হিমুর দ্বিতীয় প্রহর – হুমায়ূন আহমেদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

হিমুর দ্বিতীয় প্রহর – হুমায়ূন আহমেদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ হুমায়ূন আহমেদ

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩৩

হিমুর দ্বিতীয় প্রহর – বইটির এক ঝলকঃ

তিনি ই অস্থির হয়ে পড়লেন। আপনাদের খুঁজে বের করার আড়াইটার সময় ঘর থেকে বের হলেন।
“আমার বাবা খুব অস্থির প্রকৃতির মানুষ। তাঁর সঙ্গে কথা না বললে বুঝে পারবেন না। উনি রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত আপনাদের খুঁজে বেড়ালেন। আমি
একা একা ভয়ে অস্থির।”
“একা কেন?”
‘একা, কারণ আমাদের সংসারে দুজনই মানুষ। আমি আর আমার বাবা। যাই হোক বাবা বাসায় ফিরেই বললেন, মীরা শোন, আমি নিশ্চিত টাকা নিয়ে
যারা এসেছিল তারা মানুষ না, অন্য কিছু।”
আমি বললাম, অন্য কিছু মানে?
বাবা বললেন, অন্য কিছুটা কী আমি নিজেও জানি না। আমাদের দৃশ্যমান জগতে মানুষ যেমন বাস করে, মানুষ ছাড়া অন্য জীবরাও বাস করে। তাঁদের কেউ এসেছিলেন। বাবা এমনভাবে বললেন, যে আমি নিজেও প্রায় বিশ্বাস করে। ফেলেছিলাম। সেই কারণেই আপনাকে দেখে এমন চমকে উঠেছিলাম
‘এখন আপনাকে একটা অনুরোধ করছি, আপনি দয়া করে বাবার সঙ্গে দেখা করুন। বাবার মন থেকে ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন। আজ কী যেতে পারবেন।”
“বুঝতে পারছি না। আজ আমাদের অনেক কাজ।’
‘কী কাজ?’
“বানর দেখার জন্যে চিড়িয়াখানায় যেতে হবে। হাতীর পিঠে চড়তে। এ জার্নি বাই এলেফেন্ট টাইপ ব্যাপার। আঁখি নামের একটা মেয়েকে খুঁজে বের করতে হবে। ওর সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
“বেশ, কাল আসুন।
‘দেখি পারি কী না।”
‘আপনি আমার বাবার অবস্থাটা বুঝতে পারছেন না। একটা ভুল ধারণা তাঁর মনে ঢুকে গেছে। এটা বের করা উচিত।
আমি হাসিমুখে বললাম, কোনটা ভুল ধারণা, কোনটা শুদ্ধ ধারণা সেটা চট করে বলাও কিন্তু মুশকিল। এই পৃথিবীতে সবকিছুই আপেক্ষিক।
“আপনি নিশ্চয়ই প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন না যে আপনি মানুষ না, অন্য কিছু
আমি আবারও হাসলাম। আমার সেই বিখ্যাত বিভ্রান্ত করা হাসি। তবে বিংশ শতাব্দীর মেয়েরা অনেক চালাক যত বিভ্রান্তির হাসিই কেউ হাসুক মেয়েরা বিভ্রান্ত হয় না। তা ছাড়া পরিবেশের একটা ব্যাপারও আছে। বিভ্রান্ত হবার জন্যে পরিবেশও লাগে। আমি যদি রাত দুটায় হঠাৎ করে নীরাদের বাসায় উপস্থিত হই এবং এই কথাগুলি বলি- কিছুক্ষণের জন্যে হলেও সে বিভ্রান্ত হবে।
এখন ঝলমলে দিনের আলো। আমাদের নাশতা দেখা হয়েছে। কফি প ভরতি। কফির পট থেকে গরম ধোঁয়া উড়ছে। এই সময় বিভ্রান্তি থাকে না।
বাদল মাথা নিচু করে বাসি পোলাও খাচ্ছে। মনে হচ্ছে বাসি পোলাও-এর মতো বেহেশতি খানা সে এই জীবনে প্রথম খাচ্ছে।
আমরা চিড়িয়াখানায় গেলাম।
