষের মন বিনোদন প্রিয়। বাস্তবতা তার কাছে বড় অপ্রিয়। সে মনের ও শরীরের স্বাদ চায়। আপনি আমার শুরু আমার সূর্য। আপনার সামনে সামান্য একটি প্রদীপদানি ছাড়া আমি কিছুই না। আপনার সেই সবক আমার মনে আছে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দুর্বলতা আছে। সে ঐ দুর্বল বাসনার গোলাম। এই ভীড়ে বড় বড় আমীররাও আছে, যাদের দুর্বলতা হলো ক্ষমতা আর খ্যাতির লোভ। আর দরিদ্ররা এমন খোদাকে খোঁজে যিনি তাদের আমীর বানানোর শক্তি রাখেন।’
‘এই খোদা তাদেরকে আমরা দেবো। আমাদের ফেরকায়ে বাতিনায় ওদেরকে ভেড়াতে হবে।’
পরদিন সকালে বিশাল এক ময়দানে কয়েক হাজার লোক জড়ো হলো । ময়দানের এক পাশে প্রতিযোগিদের বসানো হলো সুশৃঙ্খল রূপে। ওখানে কোন দর্শকদের যাওয়া বারণ করে দেয়া হলো ।
উঁচু সমতল এক জায়গায় আহমদ ইবনে গুতাশের জন্য সুসজ্জিত এক সামিয়ানা টানানো হলো। এর নিচে স্থাপিত হলো রাজকীয় কুরসী। চার পাশে রঙিন ঝলমলে

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top