হিমু রিমান্ডে – হুমায়ূন আহমেদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

হিমু রিমান্ডে – হুমায়ূন আহমেদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ হুমায়ূন আহমেদ

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৮৬

হিমু রিমান্ডে – বইটির এক ঝলকঃ

আমি আছি বাদলদের বাড়িতে।
এ বাড়িতে বাস করা দূরের কথা, বাদলের ৫০ হাজার গজের মধ্যে থাকাই আমার জন্যে নিষেধ ছিল। কোনো এক কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন। খালু সাহেব আমাকে দেখে হাসিমুখে বলেছেন, আরে তুমি! কেমন আছ ?
জি ভালো।
অনেকদিন পরে তোমাকে দেখলাম। এসেছ যখন কয়েকদিন থাক। আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, জি আচ্ছা।
খালু সাহেব আনন্দিত গলায় স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, এই শুনছ, হিমু কিছুদিন থাকবে আমাদের সঙ্গে। গেস্টরুমটা খুলে দাও। বাথরুমে সাবান, টাওয়েল আছে কি-না দেখ।
খালাও পালভর্তি করে হাসলেন।
যাকে বলে লালগালিচা অভ্যর্থনা। আমি বাদলকে আড়ালে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ব্যাপার কী রে। আমাকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
বাদল গলার স্বর কাঁপা কাঁপা অবস্থায় নিয়ে বলল, তুমি তো টানাটানি করার মতোই মানুষ। সাধারণ কেউ তো না ।
তোর কাছে টানাটানির মানুষ। খালু সাহেব বা খালার কাছে না। তাদের কাছে Father driven, Mother broomed.
এর মানে কী ?
Father driven মানে বাপে খেদানো। Mother broomed মানে মায়ের ঝাড়ু দিয়ে বিতাড়ন ।
বাদল বলল, মানে টানে নিয়ে আমি মাথা ঘামাচ্ছি না। তুমি গেস্টরুমে থাকতে পারবে না। তুমি থাকবে আমার সঙ্গে। খাটে ঘুমাবে, আমি মেঝেতে কল পেতে ঘুমাব। সারারাত গল্প করব। ছবি দেখব ।
গুড। তুমি যে কয়দিন থাকবে আমি ইউনিভার্সিটিতে যাব না। চব্বিশ ঘণ্টা তোমার সঙ্গে থাকব। আমাকে কেউ হাতি দিয়ে টেনেও তোমার কাছ থেকে সরাতে পারবে না।
কাঁঠালের আঠা হয়ে যাবি ?
অবশ্যই।
আমাকে বিস্মিত করে খালা এসে জানতে চাইলেন, দুপুরে কী খাবি ?
আমি বললাম, যা খাওয়াবে তাই খাব।
তোর কী যেতে ইচ্ছা করে বল ? পথেঘাটে থাকিস, আত্মীয়স্বজনদের বাসায় এসে ভালোমন্দ খাবার ইচ্ছা হতেই পারে। হিমু, দশ পনেরো দিনের আগে নড়ার নামও নিবি না ।
আমি বললাম, ঠিক করে বলো তো তোমাদের সমস্যাটা কী ?
খালা আহত গলায় বললেন, তোকে সামান্য আদরযত্ন করার চেষ্টা করছি, এর মধ্যে তুই সমস্যা খুঁজে পেয়ে গেলি ? আমি তোর খালা না ?
বাদলের ঘরে টেলিভিশন ছিল না। সে গেস্টরুম থেকে টিভি নিয়ে এলো। আমার হাতে টিভির রিমোট ধরিয়ে বলল, শুয়ে শুয়ে টিভি দেখবে। টেবিলের উপর খবরের কাগজ ।
আমি টিভি দেখি না। খবরের কাগজও পড়ি না ।
এখন টিভি দেখবে, খবরের কাগজ পড়বে। অনেকদিন পর এই কাজটা করবে তো— আনন্দ পাবে। চা খাবে? চা দিতে বলি ?
আমি বললাম, সে ।
খবরের কাগজ পড়ে বিশেষ আনন্দ পেলাম। সেকেন্ড হেডলাইন— ‘সর্ষেতে ভূত’। পুলিশের হেফাজত থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আয়না মজিদের পালিয়ে যাওয়ার কাহিনীর চমৎকার বর্ণনা ।
সর্ষেতে ভূত (নিজস্ব প্রতিবেদক)
