নাঙ্গা তলোয়ার ৬ষ্ঠ খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

নাঙ্গা তলোয়ার ৬ষ্ঠ খণ্ড – এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ মাওলানা আলমগীর হোসাইন

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৮৯

নাঙ্গা তলোয়ার ৬ষ্ঠ খণ্ড – বইটির এক ঝলকঃ

হিরাকেলের কানে বর্তমানে এ ধরনের কথা ছাড়া অন্য কোনো কথা প্রবেশ করছিল না। ঘুমের ঘেরেও তিনি এমনই কথা শুনতে পেতেন। তাঁর সভাসদ, মন্ত্রী এবং সালাররা এখন তাঁর সামনে আর কোনো পরাজয়ের সংবাদ নিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু তাদেরকে সম্রাটের সামনে যেতেই হত এবং সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে পরাজয় সম্পর্কে কথাবার্তা বলা এবং তা শুনতে হত।
ইস্তেকিয়ায় এক সন্ধ্যা চলছিল। সে সময়ে ইস্তেকিয়ার সন্ধ্যা জৌলুসপূর্ণ হত। রোম সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সৌন্দর্যপূর্ণ শহর ছিল ইস্তেকিয়া। রোমের উচ্চস্তরের অফিসার, প্রশাসক ও মন্ত্রীরা এ শহরেই অবস্থান করত। কিছু দিন পূর্ব হতে রোম সম্রাট হিরাকেল এখানে সাময়িক রাজধানী এবং সামরিক হেড কোয়ার্টার বানিয়েছিলেন। রোমীয়রা ছিল ভীষণ লড়াকু জাতি। তৎযুগে রোম সাম্রাজ্য ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত ও সুদৃঢ় সাম্রাজ্য। সুদৃঢ়তার কারণ ছিল রোমীয় সেনাবাহিনীর শক্তি ও দাপট। অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র এবং বিপুল সংখ্যাধিক্যে রোমকবাহিনী শত্রু মহলের জন্য রীতিমত ত্রাস ছিল। তাদের আরেসী ও বিলাসী আসবাবের অভাব ছিল না। প্রচুর পরিমাণ বিলাসী দ্রব্য ছিল। পতিতালয় ছিল অনেক। নৃত্য ও সঙ্গীত শিল্পীর অভাব ছিল না। সুন্দরী, রূপসী যুবতী নারীদের আনাগোনা ছিল শহরের সর্বত্র। ফলে ইস্তেকিয়া সন্ধ্যায় মুচকি হাসত এবং রাতভর জেগে থাকত। কিন্তু মুজাহিদ বাহিনী এ দেশে আসার পর রোমীয়দের একের পর এক পরাজয়ের খবরে ইস্তেকিয়ার সব জৌলুস ফিকে হয়ে গিয়েছিল। আনন্দ-উচ্ছাস উঠে গিয়েছিল। ইস্তেকিয়ার সন্ধ্যা আর আগের মত জৌলুসপূর্ণ ও আনন্দমুখরিত ছিল না। এখন তা হয়ে পড়েছিল অনেক নিরানন্দ ও বেদনাবিধুর।
ইস্তেকিয়া সেনা হেডকোয়ার্টার হওয়ায় এখানে সৈন্যদের আগমন-নির্গমন সবসময় লেগে থাকত। নতুন সৈন্যরা এলে পতিতালয়ের শ্রী বৃদ্ধি হত এবং ভ্রাম্যমান পতিতাদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেত। এখন পরিস্থিতি হয়ে গিয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইস্তেকিয়ার বাইরে থেকে আগত সৈন্যরা ছিল আহত। অক্ষতভাবে যারা আসছিল তাদের চেহারায় ছিল পরাজয়ের কালো মেঘের ছায়া। প্রত্যেক সৈন্যের চেহারায় আঁকা ছিল পরাজয়ের কলঙ্ক। ফলে আনন্দ-ফুর্তির জন্য অন্যান্য মহিলা তো দূরে থাক, তাদের আপন স্ত্রীরাও তাদেরকে সুনজরে দেখছিল না। এই নতুন সৈন্যরা রোমীয় সমরাতিহাসের ঐতিহ্য ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছিল। রোম সাম্রাজ্যের মুখে চুনকালি মাখিয়েছিল। রোমক জাতি ও রোম সাম্রাজ্যের প্রভাব- প্রতিপত্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল।
