হিমু মামা – হুমায়ূন আহমেদ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ হুমায়ূন আহমেদ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৭৭
হিমু মামা – বইটির এক ঝলকঃ
গম্ভীর গলায় বললেন, টগর আছিস?
টগর বলল, জি বড় চাচা।
তুই তোর ছোট মামা সম্পর্কে আমাকে গোপনে কী বলেছিস তা আবার বল, সবাই যেন শুনতে পায়।
টগর হকচকিয়ে গেল। ছোট মামার হিমু হওয়ার সব খবর সে বড় চাচার কাছে সাপ্লাই করেছে। বড় চাচা যে এরকম মিটিং করে তার কথা ফাঁস করে দেবেন তা সে ভাবেনি। সবাই তাকাল তার দিকে। ছোট মামাও তাকালেন। তাঁর চোখে বিষয়।
বড় চাচা বললেন, চুপ করে আছিস কেন, বল।
টগর বিড়বিড় করে বলল, ছোট মামা হিমু হয়ে গেছে।
কী হয়ে গেছে?
হিমু ।
টগর লক্ষ করল সবাই ছোট মামার দিকে তাকাচ্ছে। শুধু ছোট মামা তাকিয়ে আছে তার দিকে। বড় চাচা বললেন, হিমু হয়ে যাওয়া ব্যাপারটা বল শুনি।
টগর বলল, আমি বলব?
বড় চাচা বললেন, প্রথমে তুমি বলবে। তারপর হিমু সাহেবের মুখ থেকে শুনব। ইংরেজিতে একে বলে, লিসেনিং ফ্রম দি হর্সেস মাউথ।
টপর বলল, হিমুদের হলুদ পাঞ্জাবি পরতে হয়। আর খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি
করতে হয়।
বড় চাচা বললেন, কেন?
টগর বলল, কেন সেটা হিমুরা জানে। আমি তো হিমু না। আমি জানি না। টগরের বাবা বললেন, ভাইজান, বাদ দিন তো। হিমু হওয়া মনে হচ্ছে বাচ্চাদের একটা খেলা।
বড় চাচা বললেন, বাচ্চাদের খেলা বলে উড়িয়ে দেয়া ঠিক হবে না। তুমি বোধ হয় জানো না হিমু কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এই বাড়ির ছাদে কয়েক টন মাটি তোলা হয়েছে।
কী বলছেন, ভাইজান?
বড় চাচা শুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, শুভ্র ! কী পরিমাণ মাটি তোলা হয়েছে তুমি একটা আন্দাজ দিতে পারবে?
শুভ্র বলল, প্রতিদিন দু শ টাকা করে আমি দুজন লেবার রেখেছি। এরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাদে মাটি তুলেছে। কতটুকু মাটি হয়েছে আমি জানি না।
মাটি কেন তোলা হয়েছে?
জোছনা দেখার জন্য।
বুঝতে পারলাম না। একটু বুঝিয়ে বলো।
শুভ্র বলল, হিমুদের জোছনা দেখতে হয়। সাধারণ মানুষের জোছনা দেখা আর হিমুদের জোছনা দেখা এক না। তারা বিশেষভাবে জোছনা দেখে। যেমন পুকুরে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে শুধু মাথা বের করে জোছনা দেখে। কিংবা মাটিতে গর্ত করে সেই গর্তে মাথা পর্যন্ত ডুবিয়ে জোছনা দেখে।
ছাদে মাটি নেয়া হচ্ছে গর্ত বানিয়ে জোছনা দেখার জন্য?
জি।
হলুদ পাঞ্জাবির ব্যাপারটা কী?
হলুদ হলো বৈরাগ্যের রঙ। আগুনের রঙ। আগুন যেমন খাদ পুড়িয়ে সোনাকে শুদ্ধ করে, এই পোশাকও তাই করে।
বড় চাচা হাত তুলে শুভ্রকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, তোমার যুক্তিতে ভুল আছে। আগুন শুধু খাদ পোড়ায় না। আগুন সব কিছুই পোড়ায়। আর তুমি বলছ হলুদ বৈরাগ্যের রঙ, আগুনের রঙ। আমি যদি বলি হলুদ বিষ্ঠার রঙ, তাহলে কি ভুল হবে? বিষ্ঠা কী তা নিশ্চয়ই জানো। বিষ্ঠা হলো ও। প্লেইন অ্যান্ড সিম্পল ও। যার ইংরেজি নাম শিট।
টগরের খুবই হাসি পাচ্ছে। সে চেষ্টা করছে না হেসে থাকতে। বড়দের কথার মাঝখানে ছোটরা হেসে ফেললে বড়রা খুবই রাগ করে।
বড় চাচা বললেন, শুভ্র, শোনো, তোমাকে আমি বুদ্ধিমান ছেলে হিসেবে জানতাম। স্মার্ট ছেলে হিসেবে জানতাম। তোমার বুদ্ধিশুদ্ধি যে বুড়িগঙ্গার পানিতে ধুয়ে-মুছে চলে গেছে তা জানতাম না। তুমি নির্বোধের মতো আচরণ করছ।
শুভ্র বলল, হলুদ পাঞ্জাবি পরছি এই জন্যই কি আমি নির্বোধ ?
