যে গল্পে মানুষ গড়ে – মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১০১
যে গল্পে মানুষ গড়ে – বইটির এক ঝলকঃ
১২. পাত্রী দেখতে গিয়ে হাদিয়া দেওয়া জরুরী মনে করা অনুচিত। অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও সামাজিক প্রথার কারণে তা দেওয়া হয়ে থাকে। সামাজিক প্রথা পালনের উদ্দেশ্যে দিলে কোনো সাওয়াব হবে না। হ্যাঁ, কারো ভাল লাগলে পূর্ণ আন্তরিকতার সহিত সুন্নত পালনের নিয়তে সাওয়াব প্রাপ্তির আশায় হাদিয়া দিতে পারে। কেউ হাদিয়া দিলে তা কবুল করা উচিত।
এ তো গেল পাত্রীকে সরাসরি দেখার কিছু নিয়ম। এখন কেউ যদি গোপনে পাত্রী দেখতে চায়, আর গোপনে দেখতে গিয়ে যদি মুখমণ্ডল ও হাত-পা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ পাত্রের চোখে পড়ে যায়, তাহলে তার জন্য গোনাহ হবে না । যেহেতু গোপনে দেখতে গিয়ে এসব থেকে পুরোপুরি বেচেঁ থাকা সম্ভব হয় না। কারণ মহিলারা পর্দার ভিতর নিজেদের পরিবেশে এসব অঙ্গ সাধারণতঃ খোলাই রাখে। যে কারণে পাত্রের পক্ষে এসব অঙ্গ থেকে ভিন্ন করে শুধু মুখমণ্ডল ও হাত-পায়ের উপর নিজের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে না। -আল মুগনী, ৭/৪৫৪ পৃষ্ঠা।
কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, যেন পাত্রী ছাড়া অন্য কোনো বেগানা মহিলার দিকে দৃষ্টি না পড়ে। কেননা প্রয়োজনবশতঃ শুধু পাত্রীকে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অন্যকে নয়। কাজেই সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
তবে যদি পাত্রীকে দেখার সময় কখনও বেগানা মহিলার উপর অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়ে যায়, তাহলে সাথে সাথেই দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে হবে। এই অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি মাফ হলেও তা দীর্ঘায়িত করা বা পুনরায় বেগানা মহিলার প্রতি ইচ্ছাতকৃত দৃষ্টি ফেল বৈধ হবে না ।
প্রিয় পাঠক! পাত্র-পাত্রী দেখার নিয়মাবলী বর্ণনার পাশাপাশি প্রসঙ্গক্রমে তাদের গুণাবলী সম্পর্কেও কিছু আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি । গ) আদর্শ পাত্রীর গুণাবলী : দাম্পত্য জীবন সুখময়, শান্তিময়, সফল ও স্থায়ী হওয়ার জন্য স্ত্রীর মধ্যে আটটি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা-
১. দীনদার হওয়া:- স্ত্রী দীনদার বা ধার্মিক হওয়া আটটি গুণের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এ গুণটির প্রতিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ স্ত্রী ধর্মবিমুখ হলে নিজের সতিত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষার ক্ষেত্রেও সে দুর্বল হবে। ফলে সে তার অপকর্ম দ্বারা স্বামীকে লোকসমাজে অপদস্থ, অপমানিত ও লাঞ্চিত করতে থাকবে। আর আত্মমর্যাদাবোধের কারণে স্বামীর অন্তর হয়ে উঠবে অস্থির, অশান্ত। তাছাড়া ধর্মবিমুখ স্ত্রীর মধ্যে আল্লাহর ভয় থাকে না বলে সে স্বামীর হক আদায়ে দারুণ অবহেলা করবে। স্বামীকে মানতে চাইবে না। কর্তৃত্ব করতে চাইবে স্বামীর উপর। কুণ্ঠাবোধ করবে না স্বামীর মাল অপচয় করতে। তার ধারাল অশালীন কথা ও কাজকর্ম স্বামীর মনকে ভেঙ্গে চৌচির করে দিলেও সে উহার কোনোই পরওয়া করবে না। স্বামীর স্বার্থের চাইতে নিজের স্বার্থকেই বড় করে দেখবে। ফলে তাদের দাম্পত্য জীবন হয়ে উঠবে কঠিন, সংকীর্ণ ও দুর্বিষহ।