শীর্ষ সন্ত্রাসী আয়না মজিদ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছে। তার পলায়ন নিয়ে নানান ধরনের রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে। পুলিশ যে ভাষা দিচ্ছে তা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না ।
পুলিশ বলছে, সকাল আটটা বিশ থেকে আয়না মজিদকে একটি বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, সে-ই আয়না মজিদ। তার মনিষ্ঠ সহযোগী লগ্ন খোকন এবং তার কুকाেन गा রানী বিষয়েও সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তথ্যগুলি যাচাই- বাছাইয়ের জন্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা কিছুক্ষণের জন্যে জিজ্ঞাসাবাদের বিরতি নেন। আয়না মজিদকে হাতকড়া বাঁধা অবস্থায় ঘরে রেখে তিনি ঘর তালাবন্ধ করে দেন। ফিরে এসে দেখেন আয়না মজিদ হাতকড়া খুলে জানালার গ্রীল কেটে পালিয়ে গেছে।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, হাতকড়া খোলার চাবি সে কোথায় পাবে? চাবি কি তাকে গোপনে দেয়া হয়েছিল ? গ্রীল কাটাৱ জন্যেও যন্ত্র প্রয়োজন, এই যন্ত্র সে কোথায় পেয়েছে ? গ্রীল কাটার শব্দ অবশ্যই হবে। থানায় এত লোকজন, কেউ শব্দ শুনতে পেল না। বিশেষ ক্ষণে সবাই একসঙ্গে বধির হয়ে গেল ।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক পর্যায়ে আয়না মজিদকে জামাই আদর করে চা গরম সিঙ্গারা খাওয়ানো হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাও এই তথ্য স্বীকার করেছেন। হাতকড়া দিয়ে হাত পেছনে বাঁধা। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এই অবস্থায় আয়না মজিদ চা সিঙ্গারা খাবে কীভাবে? আমরা কি ধরে নেব তদন্তকারী কর্মকর্তা মুখে তুলে তাকে খাইয়েছেন ? দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসীকে হঠাৎ জামাই আদর শুরু করা হলো কেন? কাদের নির্দেশে হঠাৎ আদর আপ্যায়ন ?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আয়না মজিদের পলায়নের পরপরই থানার ওসি সাহেব একটা টেলিফোন পান। টেলিফোনে তাকে জানানো হয় যে, তার জন্যে মধু এবং বনমোরগ আসছে। বনমোরগের সংখ্যা নিয়ে দরকষাকষিও হয়। ওসি সাহেব চাচ্ছেন চারটা বনমোরগ, অপরপক্ষ নিতে চাচ্ছে তিনটা বনমোরগ। এই বনমোরগ কি আসলেই বনমোরগ ? না-কি বনমোরগের আড়ালে অন্যকিছু?
আমরা মনে করি বনমোরগ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। মধু কিংবা বনমোরগ কোনোটাই থাকা উচিত না। তদন্তকারী কর্মকর্তা এস কবীর সাহেবকে লোক দেখানো সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমরা মনে করি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন । পর্দার আড়ালের রাঘববোয়ালদের বের করা উচিত। বনমোরগ বনে থাকবে, মধু থাকবে মধুর চাকে। এটাই শোভন। আইন প্রয়োগকারী কর্তাব্যক্তিদের চারপাশে বনমোরগ ঘুরবে এবং ক্ষণে ক্ষণে কোঁকর কোঁ করবে এটা শোভন না। জাতি বনমোরগের হাত থেকে মুক্তি চায়। সর্ষের ভূতের স্বরূপ উদ্ঘাটন চায়।
