রাজনন্দিনী – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

রাজনন্দিনী – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ শফিউদ্দিন সরদার

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২০৮

রাজনন্দিনী – বইটির এক ঝলকঃ

বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল, সদ্যরোগমুক্তির পর শবনম সাদিকার ফুফুরও তেমনি বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল। তাই, রাতে আর কথা না বাড়িয়ে আহার অন্তে সবাই শয্যা গ্রহণ করলেন ।
পরের দিন সকালে ফুফু এবার ভাইঝিকে নিয়ে জোরে-শোরে গল্প আলাপে বসলেন । আলাপের প্রথমেই তিনি বললেন- সাথে যে ছেলেটাকে এনেছো, সে কেরে আম্মা? বাপরে কি সুন্দর ছেলের চেহারা! রাজপুত্রকে বলে, তুই ওখানে থাক্ । এমন সুপুরুষ কালে ভদ্রে দেখা যায় । ছেলেটা কে?
শবনম সাদিকা হেসে বললো- কাজের লোক ফুফু । আমাদের সংসারে থাকে আর আমাদের, বিশেষ করে আমার পাঁচটা কাজে লাগে ।
ফুফু ঠুশ্ খেয়ে পড়লেন। হতাশ কণ্ঠে বললেন- হায় আল্লাহ! কাজের লোক ! মানে চাকর নফর ?
শবনম সাদিকা সঙ্গে সঙ্গে বললো- না ফুফু, চাকর নফর নয়। বেশ মানী লোক । আমাদের বাড়ির যত কাজের লোক আর উড়তি লোক আছে, তাদের সবাইকে সে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ায়। মানে, তাদের নামাজে ইমামতি করে । সেজন্যে সবাই তাকে সম্মান করে ।
ও, মৌলভী মানুষ?
: জি ফুফু, তাছাড়া আরো হাজারটা গুণ আছে । একেবারে করিৎকর্মা লোক! ফুফু ঐ একই রকম বিষণ্ণকণ্ঠে বললেন- তা হোক । কিন্তু আমি ভাবলাম এক, হলো আর এক ।
ফুফুমণি !
ঐযে একটা কথা আছে না— ‘হায়রে চক্ষু গেলু, মানুষ বলে সালাম দিলাম, হাঁড়গিলে গা হলু!’ সেই কথার হাল ।
কেন ফুফুমণি, এ কথা বলছেন কেন?
বলবো না? দুটিতে যা মানাতো না, চোখ জুড়িয়ে যেতো! কিন্তু ভাবলাম কি, আর হলো কি!
ছিঃ ফুফু! এ সব কি ভাবছো ?
ভাবছি, সেরেফ অন্য অপর মানুষ যখন, তখন তাকে সাথে এনেছো কেন ? সে যে আমার সাথেই থাকে ।
তোমার সাথে থাকে ?
হ্যাঁ, সব সময় তাকে সাথে রাখি আমি ।
ওমা, সে কি কথা! ঐ একটা কাম্‌লা কাজের লোককে সব সময় কাছে রাখো তুমি?
সব সময় । যখন যেখানে যাই ওকে সাথে নিয়েই যাই ।
ছিঃ ছিঃ একেই বলে মরণ! মন টলেছে বুঝি! যে সুন্দর চেহারা?
শবনম সাদিকা ক্ষুণ্ণকণ্ঠে বললো- ফুফুমণি ।
ফুফুমণি তাঁর নিজের ভাবেই বললেন- ঐ যে কথায় আছে ‘রূপেতে মজিল মন, কিবা হাড়ী, কিবা ডোম’ ঐ একটা কাম্‌লা গোছের লোকের হাতেই মান সম্মানটা দিলে আম্মাজান ?
কি যে বলেন ফুফু! । ওসব ভাবতে নেই, গুনাহ্ হবে।
মানে ?
ফেরেশতা ফেরেশতা। যাকে নিয়েঐ সব কথা বলছো, সে একজন আসমানী মানুষ । কোন কুচিন্তা কুপ্রবৃত্তি তার মনে লেশমাত্র নেই । সে কি! এতটা কি সত্যি?
আপনি তো তাকে দু’চারদিন দেখেন নি ফুফু। দেখলেই বুঝতে পারতেন । ফুফু ঈষৎ হেসে বললেন- তাই কি? ঠিক আছে, এবার তাহলে দু’চারদিন কেন, দশ-পনের দিন ধরে দেখবো ।
তার মানে?
মানেটা পরে বলবো । এবার একটা কথা বলো তো আম্মাজান, বয়সটা তো অনেকখানিই হলো, শাদির ব্যাপারে কি তোমার চিন্তা ভাবনা?
