সীমান্ত ঈগল – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আবদুল হক
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৮৬
সীমান্ত ঈগল – বইটির এক ঝলকঃ
ভোরের আলোতে আল জাগল, মুসা এবং আল জায়গারা লড়াইয়ের স্থান পরিদর্শন করলেন। হয়রান হয়ে গেলেন বদর বিন মুগীরার ইনতেজাম দেখে। হামলাকারীদের মধ্যে অল্পই জান নিয়ে ভাগতে পেরেছে। প্রতিটি গাছে আর পাথরের আড়ালে বদরের তীরন্দাজ লুকিয়ে। হামলাকারীদেরকে উপত্যকা আর পাহাড়ের খাঁজে ঘিরে রেখেছিল ওরা। এক উপত্যকা থেকে বাঁচার জন্য অন্য উপত্যকায় গেলেই দ্বিগুণ বেগে আসত ভয়ংকর তীর বৃষ্টি ।
ভোরের আলো ফুটতেই বদর ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে মেহমানদের নিয়ে কেল্লার বাইরে এল। বেজে উঠল নাকাড়া। ঘোড়ার খুরের শব্দ শোনা গেল আশপাশের অরণ্যে। মুহূর্তের মাঝে কেল্লার দরজায় জমা হলো প্রায় তিন হাজার সওয়ারী। আল জাগল বললেন, ‘যাদু বিশ্বাস করলে বলতাম তুমি বড় যাদুকর। কোত্থেকে এল এ ফৌজ?’
‘এরা রাতে মুহাফেজখানায় লুকিয়ে ছিল। রাতের লড়াইয়ে এরা অংশ নেয়নি। এখন থেকে তাদের কাজ শুরু। বিভিন্ন স্থানে আমার তীরন্দাজ দুশমনের দলকে ঘিরে রেখেছে। এ নেযাবাজরা এখন ওদের জমায়েত করবে।
বদরের সঙ্গীরা দুপুর পর্যন্ত বেঁচে থাকা দুশমনদের একটা উপত্যকায় জমা করলো। বর্ম আর শিরস্ত্রাণ পরে আবু দাউদ সৈনিক সাজার চেষ্টা করছিল। হামলাকারীদের সোনাপতি মরে গেছে শুনে সে যারপরনাই সন্তুষ্ট। ওদের গভর্ণর এ হামলায় শরীক ছিল না। এছাড়া তার ছিল অন্য পেরেশানী। পাগলের মত এদিক সেদিক ছুটছিল সে পেরেশানী দূর করার জন্য। এ ছুটাছুটির মধ্যে সে তিনজন দুশমনকে হত্যাও করেছে।
সারিবদ্ধ কয়েদীদের একজন একজন করে দেখে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে সে নেযাবাজদের দলে শামিল হয়ে গেলো। আচানক ক’জন পদাতিক সিপাইকে কয়েদীদের একটা দল নিয়ে আসতে দেখা গেলো জঙ্গলের দিক থেকে। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘোড়া হাকিয়ে সে সেদিকে ছুটল। পনর বিশজন কয়েদীকে দেখেই একজনের উপর দৃষ্টি স্থির হয়ে রইল তার। তাড়াতাড়ি শিরস্ত্রাণের নেকাব একটু নিচে টেনে দিল সে। এ কয়েদী ছিল তার কোচওয়ান। তার হাতের ইশারায় থেমে গেল সিপাইরা। সিপাইদের তরুণ অফিসারকে বলল, ‘দুশমন ফৌজের সাথেই কি একে গ্রেফতার করেছেন?”
