পাহাড়ী লননা – কাসেম বিন আবুবাকার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

পাহাড়ী লননা – কাসেম বিন আবুবাকার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ কাসেম বিন আবুবাকার

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১৫

পাহাড়ী লননা – বইটির এক ঝলকঃ

পাহাড়ী মেয়ে-পুরুষ সাপ্তাহিক জিনিস-পত্র বেচাকিনার জন্য আসে। অনেকে তরী তরকারী, শুকনো বাঁশ ও লাকড়ী বাঙিল করে নিয়ে আসে বিক্রি করার জন্য। আনারসের মৌসুমে পাইকেররা চাষীদের কাছ থেকে কিনে রাস্তার দুপাশে জমা করে রাখে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কিনে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যায়। সালুটিকুর থেকে অল্প কিছুদূর উত্তরে একটি নদী আছে। নদীর ওপারের জায়গাটার নাম জৈন্তাপুর। জৈন্তাপুরের খালে বিলে প্রচুর বড় বড় কই, মাগুর ও শিঙ্গি মাছ পাওয়া যায়। সেখানকার পাহাড়ী লোকের। এই সব মাছ ধরে এখানে বিক্রি করতে আসে। জৈন্তাপুরে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়গুলো বন-জঙ্গলে ভর্তি। এখানকার অধিবাসীদের অনেকে সিলেট টাউনের আশ-পাশের গ্রামের বড় বড় চাষীদের গরু- মহিষ চাষের শেষে পালতে নিয়ে আসে। চাষবাস শুরু হবার আগে পর্যন্ত তারা সেগুলো বন-জঙ্গলের ঘাস ও গাছপালা খাইয়ে পোষে। চাষের আগে যার যার গরু-মহিষ তাদেরকে ফেরৎ দিয়ে যায়। যে কমাস তারা এদের পোষে, সে কমাসের জন্য এক একটি গরু-মহিষের জন্য বেশ কিছু টাকা পায়। গরীব পাহাড়ীদের এটা ভাল উপার্জন । জৈন্তাপুরের এক সাইডে দেলওয়ার সর্দারের এলাকা। দেলওয়ার সর্দার সরকারী লোকদের কাছে অনেক ছুটাছুটি করে এবং বহু তদবীর করে এই নদীর উপর ব্রীজ তৈরী করিয়েছেন এবং নিজের বাড়ী পর্যন্ত ট্রাক যাতায়াত করার জন্য রাস্তাও তৈরী করিয়েছেন। সালুটিকরে তার একটা গোডাউনও আছে।
কায়সার মাস দুয়েক হল এই সালুটিকরে পোস্ট মাস্টার হয়ে এসেছে। সে ঢাকার বীজনেস ম্যাগনেট শামসুল আলমের ছেলে। উনার একছেলে এক মেয়ে। মেয়ের ভাল নাম হোমায়রা। ডাক নাম হিমু। হিমু এবছর এইচ. এস. সি. পরীক্ষা দিয়েছে । শামসুল আলম যেমন ধনী তেমনি দানশীল ও ধর্ম পরায়ণ। ঢাকায় নিজস্ব একটা এতিমখানা আছে। এতিমখানা দু ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে মাদ্রাসার গরীব ছেলেরা এবং অন্যভাগে স্কুল ও কলেজের গরীব ছেলেরা থাকে। এতিখানার ছেলেদের শিক্ষা শেষে তাদের কর্মংস্থান করে দেওয়ার জন্য নিজস্ব একটা সংগঠনও আছে। নিজের ব্যবসা দেখা-শুনার সঙ্গে এতিমখানা ও সংগঠনের কাজ-কর্মও দেখাশুনা করেন। উনি এতিমখানা ও সংগঠনের লোকদের এবং ছাত্রদের কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত হতে দেননি । এমন কি কোন সভা, সমিতি বা মিছিলে যেতেও নিষেধ করে দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের সময় তাদেরকে বলে দেন, তোমরা যারা ভোটার হয়েছ, তারা সৎ ও ধার্মিক লোককে ভোট দিবে। যদি সেরকম লোক ভোটে না দাঁড়ায় তা হলে ভোট দানে বিব্রত থাকবে। কখনো লোভের অথবা হিংসার বশবর্তী হয়ে কোন দলের হয়ে কাজ করবে না এবং অনুপযুক্ত, অধার্মিক ও চরিত্রহীনকে ভোট দেবে না। এমন কি ব্যক্তিগত ব্যাপারেও কোন দিন কোন অন্যায় কাজ করবে না। শামসুল আলমের স্ত্রী আকলিমা বেগম খুব গরীব ঘরের মেয়ে ছিলেন। শামসুল আলম তখন পূর্ণ যুবক। কামেল পাস করে ভার্সটিতে ইংলিসে অনার্স করছিলেন। সেই সময় এক রমজানের ছুটিতে বন্ধু তরীকের জেদাজেদীতে তাদের দেশের বাড়ী গাইবান্ধয় বেড়াতে যান ।
গ্রামের শেষ প্রান্তে একটা বেশ বড় দিঘি। একদিন আসরের নামায পড়ে দু বন্ধুতে দিঘীর পাড়ে একটা গাছ তলায় বসে গল্প করছিলেন। এমন সময় দিঘির ঘাট থেকে কয়েকজন বয়স্ক মেয়ের সঙ্গে একটা যুবতীকে কলসি কাঁকে করে পানি নিয়ে যেতে দেখে শামসুল আলম মুগ্ধ হয়ে তার দিকে চেয়েছিলেন।
বন্ধুর দৃষ্টিকে অনুসরণ করে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তরীক বলল, কিরে, রোজা রেখে ঐ মেয়েটার দিকে চেয়ে রয়েছিস কেন? এমনি মেয়েদের দিকে দৃষ্টিপাত করা নিষেধ, তার উপর রোজা রেখেছিস। রোজা কমজোর হয়ে যাবে না?
শামসুল আলম বললেন, তা আমিও জানি। জেনে রাখিস সব জিনিসের দুটো দিক আছে । একটা বাহ্যিক আর একটা অভ্যন্তরীণ। দেখার মধ্যেও দুটো দিক আছে। একটা কুদৃষ্টি অন্যটা সুদৃষ্টি। কুদৃষ্টিতে কোন মেয়েদের দিকে তাকান হারাম। সুদৃষ্টিতে নয়। তাই তাদের দিকে দৃষ্টি দিতে কোরান-হাদিসে নিষেধ। আমার দীলের খবর আল্লাহ পাক জানেন, আমি মেয়েটিকে কুদৃষ্টিতে দেখছি না। আর আমার মনের মধ্যেও কোন কুচিন্তা হচ্ছে না। আমি মেয়েটিকে দেখে আল্লাহ পাকের নিথুৎ সৃষ্টির কথা চিন্তা করছিলাম । তোদের গ্রামেরই তো মেয়ে। মেয়েটিকে যে অপূর্ব সুন্দরী তা নয়। কিন্তু ওর চেহারার মধ্যে এমন কিছু জিনিস দেখবার মত আছে, যা আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দীরের মধ্যে থাকে।
ঃ তুই তাহলে এ্যাসট্রোলজার ?
ঃ না। এসট্রোলজার বিদ্যা থাকলেও আল্লাহর রসুল (দঃ) ঐ বিদ্যা শিখতে নিষেধ করেছেন।
ঃ তাহলে তুই ঐ মেয়েটির সম্বন্ধে ঐসব কথা বললি কি করে?
ঃ ওটা অন্তর-দৃষ্টির ব্যাপার। তুই বুঝবি না। তবে এটুকু বলতে পারি সব ক্ষেত্রে না হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে জ্ঞানের অনুভূতিতে অন্তর-দৃষ্টিতে অনেক কিছু জানা যায় । ওসব কথা বাদ দে, সত্যি করে বল দেখি, তুই এধরনের মেয়ে আর দেখেছিস কি না?
