ইরান দুহিতা – ফরাজি জুলফিকার হায়দার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ ফরাজি জুলফিকার হায়দার
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১২০
ইরান দুহিতা – বইটির এক ঝলকঃ
এই কঠিন কারাপ্রাচীরের অন্তরালে সিফির ছিলেন শাহেরবানুর একমাত্র পিতৃতুল্য শ্রদ্ধার জন, আর জিনিয়া ছিলেন মাতৃবৎ ভালবাসার আধার। এই দুই মহাপ্রাণের আশ্রয়ে থাকিয়া শাহেরবানু মাতাপিতার অভাব অনুভব করিতেন না । সারা দিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর রাত্রে তিনি ফিরিয়া পাইতেন দুইটি উদার হৃদয়ের আশ্রয় ছায়া। সিফিরের নিকট হইতে পাইতেন কোরআন ও হাদীসের অমূল্য উপদেশাবলী, আর জিনিয়ার নিকট হইতে পাইতেন মায়ের আদর ও স্নেহ-ভালবাসা। রাত্রে নিদ্রা যাইতেন জিনিয়ার কোলের কাছে। শাহেরবানুর বেদনার ক্ষতে তিনি দিতেন সান্ত্বনার প্রলেপ।
কারাবাসের দুইটি বৎসরে এই রোজনামচা শাহেরবানুর জীবনে একটি ধরা-বাঁধা নিয়মে পরিণত হইয়া গিয়াছিল। এইভাবেই তাঁহার কারাজীবন কাটিয়া যাইতে পারিত। কিন্তু অনাগত ভবিষ্যতকে মানুষ যেভাবে পাইবার ও ভোগ করিবার কল্পনা করিয়া থাকে ঠিক সেইভাবে ভবিষ্যৎ আরে না। আসে সম্পূর্ণ কল্পনাতীতভাবে। শাহেরবানুর বেলায়ও তাহাই হইল ।
সিফিরের সশ্রম কারাদন্ডের দুইটি বৎসর অতিক্রান্ত হইলেও তাঁহার প্রতি সম্রাট তৃতীয় ইয়াজদিগার্দের প্রতিহিংসার নিবৃত্তি হইল না। তাঁহার পিতার আমলের বিশ্বস্ত সভাসদ তদুপরি নিকটতম আত্মীয় হইয়াও সিফির কেন ইসলাম গ্রহণ করিল, কেন তাঁহার মেয়ে শাহেরবানুকে ইসলামে দীক্ষিত করিল, কোই বা তাহাকে মদীনায় লইয়া যাইতে চাহিল, এই সমস্ত বেদনা সব সময় সম্রাটকে পীড়ন করিত। তাই সম্রাট সিফিরকে আরও কঠোর শাস্তি দিবার জন্য নতুন এক পরিকল্পনা গ্রহণ করিলেন। তিনি সিফির ও জিনিয়াকে খসরু পারভেজ কর্তৃক নির্মিত কুখ্যাত সুতার কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিলেন। কাফুরের জন্য ব্যবস্থা হইল রাতদিন শৃংখলিত অবস্থায় অত্র কারাগারেই পৃথক একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী থাকিবে।
বদলি হওয়ার সময় সিফির শাহেরবানুকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, বেটী ! তোর জীবনে যে দুঃখ-দুর্ভোগ নেমে এসেছে এর চেয়েও অনেক বেশী দুর্ভোগ পোহায়েছেন আমাদের পিয়ারে নবী। শে’বে গিরি সংকটে থাকাকালে কত গাছের পাতাও আহার করেছেন, তায়েফে রক্তাক্ত হয়েছে তাঁর নূর বদন! দ্বীনের খাতিরে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন মহানবীর নূরানী পেশানী, শহীদ হয়েছে দান্দান মোবারক । ক্ষুধার তাড়নায় পাথর বেঁধেছেন পেটে। দ্বীন প্রচারে চিরতরে ত্যাগ করেছেন জন্মভূমি। সেসবের তুলনায় তোর আর আমার এ কষ্ট তো কষ্টই নয়! মনে রাখিস বেটী! জয় আমাদের সুনিশ্চিত। আল্লাহ বলেছেন,
