হারানো দিনের সোনালী কাহিনী – মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

হারানো দিনের সোনালী কাহিনী – মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১৩

হারানো দিনের সোনালী কাহিনী – বইটির এক ঝলকঃ

এদিকে খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এর চেহারা তখন দারুণ গম্ভীর। ভাবখানা এমন, সম্পদের এ প্রাচুর্যে তিনি যেন খুশি নন । হাতের লাঠি দিয়ে তিনি একটি একটি করে সবগুলো মালামাল উল্টে পাল্টে দেখলেন । তারপর বললেন, ঐসব লোক নিশ্চয় বিশ্বস্ত ও আমানতদার যারা এই বিপুল মূল্যবান সম্পদ বাইতুল মালে পৌঁছে দেয়।
খলীফার কথার জবাবে হযরত আলী (রা.) বললেন, হে আমীরুল মুমেনীন! দুনিয়ার ধন-সম্পত্তির প্রতি আপনার আসক্তি না থাকার কারণে জনগণের মন থেকেও সেই আসক্তি চলে গেছে।
এরপর হযরত ওমর (রা.) উপস্থিত জনতার মাঝ থেকে সুরাকা ইবনে মালেক (রা.)কে কাছে ডাকলেন। হাত ধরে নিজের একদম নিকটে এনে দাঁড় করালেন। অতঃপর স্বয়ং তাকে কিসরার জামা, পায়জামা, আলখিল্লও মোজা পড়ালেন। কোমরে বেল্ট বেঁধে দিয়ে সম্রাটের তরবারিটি তাতে ঝুলিয়ে দিলেন। হাতে বাজুবন্দ ও মাথায় মুকুট পড়িয়ে দিলেন ।
সুরাকা ইবেন মালেক (রা.) এমনিতেই ছিলেন সুন্দর, সুদর্শন ও বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী। এসব জিনিস পড়িয়ে দেওয়ার পর তাঁকে আরো সুন্দর দেখাচ্ছিল। যা দেখে সকলেই অভিভূত হলো। বিস্মিত হলো। সবার কন্ঠ চিরে বেরিয়ে এলো আনন্দ ধ্বনি- আল্লাহু আকবার! আল্লাহ আকবার!!
এদিকে সুরাকা ইবনে মালেক (রা.) এর মন কিন্তু এখানে নেই। ভাবনার দোলায় দুলতে দুলতে তার মন বহু বছর পিছিয়ে এসেছে। মরু বিয়াবানের বালি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ফিরে এসেছে স্বীয় গোত্র বনু মাদলাযের বৈঠকখানায় । সেই কবেকার কথা! বিভিন্ন রং বেরংয়ের আলোচনায় বৈঠকখানা তখন উত্তপ্ত। ঠিক তখনই মক্কার এক অশ্বারোহী দূত ছুটে এসে আকর্ষণীয় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে গেল। বলে গেল, যে ব্যক্তি মুহাম্মদকে ধরে দিতে পারবে তাকে পুরস্কার হিসেবে দান করা হবে একশত উট। চাই জীবিত অবস্থায় হোক কিংবা মৃত
একশত উট! একশত উট!! সেতো কম কথা নয়! হতবাক হয়ে গেল সুরাকা। স্থির হয়ে গেল তার চিন্তা শক্তি। না, এই লোভনীয় অফার কোন অবস্থাতেই হাতছাড়া করা যায় না। যে কোন মূল্যে তা আমাকে পেতেই হবে।
এসব কথা হৃদয়ের গভীরে ঘুরপাক খেলেও সুরাকা তা বাইরে প্রকাশ করল না। ক্ষণকাল পরে আরেকটি লোক হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো। বলল, আরে! এইতো তিনজনের একটি ক্ষুদ্র কাফেলা একটু পূর্বে ঐদিক দিয়ে গেল। হয়তো এবা মহাম্মদ ও তার সঙ্গিদ্বয় হবে। লোকটির কথায় সুরাকা চমকে উঠল। মনে মনে বলল, উহ! শিকার তো হাতছাড়া হবার পালা। কিন্তু মুখে বলল, আরে না না। এরা অমুক কবীলার লোক। ওরা তারা নয় যাদেরকে কুরাইশগণ তালাশ করছে। কথা ছেদ পড়ায় এ ব্যাপারে লোকটির বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে গেল। বলল, হয়তো তাই হবে। ফলে উপস্থিত কেউই তাদের পিছনে ধাওয়া করল না।
