ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান – ইভন রিডলি – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান – ইভন রিডলি – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ আবরার হামীম

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৫৬

ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান – বইটির এক ঝলকঃ

পৌছাতে আটলান্টিকগামী সমস্ত ফ্লাইটের গন্তব্য বদলে কানাডায় অবতরণের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। অন্যদিকে উত্তর টাওয়ারও ততোক্ষণে ধসে পড়েছে।
ব্রিটিশ বিমানের কাউন্টারে তখন বিশাল দীর্ঘ সারি। বিমানবন্দরজুড়ে হইচই আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে খবর পেলাম আগামী এক দিনের মধ্যে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে কোনো বিমান উড্ডয়নের সম্ভাবনা নেই। তবে ব্রাজিলগামী বিমানে চাইলে আমার টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমাকে জানানো হলো। আমেরিকা যাওয়ার বিকল্প কোনো উপায় সন্ধান করতে করতে খবর পেলাম, কানাডা আর মেক্সিকো সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। জন্মগতভাবে আমি প্রচণ্ড আশাবাদী মানুষ হওয়ায় ১৩ তারিখের নিউ ইয়র্কগামী বিমানে একটি টিকিট কেটে ফেলি। ততোদিনে আটলান্টিকের ওপর দিয়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে, এই আশার পালে দোলা দিতে থাকি।
একরাশ হতাশা নিয়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে অফিসে ফিরে এলেও বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কগামী বিমানের টিকিট আমার হস্তগত। তাই মুখে একটা বিজয়ের ভাব ফুটিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্রত ছিলাম। নিউ ইয়র্কের মেয়র রুডলফ ম্যানহাটানের দক্ষিণ এলাকা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ৫৫ নং ওয়াল স্ট্রিটের হোটেলে থাকাকালীন আশপাশের যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলাম তাদের অশুভ পরিণতির আশঙ্কায় মনটা কেমন করে ওঠে। কারও খবর পাওয়ার কোনো উপায়ই ছিল না তখন। যোগাযোগের সব মাধ্যম ততোক্ষণে বিচ্ছিন্ন।
নিউ ইয়র্কের ভয়াবহ হামলার পরবর্তী দুরবস্থার খবর জানতে পারি, এই আশায় ডেইজির বোর্ডিং স্কুলে ফোন করলাম। কণ্ঠস্বরটা একটু কেঁপে কেঁপে উঠলেও এই ঘটনায় ভয় পায়নি, এটা প্রমাণে ডেইজি যথেষ্ট সচেষ্ট ছিল। নিউ ইয়র্কেই যাচ্ছি, এ কথা ডেইজিকে বলার মতো সাহস খুঁজে পাচ্ছিলাম না। খবরটা জানানোর পর ডেইজির মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে, টেলিফোনের এ পাশ থেকে সেটা ভালোমতোই বুঝতে পারলাম। সুন্দর উপহার নিয়ে ফেরত আসার প্রতিজ্ঞা করতে হলো মেয়ের কাছে।
তবে এ যুগের বাচ্চারা খুব বুদ্ধিমান হয়। অল্পতেই তারা সবকিছু সহজভাবে নিতে পারে। ডেইজিকেও স্বাভাবিক করতে আমার খুব কষ্ট করতে হলো না। সাধারণত আমি আর ডেইজি প্রচুর ঘুরে বেড়াই। তাই ওকে ছাড়া কোথাও যেতে হলে ও অনেক কষ্ট পায় আর আমারও খারাপ লাগে। আমাদের অল্প সময়ের ছোট ছোট ভ্রমণগুলো মজার মজার অভিজ্ঞতায় ভরপুর। ফোনে ডেইজি আমাকে মনে করিয়ে দিল ওর মাসিক পরীক্ষার পরই আমস্টারডাম যাওয়ার জন্য টিকিট বুক করা আছে। তাই আমি যেন নিউ ইয়র্কে অযথা কালক্ষেপণ না করি। ডেইজি দ্রুতই ফোন কেটে দেয়। অনেক দূরে বসে আমি ওর টেলিফোনের প্রতীক্ষায় মন খারাপ করি, ও কখনোই তা চায় না। তবে আমার মনে হয়, ছেলেবেলায় আমিও এমন করেছি।