বানরদের বাদাম খাওয়ালাম। তাদের লাফালাফি ঝাঁপাঝাপি দেখলাম। তারপর হাতীর পিঠে চড়লাম। দশ টাকা করে টিকিট। তারপর গেলাম শিম্পাঞ্জি দেখতে। শিম্পাঞ্জী দেখে তেমন মজা পাওয়া গেল না। কারণ তার অবস্থা বাদলের মত। খুবই বিমর্ষ। আমরা একটা কলা ছুঁড়ে দিলাম – সে ফিরেও তাকাল না। বাঁদর গোত্রীয় প্রাণী অথচ কলার প্রতি আগ্রহ নেই— এই প্রথম দেখলাম। বাদলকে বললাম, চল জিরাফ দেখি।
বাদল শুকনো গলায় বলল, জিরাফ দেখে কি হবে “জিরাফের লম্বা গলা দেখে যদি তোর মনটা ভাল হয়। ‘আমার মন ভাল হবে না। আমি এখন বাসায় চলে যাব।
‘যা চলে যা। আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকব। সন্ধ্যাবেলা সব পশুপাখি একসঙ্গে ডাকাডাকি শুরু করে ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার।”
“কোন ইন্টারেস্টিং ব্যাপার আমি এখন আর আগ্রহ বোধ করছি না।
“তাহলে যা, বাড়িতে গিয়ে লম্বা ঘুম দে।
“তুমি আঁখিকে টেলিফোন করবে না।”
‘করব।’
*এখন কর। চিড়িয়াখানায় কার্ড ফোন আছে। আমার কাছে কার্ড আছে?? “তুই কি ফোন কার্ড সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিস? এ পর্যন্ত ঐ বাড়িতে ক’বার টেলিফোন করেছিস?’
“দু’বার।”
“তোর সঙ্গে কথা বলেনি।’
‘না।’
‘তোর সঙ্গেই কথা বলেনি আমার সঙ্গে কি আর বলবে?’
‘তোমার সঙ্গে বলবে— কারণ তুমি হচ্ছ হিমু।’
“টেলিফোন করে কি বলব?’
বাদল চুপ করে রইল। আমি হাসি মুখে বললাম, তুই নিশ্চয়ই চাস না- কেমন আছ, ভাল আছি টাইপ কথা বলে রিসিভার রেখে নি। মেয়েটাকে আমি কি বলব সেটা বলে দে।
“তোমার যা ইচ্ছা তাই কোনো ভদ্রলোকের যদি বিয়ের দু’বছরের মাথায় সন্তানপ্রসব জনিত জটিলতায় স্ত্রীবিয়োগ হয়, তিনি যদি আর বিয়ে না করেন এবং বাকি জীবন কাটিয়ে দেন সন্তানকে বড় করার জটিল কাজে তখন তাঁর ভেতর নানান সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যার মূল কারণ অপরাধবোধ। স্ত্রীর মৃত্যুর জন্যে তিনি নিজেকে দায়ী করেন। সন্তানের জন্ম না হলে স্ত্রী মারা যেত না। সন্তানের জন্যের জন্যে তাঁর ভূমিকা আছে এই তথ্য তাঁর মাথায় ঢুকে যায়। মাতৃহারা সন্তানকে মাতৃস্নেহবঞ্চিত করার জন্যেও তিনি নিজেকে দায়ী করেন। তাঁর নিজের নিঃসঙ্গতার জন্যেও তিনি নিজেকে দায়ী করেন। তিনি সংসারে বেঁচে থাকেন অপরাধীর মতো। যতই দিন যায় তাঁর আচার, আচরণ জীবনযাপন পদ্ধতি ততই অসংলগ্ন হতে থাকে। স্ত্রী জীবিত অবস্থায় তাকে যতটা ভালবাসতেন, মৃত্যুর পর তারচে অনেক বেশী ভালবাসতে শুরু করেন। সেই ভালবাসাটা চলে যায় অসুস্থ পর্যায়।