সুরাকা তারপরও কিছুক্ষণ বৈঠকখানায় বসে রইল। উদ্দেশ্য, সে যে এই ক্ষুদ্র কাফেলার পিছু নিবে- এ ব্যাপারে যেন কারো সংশয় সৃষ্টি না হয়।
বৈঠকখানায় মক্কার পরিস্থিতি নিয়ে যখন আবারো আলোচনা শুরু হলো, তখন সুরাকা এক পা দু’পা করে সকলের অলক্ষ্যে বেরিয়ে এলো। বাড়িতে পৌঁছে বাঁদীকে বলল, এক্ষুণি ঘোড়ার জিন লাগাও। তারপর সাবধানে সকলের অগোচরে পল্লির বাইরে ঐ উপত্যকায় বেঁধে আস ।
অতঃপর গোলামকে ডেকে বলল, আমার হাতিয়ার গুলো বাড়ির পিছন দিক দিয়ে নিয়ে ঘোড়ার পাশে রেখে এসো। বাঁদী ও গোলাম উভয়েই মনিবের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ফিরে এলো।
একটু পর সুরাকা চুপি চুপি ঘোড়ার নিকট পৌঁছল। তারপর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ক্ষুদে কাফেলার লক্ষ্যে দ্রুত বেগে ছুটে চলল। চলতে চলতে হঠাৎ তার ঘোড়াটি হোঁচট খেলে সুরাকা ছিটকে মাটিতে পড়ে গেল ।
আরে! একি কান্ড! এমন তো কখনো হয় নি। তবে কি যাত্রা অশুভ! দুর ছাই এগুলো কিছুই না। আবার সে ঘোড়ায় চেপে বসল। ঘোড়াটি আবার ছুটে চলল। আবার ঠিক সেই একই কান্ড । ঘোড়াটি প্রচন্ড বেগে হোঁচট খাওয়ার সাথে সাথে সুরাকা আবারো জমিনে ছিটকে পড়ল। মনের দুর্বল ধারণা এবার প্রবল আকার ধারণ করল। ভাবল, তবে কি এ যাত্রা আসলেই শুভ নয়? ফিরে যাওয়াই কি আমার জন্য মঙ্গলজনক হবে?
এ সময় একশ উটের লোভ তার মনে আবারো জেগে উঠলো। এতগুলো উটকে এতো সহজে ছাড়া যায়। লোভের তাড়নায় অধীর সুরাকা আবার ঘোড়ায় চড়ে বসল। এবার কিছুদূর যেতেই দূর থেকে ক্ষুদে কাফেলাটি দেখতে পেল। দৃশ্যমান কাফেলা আর একশ উটের লোভ সুরাকাকে একেবারে ব্যাকুল করে তুলল। এবার সুরাকা ঝড়ের গতিতে ঘোড়া ছুটালো। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যবধান কমে যাওয়ায় কাফেলার লোকগুলো স্পষ্ট দেখা যেতে লাগল।
সুরাকা এখন একটি ছোটখাট সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধনুকে হাত বাড়ালো । কিন্তু একি! হাত যে একেবারেই স্থির হয়ে গেছে। একেবারেই অবশ প্রসারিত হয় না। ইচ্ছা করেও নড়াচড়া করা যায় না। সুরাকা হতবাক। তার সমস্ত চেতনা যেন দপ করে মুহূর্তে নিভে গেল। ঘটনা এখানেই শেষ নয় । দেখতে দেখতে ঘোড়ার সামনের পা দু’টি পেট পর্যন্ত দেবে গেল। আর একটু দূরে মাটি ফুড়ে ধুয়ার কুণ্ডলি উঠতে উঠতে চোখ মুখ সব অন্ধকার করে ফেলল। তারপর আবার তা কোথায় মিলিয়ে গেল।
সুরাকা ঘোড়ার পা দুটি তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করল। কিন্তু অসম্ভব। নিষ্ফল তার সকল প্রয়াস। ফলে তার মনের দৃঢ়তা ভেঙ্গে পড়ল। একশত উটের প্রচন্ড লোভ কিছুটা হ্রাস পেল। অলৌকিক এসব ঘটনাগুলো তার মনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল।