আর যদি ধর্মীয় ত্রুটির পাশাপাশি স্ত্রী রূপসী ও সুন্দরী হয়, তাহলে বিপদ আরো কঠিন। কারণ স্বামীর পক্ষে তখন তাকে ত্যাগ করা কঠিন হতে পারে। ফলে স্বামী না তাকে ছেড়ে থাকতে পারবে, না তাকে রেখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
এ জন্যই প্রিয় নবী সা. ধর্মের দিকটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য গুণাবলীর উপর একে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- সাধারণত মেয়েদেরকে বিবাহ করা হয় তার সম্পদ, সৌন্দর্য, বংশগত মর্যাদা ও দীনদারীর জন্য। তবে তুমি অবশ্যই দীনদার রমণী বেছে নেবে। এতে তোমার মঙ্গল হবে। (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত- ২৬৭ পৃষ্ঠা)
হযরত আনাস রা.থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা ইরশাদ করেন, কেউ যদি দীনদারী না দেখে কেবল পার্থিব ইজ্জত সম্মান দেখে কোনো মেয়েকে বিবাহ করে, তবে এরূপ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক অপমানিত করবেন। কেউ যদি কোনো মহিলাকে কেবল ধন-সম্পদের জন্য বিবাহ করে তবে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক গরীব করে দেবেন। আর কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মেয়ের কেবল বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্য ও বড়ত্ব দেখে বিবাহ করে, তবে আল্লাহ পাক তাকে অপদস্থ করবেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এ সকল বিষয় উপেক্ষা করে কোনো নারীকে কেবল দানি কারণে এ নিয়তে বিবাহ করে যে, সে তার লজ্জাস্থানকে হেফাযত করবে, তার দৃষ্টিকে পরস্ত্রী থেকে ফিরিয়ে রাখবে এবং অটুট রাখবে আত্মীয়তার বন্ধন, তবে আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তিকে নারীর জন্য এবং ঐ পুরুষকে ঐ নারীর জন্য বরকত ও শান্তিদায়ক করবেন । অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, দুনিয়ার যাবতীয় সম্পদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী। মেশকাত ২৬৭ পৃষ্ঠা ।
২. আখলাক বা উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়াঃ- স্বামী দৈহিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকে তৃপ্ত নন্তুষ্ট হয়ে দীনের উপর চলার জন্য, স্ত্রী উত্তম স্বভাব ও সুন্দর গুনাবলীর অধিকারী হওয়া অত্যন্ত জরুরী। কেননা স্ত্রী যদি বদ আখলাকী হয় এবং তার জবান থাকে অসংযত ও বেপরোয়া, সেই সাথে স্বামীর অনুগ্রহে হয় অকৃতজ্ঞ, তবে উপকারের তুলনায় তার ক্ষতির পরিমানই হবে বেশি। স্ত্রীর অসংযত জবানের উপর ধৈর্য ধারণ করা এমনি এক কঠিন বিষয় যা দ্বারা অলীদের পরীক্ষা করা হয়।
৩. রূপসী হওয়াঃ- পাত্রী নির্বাচনে একটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, রমণী রূপসী ও সুন্দরী হওয়া। কেননা পুরুষের চরিত্র রক্ষায় স্ত্রীর রূপ-লাবণ্যের অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারণ অধিকাংশ মানুষের মন কুৎসিত ও অপছন্দনীয় বস্তু দ্বারা তৃপ্তি পায় না। তার উপর সন্তুষ্ট থাকে না। উল্লেখ্য যে, যে হাদীসে দীনদারীকে প্রাধান্য দিতে এবং রূপ-লাবণ্যের জন্যে বিয়ে না করতে বলা হয়েছে, সে হাদীসের উদ্দেশ্য রূপ-লাবণ্য থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ করা এবং তার অবমূল্যায়ন করা নয়, বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে, দীনদারী না থাকা সত্ত্বেও শুধু রূপ- লাবণ্যের জন্য বিয়ে করতে নিষেধ করা। কারণ অনেক সময় শুধু রূপ- লাবণ্যই মানুষকে বিয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং দীনদারীর বিষয়টিকে হালকা করে দেয়। পরিণামে স্ত্রীর কারণে স্বামীর দীনদারী বিনষ্ট হয়।