“হ্যা। গাছে চড়ে সে লুকোনোর চেষ্টা করছিল।’ অফিসার জওয়াব দিল ।
‘মালাউন’ বলেই ঘোড়া থেকে নেমে পড়লো আবু দাউদ। এক সিপাইর হাতে ঘোড়ার বাগ ছেড়ে কোচওয়ানের দিকে এগুলো সে। তার কাছে পৌঁছে চিৎকার করে বললো, ‘আমার নিজের নওকর এত বড় নিমকহারাম আর মোনাফিক হতে পারে, চিন্তাও করিনি। এ ফৌজকে কি তুমিই কেয়ার পথ দেখাওনি? তুমি যখমী ছিলে, কেল্লায় আশ্রয় দিয়ে এরা তোমার চিকিৎসা করেছেন। এহসানের বদলা এই দিচ্ছ কি মুখ নিয়ে তাদের কাছে যাবো আমি। তুমি আমায়ও লজ্জিত করেছ।
শিরস্ত্রাণের কারণে তার চেহারা দেখছিল না কোচওয়ান। আওয়াজ চিনতে পেরে ‘থ’ হয়ে রইল। এ যে তার মুনীরের কন্ঠ! কিন্তু কথাগুলো তো তার নয়। তবুও মনে মনে ভাবল, হয়তো এর পেছনে কোন যুক্তি আছে। সে মৃদু কণ্ঠে বললো, ‘আমার মুনীব, আপনি জানেন আমি বেকসুর। আমি…
আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল সে। আচানক আবু দাউদ সমস্ত শক্তি দিয়ে তরবারির আঘাতে ধড় থেকে তার মাথা আলাদা করে দিল। নওজোয়ান অফিসার তার বাহু ঝাকুনি দিয়ে বললো, ‘কে তুমি? কয়েদীদের কোতল করা আমাদের আইনের খেলাফ। সীমান্ত ঈগলের সামনে তোমাকে এর জবাবদিহী করতে হবে।”
শান্ত ভাবে আবু দাউদ জওয়াব দিল, ‘সে চিন্তা আপনার নয়। জবাব আমিই দেব।’ একথা বলে শিরস্ত্রাণ খুলে বললো, ‘সম্ভবত আমায় আপনি চেনেন।’
“আপনাকে আমি চিনি । আমাদের আমীরের মেহমান আপনি। কোন কারণ ছাড়া একে হত্যা করেননি তাও বুঝি। কিন্তু এখন সে ছিল কয়েদী ।
‘এ ব্যক্তি বিশ বছর আমার নওকর ছিলো। এক বিপাকে পড়েই কার্ডিজ ছাড়তে হয়েছে আমাকে । আমাদের বিপদ্ব চরমে পৌঁছলে, সীমান্ত ঈগল আমাদের জীবন রক্ষা করেন। এও ক’দিন আমাদের সাথে মেহমান ছিল এখানে। দেশে যেতে অনুমতি দিয়েছি, পরিণতিতে খৃষ্টান ফৌজকে পথ দেখিয়ে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। আমাকে ধরিয়ে বড় জোর কয়েকটা দিরহাম সে হাসিল করতো কিন্তু খোদানাখাস্তা আপনারা প্রস্তুত না থাকলে স্পেনের শেষ আশার বিন্দু ছিল বিপদের মুখোমুখী। খৃষ্টান হলে অবশ্যই তাকে কোতল করতাম না। সে এক মুসলমান। দুনিয়ার কোন কানুনেই এদের উপর রহম করার সুযোগ নেই। বলুনতো আমার স্থানে আপনারা কেউ হলে কি করতেন?’
