সর্প কেল্লার খুনী – আসাদ বিন হানিফ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আসাদ বিন হানিফ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬৩
সর্প কেল্লার খুনী – বইটির এক ঝলকঃ
মাজেদ হেজাযী এ কাহিনী শুনে মোটেই ভীত হলো না। সে তো প্রতি মুহূর্তে কোন না কোন বিপদ মোকাবেলা করার জন্যই এ জীবন বেছে নিয়েছে।
সে মেয়েটির এ দুঃসাহসিক কাজের প্রশংসা করে তাকে জলদি ঘোড়ায় উঠতে বললো এবং নিজেও দ্রুত ঘোড়ায় উঠে বসলো ।
বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই কমাণ্ডার দ্রুত ছুটে বাইরে এল। ছুটে গেল আস্তাবলের দিকে। চিৎকার করে বলতে থাকলো, ‘ওদের ঘোড়া দিও না, আটকাও ওদের। মালকিন তার স্বামীকে হত্যা করে পালাচ্ছে।’
প্রহরীরা এ চিৎকার শুনে তলোয়ার ও বর্শা হাতে ছুটে এলো। ততক্ষণে মাজেদ ও মেয়েটি ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসেছে। প্রহরীরা ছুটল আস্তাবলের দিকে। আস্তাবল থেকে ঘোড়া নিয়ে বেরোনোর একটিই রাস্তা, যে রাস্তা দিয়ে ছুটে আসছে প্রহরীরা। মাজেদ সালেহাকে বললো, ‘যদি ঘোড়া চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকে তবে আমার পিছনে উঠে বসো। কারণ ওদের হাত থেকে বাঁচতে হলে প্রাণপণে ঘোড়া ছুটাতে হবে।’
সালেহা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললো, ‘ভয় পেয়ো না, আমার ট্রেনিং আছে। তুমি ঘোড়া ছুটাও।’
মাজেদ হেজাযী বললো, ‘তবে তুমি আমার পিছনে একদম লেগে থাকবে।’
মাজেদ তলোয়ার হাতে নিল। ওদিকে বডিগার্ডদের চিৎকার বেড়ে গেল । তারা হৈ চৈ করতে করতে আস্তাবলের দিকে ছুটে আসছিল। মার্জেদ হেজাযী তাদের দিকে মুখ করে প্রাণপণে ঘোড়া ছুটিয়ে দিল । তার পিছনেই মেয়েটির ঘোড়া।
কমাণ্ডারের গর্জন ভেসে এলো, ‘থামো! নইলে মারা পড়বে।
চাঁদনী রাত । মাজেদ দেখতে পেলো, প্রহরীরা বর্শা উঁচিয়ে ছুটে আসছে। সে ঘোড়ার মুখ তাদের দিকে রেখেই প্রবল বেগে তলোয়ার ঘুরাতে লাগলো ।
ঘোড়ার গতি স্বাভাবিকের চেয়ে ছিল দ্রুত। দুই বডিগার্ড বাঁধা দিতে এসে ঘোড়ার পায়ের তলে পিষ্ট হয়ে গেল। একজন বর্শা ছুঁড়ে মারলো তার দিকে, সে তলোয়ার দিয়ে সে বর্শার গতি ফিরিয়ে দিল।
‘তোমরা তীর ধনুক বের করো!’ চিৎকার জুড়ে দিলো কমাণ্ডার ।
প্রহরীদের পেরিয়ে এলো ওরা। কিন্তু প্রহরীরাও ছিল যথেষ্ট পটু। তারা তাড়াতাড়ি তীর বের করে ছুঁড়ে মারল তীর । তাড়াহুড়োর কারণে তীর মাজেদ বা মেয়েটি কারো গায়েই লাগলো না । পর পর দুটো তীর ওদের পাশ দিয়ে শাঁ করে চলে গেল।
তীরের নিশানা থেকে বাঁচার জন্য ওরা এঁকেবেঁকে ঘোড়া ডাইনে ও বায়ে ছুটিয়ে অল্পক্ষণের মধ্যেই তীরের আওতার বাইরে চলে এলো ।
মাজেদ ভয় পাচ্ছিল, গার্ডরা ঘোড়া ছুটিয়ে পিছু ধাওয়া করবে। কিন্তু আরো কিছুদূর যাওয়ার পর তাদের সে ভয় দূর হয়ে গেল । এখন আর তাদের ধরা পড়ার কোন ভয় নেই ।
আসলে ঘোড়ার পিঠে জ্বীন আঁটার জন্য যে সময়টুকু দরকার ছিল গার্ডদের, সে সুযোগে তারা অনেক দূর চলে এসেছে। লোকালয় থেকে বেরিয়ে এলো ওরা। অনেক দূর যাওয়ার পর দূর থেকে ঘোড়ার পিছু ধাওয়ার শব্দ কানে এলো মাজেদের। সে মেয়েটিকে বললো, ‘বিপদ এখনো পিছু ছাড়েনি, আমার পাশে পাশে ঘোড়া চালাতে থাকো।’
মেয়েটি ঘোড়া নিয়ে তাঁর পাশাপাশি চলতে লাগলো। মাজেদ হেজাযী বললো, ‘ভয় পাচ্ছো না তো?’
