রক্তস্রোত – আসাদ বিন হানিফ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আসাদ বিন হানিফ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৫৭
রক্তস্রোত – বইটির এক ঝলকঃ
তোমরা হয়তো বিস্মিত হচ্ছো, আমি আক্রার উপর আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলে। এর পেছনে কোন আবেগ নেই
এমন নয়। খৃস্টানরা একবার মক্কা ও মদীনার দিকে অভিযান চালিয়েছিল। সম্রাট শাহ আরনাত ও কাউন্ট রিজনাল্ট মক্কা মুয়াজ্জমা থেকে মাত্র চার মাইল দূরে ছিল। আমি সম্রাট আরনাতের মক্কা আক্রমণের দূরভিসন্ধির প্রতিশোধ নিয়েছি। এখন খৃস্টান শাসকদের দুঃস্বপ্ন মিটিয়ে দেয়া বাকি। আক্রা তাদের মক্কা । আক্রা দখল করে আমি তাদের মনোবল গুড়িয়ে দিতে চাই। আজও তারা মসজিদুল আকসা অপবিত্র করছে। তাই আমাদের দৃষ্টি আটকে আছে বায়তুল মোকাদ্দাসে । কিন্তু ওখানে পৌঁছতে হলে আগে আক্রা দখল করা প্রয়োজন। এতে খৃষ্টানদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে এবং বায়তুল মোকাদ্দাস উদ্ধার করা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।’
সুলতান আইয়ুবীর হাতে যুদ্ধের নকশা ছিল। তিনি সেটি খুলে সবার সামনে মেলে ধরলেন। হাতিনের ওপর আঙ্গুল রেখে বললেন, ‘আমরা এখন এইখানে।’ তিনি আঙ্গুল আক্রার দিকে এমনভাবে নিয়ে গেলেন, যেন তিনি কিছু কাটছেন। তারপর বলতে লাগলেন, ‘আমি খৃস্টানদের রাজ্যকে দুটি অংশে বিভক্ত করে তার মাঝখানে গিয়ে বসবো। আক্রা অধিকার করে টায়ের, বৈরুত, হায়ফা, আসকালান ও সাগর কূলের ছোট বড় সমস্ত শহর ও গ্রামগুলোকে মুঠোর মধ্যে নিয়ে নেবো। একটি খৃষ্টানকেও, সে সৈন্য হোক বা বেসামরিক লোক, এ অঞ্চলে থাকতে পারবে না। কারণ উপকূলবর্তী এলাকাগুলো যুদ্ধের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের কিছু সম্রাট এখানকার খৃষ্টানদের সাহায্যের জন্য ছুটে আসতে পারে। তারা এলে আসবে এই সমুদ্র পথেই। তাই উপকূল অঞ্চল থাকতে হবে তোমাদের দখলে, যাতে শত্রুদের কোন সমুদ্র তরী কূলে ভিড়তে না পারে। এখান থেকেই আমরা বায়তুল মোকাদ্দাসের যুদ্ধ পরিচালনা করবো।’
ফিলিস্তিন (বর্তমান ইসরাইলসহ) ও লেবাননের মানচিত্র দৃষ্টির সামনে তুলে ধরলে এখনো দেখা যায় গ্যালিলি সাগরের পাড়ে হাতিন অঞ্চল । তার বিপরীত দিকে সাগরের উপকূলে আক্রা শহর অবস্থিত। দক্ষিণে জেরুজালেম ও বায়তুল মোকাদ্দাস । হাতিন থেকে আক্রা মাত্র পঁচিশ মাইল দূরে আর জেরুজালেম সত্তর মাইল তফাতে অবিস্থত। বর্তমানে ফিলিস্তিন ও লেবাননে খৃস্টান আধিপত্য চলছে। ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন, সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর পরিকল্পনা ছিল, হাতিন থেকে আক্রা পর্যন্ত তিনি এমন অভিযান চালাবেন যাতে রাস্তার পাশে যে সব এলাকা পড়বে সেখানে মুসলমানদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়। সেখানে শুধু মুসলমানদেরই আবাসভূমি থাকবে। অন্য কোন ধর্মের লোক এই সাগর উপকূলে থাকবে না। যুদ্ধ বিশেষজ্ঞগণ তার পরিকল্পনাকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। মুসলমানরা এই পরিকল্পনার ওপর টিকে থাকতে পারলে বর্তমান ফিলিস্তিনের চেহারা হতো ভিন্ন রকম ।