আর যদি দীনদারীর পাশাপাশি রূপ-লাবণ্যকে দেখা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। বরং এমন রূপ-লাবণ্য অধিক কল্যাণ বয়ে আনে । আর শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন রূপ-লাবণ্যই কাম্য ।
রূপ-লাবণ্যের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা বিশেষ করে এমন ব্যক্তির জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ, যে আপন স্ত্রীর উপর (যদি সে সুন্দরী না হয়) দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে।
আর যে ব্যক্তি বিবাহ দ্বারা শুধু সুন্নত পালন, সন্তান লাভ এবং বংশ রক্ষা করতে ইচ্ছা করবে, তার জন্য রূপের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করাই উচিত। কারণ, ইহা তার যুহদ বা দুনিয়ার প্রতি অনিহা প্রকাশের একটি দিক। কেননা রূপ এক পর্যায়ে দুনিয়ারই অংশ; যদিও অনেকের ক্ষেত্রে তা দীনের সহায়ক হয়ে থাকে ।
হযরত দারাণী রাহ. বলেন, প্রতিটি বস্তুতেই যুহদ আছে । এমনকি নারীর ক্ষেত্রেও। যেমন কেউ যুহদের প্রতি অনুরাগী হয়ে বয়স্কা মহিলা বিয়ে করল। এতে সে কেবল প্রয়োজন পুরা করল। পার্থিব চাকচিক্যের প্রতি লক্ষ্য করল না।
৪.মহর কম হওয়াঃ- মেয়েদের মহর কম হওয়াও একটি লক্ষণীয় বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, সর্বোত্তম রমণী সে, যে রূপসী এবং তার মহর অল্প। তাখরীজে ইরাকী-২/৩৬
হযরত ওমর রাযি. মহরের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করতে নিষেধ করে বলেন, সমগ্র জাহানের সর্দার রাসূলুল্লাহ সা. চারশত দিরহামের অধিক মহরানা দিয়ে কোনো রমণীকে বিবাহ করেননি এবং নিজের কোনো কন্যার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মহরানা ধার্য করেননি। মহরানার মধ্যে অতিরিক্ত করা যদি সম্মান ও মর্যাদার বিষয় হত, তাহলে এর জন্য তিনিই ছিলেন সর্বাধিক উপযুক্ত এবং এ ব্যাপারে তিনিই সর্বাগ্রে থাকতেন নিশ্চয়ই।
৫. অধিক সন্তান প্রসবিনী হওয়াঃ- নবী করীম সা. বলেছেন, তোমরা প্রেমময়ী, অধিক সন্তানপ্রসবিনী নারী বিবাহ করো। (নাসাঈ, আবু দাউদ মেশকাত-২৬৭ পৃষ্ঠা)। তাই পাত্রী যদি বিবাহিতা না হয় এবং তার বন্ধ্যাত্ব সম্পর্কে কোনো কিছু না জানা যায়, সে ক্ষেত্রে সুস্থ ও যুবতী দেখে বিয়ে করা উত্তম। কেননা সুস্থ ও যুবতী নারীরাই সাধারণত অধিক সন্তান দান করে
থাকে।
৬. কুমারী হওয়াঃ- পাত্রী নির্বাচনে রমণী কুমারী হওয়াও একটি লক্ষণীয় বিষয়। হযরত জাবের রাযি. বিধবা মহিলা বিয়ে করেছেন জানতে পেরে নবী করীম সা. তাকে বলেছিলেন, তুমি কুমারী বিয়ে করনি কেন? তাহলে তুমিও তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করতে, সেও তোমার সাথে আমোদ- প্রমোদ করত। (বুখারী, মুসলিম)
কুমারী রমণী এ যাবত যেহেতু কোনো স্বামীর সংশ্রবে আসেনি, তাই পূর্ব স্বামীর প্রতি আকর্ষণ দোষ তার নেই। বরং এই তার প্রথম স্বামী। এই তার প্রথম ভালবাসা । আর প্রথম ভালবাসাই গভীর থেকে গভীরতর হয়।
