কারাগার থেকে বলছি – মুহাম্মদ মামুনুল হক – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

কারাগার থেকে বলছি – মুহাম্মদ মামুনুল হক – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ মুহাম্মদ মামুনুল হক

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৯০

কারাগার থেকে বলছি – বইটির এক ঝলকঃ

এসেছিলো। আইনজীবিদের মধ্যেও অনেকে আমার পক্ষে এজলাসে দাড়িয়েছে বলে শুনেছি। আমাকে সেই প্রথম দিনও কোর্টে বিচারকের সামনে উপস্থিত করা হয়নি। গারদেই ছিলাম। গারদ থেকেই জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।
খুলনা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টের গারদে দুটি অংশ। মূল গারদ বেশ বড় একটি রুম। যার ভিতরের অংশে একটি বাথরুম। সেই বাথরুমকে কেন্দ্র করে সেখানে নোংড়া একটি পরিবেশ তৈরি হয়ে আছে। আর সামনের অংশে আছে একটি জানালা। মাঝখানে অনেকটা দূরত্ব রেখে ঘন বুননের লোহার জালি দুই স্তরে লাগানো।
‘বাইরে থেকে কোন কিছু ভিতরে যেনো না দেয়া যায়, তাই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরপরও আসলে কি মাদক থেকে নিরাপত্তা মিলছে? যাদেরকে রাখা হয়েছে পাহারা দেয়ার জন্য তারাই যদি মাদক সরবরাহ করে লোহার জালি লাগিয়ে কি লাভ?’
মূল গারদের বাইরে আছে আরেকটি ছোট রুম। এখানে গারদ থেকে কোর্টের কাঠগড়ায় আসামী আনা-নেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশরা অফিসিয়াল কাজকর্ম করে। এই রুমটা একটু খোলামেলা। দুইশ টাকার বিনিময়ে কোন বন্দী এখানে থাকতে পারে। এখানে বসার মতো দুটি বেঞ্চ আছে। আর লোহার মাত্র একটি গ্রিলের দূরত্ব থেকে কথা বলার সুযোগ আছে।
ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের গারদে যখন আনা হলো তখনো ঘড়ির কাটায় আটটাও বাজেনি। পরিচিত কোন মানুষও আসেনি। একজন পুলিশকে বাসার নম্বরটা দিয়ে আমার কোর্টে আসার সংবাদটি জানিয়ে ফোন করে দিতে বললাম । প্রতিউত্তরে সে জানালো একটি কল করতে একশ টাকা লাগবে। নিরূপায় হয়ে বললাম- করেন, আমার লোক আসলে টাকা পেয়ে যাবেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে আমাকে নিশ্চিত করণ তথ্য দিয়ে গেলো। বলল, আপনার ছেলের নাম মিদাদ? এর অর্থ হলো, সে আমার বাসায় কথা বলেছে। অন্যথায় সে আমার ছেলের নাম জানলো কী করে?
কোর্ট গারদের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশেরও ভালো বাণিজ্য হয়। মোবাইল বাণিজ্যতো আছেই। মোবাইল বাণিজ্য দুইভাবে হয়। যখন বেশি কড়াকড়ি থাকে তখন সংবাদ পৌঁছে দেয়া বিনিময়ে একশত করে টাকা নেয়। আবার কখনো কখনো ম্যানেজ করতে পারলে পুলিশের মোবাইল দিয়ে নিজেও কথা বলা যায় । কয়েকজন মিলে প্যাকেজ কন্টাক্ট করেও পুলিশের মোবাইল দিয়ে অনেকে কথা বলে। মোবাইল বাণিজ্য ছাড়াও জিনিসপত্র, খাবার-দাবার পৌঁছে দেয়ার বাণিজ্য আছে। আর আছে সাক্ষাত বাণিজ্য। একজন সাক্ষাৎপ্রার্থী গেইটের পুলিশকে তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা করে দিয়ে ভিতরে এসে দরজায় দাড়িয়ে কথা বলতে পারে। সেজন্য আবার ভিতরের পুলিশ চাইবে একশ টাকা। এখানকার পুলিশগুলোকে দেখলে মনে হয়, কেমন যেনো খাই খাই একটা আগ্রাসী ভাব তাদের মধ্যে বিরাজমান। ভাবখানা অনেকটা এমন, পুলিশের সামনে পড়লেই টাকা গুণতে হবে। গারদে পুলিশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য হলো মাদকের বাণিজ্য। গাজা, হিরোইন আর ইয়াবা সরবরাহ করে তারা। ঢাকা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টের গারদকে মাদকের আখড়া বললে যথার্থই বলা হবে।
