হেমসের যোদ্ধা – আসাদ বিন হানিফ – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।
মহান আল্লাহ বলেন –
পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন
আল কুরআন
জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ
অনুবাদঃ আসাদ বিন হানিফ
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬১
হেমসের যোদ্ধা – বইটির এক ঝলকঃ
নিজের সৈন্যদেরকে পূর্ণ বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে তিনি ফিরলেন ইবনে লাউনের সৈন্যদের দিকে। ইবনে লাউনের যে অর্ধেক সৈন্য তিনি সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাদেরকে ইয়াজুদ্দিনের হেফাজতে বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এদেরকে বুঝিয়ে বলো, মুসলমানরা কেন যুদ্ধ করে। রাজ্য জয় বা গনীমতের মালের জন্য যে আমরা যুদ্ধ করি না এ কথা তাদের বুঝতে হবে। তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে আল্লাহর দ্বীনের
দাওয়াত।’
সুলতান আইয়ুবী সব কাজ সমাধা করে ফিরে গেলেন নিজের তাবুর কাছে। কিন্তু তিনি তখনো জানতে পারেননি, তিনি যে পর্বতমালার পাশে সৈন্য সমাবেশ করেছেন, সেই পর্বতমালার ওপারে বিলডনের বাহিনী এসে পৌঁছে গেছে। তারা সুলতান আইয়ুবীর বাহিনীর ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদ্যোগ আয়োজনে ব্যস্ত।
ইবনে লাউনের পরাজয়ের পর সুলতান আইয়ুবী সে এলাকায় আর সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। কারণ ইবনে লাউন ছাড়া সেখানে কোন শত্রু সৈন্যের ভয় বা’ আক্রান্ত হওয়ার আশংকা ছিল না ।
কিন্তু যুদ্ধ যুদ্ধই। কখন কেমন করে কার ঘাড়ে বিপদ লাফিয়ে পড়বে সে কথা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। অনেক সমরবিদ লিখেছেন, সুলতান আইয়ুবী যদিও জানতেন না, সম্রাট বিলডন আশপাশেই কোথাও ক্যাম্প করে আছেন, তবু তার এতটা অসতর্ক হওয়া উচিত হয়নি। যদি বিলডন তার পরিকল্পনা মত সুলতানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার সুযোগ পেতেন তবে এখানেও রমলার ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটতো। কিন্তু সুলতানের ওপর আল্লাহর বিশেষ রহমত ছিল, তাই এক অনিবার্য ধ্বংসের হাত থেকে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন । ঘটনা হচ্ছে, সম্রাট বিলডন সময় মতই সুলতান আইয়ুবীর দিক পরিবর্তনের খবর পেলেন। তিনি তাঁর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কুশলী সেনানায়কের মতই ওঁৎ পাতলেন সুলতানের এগিয়ে যাওয়ার পথে। সুলতান যখন মুসাদা নামক পাহাড়ের পাদদেশে তাঁর বাহিনীকে পরিপূর্ণ বিশ্রামের সুযোগ দিলেন তখন বিলডন তার বাহিনী নিয়ে সেই পাহাড়ের উল্টো পাশে সৈন্য সমাবেশ ঘটালেন। তারপর রাতের আঁধারে তিনি তার বাহিনীকে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যাওয়ার হুকুম দিলেন। সন্তর্পনে সম্রাট বিলডনের বাহিনী পাহাড়ের চুড়ায় গিয়ে অবস্থান নিল। পুরো বাহিনী পাহাড়ে উঠতে এবং অবস্থান নিতে নিতেই ভোর হয়ে গেল । বিলডন সে রাতে আক্রমণ না করে পরিপূর্ণ প্রস্তুতিসহ আগামী রাতে বেপরোয়া আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিল।
সুলতান আইয়ুবীর সৈন্যদল পাহাড়ের পাদদেশে তাবু টানিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। সুলতান আইয়ুবী তখনো জানতে পারেননি, সম্রাট বিলডন তার মাথার উপর বসে আছেন। সুলতানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য অস্ত্র শানাচ্ছেন ।
পাহাড়ের উপর থেকে বিলডনের সৈন্যরা সুলতান আইয়ুবীর তাবুর দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। তারা বিলডনকে জানাচ্ছিল সুলতানের বাহিনীর অবস্থান ও সৈন্যের পরিমাণ এই প্রথম সুলতান আইয়ুবীর গোয়েন্দারা নিষ্ক্রিয় ছিল। নির্বিঘ্নে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সুলতান ও তার বাহিনী। তানভীর তখনো বিলডনের বাহিনীর সাথেই ছিল। জাভীরা তাকে বলেনি, কেন সে তাকে সঙ্গে নিয়ে বিলডনের বাহিনীর সাথে সাথে ঘুরছে। হয়তো সে তাকেও তার মত খৃষ্টানদের গোয়েন্দা বানাতে চেয়েছিল। I
জাভীরার মধ্যে একই সাথে বিরাজ করছিল খৃস্টানদের আনুগত্য ও তানভীরের প্রতি গভীর ভালবাসা। সম্রাট বিলডনের অবশ্য তানভীরের কোন প্রয়োজন ছিল না। জাভীরার প্রতি আকর্ষণের কারণেই তানভীরকে সে ক্যাম্পে থাকতে দিয়েছিল। জাভীরা ছিল অসম্ভব সুন্দরী। এ রূপের কারণেই বিলডন তার প্রতি ছিল আসক্ত।
একদিন জাভীরা বিলডনকে বললো, ‘আমাকে আক্রার হেড কোয়ার্টারে পাঠিয়ে দিন।’
কিন্তু বিলডন তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বললেন, ‘হেড কোয়ার্টারের চাইতে সম্রাটের সঙ্গেই তোমাকে বেশী মানায়। কেন, আমার সঙ্গ কি তোমার খারাপ লাগছে?’