বিমানবন্দর থেকে অফিসে ফেরত আসার সময় স্টামফোর্ডের ওয়াইন বারে একটা ঢুঁ মেরেছিলাম। ওখানকার ম্যানেজার লিনা দারুন একটা পানীয় তৈরি করে, যা তুমুল জনপ্রিয় এবং স্বাদেও দারুণ। আমার মতে পৃথিবীর অন্যতম সেরা পানীয়গুলো এখানেই পাওয়া যায়। স্টামফোর্ডের বারগুলো আমার অনেক পছন্দের। এখানকার সবাই খুব অতিথিপরায়ণ। টেবিলের পেছনের মেয়েগুলো সদা হাসিমুখেই থাকে। পরিবেশনকারীদের পানীয় মিশিয়ে ককটেল বানানোর ক্ষমতা অসাধারণ। সারাক্ষণ আনন্দ আর হাসি- ঠাট্টায় ভরপুর থাকে কৃত্রিম আলোয় উজ্জ্বল জায়গাগুলো। তবে আজকের পরিস্থিতি ছিল কেমন থমথমে। খুব একটা মানুষের উপস্থিতি ছিল না। যারা ছিল, তারাও কেমন যেন বিষাদে চুপ মেরে ছিল। ওখান থেকে একটা ক্যাব ডেকে সহোতে জেরির ক্লাবে চলে গেলাম ।
সাধারণত, শেষ রাতে মাঝেমধ্যে জেরির ক্লাব হয়ে বাড়ি ফিরি। প্রকৃতপক্ষে প্রায় প্রতি রাতেই জেরির ক্লাবে যাওয়া হয়। এসব রাতের নীল পানির আকর্ষণ ঠেকাতে আমার উচিত হবে ডিন স্ট্রিট ও অক্সফোর্ড স্ট্রিটের নিরিবিলি রাস্তা পেরিয়ে সোজা বাড়ি পৌঁছানো। কিন্তু রাত তিনটার দিকে কোথাও গিয়ে এক বোতল পানীয় মিলবে, দু-চারটে গালি দিয়ে অফিসের রাগ ঝাড়া যাবে, এমনকি পকেটে কানাকড়ি না থাকলেও অসুবিধে নেই, এমন সুযোগ আমার জন্য কেবল জেরিতেই মিলবে।
কার্ডিফে একটা দৈনিকে কাজ করার সময় আট বছর আগে আমি এই ক্লাবের সদস্যপদ পাই। তখন কোনো এক কাজে লন্ডনে এসে পুরোনো বন্ধু কেভিনের সঙ্গে দেখা হয়। বন্ধু তখন অনুসন্ধানী সাংবাদিক। দুজনের পেশা একই হওয়ায় গল্প জমতে বেশি সময় লাগে না। জেরিতে বসে বসেই তিন বোতল খালি হয়ে যায়। আমাদের গল্প সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও দীর্ঘতর হচ্ছিল। তাই আমরা আরও কয়েক বোতল অর্ডার করি। দ্রুতই আমাদের পকেট খালি হয়ে আসে। তবে এখানকার বিচক্ষণ মালিক আমাদের ভাবগতিক দেখে বুঝতে পারে, জায়গাটা আমাদের পছন্দ হয়েছে। তাই আমাদের সে সদস্যপদ অফার করে বসে এবং বাকি হিসাব খোলার অনুমতি দেয়। সেই থেকে জায়গাটা আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো।
১১ তারিখ রাতে ক্লাবে আসার পর আমি হতভম্ব হয়ে যাই। চিরচেনা হইহুল্লোড়ের বদলে মাত্র কয়েকজন চুপচাপ বসে আছে। পরিচিত এক দম্পতিকে পেয়ে আমি ওই দিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে শুরু করি। মেয়েটা দুঃখের সঙ্গে জানায়, তার সঙ্গীর জন্মদিন হওয়া সত্ত্বেও ওই দিন সে কিছুই করতে পারেনি। আমেরিকায় ঘটা সন্ত্রাসী হামলার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর মদদ আছে কি না, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা
হয় ।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পশ্চিমের যুদ্ধ শুরু হচ্ছে কি না এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বিতর্ক হয়। লন্ডনে যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলমান, সেখানে এই যুদ্ধের কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা নিয়ে সবাইকে বেশ চিন্তিত মনে হলো।
