মরণজয়ী মুজাহিদ – মল্লিক আহমদ সরোয়ার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

মরণজয়ী মুজাহিদ – মল্লিক আহমদ সরোয়ার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ শহীদুল ইসলাম

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৫৬

মরণজয়ী মুজাহিদ – বইটির এক ঝলকঃ

গোলাবারুদ থাকা অবস্থায় ওরা কখনও পিছু হটে না। কেবল অস্ত্র ও গোলা বারুদ না থাকা অবস্থায় ওরা আত্মগোপন করে। আমি বুড়োকে বললাম, যদি আমাদের অফিসার আসে তবে বলবে, মুজাহিদরা আমার কতগুলো বকরী জোর করে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে গেছে, কিছুক্ষণ আগে ওরা এদিকে এসেছিলো।
এরপর আমি বৃদ্ধকে বাইরে নিয়ে এসে পাশের ঘরে ঢুকলাম। তল্লাশীর নামে এ ঘরের সামনে ইসমাঈল দাঁড়িয়ে ছিলো। আমাকে দেখে ওর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তল্লাশী হয়েছে? ইসমাঈল বললো, হ্যাঁ, এখানে কোন মুজাহিদ নেই। আমি তার কথা শুনে চরম বিস্মিত হলাম এই ভেবে যে, ইসমাঈলও তাহলে আমার মতো গোপনে মুজাহিদদের পক্ষে কাজ করছে। আমি আর কথা না বাড়িয়ে সেখান থেকে চলে এলাম।
একদিন আমরা একটি গ্রামে তদন্ত করছিলাম। এক পর্যায়ে আত্মগোপনকারী মুজাহিদরা আমাদের ঘেরাও-এ পড়ে গেলো। রুশ কম্যুনিস্ট বাহিনী ছিলো ভারী অস্ত্রে সজ্জিত। আমি মুজাহিদদের সাহায্যের কোন পথ পাচ্ছিলাম না। তারা ছিলো ১০ জন। এদের ধরে যখন বাইরে আনা হচ্ছে, তখন অপরদিকে চেয়ে দেখি, অন্যান্য রুশ ফৌজ গ্রামের সাধারণ মানুষ ও বড় একটি মুজাহিদ দলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসছে। আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম, আজ আমি নিশ্চয়ই এদের সাহায্য করব। না হয় রুশ হায়েনারা এদের সবাইকে হত্যা করবে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিলো। আমি চিন্তা করছিলাম, যদি এদের পালানোর সুযোগ করে দেয়া যায় তবে অন্তত অর্ধেক তো বাঁচতে পারবে। আমার কাছে চারটি হ্যান্ড গ্রেনেড ছিলো। আমি আল্লাহর নাম নিয়ে সামনের মুজাহিদের পকেটে একটি গ্রেনেড পুরে দিলাম। মুজাহিদ ঘার ফিরিয়ে আমাকে দেখলো, আমি আস্তে করে কানে কানে বললাম, তোমাদের সাহায্য করছি। পাহাড়ের ঢালে রুশ ট্যাংক প্রস্তুত ছিলো। সকল মুজাহিদ ও আফগান জনসাধারণকে পাহাড়ের গা ঘেঁষে লাইন করে দাঁড় করানো হলো। ওদের হাত পিঠের দিকে শক্ত করে বাঁধা হয়েছিলো। আমি গ্রেনেডধারী মুজাহিদের হাত আলতো ভাবে বেঁধে ছিলাম। যাতে সে ইচ্ছা করলে পকেটে হাত দিতে পারে। আমি তাকে যথা সময়ে গ্রেনেড ব্যবহার করার কথা ইঙ্গিতে বলে দিলাম। এদের ফায়ার করার জন্য রুশ সৈন্য কমান্ডারের নির্দেশের অপেক্ষা করছে, শতাধিক আফগানী নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ।
আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, যদি মুজাহিদ আমার চাল বুঝতে পারে তবে মুখোমুখি থাকা ঠিক হবে না, তাই আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে কায়োমনোবাক্যে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করছিলাম, যদি এ সময় একটু অন্ধকার নেমে যেতো তাহলে ওদের পালাতে সুবিধা হতো। তৎক্ষণাৎ দেখা গেল পুরো আকাশ মেঘে ছেয়ে গেছে, চতুর্দিক অল্পক্ষণের মধ্যে কেমন যেন ভূতুরে অন্ধকারে ডুবে গেছে। আমার নজর ছিলো ঐ গ্রেনেডধারী মুজাহিদের উপর। কমান্ডার যখন এসে নির্দেশ দিলো এদেরকে গুলী করে সাফ করে ফেলো এবং নির্দেশ প্রাপ্ত সৈনিকটি যেই ট্রিগার টিপতে যাবে অমনি মুজাহিদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড এসে বিস্ফোরিত হলো রুশ সৈন্যের বুকের উপর।
ইত্যবসরে সকল মুজাহিদ দৌড়ে পালালো। আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলো। মাত্র বারোজন মুজাহিদ শহীদ ও সাতজন আহতাবস্থায় গ্রেফতার হলো। অন্যেরা জীবন বাঁচাতে সক্ষম হলো। নয় রুশ সৈন্য নিহত ও কুড়িজন আহত হলো। আমিও ভীষণভাবে আহত হলাম। আহত হওয়ার কারণেই রুশ তদন্তে সেদিন আমি বেঁচে গিয়েছিলাম। ফলে তদন্ত অফিসার উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছিলো, কি করে হাত বোমা মুজাহিদের হস্তগত হয়েছিলো।
একদিন অনুরূপ একটি বস্তিতে তল্লাশী শেষে আমরা ক্যাম্পে ফিরে আসছি। পথে একটি আফগান শিশু দৌড়ে এসে একটি সিগারেট আমার হাতে দিলো। রুশ অফিসার আমার হাত থেকে সিগারেটটি ছিনিয়ে নিলো এবং শিশুটিকে খুশিতে আদর করলো। অফিসারটি যেই না আয়েশ করে সিগারেটটি মুখে পুরে অগ্নি সংযোগ করলো তখনই বিকট শব্দে সিগারেট বিস্ফোরিত হয়ে অফিসারের মুখ ঝলসে দিলো। শিশুটি অফিসারের ঝলসে যাওয়া চেহারা দেখে হাসতে লাগলো। অফিসার ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটিকে ধরার নির্দেশ দিলো। এক সৈনিক শিশুটিকে ধরে এনে তার উপর নির্মম নির্যাতন চালালো। কিন্তু শিশুটি কিছুতেই এই সিগারেট বোমার উৎস ও ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে কিছুই বললো না। আঘাতে শিশুটির শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছিল, দুটি দাত ঘুষি মেরে ভেঙ্গে ফেলেছিলো এক রুশ শয়তান। অফিসার আমাকে নির্দেশ দিলো, আব্দুর রহমান, তুমি এ যমটিকে গুলী করে হত্যা করো, ও আমার চেহারা বিগড়ে দিয়েছে। কিন্তু এ পাপিষ্ট একথা এ কবারও ভাবেনি যে, ওরা পুরো আফগানিস্তানের চেহারাই ঝলসে দিয়েছে এবং লক্ষ জনতা ও হাজার হাজার শিশু, কন্যা, মা-বোনকে হত্যা করেছে। তাদের ইজ্জত লুটে নিয়েছে।
আমি খুব ধীরে-সুস্থে ক্লাসিনকড উঠালাম। এদিকে গুলির কথা বুঝে শিশুটি উঠে দিল দৌড়। অন্য সৈনিকরা গুলী করতে চাচ্ছিলো। আমি বল্লাম, আজ নিশানা আমি লাগাব। এক সৈনিক বললো, তাড়াতাড়ি কর ও তো পালিয়ে যাবে। বললাম, আমি উড়ন্ত পাখি শিকার করতে পারি, আর এতো মাটির উপর দিয়ে দৌড়াচ্ছে মাত্র। আমি চাচ্ছিলাম, শিশুটি দূরে চলে গেলে নিশানা নেব। কিছুটা দূরে যাওয়ার পর ছেলেটির দু’ পায়ের ফাঁকে আমি গুলী করলাম। ছেলেটির পায়ে লাগেনি কিন্তু ভয়ে সে পড়ে গেলো, পরক্ষণে উঠে আবার দৌড়াতে লাগলো ।