“যখন আল্লাহর বিজয় আসিবে তখন দেখিবে আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামে মানুষ দলে দলে প্রবিষ্ট হইতেছে।” সেদিন আর খুব বেশী দূরে নয় বেটী! মনে রাখবে আল্লাহর ওয়াদা মিথ্যে হতে পারে না।
সিফির ও জিনিয়ার বিদায়লগ্নে শাহেরবানু কাঁদিয়া আকুল হইলেন। তিনি বলিতে লাগিলেন, আজ হতে সত্যিকারভাবে আমি মাতাপিতাকে হারালাম। কারাগারে আমি হলাম নিঃস্ব । আজ হতে সত্যি আমার কারাবাস শুরু হল! যাত্রাকালে সিফির আবার বলিলেন, তয় নেই মা। আল্লাহ বলেন, “তোমরা যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে আছেন। তিনি উত্তম সাহায্যকারী এবং তিনিই উত্তম আশ্রয়স্থল।”
তুই ধৈর্য ধারণ কর । মাদর আল্লাহ তোকে উত্তম পুরস্কার দান করবেন।
সিফিরের কথায় শাহেরবানু আশ্বস্ত হইলেন। শৃংখলিত সিফিরকে লইয়া প্রহরিগণ চলিতে লাগিল। শাহেরবানুকে লক্ষ্য করিয়া সিফির বলিলেন, চলি মাদর। আল্লাহ হাফেজ!
অশ্রু নয়নে জিনিয়া বারংবার শাহেরবানুর দিকে তাকাইতেছিলেন। তিনি কানাবিজড়িত কণ্ঠে বলিতে লাগিলেন, আমার কোন ছেলেমেয়ে নেই, শাহজাদী তুমিই ছিলে আমার মাতৃহৃদয়ের একমাত্র অধিকারী সন্তান। সমস্ত স্নেহ ভালবাসার মায়া-মমতার মূর্ত প্রতীক। তোমাকে হারিয়ে আজ আমি সর্বহারা নিঃস্ব। আল্লাহ যেন আবার তোমাকে দেখার সুযোগ করে দেন। বিদায়! শাহেরবানু বিদায়!
শাহেরবানু অনিমেষ নেত্রে তাকাইয়া রহিলেন তাঁহাদের গমন পথের দিকে। অলক্ষ্যেই তাঁহার গণ্ড গড়াইয়া ঝরিতে লাগিল অশ্রুধারা। এক সময় যাত্রীদল অদৃশ্য হইয়া গেল কারা ফটকের অন্তরালে। শাহেরবানু ফিরিয়া আসিলেন তাঁহার কাজের ঘরে। চাকতি ঘুরাইবার কাঠি হাতে নিলেন, কিন্তু হাতের কাঠি হাতেই ধরা থাকে, চাকতি ঘুরে না, উদাসীনভাবে বসিয়া থাকেন, প্রহরী আসিয়া ধমক দেয়। আবার চাকতি ঘুরিতে থাকে।
আজ রাত্রে শাহেরবানু তাঁহার কক্ষে একাকিনী। হঠাৎ এই নিঃসঙ্গতা তাহাকে পীড়া দিতে লাগিল। চোখে ঘুম নাই। তদুপরি গভীর এই নির্জনতা ও নিস্তব্ধতা কিছুটা ভয়েরও উদ্রেক করিল। মনের শক্তি সাহস ফিরিয়া পাইবার জন্য তিনি সুর করিয়া কোরান শরীফের সূরায়ে বাকারার চতুত্রিংশ রুকুটি পাঠ করিতে লাগিলেন ।