বাড়ি ফিরেই আমি পোর্টেবল টিভিটা অন করি। এটা বেশ কিছুদিন ধরেই যন্ত্রণা দিচ্ছে। তবে ক্ষণিক বাদেই ওই দিনের সংবাদ দেখতে পেলাম। কয়েক ঘণ্টা আগে বিশ্ব বাণিজ্য ভবন ধসে পড়েছে। ২০০ অগ্নিনির্বাপন কর্মী ও ৭৮ জন পুলিশ অফিসারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ।
লুইজিয়ানায় বার্কসভিলে বিমান ঘাঁটি থেকে প্রেসিডেন্ট বুশ দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, যে বা যারাই হামলা করে থাকুক না কেন, তাদের নিশ্চিতভাবে খুঁজে বের করা হবে এবং আমেরিকা এর শক্ত জবাব দেবে। বলিষ্ঠ, কঠোর ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কণ্ঠস্বর।
তবে বক্তব্য প্রদানের পরই তিনি দ্রুত নেব্রাসকার বিমানঘাঁটিতে সটকে পড়েন। নেব্রাসকাতে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনার সদর দপ্তর অবস্থিত। ব্যাপারটা আমার কাছে দৃষ্টিকটু মনে হলো। উচিত ছিল, তিনি প্রথমে নিউ ইয়র্ক যাবেন এবং পরে ওয়াশিংটনের সদর দপ্তরে গিয়ে সব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। যদিও আমি রাজনীতিবিদদের নীতি ও আনুগত্য নিয়ে সংশয়বাদী, তবু এটা উচিত নয় যে, কোনো দুর্ঘটনা বা জাতীয় দুর্যোগের সময় নেতারা মাটির তলায় সুড়ঙ্গে গিয়ে লুকিয়ে থাকবেন ।
পরদিন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙলো। দ্রুতই আমার প্রিয় গ্রিজি স্পুন ক্যাফেতে গিয়ে একটা ল্যাটে ও বেকন স্যান্ডউইচের অর্ডার করলাম। সংবাদপত্রের প্রথম পাতাগুলো ছিল নাটকীয় শিরোনাম ও বিষাদময় ছবিতে ভরপুর । অফিসে যাওয়ার পর কাজ শেষ করতে করতে রাত দুইটা বেজে গেল। প্রচুর সংবাদ ও প্রতিবেদন তৈরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হলো। অফিসের একজন কর্মীরও বেকার বসে থাকার সুযোগ ছিল না। সবাইকেই ব্যস্ত হয়ে কাজ করতে হলো ।
নিউ ইয়র্কে বন্ধু, সহকর্মী ও পরিচিত অনেককেই সারা দিন ফোন করেছি। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অনেক পরিচিত মানুষকেও ফোন করতে হয়েছিল। এদের মধ্যে ভাবগম্ভীর, রাশভারী ধরনের কয়েকজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককেও চেষ্টা করেছি কিছু তথ্য লাভের আশায়। হার্ভে নিকোলসে আগে থেকেই রূপচর্চার সময় ঠিক করা থাকলেও তা বাতিল করতে হয়। প্রথমবারের মতো সানডে টেলিগ্রাফ-এর সহকারী সম্পাদক ক্রিস বোফের সঙ্গে বসতে হলো। নিউক্যাসলের পুরোনো বন্ধু ও সানডে টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক আমাকে যাওয়ার জন্য খোঁচাতে থাকলে আমিও যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে যাই। তবে তখন ঘড়িতে রাত এগারোটা বেজে গেলেও আমার অনেক কাজ বাকি পড়ে ছিল।
এই কাজের জন্য নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা সম্ভব নয়। এমনকি উদার মনের স্বামী বা প্রেমিকেরাও এ রকম ব্যস্ততা দেখলে বিরক্ত হবে, যা খুবই হতাশাজনক। তবে সময়সাপেক্ষ চাকরি হলেও ঘটনার আকস্মিকতা ও উত্তেজনা নিমেষেই সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। সংবাদমাধ্যমের চাকরি আসলে সেই পুরোনো প্রবাদকেই মনে করিয়ে দেয়, সত্য সব সময় কল্পনার চেয়েও শিহরণ জাগানিয়া।