মাদকের ব্যবসার জন্য পুলিশ কিছু কৌশলও অবলম্বন করে। আর এ কৌশলগুলো মাদকসেবীদের জন্য শাপে বর হলেও আমাদের মতো সাধারণ নিরীহ বন্দীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাড়ায়। যেমন আমরা গারদের যে কক্ষটিতে ছিলাম সেটা কিছুটা ফাঁকা ছিলো। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে আমাদেরকে অন্য আরেকটি কক্ষে স্থানান্তর করল যেটা আগে থেকেই ভরপুর ছিলো । আমি বুঝতে পারলাম না ব্যাপারটা কি? রুম খালি ফেলে রেখে সবাইকে নিয়ে এক রুমে গাদাগাদি করছে কেন? পরে পরিচিত একজন পুরাতন বন্দীর কাছ থেকে জানতে পারলাম এর রহস্য। মাদকের সকল গ্রাহকদেরকে একত্রিত করা এর উদ্দেশ্য। এভাবে চতুর্দিকে আবদ্ধ শুধু ভেন্টিলেশনের জন্য ছাদের সাথে লাগানো গ্রিলের ফাঁকগলে যতটুকু বাতাস আসতে পারে এমন দৈর্ঘ্য-প্রস্থে বিশ ফুট একটা কক্ষে দুই শতাধিক মানুষকে রাখা হলে রুমটার পরিবেশ কেমন হয় সহজেই অনুমেয়। নোংড়া আবর্জনার পাশাপাশি নানা রকমের মাদক আর সিগারেটের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গারদ রুমটার মধ্যে সুস্থ মানুষ থাকা কঠিন। এভাবে এক রুমে অধিক বন্দী রেখে কষ্ট দেয়ার আরেকটা লাভ হলো টাকার বিনিময়ে আগে গারদ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এভাবে এখান থেকে বন্দীদেরকে পর্যায়ক্রমে জেলখানায় পাঠানো হবে।
যাই হোক, ফোনে সংবাদ পেয়ে গারদে সাক্ষাত করতে আসলেন মাহমুদ ভাই। আব্বার জীবদ্দশা থেকেই মাহমুদ ভাই আমাদের পারিবারিক অভিভাবক । মামলা সংক্রান্ত ঝামেলাসহ বাসা, মাদরাসা, ব্যবসা চতুর্দিক একাই তাকে সামলাতে হচ্ছে। আমি বন্দী। মাহবুব ভাই ও মাহফুজ ভাই আত্মগোপনে । এই অবস্থায় চাপটা মাহমুদ ভাইয়ের উপর অস্বাভাবিক। খুলনায় পনের দিন থাকতে সাক্ষাত করতে পারেননি। অন্যদের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখেছেন। বন্দী হওয়ার পর আজই আমার সাথে প্রথম সাক্ষাত হলো । ছোট ভাইকে পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় গারদের এই অস্বস্তিকর পরিবেশে দেখে নিজেকে সংবরণ করতে পারলেন না। ছোট মানুষের মতো হু-হু করে কেঁদে ফেললেন। প্রয়োজনীয় কিছু কথা বলার মধ্যেই পুলিশ এসে আরো টাকা দাবি করতে লাগলো। মাহমুদ ভাই দাবি মেটালেন। আমি ক্ষুধার্ত, নাশতা খাইনি জেনে পকেট থেকে টাকা বের করে পুলিশের কাছেই দিলেন নাশতা আনতে। বাইরে থেকে ইতিমধ্যে আমার সাক্ষাতে আসা শরীফ বিরানী কিনে পুলিশকে টাকা দিয়ে পাঠিয়েছে। পুলিশ ঐ বিরানীর উপর দিয়েই চালিয়ে দিলো । যেই পুলিশ বাসায় ফোন করেছিলো, তার ফোন নম্বর নিয়ে বড় বোন (মাসনুনের আম্মা) ফোন করে আমার সাথে সাক্ষাত করা যাবে কিনা জানতে চাইলে সে আসতে বলে। বোনের কাছ থেকে চারশ টাকা নিয়ে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়।
এ দিন গারদ থেকে আমাকে কোর্টে উঠানো হয়। দারুস সালাম থানার একটি মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন ছিলো। মহিলা ম্যাজিষ্ট্রেট রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে জামিন মঞ্জুর করেন। বহু কষ্টের মধ্যেও একটি জামিন সান্ত্বনার পরশ হিসেবে কাজ করে।
এভাবে কোর্ট শেষে বিকালে আবার সেই পূর্ব বর্ণিত প্রিজন ভ্যান নামক ওভেনে করে কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। বিকাল চারটা বাজার পর আমাদেরকে কোর্ট থেকে পাঠানো হলো। অথচ একটার আগেই আমাদের কোর্টের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন এই প্রশ্ন কার কাছে করব যে, এই তিন ঘণ্টা কেন আমাকে ও আমার মতো আরো অনেককে গারদে রেখে কষ্ট দেয়া হলো? কেন আমাদের আসরের নামায হুমকির মুখে ফেলা হলো? এই প্রশ্নের কোন জবাব নেই ।
*এমন আরো বহু প্রশ্ন আছে আমাদের সমাজব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যেগুলোর কোন জবাব আমরা খুঁজে দেখি না কিংবা খুঁজে দেখলেও সন্তোষজনক কোন জবাব পাই না । প্রশ্ন হলো এভাবে চলবে আর কত দিন। চলতে দেয়া যায় কত দিন?’