ইতোমধ্যে শুরু হলো সুরাকার করুণ আর্তনাদ। প্রাণ নিয়ে পালানোর জোর প্রচেষ্টা। সে সবিনয় কাকুতি মিনতি করে উচ্চ আওয়াজে বলল, হে মুহাম্মদ! আপনার অভিশাপের ফলেই আমার এরূপ হয়েছে। অনুগ্রহ করে একটু দুআ করুন, যেন আমার ঘোড়াটি দাঁড়িয়ে যায়। আমি অঙ্গীকার করছি, আপনাদের থেকে শত্রুদের ফিরিয়ে রাখব।
সুরাকার আবেদনে দয়ার সাগর প্রিয়নবী (সা.) এর মন মোমের মতো গলে গেল। তিনি দুআ করলেন। সাথে সাথে ঘোড়াটি দাঁড়িয়ে গেল। কিন্তু বিষাক্ত সাপের মতো সুরাকার মনের লোভ আবারো ফণা তুলল। সে আবার রাসূল (সা.) এর দিকে ঘোড়া ছুটালো। দু’চার কদম যেতে না যেতেই আবার ঐ একই কান্ড। ঘোড়ার সম্মুখের পা দুটি মাটিতে দেবে গেল। আক্রান্ত ঘোড়াটি অসহায়ের মতো কাতর চোখে সুরাকার দিকে ফিরে ফিরে তাকাতে লাগলো । তার ভাবসাব দেখে বুঝা গেল, সে যেনো তার প্রভুকে সামনে যেতে নিষেধ করছে। বাধা দিচ্ছে।
এবার সুরাকার লোভী মন একেবারে চুপসে গেল। দারুণ ভয় পেল সে। তাই ভয়ার্ত কন্ঠে রাসূল (সা.) কে ডেকে বলল, হে মুহাম্মদ! আমার অস্ত্র শস্ত্র ও সঙ্গে আনা যাবতীয় পাথেয় আপনাকে দিলাম। আমি ওয়াদা করছি, শত্রুদের আপনাদের থেকে ফিরিয়ে রাখব। দয়া করে আমার জন্য আবার একটু দুআ করুন ।
রাসূল (সা.) মমতা ভরা কন্ঠে বললেন, দেখ সুরাকা! তোমার অস্ত্র আর পাথেয় তোমার কাছেই থাক্। এ সবের আমার কোন প্রয়োজন নেই। তবে শত্রুদেরকে আমাদের থেকে ফিরিয়ে রাখবে- এতটুকুই আমি চাই। তারপর তিনি দুআ করতেই তার ঘোড়াটি লাফিয়ে উঠে দাঁড়ালো। এবার তার মনের বিশ্বাস দৃঢ় হলো যে, সত্যিই তিনি আল্লাহর রাসূল। তাই ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি ভয় করবেন না। নিশ্চিন্তে চলে যান। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের আর কোন অকল্যাণ হবে না।
সুরাকার কথায় রাসূল (সা.) খুশি হলেন। তার গোটা চেহারায় ছড়িয়ে পড়ল ফুলের শুভ্রতা। হেসে হেসে বললেন, বলো সুরাকা ! কি চাও তুমি?
রাসূল (সা.) এর প্রশ্নে সুরাকার হৃদয়ে ঝড় উঠল। সীমাহীন বিস্ময়ভাব ঝরে পড়ল তার কণ্ঠে। বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জানি আপনার এ ধর্ম বিজয়ী হবে। ছড়িয়ে পড়বে গোটা বিশ্বময়। সুতরাং আমি যদি কখনো আপনার রাজ্যে ফিরে যাই, আমাকে তখন সসম্মানে অবস্থান দিবেন -এর একটি অঙ্গীকার লিপি লিখে দিলেই আমি খুশি ।
রাসূল (সা.) হযরত আবু বকর (রা.) কে একটি প্রতিশ্রুতি বাণী লিখে দিতে বললেন। হযরত আবু বকর (রা.) সঙ্গে সঙ্গে তা লিখে দিলেন। তারপর সুরাকা যখন ফিরে যাওয়ার মনস্থ করল ঠিক তখন রাসূল (সা.) বললেন, সুরাকা! সেদিন কেমন মজা হবে যেদিন তোমাকে পারস্য সম্রাট কিসরার বাজুবন্দ পরানো হবে ।
রাসূলের কথা শুনে সুরাকার চোখ বিস্ফারিত। একেবারে ছানাবড়া। সে অপরিসীম বিস্ময় নিয়ে রাসূল (সা.) এর দিকে তাকিয়ে বলল, কিসরা ইবনে হরমুজের বাজুবন্দ!!