: আমার তো তোর মত অন্তর-দৃষ্টি নেই। কতটা ভাল চিনব কি করে? তবে তোর কথা একদম অস্বীকার করছি না।
মেয়েটা গ্রামের অন্য দশটা মেয়ের থেকে অনেক সুন্দরী। তোর কথা শুনে চার-পাঁচ বছর আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। বলছি শোন, সেই সময় একটা পাগলা ফকির আমাদের গ্রামে এসে বেশ কিছুদিন ছিল। ফকিরটা সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াত। আর রাতের বেলায় ঐ মেয়েটার বাপের কাছে গিয়ে ভাত খেত এবং ওদের বাড়ীর সামনের রাস্তায় একটা কাঁঠাল গাছের তলায় ঘুমোতে। মাস খানেক একই ঘটনা ঘটতে দেখে গ্রামের ভাল-মন্দ ছেলে ছোকরারা মনে করল, ঐ মেয়েটার উপর ফকিরের চোখ পড়েছে। তারা একদিন ফকিরকে উত্তম-মধ্যম দেবার জন্য পাকড়াও করল। ফকির তখন হাসতে হাসতে বলল, আমি পাগল ফকির মানুষ, আমাকে মারধোর করে কোন লাভ হবে না। আমার রিজিক যতদিন ঐ মিয়ার বাড়ীতে আছে থাকব। তারপর চলে যাব। ফকিরের কথা শুনে অনেকে গালাগালি করে বলল, ঐ গরীব বেচারীর ঘরে তোমার রিজিক না? বেচারা নিজেই দুবেলা পেট পুরে খেতে পায় না। গ্রামে কত ধনী লোক রয়েছে, তাদের বাড়ীতে যেতে পার না? তোমার মতলব আমরা বুঝতে পারি নি। মনে করেছো? আজই এখান থেকে বিদায় হও। নচেৎ মেরে লাশ বানিয়ে ছাড়ল। হৈচৈ শুনে মেয়েটার বাপ এসে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বলল, তোমরা একে কিছু বলো না। আমিই ওকে রোজ রাতে ডেকে এনে ভাত খাওয়াই যাই হোক ও নিজেই আমাকে বলেছে আজ কালের মধ্যে চলে যাবে। ফকিরটা পরের দিন চলে যায়। যাবার সময় মেয়েটার বাপকে বলে যায়, তুমি মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে কোন চিন্তা করো না। তোমার মেয়ে খুব ভাগ্যবতী। তুমি আল্লাহ পাকের কাছে ছাড়া আর কারো কাছে সাহায্য চাইবে না আর মেয়ের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা করো না। গ্রামের কোন ছেলে তোমার মেয়ের ক্ষতি করতে পারবে না। আমার বাবা একদিন মেয়েটার বাবাকে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেবার কথা বলে খরচ দিতে চেয়েছিল। তখন লোকটা বাবাকে ফকিরের কথা বলে তুই কথাটা কতটা বিশ্বাস করবি কিনা জানি না, আমি কিন্তু একবিন্দু বিশ্বাস করি নি। যদি ফকিরের কথা ঠিক হত? তা হলে মেয়েটার এত রূপ ও গুণ থাকা সত্তেও এতদিন বিয়ে হচ্ছে না কেন?
: তুই বল না দেখি কেন হচ্ছে না ?
: ওর বাবার অবস্থা খারাপ। বড় দুভাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গছে। ওর বাবার বিয়ে দেবার ক্ষমতা নেই। ওর রূপ গুণের কথা শুনে কত জায়গা থেকে যে সম্বন্ধ আসে তার ইয়ত্তা নেই তাদেরকে মেহমানদারী করাতে পারে না তাদের মধ্যে কেউ কেউ বৌ করতে রাজী হলেও গ্রামের দুষ্টু ছেলেরা সেই ফকিরের সঙ্গে জড়িয়ে মেয়েটার নামে নানান দুর্নাম নিয়ে বিয়ে ভাঙ্গিয়ে দেয়। ঐ যে কথায় আছে না অতি বড় ঘর না পায় ঘর, অতি বড় সুন্দরী না পায় বর।
এ গ্রামে কি ভাগ লোকজন নেই? তুইও তো ওর বিয়ের ব্যাপারে এগিয়ে যেতে পারিস?