বাস্তবে আমার জীবনটা যেকোনো রহস্য গল্পের চেয়েও রহস্যময়। মানুষ কেমন বাঁকা চোখে তাকায় যখন জানতে পারে যে আমার তিনবার বিয়ে হয়েছিল এবং ডেইজির বাবা এই তিন স্বামীর কেউ নন। আমি বুঝতে পারি না, মানুষ পরকীয়া অথবা একের পর এক প্রেমের সম্পর্ককে খারাপ মনে করে না। কিন্তু একাধিক স্বামীর কথা শুনলেই তারা ভ্রু কুঁচকায় ।
আমার কাছে আমার জীবনটা এতোগুলো সম্পর্ক আর জেরির ক্লাবে কাটানো সময়গুলো মিলিয়ে অনেক বেশি আনন্দের। বন্ধুরা আমার শক্তি দেখে অবাক হয়। দিনে মাত্র তিন বা চার ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পাই। তবে একাকিত্ব আমার বেশিক্ষণ ভালো লাগে না। তাই নিয়মিতই আমি ক্লাবে যাই ।
মৃত্যুর সুধা পান করার আগে একজন মানুষ গড়ে ২৭ বছর শুধু ঘুমিয়েই এ কথা জানার পর আমি আঁতকে উঠেছিলাম। ১৭ বছর
পার কার ওরেব্বাস! দীর্ঘ সময় একবার চিন্তা করে দেখুন, এই সময়টুকুর মধ্যে না জানি আপনি কত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়ে ফেলছেন। এর বাইরেও একটু তথ্য দিয়ে রাখি, অধিকাংশ মানুষ নাকি ঘুমের মধ্যেই ইহলোক ত্যাগ করে । তাই, ঘুম খুব ভয়ংকর, যতোটা পারি আমি নিদ্রাদেবীর থেকে অন্তরালে থাকার চেষ্টা করি।
বৃহস্পতিবার একটি ব্যস্ত দিন কাটিয়ে রাত তিনটায় বাড়ি ফিরলাম । ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে প্যাডিংটন স্টেশনে গিয়ে হিথরো এক্সপ্রেসের অপেক্ষায় থাকলাম। নিউ ইয়র্কগামী ফ্লাইট অবশেষে ধরতে পারবো। তবে স্টেশনে গিয়ে জানতে পারলাম ভোর পাঁচটার আগে কোনোভাবেই যাওয়া সম্ভব নয় । অগত্যা কনকনে ঠাণ্ডায় স্টেশনেই অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। বিমানে ওঠার পরে বাকি থাকা ঘুম পূরণ করা যাবে। একলা বসে থাকতে দেখেই কিনা স্টেশন মাস্টারের মনে দয়ার উদ্রেক হলো। তিনি নিজ উদ্যোগেই স্টেশনের একটা কক্ষে বসার সুযোগ করে দিলেন। কক্ষে ঢুকেই ঘুমে ঢলে পড়লাম। কী দুর্ভাগা আমি!
ভোর পাঁচটায় স্টেশন মাস্টার এসে জাগিয়ে দিয়ে গেলেন। হিথরো যাওয়ার পথে শীত একদম জেঁকে বসলো। আমার চামড়ার মোটা জ্যাকেটটা একদমই শীত তাড়াতে পারছে না। কাঁপতে কাঁপতে বিমানবন্দরে এসে টের পেলাম নিউ ইয়র্ক যাওয়া হচ্ছে না। নিউ ইয়র্কগামী ফ্লাইট বাতিল। মনে মনে দুঃখিত হলেও ভাগ্যের পরিহাসে হেসে দিলাম। যা-ই হোক, কুয়াশাঢাকা ভোর। অতএব, পছন্দের বেকন স্যান্ডউইচ খেতে খেতে কফির পেয়ালায় একটা চুমুক তো দেওয়াই যায়।
আমেরিকা যখন স্তম্ভিত ও শোকে মুহ্যমান, তখন কোনো ব্রিটিশ সাংবাদিকের পক্ষেই নিউ ইয়র্ক যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। আমেরিকার উড্ডয়ন সীমান্ত তখন পর্যন্ত চালু হয়নি। অফিসের আরও কিছু কাজ করতে করতে সম্পাদক জিমকে বললাম, পরদিন সকালে নিউ ইয়র্কগামী বিমানে চেপে বসার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি একটু বেশিই আশাবাদী হলাম। কারণ, ১১ সেপ্টেম্বরেই আমি টিকিট কেটেছিলাম ।
এমন মুহূর্তেই কম্পিউটারের স্ক্রিনে নতুন ই-মেইলের বার্তা ভেসে উঠলো। মিনোপলিস থেকে আমার চাচাতো ভাই মাইক মেইলটা পাঠিয়েছে। ও ছিল ভীতসন্ত্রস্ত এবং কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না কেন আমেরিকার ওপর হামলা করা হলো। আমি অনেকগুলো কারণ দর্শাতে পারতাম কিন্তু

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top