রিচার্ডের নৌবহর – আসাদ বিন হানিফ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আসাদ বিন হানিফ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৫৮
রিচার্ডের নৌবহর – বইটির এক ঝলকঃ
জাহাজ নোঙ্গর করা ছিল তীর থেকে যথেষ্ট দূরে। কয়েকটি সার্চলাইটের আলো সমুদ্রের পানিতে ঘুরাফেরা করছিল। এ আলোগুলো আল ফারেসেরই বহরের বিভিন্ন জাহাজের ছিল। আলোগুলো টহল দিচ্ছিল সমুদ্রের ঘোলা জলে।
মাঝ রাত পেরিয়ে গেল। রউফ কুর্দী ফ্লোরীকে বললো, ‘তুমি আমার ক্যাবিনে চলে যাও। আমি পরে আসছি।’ ফ্লোরী চলে গেল। জাহাজের ছাদে যখন ফজরের আজান হলো তখন ফ্লোরী রউফের ক্যাবিন থেকে বেরিয়ে নিজের ক্যাবিনে চলে গেলো! রাতে সে আল ফারেসের সহযোগী রউফকে বলেছে, ‘আমি তোমাকে মনে প্রাণে ভালবেসে ফেলেছি। আল ফারেস মীরাকে ভালবাসে। আমি কখনও আল ফারেসকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে পারবো না। আমি কারো দ্বিতীয় স্ত্রী হতে চাই না । ‘
সে রউফ কুর্দীকে আরও বললো, ‘আল ফারেসই তোমার প্রতি আমার আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তিনি একদিন আমাকে বললেন, ‘রউফ কুর্দীর সাথে কোন কথা বলবে না, ভীষণ খারাপ।’
লোকটা
এ কথা শোনার পর তোমার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। কারণ আমি ভেবে দেখলাম, আসলে তিনি নিজেই খুব খারাপ লোক। তিনি আমাদের আশ্রয় দিয়ে আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন আর এক সাথে আমাদের দু’জনকে ভোগ
করতে চাচ্ছেন। কেন, মীরাকে তোর ভাল লাগলে তাকে তুই বিয়ে কর। এক সাথে দুইজনকে বিয়ে করার লোভ কেন? মেয়ে মানুষ দেখলেই তার দিকে হাত বাড়াতে হবে? আমি ওকে বলেছি, ‘দু’জনকে তুমি এক সাথে পেতে পারো না। আগে ঠিক করো কাকে গ্রহণ করবে।’ তাতেই সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।
যদি আমরা অসহায় না হতাম তবে সে আমাদের কাছে এত বেশী মূল্য চাইতে পারতো না। তুমিই বলো, যেখানে প্রেম ভালবাসা নেই সেখানে শরীরের কি দাম? আমরা কি তবে তার হাতের খেলনা পুতুল?’
রউফ কুর্দীর মনে ভালবাসার ছলনা ও আল ফারেদের সাথে শত্রুতা সৃষ্টি করে তার ক্যাবিন থেকে বেরিয়ে এলো ফ্লোরী। আল ফারেসের কাছ থেকে যে সব গোপন তথ্য এতদিন সংগ্রহ করতে পারেনি সে সব তথ্য রউফ কুর্দীর নিকট থেকে সহজেই পেয়ে গেল সে ।
সে রাতে সুলতান আইয়ুবী মোটেই ঘুমাতে পারেননি। সমস্ত রাত তাঁর আলোচনা সভাতেই কেটে গেল। এবার তিনি আর এমন কোন বিপদের ঝুঁকি নিতে চান না, যাতে বায়তুল মোকাদ্দাসের অবরোধ ও অভিযান ব্যর্থ হতে পারে। তিনি সেনাপতি ও কমান্ডারদের বায়তুল মোকাদ্দাস অভিযানের -সুবিধাজনক রাস্তার নকশা দেখিয়ে দিলেন। কোথায় কোথায় খৃস্টানদের সৈন্য ফাঁড়ি (Out post) আছে সেগুলো চিহ্নিত করে জানিয়ে দিলেন তাদের।
যেখানে খৃস্টানদের শক্ত কেল্লা ও ঘাঁটি আছে সে সব জায়গা দেখিয়ে সুলতান আইয়ুবী সকলকে বললেন, ‘এগুলো আক্রমণের প্রয়োজন নেই, কারণ এগুলোর পিছনে শক্তি ক্ষয় করে দুর্বল হতে চাই না।’
তিনি বললেন, ‘এ সব ঘাঁটি খুব উঁচু স্থানে। আমরা এগুলো পাশ কাটিয়ে দূর দিয়ে এগিয়ে যাবো। ওখানে যে সব সৈন্য আছে তারা শান্তিতে বসে থাক। তারা দেখলেও অল্প সৈন্য নিয়ে আমাদের পথে বাঁধা দিতে আসবে না।’
‘কিন্তু দূর থেকে দেখে তাদের সংবাদাতারা বায়তুল মোকাদ্দাস গিয়ে সংবাদ পৌঁছাবে।’ এক সেনাপতি বললো, ‘তবে তো আমরা বায়তুল মোকাদ্দাসে গোপনে অতর্কিত আক্রমণ চালাতে পারবো না।’
‘গোপনে যাওয়ার আশা অন্তর থেকে দূর করে দাও।’ সুলতান আইয়ুবী বললেন, ‘খৃস্টান বাহিনী ভাল করেই জানে, আমরা বায়তুল মোকাদ্দাস যাচ্ছি।