ঃ কথাটা বলা যত সহজ কাজটা তত সহজ নয় ।
ও সহজ-কঠিন বুঝি না, তোদের মত পয়সাওয়ালা লোকের শিক্ষিত ছেলেরা যদি এ ব্যাপারে এগিয়ে না আসিস, তাহলে সমাজের উন্নতি হবে কি করে? তরীক একটু রাগের সঙ্গে বলল, অত যদি তোর গরীবদের ওপর দরদ, তবে তুই ঐ মেয়েটাকে বিয়ে কর না দেখি তাকে চুপ করে থাকতে দেখে আবার বলল, নীতি বাক্য অন্যকে বলা যায় বন্ধু, কিন্তু নিজে করে কেউ দেখায় না। শামসুল আলম তরীকের কথা শুনে চিন্তা করলেন, তরীক তো ঠিক কথা বলেছে। তখন তার কোরান পাকের ও হাদিসের দুটো কথা মনে পড়ল। “তুমি নিজে যা কর না, অন্যকে তা করতে বলো না । ১ তুমি নিজে যা কর না, অন্যকে তা করতে বলো না।” ২ তুমি নিজে যা পছন্দ করোনা অন্যের জন্যও তা পছন্দ করো না।” তৎক্ষণাৎ তার বিবেক বলে উঠল, অন্যকে যা করতে বলছে, তা নিজে করে দেখাও।
: কিরে কিছু বলছিস না কেন?
ঃ হাদিসে আছে কিছু বলা বা করার আগে ভেবে নিতে। তাই ভেবে ঠিক করলাম, মেয়েটাকে আমি বিয়ে করব। তুই ওর আব্বার সঙ্গে কথা বল।
বন্ধুর কথা শুনে তরীক হেসে উঠে বলল, কি পাগলের মত কথা বলছিস? আমি তোর কথা শুনে একটু রহস্য করলাম।
বাদ দে ওসব কথা, আমাদের গ্রামটা কেমন লাগছে বল ।
ঃ গ্রাম গ্রামই। শহরের লোকদের কিছু দিনের জন্য নিশ্চয় ভাল লাগবে। তবে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকলে কতদিন ভাল লাগবে জানি না। বিয়ের ব্যাপারে কথাটা তুই রহস্য করে বললেও আমি কিন্তু সিরিয়াসলি বলেছি। আমাকে তো তুই চিনিস, যা বলি তা করেই থাকি ।
এবার তরীক খুব অবাক হয়ে বলল, তা কি করে হয়? তোর বাবা-মা এ বিয়ে মেনে নিতে পারবেন না । তুই তাদের এক ছেলে। তাছাড়া তুই এখন লেখাপড়া করছিস।
: আমার আব্বা-আম্মার ব্যাপারটা আমি বুঝবো। তোকে যা বললাম কর। আর লেখাপড়া যতটা তকদ্বীরে আছে হবে। তোকে ওসব ভাবতে হবে না।
: কিন্তু আমি তো তোর এত বড় ক্ষতি করতে পারব না। তোর বাবা-মা যখন আমাকে জিজ্ঞেস করবেন, তখন আমি কি উত্তর দিব? উনারা আমাকে কত ভালবাসেন । আমি যে উনাদের কাছে মুখ দেখাতে পারব না।
: আমার আব্বা-আম্মাকে আমি চিনি। তারা আমাকে যা কিছু বলুক বা করুক তোকে কিছু বলবে না। আর যদি কিছু বলতে যায় তখন আমি নিজের ঘাড়ে সব দোষ নিয়ে তোকে বাঁচিয়ে দেব।
: তবু কিন্তু থেকে যাচ্ছে।
: তোর কিন্তু তুই বুঝিস। তুই যদি মেয়ের আব্বাকে বলতে না পারিস, তাহলে তোর আব্বার কাছে আমি কথাটা বলব।