মৃদু হেসে শবনম সাদিকা বললো- আমার চিন্তাভাবনার অপেক্ষা কোথায় ফুফুমণি? চারদিক থেকে সবাই যেভাবে হুম্‌ড়ি খেয়ে পড়ছে, তাতে কে কাকে
রুখে!
: কি রকম- কি রকম?
: নানা দিক থেকে নানাজন শাদির প্রস্তাব নিয়ে এন্তার আসতেই আছে । আসতেই আছে?
আসবে না? বাপের একমাত্র সন্তান আমি। আমাকে হাত করতে পারলে যে বাপের অর্থবিত্তসহ গোটা জমিদারীটাই হাতে পারে তারা। কাজেই ছেলে তাদের যত অপদার্থই হোক, জমিদার, জোতদার, বিত্তবান- সবাই তাদের ছেলের সাথে আমার শাদি দিয়ে আমার বাপের জমিদারীটা হাত করতে উঠে পড়ে লেগেছে ।
বলো কি?
নানা রকম ধাক্কা খেয়ে এক্ষণে অনেকেই কিছুটা থেমে থাকলেও একজন একেবারে আদাপানি খেয়ে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জমিদারীটাসহ আব্বার সব কিছু তার চাই-ই।
ওমা! কে সে?
: আমার বিমাতা । আমার আব্বার দ্বিতীয় স্ত্রী ।
তাই? হ্যাঁ-হ্যাঁ, তা হবে- তা হবে তোমার আম্মার উন্তেকালের পর মোজাফফর মানে তোমার আব্বা যে জাতের মেয়েকে ঘরে এনেছে তাতে এমনটিই স্বাভাবিক । এমন কথা কিছু কিছু আমার কানেও এসেছে ।
: ফুফুমণি!
কি সোনার মানুষ ছিল তোমার আম্মা । যেমনই খানদানী ঘরের মেয়ে, তেমনই তার ঈমান-আচরণ আর আদব-আখলাক । সে জায়গায় মোজাফফর যে কোন ভাগার থেকে এমন এক নোংরা মেয়েকে শাদি করে আনলো, তা কি বলবো। একেবারেই এক নীচু ঘরের অমার্জিত মেয়ে। স্বভাব-আচরণও একেবারে নীচু মানের । যা দেখেছি, তাতে এক নিকৃষ্ট পল্লীর কৃষক মজুরের
মেয়ের মতো তার চলন বলন ।
ঠিকই দেখেছেন ।
তোমার আব্বাও কি চান? এ শাদি হোক?
আব্বাজান ঠিক মনে প্রাণে না চাইলেও আমার ঐ সত্মা তো ভানুমতির মতো আমার আব্বাজানকে যাদু করে রেখেছেন। আমার সৎ মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়ার সাধ্য নেই তাঁর। বুঝতে পারি, সাংসারিক অশান্তি এড়াতেই আব্বাজান তাঁর স্ত্রীর কথা মতো চলছেন ।
তোমার কি ইচ্ছে? তুমিও কি সেটা চাও ?
ক্ষেপেছেন? ঐ একটা অশিক্ষিত নাদান বরকে শাদি করবো আমি? তাহলে কি ভাবছো? শাদি করার ব্যাপারে তোমার চিন্তা ভাবনা কি?
আপাততঃ আমার কোন চিন্তাভাবনা নেই । আমার পছন্দ মতো বর কখনো পেলে শাদি করবো, না পেলে করবো না। এ যুগে কুমারী হয়ে থাকাটা মোটেই কোন ঝকমারী ব্যাপার নয়। শিক্ষিত পরিবেশে আজকাল অনেক মেয়েই কুমারী হয়ে আছে ।
কিন্তু এটা তো কোন স্বাভাবিক জীবন নয় । স্বাভাবিক জীবন ছাড়া….. শবনম সাদিকা বাধা দিয়ে বললো- থাক ফুফু। অনেক হয়েছে। এ ব্যাপারে আর আলাপ করতে চাইনে । আপনি অন্য কথা বলুন ।
: অন্য কথা!
হ্যাঁ । আপনি এখন কেমন আছেন। কেমন বোধ করছেন। ছেলে-মেয়েরা আপনার আদর যত্ন কেমন করছে- এই সব কথা বলুন ।
জবাবে ফুফুমণি খোশকণ্ঠে বললেন- ভাল-ভাল । খুবই আদর যত্নে রেখেছে তারা আমাকে । আমার ছেলে মেয়ের মতো ছেলে মেয়ে এ যুগে খুব একটা পাওয়াই ভার । আম্মা বলতে সবাই তারা অজ্ঞান ।
আলহামদুলিল্লাহ! আপনি সুখে আছেন শুনলে, আমরাও খুব শান্তি পাই । বাড়িতে গেলে আব্বাজান তো সবার আগে আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দের কথাটাই জানতে চাইবেন ।
জানি-জানি। তোমার আব্বা যে আমার বড়ই আদরের ভাই। তা কোথায় গেছে আর কবে ফিরবে, এসব কি কিছু জানো?