ইস্তেকিয়ায় যেসব রোমীয় মহিলা ছিল তারা স্বয়ং হিরাকেলকেও ছেড়ে কথা বলে না। সেদিন ছিল ইস্তেকিয়ার বেদনাবিধুর সন্ধ্যাগুলির একটি। হিরাকেল শাহী বাহনে চড়ে কোথাও হতে ফিরছিলেন। তাঁর সামনে আটটি ঘোড়া শাহী ভাবে চলছিল। এসব ঘোড়ার সওয়ার ছিল হিরাকেলের বডিগার্ডরা। তাদের হাবভাবই ছিল ভিন্ন ধরনের। তাদের সকলের হাতে বর্শা ছিল, যার ফলার দিকটি ছিল উপরমুখী এবং প্রত্যেক বর্শার ফলক হতে একটু নীচে রেশমী কাপড়ের এক একটি ঝাণ্ডা ছিল। সম্রাটবাহী শাহী রথের পেছনেও আট-দশজন অশ্বারোহী ছিল।
একটি আওয়াজ শুনা যায় “সম্রাটের গাড়ি আসছে।”
জনতা সম্রাটকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে যায়। দর্শকদের মধ্যে মহিলারাও ছিল। মহিলারা সাধারণত দরজার সামনে অথবা দেয়ালের উপরে উঠে সম্রাটের আগমন-নির্গমন দেখত। কিন্তু আজ সন্ধ্যায় কয়েকজন মহিলা সরাসরি হিরাকেলের রাস্তায় চলে আসে। মহিলারা রাস্তায় নেমে এলে সম্রাটের দু’জন অগ্রবর্তী বডিগার্ড ঘোড়া ছুটিয়ে তাদের কাছে চলে আসে এবং মহিলাদেরকে রাস্তা হতে সরিয়ে দিতে থাকে। কিন্তু মহিলারা চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে যে, তারা সম্রাটের সঙ্গে দেখা করতে চায় ।
আরও দু’জন বডিগার্ড চলে আসে। কেননা মহিলারা পেছনে যেকে চাচ্ছিল না। ইতিমধ্যে সম্রাটের বহনকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে চলে আসে। তিনি দূর থেকেই মহিলাদের দেখছিলেন। তিনি মহিলাদের কাছে এসে গাড়ি দাঁড় করান এবং নিজে গাড়ি থেকে নেমে আসেন।
“তাদেরকে ছেড়ে দাও” হিরাকেল গর্জন করে বলেন, “তাদেরকে আমার কাছে আসতে দাও।”
সম্রাট মহিলাদের কাছে এগিয়ে গেলে মহিলারা সম্রাটকে ঘিরে ফেলে। সকলের মুখ ছিল সরব।
”আমি কিছুই বুঝছি না” হিরাকেল উচ্চকণ্ঠে বলেন, “একজন বলো, আমি সব কথাই শুনব।”
“মহামান্য রোম সম্রাট!” এক মহিলা বলে, “আপনি এখন কিছু বুঝবেন না।”
“যিনি রোম সাম্রাজ্যের ধ্বংস মেনে নিয়েছেন, আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মহিলাদের কথা তাঁর না বুঝাই স্বাভাবিক” এক মহিলা বলে, “আমরা সকলেই রোমীয়। কেউ স্থানীয় নই। এখানকার মহিলারা কখনো আপনার রাস্তায় আসবে না। কেননা রোমীয়রা চলে যাক আর আরব মুসলমানরা এখানে আসুক এটা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বেইজ্জতি ও অপমান যা হবার তা শুধু আমাদেরই হচ্ছে। মাথা কাটা যাচ্ছে রোমীয়দের।”
“আর কার কী বলার আছে বলো” হিরাকেল বলেন, “কথা থাকলে বলে ফেল; চুপ থেকো না। ” “আপনি কি চূড়ান্তভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন যে, আপনি আমাদেরকে মুসলমানদের হাতে তুলে দিবেন?” এক মহিলা বলে, “বর্তমানে এ ছাড়া আর কোনো কথা শুনি না যে, অমুক শহর মুসলমানরা অধিকার করে নিয়েছে এবং সেখানকার রোমীয় মহিলারা মুসলমানদের বাঁদীতে পরিণত হয়েছে।’
“আমাদের পুরুষ সৈন্যরা যদি লড়াই করার হিম্মত না রাখে তাহলে আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যাবার অনুমতি দিন” আরেক মহিলা বলে, “ঘোড়া, তলোয়ার এবং বর্শা আমাদের হাতে তুলে দিন। “
“যে সৈন্যদেরকে ইরানীরা পর্যন্ত ভয় করত” আরেক মহিলা বলে, তারা এখন ভীত, আহত এবং পলায়নপর সৈন্যে পরিণত হয়েছে।”