ঃ তুই যখন আমার কথা শুনবি না তখন আমিই বাবাকে বলে দেখি। তরীকের বাবা সাখাওয়াত হোসেন শুনে কিছুতেই রাজী হলেন না। শামসুল আলম কি করবে ভাবতে লাগলেন। এদিকে কথাটা কিন্তু চাপা থাকল না। এক কান দু কান করে গ্রামে অনেকের কানে পৌছাল। ঐ মেয়েটার নাম আকলিমা। সেও শুনল। শুনে সে মনে মনে পুলক অনুভব করল। সেদিন দিঘি থেকে পানি আনার সময় তরীক ভাইয়ের সঙ্গে একটা অচেনা ছেলে দেখে সেও সেদিকে চেয়েছিল। ফলে ছেলেটার সঙ্গে তার চোখাচোখি হয়। লজ্জা পেয়ে পেয়ে আকলিমা চোখ সরিয়ে নিয়ে অন্য মেয়েদের আড়ালে আড়ালে চলে এসেছে। পরে শুনেছে, সেই ছেলেটা তরীক ভাইয়ের বন্ধু। ঢাকার বড় লোকের ছেলে । এখানে বেড়াতে এসেছে।
দশ বার দিন শামসুল আলম ওখানে ছিলেন। ঢাকায় ফেরার আগে একদিন আকলিমাদের বাসায় রওয়ানা দিলেন তার আব্বার সঙ্গে দেখা করে নিজেই কথাটা বলবে বলে। ঐদিন দু বন্ধুতে জোহরের নামায পড়ে এসে বৈঠকখানায় শুয়ে শুয়ে গল্প করতে করতে তরীকের সাড়া না পেয়ে বুঝতে পারলেন, সে ঘুমিয়ে পড়েছে। শামসুল আলমের মনে আকলিমার ছবি সব সময় ভাসছে। নিঁখুতসুন্দরী না হলেও এমন সুন্দর গড়নের মেয়ে তিনি আর দেখেন নি। তরীক ঘুমিয়ে পড়তে ভাবলেন, একবার ওর আব্বার সঙ্গে কথা বলে দেখলে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ। উঠে লুঙ্গীর ওপর পাঞ্জাবী চড়িয়ে বেরিয়ে পড়লেন। বন্ধুর সঙ্গে বেড়াবার সময় তাদের ঘর চিনেছেন।
তখন গ্রীষ্মের অপরাহ। তার উপর রমজান মাস। লোকজন রোজা রেখে জোহরের নামায পড়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। আকলিমাও নামায পড়ে কিছুক্ষণ কোরান তেলাওয়াত করে ঘুমোতে গেলে শামসুল আলমের কথা মনে পড়ায় তার ঘুম এল না। বেশ কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করে উঠোনের শেষ প্রান্তে বেড়ার গেটের পাশে একটা কাঠাল গাছের তলায় ছায়াতে বসে বসে নিজের ভাগ্যের কথা চিন্তা করছিলেন। তার আব্বা গরীব হলেও তাকে ক্লাস নাইন পর্যন্ত পড়িয়েছে। স্কুলের বই-খাতা তার আব্বা দিতে না পারায় সে পড়াশুনায় ভাল হয়েও পড়া বন্ধ করে দিয়েছে। পড়লে তিন বছর আগে সে এস. এস. সি. পাস করত। তার সাথের মেয়েরা পাস করেছে। তাদের সব বিয়েও হয়ে গেছে। গ্রামে তার বয়সি মেয়ে আর একটাও নেই। এমন সময় শামসুল আলমকে তাদের বাড়ীর সামনের রাস্তা দিয়ে আসতে দেখে বেড়ার আড়ালে দাঁড়িয়ে ভাবলেন, এত রোদের মধ্যে এদিকে কোথায় যাবে?
শামসুল আলম রাস্তা ছেড়ে আকলিমাদের গেটে দাঁড়িয়ে বললেন, বাড়ীতে কে
আছেন?
আকলিমার আব্বা ঘুমোচ্ছে। আকলিমা সাড়া না দিয়ে বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাকে ভাল করে দেখতে লাগলেন, কি সুন্দর চেহারা। রোজা রেখে মুখটা একটু শুকনো দেখালেও যে নূর চমকাচ্ছে ।

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top