না ফুফু। তবে শুনেছি তিন চারদিনের জন্যে বাইরে গেছেন। ইতিমধ্যে হয়তো ফিরে আসতেও পারেন। আগামী কাল বাড়িতে যাই। টেলিগ্রাম যদিও করেছি, তবু এদিকের সমস্ত খবর জানার জন্যে উনি নিশ্চয়ই উদগ্রীব হয়ে আছেন ।
কি বললে- কি বললে? আগামী কাল যাই না কি বললে? অসম্ভব। যা জানানোর, চার-পাঁচ পাতা চিঠি লিখে বিস্তারিত সব জানিয়ে দাও। দশপনের দিনের আগে তোমাকে ছাড়ছে কে?
ফুফুমণি !
কতদিন পরে আমার এখানে এসেছো। আমার জীবদ্দশায় আর তোমার এখানে আসা হবে কিনা কে বলতে পারে? দশ পনের দিনের আগে তোমার যাওয়ার কথা বাদ ।
ফুফুমণি জিদ্ ধরলেন ঠিকই, কিন্তু শবনম সাদিকাও পাশাপাশি জিদ ধরায়, ফুফুমণি তাকে বেশী দিন আটকিয়ে রাখতে পারলেন না। নানা রকম চিন্তা শবনম সাদিকার মাথায়। সে বাড়িতে নেই বাপ বাড়িতে নেই, ম্যানেজার সাহেবও জমিদারীর হাজারটা ঝুট-ঝামেলায় সর্বদাই ব্যস্ত। বাড়িটা প্রকৃতপক্ষে অরক্ষিত। এ অবস্থায় তার সৎমাটা তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী চাকর চাকরানীদের যে কি হাল করে ছাড়ছে, কে জানে। নূরু মিয়াও তার সাথে থাকায়, ফাঁকা ফিল্ডে বোনপুতকে সংবাদ দিয়ে এনে একটা থৈ-মাতম কাণ্ড করা তার সৎমায়ের পক্ষে অসম্ভব নয়। জিয়াফত আলীকে সংবাদ দিয়ে আনার ঐ আজগুবী অভিযোগে বোনপুত সহকারে কেতাব আলীর উপর চরম দুর্ব্যবহার শুরু করতেও আটকাবে না ঐ দুষ্ট মাহিলার। এসব কথা ভেবে শবনম সাদিকা চঞ্চল হয়ে উঠলো । কোন মতে আর দিন তিনেক থাকার পরে ফুফুকে সমঝিয়ে বিদায় নিলো সে এবং বাড়ির পথ ধরলো ।
বৈশাখ মাস । ঢেলে পড়েছে রোদ। তার সাথে ভ্যাপসা গরম। জন জীবন অনেকটাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। কষ্টকর হয়ে উঠেছিল নূরু মিয়া আর শবনম সাদিকার জীবনও। কিন্তু গাড়ি ছেড়ে দেয়ার পরে স্বস্তি ফিরে এলো তাদের মাঝে । চলন্ত গাড়ির ফুরফুরে হাওয়ায় শরীর তাদের ঠাণ্ডা হয়ে গেল । গাড়ি চালাচ্ছিলো শবনম সাদিকা। লোকালয় পেরিয়ে ফাঁকা রাস্তায় আসার পরে শবনম সাদিকা বাড়িয়ে দিলো গাড়ির বেগ এবং চলতে চলতে মনের আনন্দে গুন গুন করে গান ধরলো-
চলরে লরে চল
চল্-চল্‌-চল্ ।
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল, নিম্নে উতলা ধরণী তল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল-
চলরে-চলরে-চল… ।
গুন গুন করে গাইতে গাইতে গাড়ির বেগের সাথে গলার বেগও বাড়িয়ে দিলো শবনম সাদিকা। পেছনের সিটে বসে নূরু মিয়াও আনন্দের সাথে উপভোগ করছিল শবনম সাদিকার গান ৷
কিন্তু কথায় বলে, “আজ হাসি কাল রোলানা দেনা,’ কিংবা বলে, ‘হাসির পর আছে কান্না, বলে গেছে রাম শর্মা’ । অনেকক্ষণ মহানন্দে চলে আসার পরে হাসি তাদের মিলিয়ে গেল অকস্মাৎ । অকস্মাৎ ইয়া নফ্‌সী ইয়া নফসী অবস্থা হলো তাদের।
www.boighar.com
অনেক রাস্তা চলে এসেছিল তারা। লোকালয় বনজঙ্গল পেরিয়ে একেবারে মুক্ত মাঠের রাস্তা দিয়ে তারা চলছিল । দুই পাশে ফাঁকা মাঠ আর রাস্তার দুই ধারে মেহগনি, সেগুন, কড়ই ও প্রচুর কাঠের ঘন বৃক্ষ । শুধু ঘনই নয়, বলা

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top