‘মাফ করবেন। আমি জানতাম না সে মুসলমান। এদের এমন শাস্তিই দেয়া উচিত।’
সিপাইদের পূর্বেই আবু দাউদ পৌঁছে গেল বদরের কাছে। নওকরের কোতলের ঘটনা এমনভাবে বর্ণনা করল, তার নেক নিয়ত দেখে প্রভাবিত না হয়ে পারল না বদর। কিন্তু বশীর ঘটনা শুনে মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগলেন কিছুক্ষণ। তখন আবু দাউদ নিজে ঘটনার রংগীন বর্ণনা দিয়ে তার সন্দেহ দূর করল।
এক সংকীর্ণ উপত্যকায় কয়েদীদের জমা করে চারপাশে তীরন্দাজের পাহারা কায়েম করলেন বদর। সওয়ারদের একটা দল বন্দী এবং আহতদের ঘোড়া একত্রিত করার কাজে ব্যস্ত রইল। বাকী সবাইকে জওয়াবী হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিলেন তিনি। জোহরের পর তিনি আল জাগলকে বললেন, ‘কিছু কাজ আমার বাকী। আপনি কেল্লায় গিয়ে আরাম করুন। কাজ সেরে ইনশাআল্লাহ আপনার খিদমতে হাজির হয়ে যাবো। এ ক্ষুদ্র কাজের তুলনায় আপনার মত ব্যক্তিকে অনেক বড় মনে করি। আপনাদের এ জন্য তকলিফ দিচ্ছি না। তা ছাড়া গ্রানাডা এখনো কার্ডিজের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়নি। যুদ্ধ হচ্ছে আমার সাথে, দুশমন এ ভুলের মধ্যেই থাকুক। এতে আপনারা প্রস্তুতির জন্য অনেক সময় পাবেন।’
আল জাগল বললেন, ‘তুমি কোথায় হামলা করতে চাও?’
‘আমি একটা খাস মোকাম নির্ধারণ করেছি। দুশমন ভেবেছে আমরা ঘুমিয়ে আছি। আমরা যে জেগে আছি তাদের বুঝাতে চাই। এ অভিযানে যুদ্ধ অল্প হবে, সফর হবে বেশী।’
আল জাগল জুব্বা এবং পাগড়ী খুলে এক সিপাইর হাতে দিলেন। বললেন, ‘তোমাদের এক সিপাইর পোষাক আমার জরুরী। আমরা সবাই তোমাদের সাথে যাব। আজ আমাদের সিপাহসালার তুমি। সেদিন বেশী দূরে নয়, যে দিন তুমি গ্রানাডার ঝান্ডা তুলবে। কিন্তু আজকে আমি সীমান্ত ঈগলের ঝান্ডা তুলবো। ঘাবড়ে যেয়োনা বদর। হুকুম শুধু দিতেই নয় হুকুম পালনের অভ্যাসও আছে আমার।
মুসা এবং আল জায়গারা আল জাগলের অনুসরণ করল। পোষাক পরে বদরের সিপাইদের সাথে যেতে প্রস্তুত হল তারা। খানিক পর তিন হাজার সিপাই নিয়ে বদর কেল্লার বাইরে এলেন। নিজস্ব বিশেষত্বের খাতিরে সাদা জামা আর সাদা পাগড়ী পড়লেন তিনি।
সন্ধ্যায় কার্ডিজের বাসিন্দারা বিজয়ী সিপাইদের ফুলের অভ্যর্থনা দেয়ার পরিবর্তে সীমান্ত ঈগলের তুফানী হামলার সম্মুখীন হলো। সীমান্তের বিরাট এলাকা ধ্বংস করে পর দিন সূর্য উঠার একটু পরে এ ফৌজ পৌঁছল নিজের উপত্যকায়। কোন কোন সওয়ারের সাথে ছিল পশুর বহর। কারো সাথে আবার গণিমতের মাল বোঝাই ঘোড়া। মনে হচ্ছিল বিরাট এক ব্যবসায়ী কাফেলা।
আস্তানায় পৌঁছে বদর ঘোষণা করলেন, “এ গণিমতের এক পঞ্চমাংশ যাবে গ্রানাডার বাইতুলমালে।’ তারপর এক নওজোয়ানের অধীনে পাচশো তাজাদম সিপাই পাঠিয়ে দিলেন কেল্লার দিকে। তাদের নির্দেশ দিলেন, ‘কয়েদীদের হাকিয়ে সীমান্ত পার করে দাও।’
খাস দূতের মাধ্যমে খবর পাঠালেন বশীরের কাছে, ‘চলতে অক্ষম কয়েদীদের যেন ঘোড়ায় করে সীমান্তে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কেবলমাত্র সংকটাপন্ন কয়েদীদের চিকিৎসা চালাবে। এখানে একদিন থাকব আমি।’