“ইয়া আইয়ু হাল্লাজীনা আমানু আনফিকু মিম্মা রাজাকনাকুম মিস্ কাবলি আইয়াতিয়া য়াওমুন লা বাইয়ুন ফিহে, ওয়ালা খুল্লাও, ওয়ালা সাফায়াতুন্ ওয়াল কাফেরুনা হুমুজ্ জোয়ালেমুন”
তাঁহার মিষ্টি সুরের ঝংকারে কারাগারের নিশীথের নির্জনতাকে ভাঙ্গিয়া খান খান করিয়া দিল। সুরের আমেজে কারা প্রাচীরের পাথরগুলি যেন বিগলিত হইতে লাগিল! কোরানের প্রতিটি শব্দ বাতাসে ঢেউ তুলিয়া প্রাচীরের গাত্রে গাত্রে প্রতিধ্বনি হইতেছিল। সেই সুর লহরীর রেশ ধরিয়া একটি সাবধানী পদধ্বনি ধীরে ধীরে শাহেরবানুর কক্ষের সামনে আসিয়া থামিয়া গেল ।
লোকটি কারাধ্যক্ষ শেরদিল। তিনি ছিলেন সেমেটিক জাতীয় খৃস্টান। অন্যান্য রাত্রের মত আজ রাত্রেও কারা পরিদর্শনে আসিয়াছিলেন। পরিদর্শন কার্য শেষ করিয়া ফিরিবার পথে শাহেরবানুর কোরআন পাঠ শ্রবণ করিয়া ধীরে ধীরে আসিয়া থামিয়াছেন তাঁহার কক্ষের দোর গোড়ায়। যতই শুনিতেছেন ততই অভিভূত হইয়া পড়িতেছেন। তাঁহার মনপ্রাণ যেন শীতল বারি পানে তৃপ্ত হইতেছিল! আহা! একি অর্থবোধক উপদেশ নাকি সাপের মন্ত্র? ইহা কোন কবির রচনা হইতেই পারে না। শেরদিল বুভুক্ষুর মত তন্ময় হইয়া শুনিয়া যাইতে লাগিলেন এই অমিয় বাণী ।
এক সময় শাহেরবানু রুকুটি পড়িয়া শেষ করিলেন। বাহিরে শেরদিলের অন্তর হাহাকার করিয়া উঠিল, হায়! কি মধুর সুর লহরী বন্ধ হইয়া গেল! না ফিরিয়া যাওয়া চলে না। ইহার মর্মার্থ উদ্ধার করিতেই হইবে। তিনি রুদ্ধদ্বারে করাঘাত করিতে লাগিলেন, দরজা খুলুন শাহজাদী ।
শাহেরবানু শংকিত হইয়া বলিলেন, এত রাত্রে কে?
অনুনয় কণ্ঠে শেরদিল বলিলেন, আমি কারাধ্যক্ষ শেরদিল। দয়া করে দরজাটা একটু খুলুন শাহজাদী ।
আর কোন প্রশ্ন না করিয়া শাহেরবানু দরজা খুলিয়া দিলেন। শেরদিল কক্ষে প্রবেশ করিয়া বলিলেন, আপনি কি পাঠ করছিলেন শাহজাদী । আপনার আবৃত্তির সুর লহরীই আমাকে এখানে টেনে এনেছে। দয়া করে আর একবার পড়ে শোনান ।
শাহেরবানু বিস্মিত দৃষ্টি মেলিয়া শেরদিলের দিকে তাকাইয়া রহিলেন। কোন উত্তর করিতে পারিলেন না।
শেরদিল শাহেরবানুর মনের ভাব বুঝিতে পারিয়া বলিলেন, আমি কোন দুরভিসন্ধি নিয়ে আসিনি শাহজাদী ! বিশ্বাস করুন, আপনার যাদুময়ী সেই পড়ার সুর শুনেই আমি এখানে এসেছি। আমি যতটুকু শুনতে পেরেছি তাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এটা কোন মানুষের রচনা নয়। আমাদের ইঞ্জিল যে জায়গা হতে এসেছে এটাও যে সেখানকার জিনিস। দয়া করে আবার পড়ুন শাহজাদী ।
শাহেরবানুর মনে আর কোন সংশয় রহিল না। তিনি আবার রুকুটি পাঠ করিলেন এবং শেরদিলের অনুরোধে ফারসীতে অনুবাদ করিয়া শুনাইলেন। দ্বীনভক্ত পাঠকদের সুবিধার জন্য আমরা তাহার বঙ্গানুবাদ পেশ করিলাম :