বর্তমানে এ শহরে যেসব সৈন্য আসছে তারা কোনো না কোনো কেল্লা বা রণাঙ্গন হতে পালিয়ে আসা সৈন্য” আরেক মহিলা বলে।
এদিকে হিরাকেলের বডিগার্ড বাহিনী এটা ভেবে ভেতরে ভেতরে ঘামছিল ও ভয় পাচ্ছিল যে, গুটি কতক মহিলাকে রাস্তা হতে সরাতে না পারার অপরাধে হয়ত তাদের উপর সম্রাটের শাস্তি নেমে আসবে। দর্শক এই অপেক্ষায় ছিল যে, সম্রাট এবার এসব মহিলাকে ঘোড়ার পদতলে ফেলে পিষ্ট করার নির্দেশ দিবেন। কিন্তু হিরাকেল নীরবে ও ধৈর্যের সঙ্গে মহিলাদের ভীর্যক মন্তব্য ও কঠোর সমালোচনা শুনছিলেন। হয়তবা এর কারণ এই হবে যে, এসব মহিলারা ছিল রোমীয়; স্থানীয় নয়।
“আমাদের সৈন্যরা কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছে” হিরাকেল বলে, “আমি কাপুরুষ হইনি। পরাজিত হয়ে যারা ফিরে এসেছে তারা আবার যুদ্ধ করবে। আমি পরাজয় মেনে নিই নি।”
“তাহলে আমাদের সম্রাটের চিন্তা-ভাবনা কী?” এক মহিলা জানতে চায় ।
“তোমরা অচিরেই তা শুনতে পাবে” হিরাকেল বলে, “আমি এখনও জীবিত আছি। আমার যা চিন্তা তা আমি করে দেখাব। জয়-পরাজয় হয়েই থাকে। সে জাতি সর্বদা অন্যদের গোলামই থাকে, যারা পরাজয় স্বীকার করে নেয়। আমি তোমাদেরকে কারো গোলাম হতে দিব না। মুসলমানদের যতদূর আসার ছিল তারা এসে গেছে। এখন আমার পালা। তারা আমার ফাঁদে চলে এসেছে। এখন আর তারা জীবন নিয়ে ফিরতে পারবে না। তারা এতদিন যা নিয়েছে তার থেকে কয়েক গুণ বেশি ফিরিয়ে দিবে। আমার জন্য দোয়া করতে থাক। তোমরা শীঘ্রই সুসংবাদ শুনতে পাবে। … আর তোমরা নিজ নিজ স্বামী, পিতা, ভাই ও পুত্রদের মনোবল বৃদ্ধি করতে থাক।”
… “আমরা তাদের জন্য ঘরের দরজা বন্ধ করে দিব” এক মহিলা বলে। “একদিন তোমরা তাদের বুকে টেনে নিবে” হিরাকেল বলে, “এবার থেকে তারা বিজয়ীবেশে তোমাদের সামনে আসবে। “
মহিলারা সম্রাটের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তাঁর রাস্তা ছেড়ে দেয়।
হিরাকেল মহিলাদের নিছক মনজয়ের জন্য উল্লিখিত কথাগুলো বলেননি। ঐতিহাসিকগণ লিখেন, তিনি পরাজয় স্বীকার করে নেওয়ার মত যোদ্ধা ছিলেন না। তিনি আগে সিপাহী ও পরে ছিলেন বাদশা। স্বীয় যুগের অন্যতম জেনারেলও ছিলেন তিনি। এটা অত্যুক্তি হবে না যে, তিনি হযরত খালেদ (রা.)- এর সমপর্যায়ের জেনারেল এবং রণচালে তার জুড়ি কেউ ছিল না ।
যদি তিনি শুধুই সম্রাট হতেন, তাহলে তার যাত্রা পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী মহিলাদের আস্ত রাখতেন না। বরং তাদের কঠোর শাস্তি দিতেন। কিন্তু তিনি মহিলাদের থেকে নিজেও মনোবল চাঙ্গা করেন এবং তাদেরও মনোবল বৃদ্ধি করেন।
তিনি এটাও অনুভব করেছিলেন যে, কোনো এলাকা হতে পরাজয় এবং সৈন্যদের পিছপা হওয়ার সংবাদ এলে তাঁর অফিসাররা এটা নিয়ে তাঁর সামনে আসতে চায় না এবং তাকে তা জানাতে চায় না। একটি ঘটনা হতে এটা তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়। তাঁর এক সালার উপদেষ্টা হিসেবে সবসময় সম্রাটের সঙ্গে থাকত। একদিন ঐ সালার সম্রাটের সামনে আসে। তার চেহারায় নিরাশার ও দুশ্চিন্তার যে ছাপ ছিল তা সম্রাট সহজেই অনুমান করে ফেলেন। “কী হয়েছে?” হিরাকেল জিজ্ঞাসা করেন।
“মাবদ দীনায থেকে দূত এসেছে” সালার বলে।