সুলতান আইয়ুবী খৃস্টান শক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করতে চেয়েছিলেন। কারণ তাঁর সৈন্য বাহিনী খৃস্টানদের তুলনায় ছিল কম। যদিও এই অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়েই তিনি বিশাল খৃষ্টান বাহিনীর প্রভূত ক্ষতি সাধন করেছেন, তবু তিনি চাচ্ছিলেন খৃষ্টশক্তিকে বিভক্ত করে ফেলতে, যাতে তারা কখনো তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে না পারে।
‘আক্রার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী।’ সুলতান আইয়ুবী তার সেনাপতিদের বললেন, ‘আমাদের গোয়েন্দারা জানিয়েছে, সেখানে যুবক ও কর্মঠ মুসলমানদের তারা বন্দী করে বেগার খাটাচ্ছে। শিশু ও মেয়েসহ সব মুসলমানই সেখানে মূলতঃ গৃহবন্দী। তাই লড়াই শুরু হলে ভেতর থেকে আক্রার মুসলমানরা তেমন কোন সাহায্য করতে পারবে না। অপরদিকে খৃস্টানরা শহরের প্রতিরক্ষায় জীবন পণ করে লড়বে। কারণ আধিপত্য হারানোর পরিণাম কি তা তারা ভাল করেই, জানে।’
সুলতান বললেন, ‘আমি অক্রায় দীর্ঘ কোন অবরোধ করতে চাই না। আমাদের আক্রমণ হবে ঝড়ের মত উদ্দাম । আক্রা পর্যন্ত আমাদের অভিযানে সহযোগিতা করবে কমান্ডো বাহিনী।
রাস্তায় যে সব বস্তি পড়বে সে সব তছনছ করে এগুবো আমরা। কিন্তু সেনাবাহিনীর কোন সদস্য গনিমতের মালের আশায় পথে কোথাও থামতে পারবে না। এ কাজের জন্য আমি আলাদা বাহিনী নিয়োগ করছি।’
আক্রায় মুসলমানদের অবস্থা এমন ছিল, কোন বৃদ্ধ বা অচল ব্যক্তিও স্বাধীন ও মুক্ত ছিল না। সবাই আতঙ্কের জীবন কাটাচ্ছিল। বেগার কয়েদীদের সংখ্যা ছিল হাজার হাজার। অন্যভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, পুরো আক্রা শহরই মুসলমানদের জন্য ছিল একটি বৃহৎ কারাগার। কোন মুসলমানের স্ত্রী-কন্যার মান সম্মান নিরাপদ ছিল না। খৃষ্টানদের উদ্দেশ্য ছিল, মুসলমানরা আক্রায় থাকবে, তবে তারা থাকবে শুধু খৃস্টানদের সেবা করার জন্য ।
তারা সেখানে মুসলিম শিশুরা যেন ইসলামী জীবনবোধে উজ্জীবিত হতে না পারে সে জন্য সেখানকার সব ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল। সেখানকার মসজিদগুলো বিরান হয়ে পড়েছিল মুসল্লির অভাবে।
১১৮৭ সালের ৪ জুলাইয়ের পর সেখানে খৃষ্টানরা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার ও উৎপীড়নে নতুন মাত্রা যোগ করে। তারা নতুন করে ভীষণ নির্যাতন চালাতে শুরু করে। বাড়ীতে যে সব মুসলমানরা ছিল তাদেরকে তাড়া করে বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। শহরে ভাসমান মুসলমানদের জোর করে কারাগারে নিক্ষেপ করে। কারাগার মানে তাদের সেই চিরাচরিত বেগার ক্যাম্প, যেখানে বিনা পয়সায় মুসলমানদের শ্রম আদায় করা হয় ।
সেখানে মুসলমানদের কাছ থেকে জবরদস্তি পশুর মত বেগার শ্রম আদায় করতে লাগলো খৃস্টানরা। ৫ জুলাইয়ের পর তাদেরকে কাজের জন্য বাইরে না এনে তাদের উপর কঠোর নির্যাতন শুরু করে। বিনা কারণে প্রহারে প্রহারে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে এই সব হতভাগা বন্দীরা। মুসলমানরা বুঝতে
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!