মেয়েটি এর কোন উত্তর না দিয়ে সমান তালে ঘোড়া ছুটিয়ে জোরে জোরে বলতে লাগলো, ‘আমি আরো অনেক গোপন কথা জানতে পেরেছি। সব কথা তোমার শোনা দরকার।’ মাজেদ বললো, ‘আগে কোথাও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে নিই। ওখানে গিয়েই তোমার সব কথা শুনবো ।
কিন্তু মেয়েটার তর সইছিল না, সে ছুটতে ছুটতেই কথা চালিয়ে যেতে লাগলো ।
মাজেদ হেজাযী বার বার তাকে চুপ থাকতে বললো। চলন্ত অবস্থায় তার কথা সব বুঝে উঠতে পারছিলো না মাজেদ। ছুটতে ছুটতেই মাজেদ বললো, ‘তোমার সব কথা বুঝতে পারছি না।’
শেষে মেয়েটি অধৈর্য কণ্ঠে বললো, ‘তবে থেমে যাও। আমি আর বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে পারছি না।’
মাজেদ থামতে চাচ্ছিল না, কিন্তু মেয়েটি হাত বাড়িয়ে মাজেদের ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরলো ।
সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লো মাজেদ, তখনই তার নজরে পড়লো তীরটি। মেয়েটির বাম দিকে গেঁথে আছে একটি তীর। মেয়েটির চলার সাথে তাল মিলিয়ে দোল খাচ্ছে সামনে, পিছনে। মাজেদ জলদি ঘোড়া থামালো।
মেয়েটি বললো, ‘আমার গায়ে তীর লাগার কারণেই আমি
চলন্ত অবস্থায় সব তথ্য তোমাকে দেয়ার জন্য পেরেশান হয়েছিলাম। মরার আগেই তোমাকে তথ্যগুলো জানানো দরকার । তাই তোমাকে জোর করে থামিয়ে দিলাম।
মাজেদ লাফিয়ে নামলো ঘোড়ার পিঠ থেকে, তারপর মেয়েটিকেও নামিয়ে আনলো। মাটিতে বসিয়ে তাকে কোলের সাথে চেপে ধরে তীর খুলতে চেষ্টা করলো। কিন্তু তীর এত গভীরে প্রবেশ করেছিল যে, টেনে বের করা সম্ভব হলো না!
ওর টানাটানিতে কাতর হয়ে মেয়েটি বললো, ‘ওটা রেখে দাও! আমার কথাগুলো আগে শুনে নাও! তারপর তোমার যা ইচ্ছে করো।’
সালেহা দুর্বল স্বরে বলে চললো স্বামীর কাছ থেকে উদ্ধার করা গোপন তথ্যাবলী। মাজেদ হেজাযী গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলো আইয়ুবীকে হত্যা ও তার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর গোপন পরিকল্পনার কথা।
মেয়েটি কথা শেষ করলো এই বলে, ‘আমার ধারণা, কেউ এ কথা চিন্তাও করবে না, আমরা গোপন তথ্য নিয়ে হলব থেকে পালাচ্ছি। রক্ষীদের সবাই জানতো, আমার ও তোমার মধ্যে গোপন সম্পর্ক রয়েছে, যা আমার স্বামীর মনেও সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল। তারা এ কথাই সবাইকে বলবে । বলবে, ভালবাসার টানে পাগল হয়েই আমি তোমাকে নিয়ে পালিয়েছি।’
মেয়েটি কথা শেষ করে মাজেদ হেজাযীর হাতে গভীরভাবে চুমু খেলো এবং বললো, ‘আমি এখন শান্তির সঙ্গে মরতে, পারবো!’ এরপরই সে জ্ঞান হারালো । মাজেদ হেজাযী সালেহার ঘোড়া তাঁর ঘোড়ার পিছনে বেঁধে নিলো এবং আহত সালেহাকে নিজের ঘোড়ায় উঠিয়ে পিছনে বসে এমনভাবে তাকে ধরে রাখলো, যাতে বিদ্ধ তীর তাকে বেশী কষ্ট না দেয়।
কিন্তু তীর তার ক্রিয়া শেষ করেছে। মেয়েটি চলন্ত ঘোড়ার পিঠে মাজেদ হেজাযীর বুকের ওপর দেহের সমস্ত ভার চাপিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে শাহাদাতের পেয়ালায় চুমুক দিল ।
মাজেদ যখন দামেশকে কমাণ্ডার হাসান বিন আবদুল্লাহর কাছে উপস্থিত হলো, মেয়েটি কমবেশী তার বারো ঘণ্টা আগে শহীদ হয়েছে।
মাজেদ হলবের রাজমহলের সমস্ত ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার কথা শোনালো তাকে। বললো, ‘এই বিরাট সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে আল্লাহর এই প্রিয় বান্দীর অপরিসীম ত্যাগ ও সদিচ্ছার ফলে ।’
হাসান বিন আবদুল্লাহ্ তৎক্ষণাৎ মাজেদ হেজাযী ও শহীদ সালেহার লাশ নিয়ে সুলতান আইয়ুবীর কাছে গেলেন । সুলতানের প্রশ্নের জবাবে মাজেদ হেজাযী মেয়েটি সম্পর্কে সব কথা খুলে বললো। কেমন করে তার বাবা তাকে জমিদারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। স্বামীর সাথে কেন তার দ্বন্দ্ব হয়েছিল এবং কেন ও কেমন করে সে এসব তথ্য সংগ্রহ করে মাজেদকে দিয়েছে, সব কথাই সুলতানকে খুলে বললো সে।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!