৭. ভাল বংশের হওয়াঃ-পাত্রী ভাল বংশের ও ধর্মীয় পরিবারের মেয়ে হওয়া চাই। কেননা খুব শীঘ্রই তার উপর আপন সন্তানদের লালন পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার দায়িত্ব অর্পিত হবে। এ ক্ষেত্রে সে নিজেই যদি শিষ্টা সুশীলা ও মার্জিতা না হয়, তাহলে সে সন্তানদের সঠিকভাবে লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষা দিতে ব্যর্থ হবে।
৮. নিকটাত্মীয় না হওয়াঃ-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, পাত্রী নিকটাত্মীয় না হওয়া। তবে এ গুণটি লক্ষণীয় হলেও আবশ্যকীয় নয়। তাছাড়া এ গুণটি তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন অনাত্মীয় পাত্রীর মাঝে উল্লেখিত গুণগুলো বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় গুণ দুটি বিদ্যমান থাকে। এ জন্যেই বলা হয়ে থাকে, যে অনাত্মীয়ের গুণাগুণ সম্পর্কে ভাল করে জানা যায় নি, তার চেয়ে সে আত্মীয় ভাল, যার গুণাগুণ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রয়েছে । কারণ এ দীর্ঘ জীবনের সুখ উভয়ের সুন্দর গুণাবলীর উপর নির্ভরশীল। তবে যদি অনাত্মীয়ের গুনাবলী সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগতি লাভ করা যায় এবং সে আত্মীয়ের গুণাবলীর সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে ভাল হয়, তাহলে উল্লেখিত কারণে অনাত্মীয়কে প্রাধান্য দেওয়া ভাল।
ঘ)আদর্শ পাত্রের গুণাবলীঃ- পাত্রীর অভিভাবকের জন্য পাত্রের গুণাবলীর প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং আপন দুলালীর জন্য যোগ্যপাত্র নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। কুশ্রী, দুশ্চরিত্র, ধর্মীয় বিষয়ে উদাসীন, স্ত্রীর হক আদায়ে অক্ষম— এমন পাত্রের সাথে কখনো মেয়ের বিবাহ দেওয়া উচিত নয়। বরং মেয়ে বিবাহ দিতে হবে এমন পাত্রের সাথে যার স্বভাব-চরিত্র দেখায় সুন্দর, ধর্মের প্রতি অনুরাগী এবং স্ত্রীর হক আদায়েও সক্ষম। পাত্রী নির্বাচনের চেয়ে পাত্র নির্বাচনে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কেননা বিবাহ এমন এক বন্ধন বা এমন এক প্রকার দাসত্ব যা থেকে স্ত্রীর সহজে মুক্তির উপায় নেই। পক্ষান্তরে স্বামী সর্বদা-সর্বাবস্থায় তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
ভাল,
অতএব, যে ব্যক্তি নিজের অধিনস্থ কোনো মেয়েকে অত্যাচারী, পাপাচারী, বেদআতী ও মদ্যপায়ীর নিকট বিবাহ দিল, সে অন্যায় ও গুনাহের কাজে অংশ নিল, আত্মীয়তার হক নষ্ট করল, তদপুরি ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা এবং অধিনস্থ ব্যক্তির উপর জুলুম করে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত করল।
এক ব্যক্তি হযরত হাসান বসরী রাহ. কে জিজ্ঞেস করল, হুজুর! আমার মেয়ের জন্য অনেক প্রস্তাব আসছে। আমি কোন্ পাত্রকে প্রাধান্য দিব এবং কার নিকট বিবাহ দিব?
জবাবে তিনি বললেন, এদের মধ্যে যে বেশি পরহেযগার, তার নিকট তোমার মেয়ের বিয়ে দাও। কারণ, স্বামী যদি তাকে পছন্দ করে তাহলে তাকে যথাযথ মর্যাদা দেবে। আর যদি অপছন্দ করে তাহলে অন্ততঃ তার উপর জুলুম-অত্যাচার করবে না ।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে শরীয়তের সঠিক, সুন্দর ও কল্যাণকর পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন ।
(ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী৫/৩২৮, তিরমিযি শরীফ ১/২০৭, এহইয়াউল উলূম, শরীয়তের আলোকে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন-মুফতী কিফায়েতুল্লাহ)
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!