আশরাফুজ্জামান সাহেবকে দেখে আমার ভাই মনে হল। মীরার বাবার নাম আশরাফুজ্জামান। একসময় কলেজের শিক্ষক ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর চাকরি ছেড়ে দেন। এটাই স্বাভাবিক। অস্থিরতায় আক্রান্ত একটা মানুষ স্থায়ীভাবে কিছু করতে পারে না। বাকি জীবনে তিনি অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন— ইনসিউরেন্স কোম্পানির কাজ, ট্র্যাভিলিং এজেন্সির চাকরি থেকে ইনডেনটিং ব্যবসা, টুকটাক ব্যবসা সবই করা হয়েছে। এখন কিছু করছেন না। পৈত্রিক বাড়ি ভাড়া দিয়ে সেই টাকায় সংসার চালাচ্ছেন। সংসারে দুটিমাত্র মানুষ থাকায় তেমন অসুবিধা হচ্ছে না। ভদ্রলোকের প্রচুর অবসর। এই অবসরের সবটাই কাটাচ্ছেন মৃত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পদ্ধতি উদ্ভাবনে। ভদ্রলোক খুব রোগা। বড় বড় চোখ। চোখের দৃষ্টিতে ভরসা হারানো ভাব। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। এই বয়সে মাথায় কাঁচাপাকা চুল থাকার কথা। তাঁর মাথার সব চুলই পাকা। ধবধবে শাদা চুলে ভদ্রলোকের মধ্যে ঋষি ঋধি ভাব চলে এসেছে। তাঁ গলার স্বর খুব মিষ্টি। কথা বলার সময় একটু ঝুঁকে কাছে আসেন। তাঁর হাত খুবই সরু। মৃত মানুষের হাতের মত- বিবর্ণ। কথা বলার সময় গায়ে হাত দেয়ার অভ্যাসও তাঁর আছে। তিনি যতবারই গায়ে হাত দিয়েছেন, আমি ততবারই চমকে উঠেছি।
“আপনার নাম হিমু’
মানিব্যাগ নিয়ে রাতে আপনি যখন এসেছিলেন তখন আপনার চেহারা একরকম ছিল- এখন অন্য রকম।
আমি বললাম, তাজমহল দিনের একেক আলোয় একেক রকম দেখ – মানুষ কো চেয়েও অনেক উন্নত শিল্পকর্ম মানুষের
কথা।
“আমার ধারণা ছিল আপনি মানুষ না।
এখন কী ধারণা আমি মা
আরজমান সাহেব সরু চোখে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখেমুখে এক ধরনের অস্বস্তি। মনে হচ্ছে তিনি আমার ব্যাপারে এখন সংশয়মুক্ত না। আমি হাসিমুখে বললাম, একদিন দিনের বেলা এসে আপনাকে দেখাব – রোদে দাঁড়ালে আমার ছায়া পড়ে;
আশরাফুজ্জামান সাহেব নীচু গলায় বললেন, মানুষ না, কিন্তু মানুষের মতো জীবদেরও ছায়া পড়ে।
“তাই নাকি?’
জ্বি। এরা মানুষদের মধ্যেই বাস করে।
‘ও আচ্ছা।’
আমি অনেক কিছু জানি, কিন্তু কাউকে মন খুলে বলতে পারি না। কেউ আমার কথা বিশ্বাস করবে না। পাগল ভাববে। মীরাকেও আমি তেমন কিছু বলি
‘আমাকে বলতে চাচ্ছেন?
“জ্বি না।’
“বলতে চাইলে বলতে পারেন।
“আচ্ছা, আমাকে দেখে কী আপনার মনে হয় আমি অসুস্থ?”
না, তা মনে হচ্ছে ।
“মীরার ধারণা আমি অসুস্থ। যতই দিন যাচ্ছে ততই তার ধারণা প্রবল হচ্ছে। অথচ আমি জানি আমি খুবই সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ। আমার অস্বাভাবিকতা বলতে এইটুকু যে মীরার মা’র সঙ্গে আমার দেখা হয়, কথাবার্তা হয়।”
‘তাই বুঝি?’
“জ্বি। মানিব্যাগ হারিয়ে গেল। আমি খুবই আপসেট হয়ে বাসায় এসেছি। আমি মোটামুটি ভাবে দরিদ্র মানুষ এতগুলি টাকা। মীরাকে খবরটা দিয়ে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে আছি – তখন মীরার মা’র সঙ্গে আমার কথা এল। সে বলল, তুমি মন-খারাপ কোরো না টাকা আজ রাতেই ফেরত পাবে। আমি নীরাকে বললাম, সে হেসেই উড়িয়ে নিল।”

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top