বদর, আল জাগল, মুসা এবং জায়গারা গ্রানাডার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করলেন অনে ল বললেন, ‘লড়াই শুরু করতে ফার্ডিনেও কিছুটা দেরী করবে। এ কেল্লা কমি : চলে গেলে এতোক্ষণে শুরু হয়ে যেতো লড়াই। তাই তাকে আর প্রস্তুতির সুযোগ দিতে চাইনা। তোমাদের এ শানদার বিজয়ের খবর শুনলে হিম্মত বেড়ে যাবে গ্রানাডাবাসীর। আশা করি তাদের এ বিজয়ের খবর নিজের মুখেই শোনাতে পারব আমি। এর পরে তুমি পৌঁছে যাবে গ্রানাডা। কত বছর ধরে গ্রানাডার মানুষ কওমের কোন বিজয়ী ‘সেনাপতিকে অভ্যর্থনা করতে পারেনি। জীবিতদের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে কবিরা কাব্য লিখছে কবরবাসীদের নিয়ে। তোমাকে দেখলে তারা নিশ্চয় ভাববে, মুসীবতের স্রোত বদলে দেবার জন্যে খোদার সাহায্য এসে গেছে। জনগণের জোশ দেখলে ডাই নিশ্চয় যুদ্ধ ঘোষণা করবেন। প্রথম থেকেই তিনি জীবন বাজী রাখতে প্রস্তুত। কিন্তু ভয় পান কওম হয়তো তার সংগী হবে না।’
বদর বললেন, ‘গত সাক্ষাতের পর থেকে আমি নিজকে গ্রানাডা ফৌজের একজন সিপাই মনে করি। এখানে আমার স্থায়ী লড়াইয়ের উদ্দেশ্য হল, ‘যতদিন পর্যন্ত গ্রানাডাবাসী গাফলতের নিদ্রা থেকে জেগে না উঠবে, আমার দিকে ফিরিয়ে রাখব ফার্ডিনেন্ডের দৃষ্টি। সেদিন দূরে নয় যেদিন সমগ্র শক্তি নিয়ে গ্রানাডা হামলা করবে ফার্ডিনেন্ড। ‘গ্রানাডার বিজয় ছাড়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলব না’ আরাগুনের রানী আর ফার্ডিনেন্ড এই শপথ করেছিল। আজ অবধি তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রানাডা রক্ষা করার একটাই পথ, চিরদিনের জন্য চূর্ণ করে দিতে হবে ওদের শক্তি।’
‘আসলে আমরা প্রথমে সাখরা কব্জা করার ফয়সালা করেছি। আর এ উদ্দেশ্যেই নিতে এসেছি আপনাকে।’ বললেন আল জাগল।
‘আমার তামাম ফৌজ হাজির। আমি এখুনি আপনার সাথে যেতে প্রস্তুত।’
‘এই কেন্দ্রেও আপনার সিপাইদের থাকা জরুরী। যোগ্য কোন ব্যক্তির হাতে ওদের সপে আপনি গ্রানাডা পৌঁছে যাবেন। আপনার পৌঁছার দু’একদিন পরই হয়তো আবুল হাসান লড়াইয়ের জন্য তৈরী হবেন। ‘
মুসা বললেন, ‘আমার মনে হয়, সীমান্ত ঈগল কিছু ফৌজ নিয়ে গ্রানাডা পৌঁছলে, মানুষের উপর তার চমৎকার প্রভাব পড়বে। যুদ্ধের শুরুতে গ্রানাডা ফৌজের অগ্রবর্তী দলে এদেরকে রাখতে হবে। এদের উপস্থিতিতে লোকের সাহস অনেক বেড়ে যাবে। এর বদলে এই এলাকা হেফাজতের জন্য আমাদের কিছু সিপাই এখানে পাঠিয়ে দেব।’
‘দুশমনের উপর বিজয়ী হওয়াই আমাদের মাকসাদ। দরকার হলে প্রতিটি স্থানেই যাব আমি । এই মুহূর্তে হাজার দুয়েক সিপাই সাথে নিলে এ ছাউনি কমজোর হবে না এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। এখানে যেন সিপাইর ঘাটতি না হয় আপনাদের এ পরামর্শে আমি একমত। যদি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এক হাজার ফৌজ নিয়ে নেই, নতুন এক হাজার ভর্তি করে পাঠিয়ে দেব। তাহলে এ এলাকা হবে আমাদের জন্যে শক্তিশালী গোপন ঘাটি । তা ছাড়া সীমান্তে সংঘাত জারী রেখে ফার্ডিনেন্ডের দৃষ্টি নিবন্ধ রাখতে পারব এদিকে ।
আল জায়গারা প্রশ্ন করলেন, “ আপনি কি মনে করেন, এ পরাজয়ের পর গ্রানাডার পূর্বেই ফার্ডিনেন্ড এ এলাকা জয় করাকে জরুরী মনে করবে না?’
