কায়সার ও কিসরা – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

কায়সার ও কিসরা – নসীম হেজাযী – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ আব্দুল হক

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৪১৬

কায়সার ও কিসরা – বইটির এক ঝলকঃ

: ‘কিন্তু আমার নাক ডাকার শব্দ শুনলে তোমার মনে হবে ছাদ ভেংগে পড়ছে। আনতুনি বলত, আমার নাক থেকে একসঙ্গে পাঁচটা শব্দ বের হয়।” এজন্য কিছুক্ষনের জন্য বেরিয়ে গিয়েছিলাম। আসেম, আমি তোমার বন্ধু । বন্ধু হিসেবেই প্রশ্ন করছি, তুমি বাড়ী ছেড়েছ ? কোথায় যাবে? আর আমি তোমার কি সাহায্য করতে পারি?” পরদিন দেখা করলাম মালিকের সাথে । আমার ধারনার চেয়ে কমদামে বাড়ীটা কিনে নিলাম। বাড়ীটার তখন পড়ো পড়ো অবস্থা। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল, এখানে পয়সা খরচ করলে বিফলে যাবেনা। এ কঙ্কটা তৈরী করেছিলাম উচু পর্যায়ের লোকদের জন্য। বছর খানেকের মধ্যে আর ইঙ্কাদারিয়া যেতে পারিনি। ব্যবসায় এতটা উন্নতি হল যে পাশের দোকানদার দোকান ছেড়ে আমার এখানে চাকরি শুরু করল। এত কিছুর পরও আমি দুশ্চিন্তা যুক্ত হইনি। আমি জানতাম, এখানেও গীর্জার কোন পাত্রীর রোষে পড়তে পারি যে কোন সময়। আমার ভাই ও পিতার অপরাধে আমায় পাকড়াও করা হতে পারে। সুতরাং আয়ের এক বড় অংশ তাদের পেছনে ব্যয় করতে লাগলাম। ওরা এ পথে এলে কয়েকদিন এখানে রাখার চেষ্টা করি। অন্য সময় উপঢৌকন নিয়ে নিজেই চলে যাই। একবার জেরুজালেমের বিশপ পানি পান করার জন্য এখানে থেমেছিলেন । তাকে রূপোর পাত্রে খাইয়ে যাবার সময় ওগুলি উপহার হিসেবে দিয়ে দিয়েছি। পরের বার তিনি এলে আমি বললাম, আমার বাড়ী বেবিলন। বাপ ভায়ের তুলের কারনে আমিও ওখানে যেতে পারছিনা। তার দয়া হল। তিনি বেবিলনের বিশপের নামে একটা চিঠি লিখলেন। যার বিষয়বস্তু ছিল, কোন মিসরীর রোম সালতানাতের এত অনুগত হতে পারে, জেমসের পূর্বে আমি তা দেখিনি। বেবিলনে এমন লোকের প্রয়োজন আছে। এর পর আমি দেশে গিয়ে বিশপকে চিঠির সাথে একটা সোনার পেয়ালাও উপহার দিলাম। এতে আমার অতীতের সব অপরাধ মুছে গেল। পিতার যে সব স্থাবর সম্পত্তি সরকার বাজেয়াফত করেছিলেন। তা আমার ফিরিয়ে দেয়া হল। পাতইউসকে আমি এমন শরাব পান করিয়ে ছিলাম যাতে সে আমার বন্ধুই হয়ে গেল।
বন্ধু মনে করে তুমি আমার কাছে এসেছ। কথা গুলো বললাম যেন আমার ব্যাপারে তোমার বাস্তব ধারণা হয়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় আমি সুখী। কিন্তু এ সুখের পথ খুঁজতে গিয়ে আমার বিবেক মরে গেছে। আমার এ দেহটাই বেঁচে আছে। আত্মা ঘুরে মরছে গাঢ় অন্ধকারে। প্রতিনিয়ত আমি পশুত্ব, বর্বরতা আর মুগ্ধতার বিরুদ্ধে আমার বিবেকের চিৎকার শুনছি। কিন্তু জালিমকে সন্তুষ্ট করার জন্য ঠোঁটে ধরে রাখছি মুচকি হাসি। আমি যখন মরতে চাইছিলাম তখন আমার আত্মা বেঁচেছিল। ভাল মন্দের ব্যাপারে আকো প্রকাশ করতে পারতাম। কিন্তু যখনই বেঁচে থাকার ইচ্ছে প্রবল হল, সত্যিকার মানুষ থেকে দুরে সরে পড়েছি। রোমানদের গোলামী এক অভিশাপ। কিন্তু হামেশা প্রতিটি রোমানকে বুঝাতে হয় যে, তোমরাই মানবতার বন্ধু। গীজার যেসব খোদারা খানকা গুলোকে