খালি পায়ে হাঁটছ এই জন্য নির্বোধ। ময়লা-আবর্জনাভর্তি রাস্তাঘাট। এর মধ্যে খালি পায়ে হাঁটার অর্থ হলো, ইচ্ছা করে শরীরে ময়লা মাখা। বুঝতে পারছ কী বলছি?
শুভ্র চুপ করে রইল। হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল না। অর্থাৎ সে যে বোকামি করছে এটা বুঝতে পারছে না। বড় চাচা বললেন, হিমু ঘটনাটা কী আমি তা কিছুই বুঝতে পারছি না। যাই হোক শুভ্র, তুমি যেটা করবে, হিমুর ঘটনাটা কী, তুমি কেন হিমু হতে চাচ্ছ—তা সুন্দর করে লিখে ফেলবে। আমি লেখাটা পড়ব । পড়ার পর তোমার সঙ্গে আরেকটা মিটিং হবে।
টগরের বাবা বললেন, ছাদে যে মাটি তোলা হয়েছে সেই মাটির কী হবে? বড় চাচা বললেন, মাটি অবশ্যই নামিয়ে ফেলা হবে। তবে এই মুহূর্তে না। হিমুর ব্যাপারটা আমি আগে জেনে নেই। তারপর ।
শুভ্র বলল, আমি কি এখন যেতে পারি?
বড় চাচা বললেন, হ্যাঁ, যেতে পারো!
সুলতানা বললেন, আমি মুরগির মিষ্টি কাবাব বানিয়েছিলাম। কাশ্মিরের রেসিপি। কাশ্মিরের হাউসবোটে এই কাবাব আমি খেয়েছিলাম। এখনো তার স্বাদ মুখে লেগে আছে। ওদের কাছ থেকে রেসিপি নিয়ে এসেছি। কাবাব সার্ভ করে দেই? শুভ্র! কাবাব খেয়ে তারপর যেখানে ইচ্ছা যা।
শুভ্র সুলতানার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, আপা, তোমাকে আমি খুবই পছন্দ করি। তুমি মনে কষ্ট পাও এমন কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু হিমুরা সত্যি কথা বলে। তাতে যদি কেউ মনে কষ্টও পায় তারপরও বলে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক হিমুদের কাছে কোনো ব্যাপার না। আপা শোনো, তুমি যে পরীক্ষামূলক খাবারগুলো বানাও তার সবই অখাদ্য। কেউ খায় না। খাবারগুলো ফ্রিজে থাকে তারপর ফেলে দেয়া হয়। একটা দরিদ্র দেশের খাবার তুমি এইভাবে নষ্ট করতে পারো না। তোমার মনরক্ষার জন্য তোমার এই অখাদ্য মিষ্টি মুরগির কাবাব অনেকেই মুখে দেবে। আমারও এক টুকরা মুখে দেয়া উচিত। কিন্তু হিমুরা কারো মনরক্ষার জন্য কিছু করে না। আমি একটা টুকরাও মুখে দেব না।
টগর সঙ্গে সঙ্গে বলল, আমিও না। এবং বাবাও খাবে না।
টগরের বাবা ছেলের কথায় সায় দিয়ে দ্রুত মাথা নাড়লেন।
বড় চাচা ছোট্ট একটা পিস মুখে দিয়ে বললেন, খেতে খারাপ হয়নি তো! ভালোই হয়েছে। তবে মিষ্টি বেশি হয়েছে, আমার আবার ডায়াবেটিসের ভাব আছে। মিষ্টি খাওয়া ঠিক হবে না। এই বলে যে ছোট্ট পিসটা মুখে নিয়েছিলেন সেটা সিঙ্কে ফেলে দুবার কুলি করে ফেললেন।
উপরের বাবার সামনে যখন কাবাবের প্লেট ধরা হল তখন তিনি সুলতানার দিকে তাকিয়ে বললেন, এই বস্তু তুমি নিজে খেয়েছ?