সাথী রুশীরা অট্টহাসিতে ভেঙ্গে পড়লো। বললো, বেশ তো তোমার নিশানা । বললাম, রাখো, আরেকটি লাগাতে দাও। আবার আমি ছেলেটির দু’পায়ের ফাঁকে গুলী করলাম, ভয়ে ছেলেটি আবার পড়ে গেলো। রুশরা হাসতে লাগলো। ভাবছিল, ছেলেটি এবার মরে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ছেলেটি দাঁড়িয়ে রুশ অফিসারের প্রতি লক্ষ্য করে চীৎকার দিয়ে বললো, ‘তোমরা আমার বাপ-মার হত্যকারী, আমি কখনও তোমাদের ক্ষমা করবো না, প্রতিশোধ নেবই’। এই বলে দ্রুত ছেলেটি পাহাড়ের আড়ালে চলে গেলো। রুশ অফিসারের একটি প্রচন্ড থাপ্পড় আমার গালে পড়লো, সেই সাথে অকথ্য ভাষায় কতক্ষণ গালাগালি। কারণ, ওর দৃষ্টিতে আমি উচ্ছা করেই নিশানা ভুল করেছি। পাশেই ইসমাঈল দাঁড়ানো ছিলো, ও বললো, অনেক সময় ভালো নিশানাবাজেরও ভুল হয়ে যায় স্যার। আর এখানে তো আব্দুর রহমানের কোন দোষ নেই।
কাবুল খায়েরখানা কালোনীতেও শিশু কর্তৃক ফৌজ আক্রমণের একটি ঘটনা ঘটেছিলো। সেখানে আফগান শিশুরা রুশীদের কাছে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস ফেরী করে বিক্রি করতো। অন্মধ্যে আমেরিকান সিগারেট ছিলো অন্যতম। শিশুরা যখন রুশ ফৌজদের সাথে খুব খাতির জমিয়ে ফেলতো, তখন আসল সিগারেটের বদলে রুশদেরকে বারুদ ভর্তি সিগারেট সরবরাহ করে ওরা দ্রুত সরে পড়ত। একবার সৈন্যদের সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করে ধুমপানের ফল এ হলো স্কে সিগারেট বোমার আঘাতে ১১০/১১৫ জন সৈন্যের চেহারা নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। শিশুদের এই আক্রোশ ছিলো এরই বহিঃপ্রকাশ যে, অত্যাচার ও নির্যাতনের দ্বারা রুশ বাহিনী তাদের কচি মনেও ক্রোধ ও প্রতিশোধের বীজ বপন করেছিলো।
আমাকে এক আফগানী ফৌজ বলেছিলো, প্রাথমিক পর্যায়ে আফগানিস্তানে রুশ সৈন্য আসার পর প্রাইমারী স্কুলসমূহে রাশিয়া থেকে দুধ দেয়া হতো, কিন্তু শিশুরা দুধ নিতো না। ওরা দুধ গ্রহণ না করে প্রতিবাদ করতো রুশদের। বলতো, তোমরা আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যাও, আমরা তোমাদের দুধ খাব না ।
কাবুলে মুজাহিদরা প্রতি রাতেই গেরিলা হামলা চালাতো। ওরা যদি কোন রুশ সৈন্যকে হত্যা করতো, তাহলে মৃত দেহে বিভিন্ন শ্লোগান লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করতো। আমি নিজে দেখিছি, রুশ সৈন্য হত্যার পর তারা গায়ে লিখে রেখেছেঃ “রুশদের কবরস্তান, আফগানিস্তান।” “আফগানিস্তান সমরকন্দ বুখারা নয়, চির স্বাধীন আফগানিস্তান”
এসব শ্লোগান পড়ে আমার খুব ভালো লাগতো যে, আফগানরা সমরকন্দ, বুখারার ইতিহাসও ভালো জানে।’
আব্দুর রহমান থামলে আলী জিজ্ঞেস করলো, ইসমাঈল কবে কিভাবে তোমার সাথে যোগ দিয়েছিলো?