‘অতীত অভিজ্ঞতা নিশ্চয় তাকে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন করেছে। এই একীন তার হয়েছে, খোদা না করুন গোটা স্পেন তার কব্জায় চলে গেলেও বছরের পর বছর ধরে মাথা কুটতে হবে এ পাথুরে পর্বতে। তেমন কোন ফয়সালা নিয়ে থাকলে স্পেনের মুসলমানদের জন্য হবে সোনায় সোহাগা। আমরা কমপক্ষে দশ বছর পর্যন্ত তার সর্বশক্তি এদিকে নিবন্ধ রাখতে পারব। গ্রানাডাবাসী আত্মহননের সিদ্ধান্ত না নিয়ে থাকলে এর মধ্যে পাশ পরিবর্তন করবে নিশ্চয়ই।’
‘বর্তমানে আপনার কাছে কত ফৌজ আছে?’ প্রশ্ন করলেন আল জায়গারা।
‘এ পর্যন্ত যতো সিপাই আপনারা দেখেছেন, আরো এ পরিমান হবে।
মুসা বললেন, ‘মনে করুন পরিকল্পনার চাইতে কিছু দিন বেশী গ্রানাডা থাকতে যদি আপনি বাধ্য হন, আপনার এমন কোন সালার কি আছেন, আপনারা অনুপস্থিতিতে দুশমনের অযাজিত হামলার মোকাবিলা এতো হুশিয়ারীর সাথে করতে পারবেন? আমি বলতে চাই, যার উপস্থিতিতে সিপাইরা আপনার অনুপস্থিতি অনুভব করবে না।
“সন্দেহ নেই সিপাইরা আমাকে মহব্বত করে। খোদার ফজলে দশজনের বেশী এমন লোক রয়েছেন, আমার স্থানে যারা বসতে পারেন।’
‘আপনার দৃষ্টিতে এদের মধ্যে যোগ্যতর কে?’
আমার নায়েব মনসুর বিন আহমদ।’
‘যে নওজোয়ান আপনার সাথে কালো ঘোড়ায় সওয়ার ছিলেন, তিনিই কি মনসুর বিন আহমদ।’
‘না, তিনি কর্ডোভা গেছেন।’
“কর্ডোভা? তিনি কি কর্ডোভার অধিবাসী?’
‘না, তিনি সেভিলের বাসিন্দা। ঘুরতে গেছেন কর্ডোভা ।
‘ঘুরতে।’
‘নতুন সিপাই ভর্তি করার জন্য।’
তিনি সেভিল থেকে কিভাবে এলেন?’
‘অন্য সিপাইরা যেভাবে এসেছে। তাকে নিয়ে এসেছেন বশীর।’
সামনের সপ্তায় এক হাজার সিপাই নিয়ে বদর গ্রানাডা পৌঁছবেন, এ প্রতিশ্রুতি পেয়ে পরদিন গ্রানাডার পথ ধরলেন আল জাগল।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!