“তুমি কেন বলছ না যে, সে আরেকটি পশ্চাদপসারণের খবর নিয়ে এসেছে” হিরাকেল আবেগী কন্ঠে বলে, “মন থেকে আমার ভয় কেন বের করে ফেল না? পরাজয় আর পিছপার খবর শুনেই ঘাবড়ে যাও কেন? …. . কী হয়ছে বল।”
“ঠিকই বলেছেন সম্রাট!” সালার বলে, “দূত পশ্চাদপসারণের সংবাদ নিয়ে এসেছে। …… আর সেখান থেকে পালিয়ে আসা সৈন্যরা ইতিমধ্যে শহরে আসতেও শুরু করেছে।”
“আসতে দাও তাদের।” হিরাকেল এমনভাবে কথাটা বলেন যার মধ্যে কোনো উত্তাপ ছিল না এবং তার কণ্ঠে শাহী প্রতাপও ছিল না “তাদের মনোবল বৃদ্ধি কর। কেউ যেন তাদেরকে পরাজয় ও পিছু হটার জন্য অভিযুক্ত না করে। এই সিপাহীরাই একদিন পরাজয়কে বিজয়ে পরিণত করবে।” “সিপাহীদের মনোবল তো ঠিক হয়ে যাবে” সালার বলে, “কিন্তু জনগণের মনোবল ভেঙ্গে যাচ্ছে। মানুষ মুসলমানদেরকে জ্বিন ও ভূত মনে করতে শুরু করেছে। এমন এমন গুজব রটছে, যা জনতাকে কাপুরুষ বানিয়ে ফেলছে।”
“জান এই গুজব কারা ছড়াচ্ছে?” হিরাকেল বলেন, আমাদেরই সালার, কমান্ডার এবং সিপাহীরা। আর তা এটা প্রকাশ করতে যে, তারা তো প্ৰাণপণ লড়ছে কিন্তু পারছে না শুধু এ কারণে যে, মুসলমানরা মানুষ নয়; বরং জ্বিন।”
“মহামান্য সম্রাট।” সালার বলে, “মুসমানদের সফলতার অপর এক কারণ আছে। আমাদের যে শহরের লোকজন তাদের সঙ্গে সন্ধি করে এবং কর আদায় করে, তাদের সঙ্গে মুসলমানরা খুব ভাল ব্যবহার করে। শহরের মহিলাদের এবং তাদের যুবতী মেয়েদের প্রতি চোখ তুলেও তাকায় না। তাদের জান-মালের হেফাজত করে। তাদের ধর্মেরও সম্মান করে। এসব দিক সমগ্ৰ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফল এই হয় যে, অন্যান্য শহরের লোকেরাও আমাদের সৈন্যদের পক্ষ ত্যাগ করে এবং তাদেরকে সন্ধি করতে বাধ্য করে। এর কোনো প্রতিবিধান হওয়া দরকার।”
“এর একমাত্র প্রতিবিধান হলো, মুসলমানদেরকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে তাদেরকে চিরতরে খতম করে দেয়া” হিরাকেল বলেন, “আর তার বন্দোবস্তও হচ্ছে।”
‘আবুল কুদস’-এ হিরাকেল যে চোট পেয়েছিল, তা তাকে ভীষণ মর্মাহত করেছিল। তাঁর নিকট এ ময়দানের বিস্তারিত তথ্য পৌঁছেছিল। হযরত আবু উবায়দা (রা.) একটি ভুল করে ফেলেছিলেন। রোমীয়রা এই ভেবে প্রফুল্লিত হয় যে, মুসলমানদের একটি দল তাদের ফাঁদে ফেঁসে গেছে। মুসলমানরা ঠিকই ফেঁসে গিয়েছিল। কিন্তু হযরত খালিদ (রা.) এবং হযরত যাররার (রা.) ঠিক সময় মদদে এসে যাওয়ায় রোমীয়দের পাতা ফাঁদের শুধু মূলোৎপাটনই হয়নি; বরং মুসলমানদের হাতে চরমভাবে ধরাশায়ী হয় এবং মুসলমানরা বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গণীমতের মাল লাভ করে ।
মুসলমানদের বিদ্যুৎগতি হিরাকেলকে উদ্বিগ্ন করে তুলছিল। তিনি দেখছিলেন যে, মুসলমানরা এক স্থান হতে অপর স্থানে বিস্ময়কর দ্রুততার সঙ্গে গিয়ে পৌঁছে এবং রণাঙ্গনে সালারদের রণকৌশলে মুজাহিদরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে ও সালারদের কৌশল কামিয়াব করে তুলে ।
এরপর থেকে হিরাকেল রাতে ঘুমোনোও ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি সেদিনই তাঁর সাম্রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দূত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এসব দূত মারফত

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top