এটা সে সময়ের কথা যখন ক্যাম্প ছিল হেমসের কাছে।
একদিন গোয়েন্দারা বিলডনকে সংবাদ দিল, ‘সুলতান আইয়ুবীর সৈন্য বাহিনী দামেশকের পথ ছেড়ে আর্মেনীয় সীমান্তের দিকে যাচ্ছে।’.
এ খবর ছিল বিলডনের জন্য অভাবনীয়। সম্রাট বিলডন ধারণাও করতে পারেননি, সুলতান আইয়ুবী ইবনে লাউনের মত ক্ষুদ্র শক্তির ওপর আক্রমণ করার জন্য ছুটে আসছেন। তিনি এ এলাকা খুব ভাল মতই চিনতেন। তিনি জলদি তার বাহিনী হেমস থেকে মুসাদা পাহাড়ের দিকে সরিয়ে আনলেন। তার প্ল্যান ছিল, সুলতানের বাহিনী এ পাহাড়ের পাশ দিয়ে যখন যাবে তখন তিনি অতর্কিত আক্রমণ করে সুলতানকে শেষ করে দেবেন ।
প্ল্যান অনুযায়ী তিনি তার বাহিনী নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছে গেলেন। সেখানেই তিনি ওঁৎ পেতে সুলতানের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু তাকে বেশী সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ওখানে পৌঁছার পরদিনই তিনি গোয়েন্দা মারফত খবর পেলেন সুলতান আইয়ুবী ইবনে লাউনের উপর আঘাত হেনেছে। তারপর দিন খবর পেলেন, বিজয় শেষে তিনি মুসাদা পাহাড়ের পাদদেশে তাবু গেড়েছেন ।
এই সে মুসাদা পাহাড়, যার অন্য পাশে অপেক্ষা করছিলেন সম্রাট বিলডন। তিনি এ খবরে খুবই উল্লসিত হলেন। ভাবলেন, একেই বলে মহাপ্রভুর কৃপা। এই দুরাচারকে ধ্বংস করার জন্য মহাপ্রভু তাকে একেবারে হাতের নাগালে এনে দিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, তাড়াহুড়ো নয়, খুবই ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে এগুতে হবে এবার। সুলতান আইয়ুবী ও তার বাহিনী রণক্লান্ত । তারা এখন বিশ্রাম নেবে। তিনি মনে মনে এ বিশ্রামকে চির জীবনের বিশ্রামে পরিণত করার জন্য পায়তারা কষতে লাগলেন। পাহাড়ের পাদদেশে অপেক্ষমান তার বাহিনীকে বললেন পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে অবস্থান নিতে । তিনি যেদিন হেমসের নিকট থেকে ক্যাম্প তুলে সমরাভিযান চালাতে হুকুম দিলেন, সেদিন জাভীরা সম্রাটকে বললো, ‘আমি তো আপনার কাছে আশ্রয় নিতে এসেছিলাম । আপনার সাথে অভিযানে যাওয়ার কোন ইচ্ছে আমার নেই। আমাকে ছুটি দিন।’
“তুমি একা কোথায় যাবে? তারচে আমার সঙ্গেই থাকো, অভিজ্ঞতা বাড়বে।’
‘আমি একা যাবো কেন? তানভীর যাবে আমার সাথে। এখন তো আপনি যুদ্ধের ময়দানে যাচ্ছেন। ওখানে আমার বা তানভীরের কোন কাজ নেই। শুধু শুধু আমাদেরকে টেনে আপনার কি লাভ?’
*জাভীরা, আমার লাভ আমি বুঝি। লাভ-লোকসানের হিসাব আমাকে বুঝাতে এসো না। তুমি ভাল করেই জানো, আমার কাছে মেয়ে মানুষের কোন কমতি নেই।’ বিলডন বললেন, ‘কিন্তু তুমি এমন এক মেয়ে, যে আমার মন জয় করেছো। তুমি যখন আমার কাছে থাকো তখন আমি আত্মায় শান্তি পাই। তুমি আরও কিছুদিন আমার সাথেই থাকো । জাভীরা সম্রাট বাদশাহদের মেজাজ মর্জি ভাল মতই বুঝতো । বিলডনের নিয়ত বুঝতেও তার কষ্ট হয়নি। সে তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিল, ‘আত্মার শান্তির কথা যদি বলেন তবে সে শাস্তি আমি ওই মুসলমান লোকটির কাছ থেকে পেয়েছি, যার পরিবার ও বংশকে আমি ধ্বংস করেছি। তার পুরো গ্রাম ধ্বংস করে, আপনজনদের হত্যা করে, এখন তাকে আমি সঙ্গে নিয়ে
বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!
বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!