সুলতানা বললেন, না ।
তুমি খাওনি কেন?
যে রান্না করে সে খেতে পারে না।
এর পর থেকে যে বস্তু তুমি রান্না করবে তা আগে নিজে আধা প্লেট খাবে তারপর সার্ভ করবে।
ছোট মামা ঠিক আগের জায়গায় ফিরে গেছেন। ঝিম ধরে বসে আছেন। তাঁকে দেখেই মনে হচ্ছে তিনি রেগে আছেন। টগর খুব ভালো করে জানে রেগে যাওয়া মানুষের আশপাশে থাকা ঠিক না। তারপরও সে ছোট মামার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। গলার স্বর যথাসম্ভব করুণ করে বলল, ছোট মামা, তুমি কি রাগ করেছ?
না।
তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি রেগে আছ।
তুই ঠিক ধরেছিস। মনের ভেতর থেকে রাগটা সরিয়ে দিয়েছি। শরীর থেকে সরাতে পারিনি। পুরোপুরি হিমু এখনো হতে পারিনি। পুরোপুরি যারা হিমু হয় তারা কোনো কিছুতেই রাগ করে না।
টগর বলল, কেউ যদি কোনো কারণ ছাড়া গালে ঠাস করে চড় মারে তাহলেও হিমুরা রাগ করে না?
আসল হিমুদের রাগ করা উচিত না।
তাদের কী করা উচিত?
যে চড় দিয়েছে তার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলে এমন কিছু বলা উচিত যা শুনলে পিলে চমকে যায়।
সেটা কী রকম?
সেটা কী রকম এখন বলতে পারছি না। এখন মাথায় আসছে না। যাই হোক, তুই এখন আমার সামনে থেকে যা। আমাকে হিমুর ওপর একটা রচনা লিখতে হবে। পয়েন্টগুলো ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে। তুই বাতি নিভিয়ে হাওয়া হয়ে যা।
মশার ওষুধ দেব, ছোট মামা? তোমাকে মশা কামড়াচ্ছে।
কামড়াক। মশা-মাছি প্রকৃতির অংশ। বেঁচে থাকার অধিকার তাদেরও আছে। আমরা যদি হাঁস-মুরগি মেরে রোজ খেতে পারি ওরা কেন আমাদের সামান্য রক্ত খেতে পারে না। মশার কামড়ে হিমুরা বিচলিত হয় না।
টগর আগ্রহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করল, বাঘের কামড়ে কি হিমুরা বিচলিত হয়? শুভ্র জবাব দিল না। চোখ বন্ধ করে ফেলল। শুভ্র ভেবেছিল বিশ থেকে পঁচিশ পৃষ্ঠার বিরাট এক রচনা লিখবে। রচনার নাম ‘হিমু’। রচনায় অনেক পয়েন্ট থাকবে। কবিতার উদ্ধৃতি থাকবে। উপসংহার থাকবে। লিখতে গিয়ে দেখল, সব এক পৃষ্ঠায় হয়ে গেছে। অনেক চিন্তা করেও এর বেশি সে কিছু লিখতে পারছে না ।
চৌধুরী আজমল হোসেন শুভ্রের হাত থেকে লেখাটা নিলেন। পর পর দুবার পড়লেন। কিছুক্ষণ শুভ্রের দিকে তাকিয়ে থেকে আবার পড়লেন।
হিমু কে, কী ও কেন কে?
হিমু হলো উপন্যাসের একটি চরিত্র।
সে পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবি পরে। খালি পায়ে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটে। কেন ?
হিমু সত্যের অনুসন্ধান করে। হলুদ পাঞ্জাবি এবং খালি পা তাঁর বাইরের ব্যাপার। ভেতরে সে সত্য-অনুসন্ধানী।
শুভ্র বলল, আমি যাই?
বড় চাচা বললেন, আচ্ছা যাও। তুমি কি নিশ্চিত হিমু সম্পর্কে যা বলার সব বলা হয়েছে? কিছু বাদ যায়নি?
একটা ব্যাপার শুধু বাদ পড়েছে।
সেটা কী?
হিমুদের কিছু সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতা তৈরি হয়। তারা ভবিষ্যৎ বলতে পারে। তুমি পারো?
না। কারণ আমি পুরোপুরি হিমু হতে পারিনি।
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!