রাসূলের কণ্ঠে প্রত্যয়ের সুর। তিনি দৃঢ়তার সাথে বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয় কিসরা ইবনে হরমুজের বাজুবন্দ ।
কিছুক্ষণের মধ্যে সুরাকার মন আবার ফিরে এলো। ফিরে এলো সুদূর অতীত ঘুরে মদীনায় সাহাবীদের সেই মজলিসে যেখানে স্বয়ং হযরত ওমর (রা.) তাকে পারস্য সম্রাটের বাজুবন্দ পরিয়ে দিয়েছিলেন। এবার সে ভাবতে লাগল, হ্যাঁ, রাসূলের সেই বাণীই তো আজ পূর্ণ হলো। বাস্তবায়িত হলো তাঁর সেই ভবিষ্যদ্বানী যা তিনি বহুকাল পূর্বে করেছিলেন। আমার গায়ে এখন কিসরার জামা, পায়জামা আর আলখিল্লা। কোমরে ঝুলানো তার তরবারি। আর হাতে তার বাজুবন্দ ।
এসব ভাবতে ভাবতে সুরাকা ইবনে মালেক (রা.) তখন গভীর তন্ময়তার হারিয়ে গেলেন। বারবার রাসূল (সা.) এর সেই ভবিষ্যদ্বাণী কানে গুঞ্জন তুলে তাকে অন্য মনষ্ক করে ফেলল। হঠাৎ আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর (রা.) এর গুরু গম্ভীর কন্ঠস্বরে তাঁর চেতনা ফিরে এলো। তিনি বলছেন- বাহ! কি চমৎকার! দেখ, বনু মাদলায় গোত্রের এক বেদুইনের মাথায় কিসরার মুকুট আর হাতে তাঁর বাজুবন্দ কেমন মানাচ্ছে। কতো অপূর্ব লাগছে তাঁকে! তারপর তিনি আরো গম্ভীর হয়ে আকাশ পানে হাত তুলে দুআ করলেন-
হে আল্লাহ! আপনি এ সম্পদ থেকে আপনার রাসূলকে দূরে রেখেছেন। অথচ তিনি আপনার নিকট আমার চেয়ে অনেক প্রিয়, অনেক মর্যাদাবান ছিলেন। আপনি আবু বকর (রা.) কে তা থেকে দূরে রেখেছেন। অথচ তিনিও আপনার নিকট আমার চেয়ে অনেক প্রিয়, অনেক মাহবুব ছিলেন। আর আপনি আমাকে তা দান করেছেন। সুতরাং আমি আপনার নিকট এ সম্পদের কঠিন পরীক্ষা থেকে পানাহ চাচ্ছি।
তারপর তিনি এই বিশাল সম্পদের স্তূপ বন্টন করে মুসলমানদের দিতে লাগলেন। দিতে দিতে যখন সমুদয় সম্পদ শেষ হলো, তখনই তিনি মজলিস ত্যাগ করলেন ।
প্রিয় পাঠক! আলোচ্য ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রথমতঃ আমরা আমাদের বিশ্বাসকে এ কথার উপর আরো মজবুত ও সুদৃঢ় করতে পারি যে, আমাদের প্রিয় নবী রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.) যত ভবিষদ্বাণী করে গেছেন তন্মধ্যে যা বাস্তবায়ন হওয়ার তা হয়ে গেছে। আর যা বাস্তবায়ন হওয়ার সময় এখনো আসেনি তা অবশ্যই যথাসময়ে বাস্তবায়ন হবে।
দ্বিতীয়তঃ নবী করীম (সা.) এবং হযরত সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে যেমন সম্পদের প্রতি লোভ ছিল না, ছিল না হীরা জহরত ও দিনার দিরহামের প্রতি আসক্তি, ঠিক তেমনি আমরাও যদি সম্পদের লোভ থেকে অন্তরকে খালি করতে পারি, মুক্ত হতে পারি টাকা পয়সা ও বিশাল ঐশ্চর্যের লালসা থেকে, তবে সফলতা বাধ্য হবে আমাদেরও পদচুম্বন করতে। কামিয়াব হবো আমরা, দুনিয়া আখেরাত উভয় জাহানেই ।

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top