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের যে রিজিক দেওয়া হইয়াছে, সেখান হইতে সেই দিন আসিবার পূর্বেই দান খয়রাত কর, খরচ কর, যেদিন কোন ক্রয়-বিক্রয় চলিবে না, কোন বন্ধু-বান্ধব থাকিবে না, যে দিন কোন সুপারিশ চলিবে না। অবিশ্বাসীরা নিশ্চয় অত্যাচারী। (২৫৪) আল্লাহ তিনিই যাঁহাকে ছাড়া অন্য কেউ উপাস্য নাই। তিনি চিরস্থায়ী ও চিরঞ্জীব। ঘুম ও তন্দ্রা কোনটাই তাঁহাকে পায় না। জমিনে ও আকাশে যাহা কিছু আছে সবই তাঁহার। এমন কে আছে যে তাঁহার অনুমতি ছাড়া কাহারো সুপারিশ করিতে পারিবে? তাহাদের সামনে পিছনে যাহা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। তাঁহার অন্তর জ্ঞানের কোন বিষয়েই কেহ ধারণা করিতে পারে না। তবে যেইটুকু আল্লাহ ইচ্ছা করেন কেবল সেইটুকুই মানুষ জানিতে পারে। তাঁহার কর্তৃত্ব সমস্ত আসমানে জমিনে বিস্তৃত । এই সবের রক্ষণে তাঁহার কোন প্রকার ক্লান্তি বোধ হয় না। তিনি অতি উচ্চ অতি মহান। (২৫৫) ধর্মের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তী নাই। কেননা নিশ্চয়ই হেদায়েত এখন ভ্রষ্টতা হইতে সুস্পষ্টভাবে পৃথক হইয়া গিয়াছে। যে শয়তানের শয়তানীকে অস্বীকার করিয়াছে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনিয়াছে সে এমনি একটি শক্তিশালী অবলম্বন আঁকড়াইয়া ধরিয়াছে যাহা কখনও ছিঁড়িয়া যাইবে না । বস্তুত আল্লাহ সব কিছু শ্রবণ করেন এবং সব কিছুই জানেন। (২৫৬) আল্লাহই হইতেছেন মোমেনদের একমাত্র অভিভাবক যিনি তাহাদিগকে অন্ধকার হইতে আলোর দিকে চালিত করেন। আর যাহারা আল্লাহকে অস্বীকার করিল, শয়তান হইল তাহাদের অভিভাবক। সে তাহাদিগকে আলো হইতে অন্ধকারের দিকে পরিচালিত করে। ইহারাই হইল জাহান্নামের অধিবাসী এবং তাহারা সেখানে চিরদিন থাকিবে। (২৫৭)
শাহেরবানুর অর্থ বলা শেষ হইলে শেরদিল সোৎসাহে বলিয়া উঠিলেন, এবার আমি নিঃসন্দেহ হলাম শাহজাদী, ইহা ঐশী বাণী ছাড়া আর কিছুই নহে।
শাহেরবানু বলিলেন, তা যদি বুঝে থাকেন তবে আপনার ইসলাম গ্রহণ করা উচিৎ। আমি আপনাকে ইসলাম গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আল্লাহ মহান আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কৃত করবেন।
শেরদিল তখন সত্যাগ্রহী হইয়া উঠিলেন। তিনি বলিলেন, আমাকে দ্বীন শিক্ষা দিন শাহজাদী । শাহেরবানু তৎক্ষণাৎ শেরদিলকে অজু করাইয়া আনিলেন এবং কলেমায়ে তৈয়ব ও কলেমায়ে শাহাদৎ পাঠ করাইয়া ইসলামে দীক্ষিত করিলেন।