জীবন্ত মানুষের কবরস্থানে পরিণত করেছে আমি তাদের ঘৃণা করি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস আমার নেই। আমি ছিলাম দুর্বল। এ জন্যই এপথ গ্রহন করেছিলাম। কিন্তু তোমার অবস্থা আমারচে ভিন্ন। ঝড়ের গতি রুদ্ধ করে দেয়ার জন্য তোমার জন্ম হয়েছে। এ নিস্তরঙ্গ নীবর জীবন বেশী দিন তোমার ভাল লাগবেনা। সে বার দৈত্যের মত সিরীয়টার উপর যখন তুমি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে, বার বার আমার মনে হয়েছিল এমন বীরোচিত জীবনের কয়েকটা মুহূর্ত যদি আমি পেতাম। তার মানে আমি রক্ত পিপাসুদের ভালবাসি তা নয়। আমি একে ঘৃণা করি। নিপীড়িতের পক্ষে তরবারী তুলতে না পারার মত পেমান আর কিছুই নেই। আমি কয়েক বারই এ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। আজ এমন যুবককে দেখছি, যে বিবেকের আহবানে সাড়া দিয়ে শত্রুর পক্ষে অস্ত্র ধারন করেছে। এখন নিজের দুর্বলতার জন্য লজ্জা হচ্ছে। আসেম, তুমি হয়ত কোন কঠিন আঘাত পেয়েছ। কিন্তু তুমি দুর্বল বা অসহায় নও। ভুল তুমি করনি। করনি কোন অপরাধ অথবা পাপ। শুধু নিজের জন্য খুঁজছিলে এক নতুন পথ। এতে তোমার পা ক্ষত বিক্ষত হয়ে থাকলে তার অর্থ এ নয় যে, সে পথ ভুল ছিল। এক দৃঢ়চেতা যুবক আমার কাছে এসেছে। এ যে আমার গর্ব। ধ্বংসের পথে চলার জন্য তোমার সৃষ্টি হয়নি আসেম। তুিমি সাধারণ মানুষের চে ভিন্ন।
এবার ঘুমিয়ে পড়। তোমার ক্লান্তি দূর হয়ে গেলে নিশ্চিন্তে কথা বলব। তোমার প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে হয়ত তোমার জন্য কোন কাজও খুঁজে পাব।’ আসেমের কাঁধ চাপড়ে উঠে দাঁড়াল প্রেমস। এর পর আলতো পায়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল।
আসেম গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। জেমস এবং তার চাকর কক্ষে প্রবেশ করল। সাথে এক তরুণী এবং একজন মহিলা। চাকরের হাতে কাপড় চোপর বোঝাই ব্যাগ। ভেজা। মহিলাদের গা থেকেও পানি ঝরছিল। ব্যাগটা কামরার এক কোণে রেখে ও ফায়ার প্রেসে আগুন জ্বালাতে লাগল। জেমস রোমান ভাষায় বললঃ ‘পাতইউসের দেয়া সংবাদ আমি দুপুরেই পেয়েছিলাম। কিন্তু এ বাদলা দিনে আপনারা জেরুজালেম থেকে বের হবো ভাবিনি। আমি এখনি কামরা খালি করে দিচ্ছি।’
মহিলাকে তার আচরণ ও পোশাকে বেশ উচু বংশীয়া মনে হচ্ছিল। তিনি বললেনঃ “নির্ভরযোগ্য লোক ছাড়া আর কেউ যেন আমাদের আগমন সংবাদ জানতে না পারে। এ কে?
: ‘ও এক বিপন্ন যুবক। আমার পরিচিত। আপনারা ওর উপর নির্ভর করতে পারেন। ফ্লেমস আসেমকে জাগানোর চেষ্টা করল। কিন্তু নির্মিলীত চোখে কতক্ষন বিড়বিড় করে পাশ ফিরল আসেম। মহিলা বললেনঃ ‘থাক, ওকে জাগানোর দরকার নেই। আমরা কিছুক্ষনের মধ্যেই এখান থেকে বেরিয়ে যাব। বৃষ্টি থামলেই হয়। দামেশক না পৌঁছা পর্যন্ত শান্তি পাবনা। : “আপনারা একাই দামেশক যাচ্ছেন? ফ্রেমসের উৎকণ্ঠা জড়ানো প্রশ্ন
ঃ ‘আপনি কোন বিশ্বস্ত লোক দিতে পারলে ভালই হয়। তা না হলে আমাদেরকে একাই যেতে হবে। চাকরটা আমাদের সাথে আসতে পারেনি।
ঃ ‘আপনাদের কেমন যেন চঞ্চল মনে হচ্ছে। মনে হয় কোন বিপদে পড়েছেন।
: ‘পাতইউস তোমায় কিছু বলেনি?”