আব্দুর রহমান বললো, এটা সেদিনের ঘটনা, যেদিন বালকটির সিগারেটে অফিসারের মুখ ঝলসে গিয়েছিলো। ইসমাঈল আমার তাবুতে এসে তাবু থেকে দূরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বললো, তুমি জেনে বুঝে ইচ্ছা করে সেই বালকটিকে কেন গুলী করলে না? আমি বুঝলাম, তাকে রুশ অফিসার তদন্তের জন্য গোয়েন্দা হিসেবে পাঠিয়েছে। বললাম, আমি টার্গেট করেছিলাম কিন্তু ভুল হয়ে গেছে। সে বললো, আমার সাথে মিথ্যা বলো না, আমি তোমাকে এর আগেও মুজাহিদদের সাহায্য করতে দেখেছি। যেদিন মুজাহিদদের পকেটে গ্রেনেড ঢুকিয়ে দিয়েছিলে, সেদিন আমার সহযোগিতার কারণে রেজিষ্ট্রারে গ্রেনেডের কমতি ধরা পড়েনি, তদুপরি ঐ দিন বৃদ্ধাকেও তুমি শিখিয়ে দিয়েছিলে, অফিসার এলে বলবে, মুজাহিদরা আমার ছাগল নিয়ে পাহাড়ে চলে গেছে, অথচ মুজাহিদরা তার ঘরেই লুকিয়ে ছিলো ।
ইসমাঈলের কথা আমাকে ভাবিয়ে তুললো। বুঝলাম, ইসমাঈল সব কিছুই জানে। সবকিছু জেনেও যদি এ পর্যন্ত অফিসারের কাছে কিছু না বলে থাকে তাহলে হয়তো সেও আমার মতো গোপনে মুজাহিদদের সাহায্য করে। আমি বললাম, ভাই ইসমাঈল! আমি নিরাপরাধ আফগানীদের ওপর গুলী ছুড়তে পারি না। আমাকে চীন, আমেরিকা ও পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠানো হয়েছিলো, কিন্তু এখানে তো আমরা নিষ্পাপ শিশু ও নিরাপরাধ মানুষের ওপর গুলী চালাচ্ছি। এই শিশু বালকটি আর কত বড় অপরাধ করেছে, যেখানে তার মা বাপ ভাই বোন সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। যদি সিগারেটে বারুদ ভরে রুশ অফিসারের মুখ জ্বালিয়ে দিয়ে অপরাধ করে থাকে, তবে রুশরা মুজাহিদদের গ্রেফতার করে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করছে তার শান্তি কি হবে? তুমি যদি গোপন তদন্ত বা গোয়েন্দাগিরির লক্ষ্যে এসে থাকো, তবে শোন, আমি পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, গিয়ে অফিসারকে জানাতে পারো, আমি সব কিছুই জেনে বুঝে করেছি, ইচ্ছা করেই বালকটিকে হত্যা করিনি। আমিও একজন তুর্কি মুসলমান। আমি নিরাপরাধ মুসলিম আফগানীদের উপর জুলুম করতে পারবো না, আমি রুশদের অত্যাচারের বিপক্ষে, মজলুমদের পক্ষে। বলতে পারো, ওরা আমাকেও যেন জ্বালিয়ে ফেলে না হয় জেলখানায় বন্দী করে ।
আমি নীরব হলে ইসমাঈল বললো, ভাই আব্দুর রহমান। আমিও তোমার সাথী। আমিও তোমার মতো রুশদের বিরোধী। ওরা আমাদের মাতৃভূমি আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে এখন আফগানীদের মাতৃভূমিও ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছে ।
আসার সময় আমার আব্বা বলে দিয়েছেন, ‘আফগানীদের ওপর কোন গুলি চালাবে না, ওরা তোমাদের ভাই।’ আমি যথাসম্ভব সেই উপদেশ মেনে চলছি এবং মুজাহিদদের সাহায্য করছি। কিন্তু তোমার মতো এমন বোকামী করিনি । শোন, গত মাসে যে রুশ অফিসার নিজ কক্ষে জ্যান্ত পুড়ে মরেছিলো তাকে আমিই মেরেছিলাম। ওই বদমাশ এক আফগানী মেয়েকে জোর করে ধরে এনেছিল ধর্ষণ ও ইজ্জতহানীর জন্য। আমি দেখলাম, ওর কাছে থেকে এই মেয়েকে কোনভাবেই উদ্ধার করতে পারব না এবং মেয়েটির ইজ্জতও রক্ষা করতে পারব না। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই করেছি যে, সেই হতভাগী সহ কাপালিকও দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছে। বিস্ফোরক সিগারেট বানানোর কৌশল আমিই এক আফগান সেনাকে শিখিয়েছিলাম যখন বুঝতে পেরেছিলাম, সে নিশ্চিতভাবেই মুজাহিদদের সাথী। সেও রুশ অফিসার হত্যার সময় আমার সাথে ছিলো। বিভিন্ন জায়গায় সিগারেট বোমার ব্যবস্থা ও পরিচালনা সে-ই করেছিলো। এ কথা বলে ইসমাঈল নীরব হয়ে গেলো। অনেক্ষণ কি যেনো চিন্তা করে বললো, আব্দুর রহমান! শীঘ্রই আমরা মুজাহিদদের দলে যোগ দেব। কারণ অনেক সময় রুশদের অত্যাচার স্বচক্ষে দেখে তা সহ্য করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাছাড়া মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়ে আমাদেরও অন্যায়ভাবে গুলী চালাতে হয়। এতে আমি খুবই আত্মপীড়ায় ভুগি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাকী জীবন ইসলামের খিদমতে ব্যয় করবো । আফগানিস্তান বিজয়ের পর মাতৃভূমি উদ্ধারে জিহাদ করবো। দেশ ত্যাগ করার সময় আমার আব্বা বলেছিলেন, ‘আফগানিস্তান অচিরেই স্বাধীন হবে, এরপর দেখবে রাশিয়া তুর্কিস্তানকে গোলামির জিঞ্জিরে বেশী দিন আটকে রাখতে পারবে না।’
. ইসমাঈলের কথা শুনে আনন্দে আমার মন ভরে গেলো। আমি যেনো সমমনা আমার আপন একটি ভাইয়ের সাথে মিলিত হলাম। আমার আব্বু ঠিকই বলেছিলেন যে, সকল রুশ কম্যুনিস্ট নয়, জীবন বাঁচানোর জন্যেই অনেকে কম্যুনিস্টদের লেবাস পরেছে।
আমি অজ্ঞাতসারে ইসমাঈলকে জড়িয়ে ধরলাম, আনন্দে আমাদের উভয়ের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিলো। হাতেহাত রেখে আমরা শপথ নিলাম, আমরা উভয়ে মুজাহিদ দলে যোগ দিয়ে পায়ের লাল জিঞ্জির ছিড়ে ফেলব। জীবিত থাকলে আফগান বিজয়ের পর মাতৃভূমির আযাদী পর্যন্ত রুশদের বিরুদ্ধে লড়ে যাব ।
কাঙ্খিত সুযোগ আমাদের অচিরেই মিলে গেলো। রুশ সুপ্রিম কমান্ডার যখন মুজাহিদ ঘাঁটির ওপর কব্জা করতে চাইলো, তখন আমরা মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। সেদিন আমাদেরকে হেলিকপ্টার দ্বারা নামিয়ে দেয়া হলো মুজাহিদদের ক্যাম্প অবস্থিত পাহাড়ের কাছে। আমাদের দলের ত্রিশজনের পনেরজন ছিল রুশ আর ১২ জন আফগানী। রশ সেনা অবতরণের সাথে সাথেই অধিকাংশকে মুজাহিদরা হত্যা বা গ্রেফতার করে ফেলেছিলো, দৈবক্রমে কেবল আমাদের গ্রুপটি আক্রান্ত হয়নি। অবতরণের পরেই আমরা দ্রুত ব্যাংকার তৈরী করে চার পাশে মাইন পুঁতে ফেলেছিলাম । রাতের বেলায় কমান্ডারের ইঙ্গিত পেলেই আমাদের উপর নির্দেশ ছিলো মুজাহিদ ক্যাম্পে আক্রমণ করার।
এখানে অবতরণের পর আমার সাথে ইসমাঈলের কথা হলো, রাত্রে আমরা পুরো ব্যাংকার জ্বালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাব। রাত বারোটা বাজার পরই আমরা নিজেদের গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করলাম। ইসমাঈল এভাবে গুলী ছুড়তে ছিলো যে, মনে হয়েছিলো মুজাহিদরা আমাদের উপর আক্রমণ করেছে। ইত্যবসরে আপনারাও আমাদের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। আল্লাহ এভাবেই আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন ।
আপনাদের উপস্থিতি নিকটে টের পেয়ে সকলের মন ছিলো সে দিকে। আপনাদের ভয়ে সকল রুশ সৈন্য ছিলো ভীত। তাদের মধ্যে মতানৈক্য হয়েছিলো, অগ্রসর হয়ে পাল্টা আক্রমণ করবে না ব্যাংকারে বসে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেবে। আমি এই

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top