দুপুরে হেডি খাওয়াদাওয়া হলো। খালু সাহেব অফিসে যান নি। সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়া। শুনলাম কয়েকদিন ধরেই তিনি অফিসে যাচ্ছেন না। তাঁর যে শরীর খারাপ তাও না। তবে চোখে ভরসা হারানো দৃষ্টি। হড়বড় করে অকারণে কথা বলে যাচ্ছেন। পৃথিবীর সবচে’ স্বাদু খাবার কী— এই বিষয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন। তাঁর মতে হরিয়াল পাখির মাংস পৃথিবীর সবচে’ স্বাদু খাবার। কারণ এই পাখি বটফল যায়, মাছ খায় না। হরিয়াল পাখি কীভাবে রান্না করতে হয় সেই রেসিপিও দিলেন। সব পাখির মাংসে রসুন বেশি লাগে, হরিয়ালের ক্ষেত্রে লাগে না। কারণ এই পাখির শরীরেই রসুনটাইপ গন্ধ। নার্ভাস মানুষরা নার্ভাসনেস কাটাতে অকারণে কথা বলে। বালু সাহেব কোনো কারণে নার্ভাস। ঘটনা কিছু একটা অবশ্যই আছে, তা যথাসময়ে আনা যাবে।
দুপুরে খাবার পর বাদলকে নিয়ে ছবি দেখলাম। ছবির নাম Hostel. বাদলকে নিয়ে ছবি দেখা বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। রানিং কমেন্ট্রির মতো সে বলে যাবে কোন দৃশ্যের পর কোন দৃশ্য আসছে ।
হিমুদা, সুন্দর মেয়েটা দেখছো না, এক্ষুনি কাঁটা চামচ দিয়ে তার একটা চোখ তুলে ফেলা হবে। বাঁ চোখটা তুলবে।
কেন ?
আনন্দ পাওয়ার জন্যে কাজটা করছে। অন্যকে কষ্ট দেয়ার মধ্যে আনন্দ আছে। আবার কষ্ট পাবার মধ্যে আনন্দ আছে। হিমুদা, তাকিয়ে থাক, এক্ষুনি চোখ তোলা হবে। ভয়ঙ্কর দৃশ্য।
চোখ তোলার ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল রাত আটটায়। বিকাল চারটা থেকে রাত আটটা। টানা চার ঘণ্টা ঘুম।
বাদল দ্বিতীয় একটা ছবি নিয়ে অপেক্ষা করছে। আমার ঘুম ভাঙলেই ছবি শুরু হবে। আমাকে বিছানায় উঠে বসতে দেখে বাদল বলল, তুমি যে ঘুমিয়ে পড়েছ এটা বুঝতে অনেক সময় লেগেছে। ছবি শেষ হবার পর তাকিয়ে দেখি তুমি গভীর ঘুমে। ওই ছবির শেষ অংশটা দেখবে, না-কি অন্য কোনো ছবি দেব ?
নতুন একটা দে।
Horror?
তিনটা হরর ছবি কিনেছি। একটার চেয়ে আরেকটা ভালো। চল তিনটা ছবিই আজ দেখে ফেলি। দেখবে ?
চল দেখি ।
হুট করে তুমি চলে যাবে, তোমাকে নিয়ে আর ছবি দেখা হবে না। ফ্লাঙ্কভর্তি চা নিয়ে বসব । তোমার ঘুম পেলেই তোমাকে চা খাওয়াব। রাত দশটার পর শুরু হবে ছবির অনুষ্ঠান।
দশটা না বাজা পর্যন্ত কী করব?
বাদল মনে হলো চিন্তায় পড়ে গেছে। দশটা না বাজা পর্যন্ত কী করা হবে ভেবে পাচ্ছে না।
খালু সাহেব বাদলকে বিপদমুক্ত করলেন। আমাকে ছাদে ডেকে পাঠালেন।
ছাদে শীতলপাটি বিছিয়ে খালু সাহেব আসর শুরু করেছেন। পানি, গ্লাস, বরফ এবং Teacher নামের হুইস্কির বোতল দেখা যাচ্ছে। খালু সাহেবের হাতে গ্লাস। ছাদ অন্ধকার বলে তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। তিনি আনন্দিত কি-না তাও বুঝতে পারছি না । তবে দু’এক পেগ পেটে পড়লেই তিনি আনন্দময় ডুবনে প্রবেশ
করবেন।
হিমু । বোস বোস । তোমার সঙ্গে প্রায় সময়ই দুর্ব্যবহার করি, কিছু মনে করো না। আমি চিন্তা করে দেখলাম, At the end of the day you are a good
person.
থ্যাংক যৎ ।
থ্যাংক যা দিতে হবে না । You deserve this. ভূমি লোক ভালো। অবশ্যই ভালো। কেউ তোমাকে মন্দ বললে তার সঙ্গে আমি আর্গুমেন্টে যাব।
খালু সাহেব, ক’টা খেয়েছেন?
দু’টা। তাও স্মল পেগ। হাতে আছে তিন নম্বর। খেয়ে কোনো আনন্দ পাচ্ছি না। টেনশন নিয়ে খাচ্ছি।
কেন ?

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top