তাদের যুদ্ধের গতিই বলে দিচ্ছে, এবার তারা বাইরের ময়দানে এসে যুদ্ধ করবে না। শহরে তাদের যে সৈন্য আছে তারা শহর রক্ষার কাজে নিয়োজিত। বাইরে এসে যুদ্ধ করার অভ্যাস তাদের নেই। এমন ঝুঁকি নিতেও তারা প্রস্তুত নয়।
সেখান থেকে আমাদের গোয়েন্দারা সংবাদ এনেছে, সেখানে সৈন্য বাহিনী প্রতিরক্ষার কৌশল আয়ত্ব করছে। তারা সেই ট্রেনিং নিয়েই ব্যস্ত । আরো খবর এসেছে, আমরা যে সকল স্থান দখল করেছি। সেখানকার কিছু পলাতক সৈন্য গিয়ে সেখানে সৈন্য সংখ্যা বাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে লৌহ পোষাকধারী কিছু নাইটও আছে। আমাদের গোয়েন্দারা আরো জানিয়েছে, অবরোধ কালে এসব নাইটরা বাইরে এসে যুদ্ধ করবে।
তারা এরই মধ্যে শহরের বাইরে এসে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। তারা আঘাত করো ও পিছু হটো’ এ নীতিতে আমাদের ওপর আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধের এ কৌশল তারা আমাদের কাছ থেকেই শিখেছে।
সুতরাং একথা মনে করার কোন অবকাশ নেই যে, শত্রুর উপর আমরা অজান্তে আক্রমণ করতে পারবো। শত্রুরা আমাদের অপেক্ষায় প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে আমিও কিছু ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি ।
খৃষ্টানদের কোন ফাঁড়ি শোনাই কোন লোক সংবাদ নিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাস যেতে পারবে না তাদের সকল ফাঁড়ি থেকে বায়তুল মোকাদ্দাস যাওয়ার প্রতিটি পথে আমাদের সতর্ক কমান্ডো বাহিনী ওঁৎ পেতে বসে আছে।
তারা চারদিকে সতর্ক নজর রাখছে। তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে কোন সংবাদই বায়তুল মোকাদ্দাস পৌঁছতে পারবে না বলে আশা রাখি। কমান্ডোরা এ ধরনের সংবাদ বাহকদের কাউকেই জীবিত রাখবে না।’
‘শত্রু সেনাদের সংখ্যা সম্পর্কে গোয়েন্দাদের রিপোর্ট কি?’ এক সেনাপতি জানতে চাইলো । শত্রু সেনাদের সংখ্যা সম্পর্কে গোয়েন্দারা বিভিন্ন সংবাদ এনেছে। তাদের রিপোর্ট থেকে আমি যেটুকু অনুমান করতে পেরেছি তা হলো, বায়তুল মোকাদ্দাসের মধ্যে হিসাব মতে তাদের সৈন্য সংখ্যা ষাট হাজারের কিছু বেশী হবে।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, সেখানকার মুসলমানরা এখন বন্দী বা নজরবন্দী অবস্থায় আছে। তারা ভেতর থেকে আমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে না। অন্যদিকে খৃষ্টান নাগরিকরা তাদের সৈন্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করতে পারবে। তারা এটাকে ধর্মযুদ্ধ মনে করে। ফলে তারা এই অবরোধ ঠেকিয়ে দেয়ার জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করবে।
আমি আরো খবর পেয়েছি, খৃস্টানরা তাদের নারী এবং শিশুদেরও যুদ্ধের ট্রেনিং দিচ্ছে। শহরের প্রাচীরের ওপর থেকে তারা মুষলধারে তীর বর্ষণ করবে।
আরো খবর পেয়েছি, খৃস্টানরা তীর বর্ষণের জন্য দক্ষ এক কমান্ড গঠন করেছে। তারা নতুন এক ধরনের তীরও আবিষ্কার করেছে, যে তীর অনেক দূরে চলে যায় এবং সঠিকভাবে লক্ষ্য ভেদ করে।’
সুলতান আইয়ুবী সকলকে নকশায় রাস্তা ও আক্রমণের লক্ষ্যস্থলগুলো আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বললেন, ‘আমাদের আক্রমণ হবে ঝড়ের মত বেগবান কিন্তু অত্যন্ত সুশৃংখল থাকবে আমাদের বাহিনী।’
তিনি অবরোধের কর্মকৌশল ও পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেয়ার পর বললেন, ‘এটাই আমাদের শেষ অধিবেশন। যদি
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!