শেরদিল বলিলেন, আপনি আমার আলোর দিশারী পথপ্রদর্শক ‘মাদর’। আপনার জন্য জান কোরবান করতেও প্রস্তুত। বলুন এখন আপনার জন্য কি করতে হবে এবং আমার কি কাজ! মাদর।
বলা বাহুল্য, এখন হইতে শেরদিল শাহেরবানুকে মাদর বলিয়া ডাকিতেন।
শাহেরবানু বলিলেন, আপনি শুধু ইসলামে দীক্ষা নিলেন, কিন্তু শিক্ষা এখনও অনেক বাকী আছে। আপনি অবসরমত এসে দ্বীন শিক্ষা করতে থাকবেন এবং দ্বীন প্রচারে সচেষ্ট হবেন। এটাই আপনার কাজ। আমার জন্য কিছু করতে হবে না। তবে কিছু করার মত হলে বলব।
শেরদিল নিজ আবাসে ফিরিয়া চলিলেন। তাঁহার কাছে দুনিয়াটা এখন সম্পূর্ণ নতুন মনে হইতে লাগিল । তাঁহার মনপ্রাণ যেন আলোময় হইয়া উঠিয়াছে! মনে খেলিয়া যাইতেছে আনন্দের ঢেউ। পূতিগন্ধময় তিনি যেন এইমাত্র সুগন্ধিময় এক স্নিগ্ধ সলিলা সরোবর হইতে গোসল করিয়া উঠিয়াছেন। তিনি আজ ধন্য। ভিক্ষুক পাইয়াছে রত্নাগারের সন্ধান!
ইহার পর হইতে শেরদিল নিয়মিতভাবে গভীর রাত্রে শাহেরবানুর কাছে আসিয়া দ্বীন শিক্ষা করিতে লাগিলেন এবং কিভাবে দ্বীন প্রচার করা যায় তাহা আলোচনা করেন। আলোচনার ফলশ্রুতিতে শাহেরবানু বলিলেন, কারাগারের বাইরে কোন অবস্থাতেই প্রচার কার্য চালানো এখন সম্ভব নয়। কাজেই কারা কর্মচারী ও বন্দীদের মাঝেই প্রচার কার্য চালাতে হবে। বলা বাহুল্য এই সিদ্ধান্তই গৃহীত হইল ।
দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকাতে বন্দীদের মাঝে শাহেরবানুর বেশ কিছুটা ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হইয়াছিল। তদুপরি শাহেরবানুর অমায়িক ব্যবহারে বন্দীরা ছিল তাঁহার গুণমুগ্ধ। কিন্তু তাঁহার ইসলাম গ্রহণ করার অপরাধে কারাদণ্ড হইয়াছে ইহা খুব কম লোকেই জানিত। সবাই জানিত বিশেষ কারণে পিতার কোপানলে পড়িয়াই শাহেরবানু কারাগারে আসিয়াছে। তবে শাহজাদী বলিয়া তিনি ছিলেন সকলের সমীহের পাত্র। শ্রদ্ধার পাত্র।
শাহেরবানু যেন কাজের মত একটি কাজ পাইয়া গেলেন! তাঁহার কাছে এক নূতন দিগন্তের দ্বার খুলিয়া গেল। তাঁহার প্রতি বন্দীদের শ্রদ্ধার ভাবকে তিনি কাজে লাগাইলেন। তিনি বন্দীদের মাঝে ইসলাম প্রচার শুরু করিলেন। ফলত অল্প দিনের মধ্যেই বন্দীদের অধিকাংশই ইসলাম গ্রহণ করিয়া ধন্য হইল ।
কারাগারের অধিকাংশ কর্মচারীই ছিল সেমেটিক জাতীয় খৃস্টান এবং শেরদিলের অনুরক্ত ভক্ত। তাঁহার অক্লান্ত ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইহাদের প্রায়
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!