জেলখানায় পৌঁছতে পৌঁছতে আমাদের ছয়টা বেজে গেলো। আমরা যখন জেলগেটে পৌঁছলাম তখন দেখি চন্দ্র দিঘলিয়ার মাওলানা আবদুল্লাহ সাহেব তার অপর সঙ্গীসহ জেল অফিসে ঢুকছেন। দূর থেকে দেখা হলো। তিনি জানালেন তারা কাশিমপুর কারাগারে যাচ্ছেন। পূর্ব ঘনিষ্ঠ পরিচয় না থাকলেও ওনাকে জেলখানার ঘনিষ্ঠ আপনজন বলেই ধরে নিয়েছিলাম। তাই তার চলে যাওয়ায় কিছুটা হতাশও হলাম। জেল গেটের তল্লাশি ও কয়েক দফার গণনা শেষে ভিতরে ঢুকতে আরো প্রায় আধা ঘণ্টা লাগলো। সন্ধ্যা ছয়টায় লকআপ হয়ে যায়। লকআপের সময় সবাই যার যার নির্দিষ্ট জায়গায় চলে যায়। কাজেই ডান্ডাবেড়ি লাগানো ও খোলা হয় যেখানে অর্থাৎ ‘বেড়ি দফার’ কোন কয়েদী এখন আর সেখানে নেই। তাই সারা রাত এভাবে বেড়ি পরেই থাকতে হবে। কোর্ট গারদে দেরি হওয়ার এটি আরেকটি বড় বিড়ম্বনা। এভাবে আজ রাতটাও আমদানিতে থাকতে হবে ।
আমি যেহেতু আজকের নতুন আমদানী না, তাই আমি আমদানীর বিড়ম্বনা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেলাম। কিন্তু গত রাতে রাত দুইটায় যেই জায়গাটা ফাঁকা পেয়েছিলাম, আজকে দেখলাম নতুন আগত চারজন বন্দীর কাছে সেটা বিক্রি করা হয়ে গেছে। সকাল ও দুপুরের খাওয়া কোর্টের গারদে সেরেছিলাম। তাই খাওয়া নিয়ে আপাতত টেনশন নেই। রাতের খাবার না খেলেও চলবে। কিন্তু থাকার জায়গা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। ইতিমধ্যে মাগরিব ও ইশার নামাযের সময় জামাতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের কয়েক ভাইয়ের সাথে পরিচয় হলো। তাদের মধ্যে একজন কুমিল্লা লাঙ্গলকোটের নির্বাচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। আরেকজন ছাত্র শিবির করে মহিউদ্দীন নাম। মহিউদ্দীন বেশ কয়েক মাস যাবৎ এই আমদানিতেই আছে। বিভিন্ন সিস্টেম করে এখানকার কায়েমী চক্রের সাথে একটা সখ্যতা গড়ে নিয়েছে। কৌশলগত কারণেই সে এখানে আছে। জামাত-শিবিরের নবাগত বন্দীদেরকে প্রাথমিক শেল্টার দেয়া তার কাজ। চেয়ারম্যান সাহেব ও মহিউদ্দীনসহ চারজনের একটা গ্রুপ ছিলেন তারা। আমার পরিচয় পেয়ে তারা আমাকে কিছুটা মূল্যায়ন করতে লাগলেন। তারা বিশেষ আয়োজনে খাবার খান। রাত্রে আমাকেও তারা তাদের সাথে খাবারে শরীক করে নিলেন । আগের রাত্রের মতো না হলেও মোটামুটিভাবে রাতটা কাটানোর ব্যবস্থা হয়ে গেলো ।
সকাল বেলা ফজরের নামায পড়ে সিটে বসেই কুরআন তেলাওয়াত করছিলাম। ইতিমধ্যে সকালের গুণতি ফাইলও হয়ে গেলো। কিছুক্ষণের মধ্যে হালকা একটা বাজনা দিয়ে শুরু হলো মাইক বাজা। সামান্য বিরতি দিয়ে দিয়ে অনবরত বেজে চলছে মাইক। বিভিন্ন ঘোষণা দেয়া হচ্ছে তাতে। একেক বিষয়ে একেক ঘোষক ঘোষণাগুলো দিয়ে চলছে। এরই মধ্যে একজন ঘোষক জামিন প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা শুরু করলো। বেশ নরম ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে ‘অমুক পিতা অমুক থানা মোহাম্মদপুর জেলা ঢাকা আপনার মিরপুর থানার মামলা আপনার জামিন হয়েছে আপনি জামিন টেবিলে চলে আসুন।’ কয়েকবার করে এক একটি নাম ঘোষণা করছে। এভাবেই জামিন প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা চলছে। আমি মামলা-মোকদ্দমা, জেলখানা কোর্ট ইত্যকার বিষয়গুলো এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপার-স্যাপার তেমন কিছুই তখনো বুঝে উঠতে পারিনি ।
জামিনপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা শুনে আমার মনে একটা কল্পনা আসতে লাগলো- যদি আমার নামটাও এভাবে ঘোষণা হতো! আমি এ জাতীয় কল্পনা করছিলাম এর মধ্যেই একটা পরিচিত নাম শুনতে পেলাম ‘মুফতী ইমরান মাযহারী’। লালবাগ শাহী মসজিদের খতীব মাওলানা মুফতী ইমরান মাযহারী ও জামেউল উলূম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল বাশার নোমানী সাহেব গ্রেফতার হয়েছেন খুলনা জেলেই এ সংবাদ জেনেছিলাম। জামিনপ্রাপ্ত হিসেবে ইমরান মাযহারী সাহেবের নাম শুনে আমার মনের মধ্যকার সেই কল্পনাটা স্বপ্নে পরিণত হয়ে গেলো। মনে আমার নানান ভাবনা জড়ো হতে লাগলো। সরকার হয়তো সুমতি ফিরে পেয়েছে। হেফাজতে ইসলামকে নমনীয় করার কৌশল নিয়ে থাকতে পারে। সেই হিসাবে গ্রেফতারকৃতদেরকে মুক্তি দিয়ে দিতে পারে । হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবকে এক রকম গায়ে পড়ে, আইনজীবিকে ডেকে এনে সকল মামলার জামিন দিয়ে তাড়াহুড়া করে মুক্তি দিয়ে দিয়েছে। আমি স্বপ্নে বিভোর হতে লাগলাম- যদি এমনই হয় যে, আমাদেরকেও এখন মুক্তি দিয়ে দিবে! এমন স্বপ্নে আমি ডুবে ছিলাম এমন সময় অবিশ্বাস্যভাবে মাইকে ঘোষণা শুনতে পেলাম ‘মামুনুল হক পিতা মাওলানা আজিজুল হক, লালবাগ, ঢাকা। আপনার জামিন হয়েছে আপনি জামিন টেবিলে চলে আসুন।’ ভিতরে ভিতরে আমি পুলকিত হতে লাগলাম। ইমরান মাযহারী সাহেবের পর আমার নাম শুনে আমার ঐ ধারণাটা আরো বদ্ধমূল হতে লাগলো। স্বপ্নটা যদি সত্যি হয়ে যায় তাহলে কী করব? কীভাবে বের হবো এই জাতীয় কল্পনাও মনের মধ্যে ভিড় জমাতে থাকলো ।
মনের মধ্যে যখন এই জাতীয় কল্পনা আর স্বপ্নগুলো দানা বাধছিলো, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার একটা তাগিদ অনুভব করলাম এবং বিপরীত চিন্তাটাকে মনের মধ্যে ইচ্ছাপূর্বক শক্তিশালী করার চেষ্টা করলাম। ভাবতে শুরু করলাম যে, ব্যাপারটি আমি যেমন কল্পনা করছি তেমন হতে পারে না। যদি তেমনি হতো তাহলে তো গতকালকেই আমার লোকজনের সাথে সাক্ষাত হয়েছে। তারা জানতো, আমাকে জানাতো। আস্তে আস্তে আবার আপনা থেকেই এই চিন্তাটি মনের মধ্যে গভীর হতে লাগলো। বাস্তব চিন্তার সামনে এক সময় কল্পনার সেই

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top