: ‘তিনি আমায় শুধু বলেছেন, রাতে জেরুজালেম থেকে দুজন মহিলা তোমার কাছে আসবে। ওদের যথাসম্ভব সাহায্য করবে। পাতইউসের মামুলী ইঙ্গিতকেও আমি নির্দেশ মনে করি।। আমার উপর আস্থা রাখতে পারেন। ভেবে আশ্চর্য হচ্ছি, এমন রাতে তিনি কিভাবে আপনাদের একা একা পাঠাতে পারলেন।
: ‘আমাদের সাথে তিনি দুজন সিপাই পাঠিয়ে ছিলেন। ওরা সরাইখানার দরজা থেকে ফিরে গেছে। ওদেরকে আমাদের সাথে কেউ দেখে ফেলুক তা ওরা চায়নি। ভোরেই হয়ে জেরুজালেমে আমাদের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে যাবে। ওরা আমাদের এক চাকরকে হা করেছে। আরেক জনকে করেছে বন্দী। আমি এবং আমার মেয়ে ইরানীদের গোয়েলা, ওরা ভাই মুখ দিয়ে এমন স্বীকারোক্তি নিতে চাইছে। জেরুজালেমের গভর্নর আমাদের উপর হাত তোলার · সাহস পায়নি। ক’জন পাত্রীর মাধ্যমে সাধারন মানুষকে আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে। আমার অর্শিংকা ছিল, দামেশক দখল করে ইরানী লশকর যদি জেরুজালেমের দিকে এগিয়ে মাসে, তবে এরা আমাদের হত্যা করবে। গভর্নরের চেষ্টা ছিল আমরা যেন পালাতে না পারি। : ‘গভর্নরের সাথে আপনার শত্রুতা কি নিয়ে?
: ‘ও আমার পিতার অধীনে সাধারণ অফিসার ছিল। আমি যে ওর গালে চড় মেরেছিলাম সেকথা সে ভুলে যায়নি।’
: ‘জেরুজালেমের গভর্নরকে আমি ভালই চিনি। আমার ভয় হচ্ছে, আপনার জন্য দামেশকও খুব নিরাপদ হবেনা। গোয়েন্দাগিরীর অপবাদ অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
মহিলা বিরক্তির সাথে বললেনঃ ‘না, তুমি আমার পিতাকে জাননা। কোন প্রকারে একবার দামেশক পৌঁছতে পারলে গভর্নরের প্রাণ বাঁচানোই মুশকিল হয়ে পড়বে।
: “কিন্তু ইরানীদের অগ্রাভিযানের ফলে দামেশকের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেছে। তারা দামেশক কব্জা করলে আপনারা কি করবেন। এর চে’ দামেশক না গিয়ে ইস্কান্দারিয়া গেলে ভাল হয়না?”
ঃ “আমার পিতা দামেশকে আছেন। যেকোন ভাবে হোক ওখানে আমার পৌঁছতেই হবে।
ফায়ার প্লেনে আগুন জ্বালানোর পর তরুণী আগুনের উপর হাত প্রসারিত করে দাঁড়ালঃ ‘মাফ করবেন। এতোক্ষন খেয়ালই ছিলনা। আগে কাপড় পাল্টে নিন। আমি আপনাদের চাদর দিতে পারি। আপনাদের জন্য খাবারও প্রস্তুত।
: ‘আমরা খেয়ে এসেছি।’
কামরার এক পাশে চলে গেল যুবতী। ব্যাগ খাঁ বইলা কাপড়গুলো উল্টে পাল্টে দেখতে লাগল। চাকরকে জেমস বললঃ ‘আগুনের উপর ধরেনা এগুলো শুকিয়ে নিয়ে এসো।’ মহিলার দিকে ফিরে বললঃ “ওকে জাগিয়ে নীচে নিয়ে যাই। এ থাকলে আপনাদের অসুবিধা হবে।”
ঃ ‘না, থাক। ওকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি? বরং আমাদের সাথে দেয়ার জন্য আপনি একজন বিশ্বান্ত লোক দেখুন। ভোর পর্যন্ত বৃষ্টি না কমলেও আমাদেরকে চলে যেতে হবে। গভর্নর টের পেলে এখানেও ছুটে আসবে।’
: ‘আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। বাইরে আমার লোক রয়েছে। কাউকে এদিকে আসতে দেখলেই আমায় সংবাদ দেবে। তখন আপনাদের এমন গোপন কক্ষে লুকিয়ে রাখব, যার খবর আমার সব চাকরও জানেনা। আপনাদের জন্য হয়ত একজন সংগীরও ব্যবস্থা করতে পারব।”
: সে কি আপনার চাকর?
‘না, সে আমার উমহমান
”কোথায় সে?’

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top